গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন। অভিযানে ৫০জন রোগীর জন্য বরাদ্দ ঔষধ ও খাবারের নানা অনিয়ম উঠে আসে।
ঔষধ বিতরণে অনিয়মসহ বুধবার (১০ ডিসেম্বর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চলা এ অভিযানে হাসপাতালের বিভিন্ন অসংগতি ও অনিয়ম পায় দুদকের গাজীপুর জেলা সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক এনামুল হাসানের নেতৃত্বে একটি দল।
গাজীপুর জেলা সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক এনামুল হাসান বলেন, দুদকের হট লাইনে প্রাপ্ত অভিযোগে ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকগণ অনুপস্থিত থাকেন, পরিবেশ অপরিচ্ছন্ন, সেবার মান অনেক নিন্ম, ঔষধ বিতরণে সমস্যা, রোগীদের ঔষধ হাসপাতাল থেকে না দিয়ে বাহির থেকে কেনায়, খাবারের মাননিন্ম, রোগীদের যে পরিমাণ খাবার দেওয়ার কথা সে পরিমাণ দেওয়া হচ্ছে নাসহ আরো কিছু অনিয়মের প্রেক্ষিতে আরো কিছু অভিযোগ আসে।
তিনি আরো বলেন, প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদনের প্রেক্ষিতে বুধবার সকালে গাজীপুর থেকে দুদকের একটি টিম শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আউটডোর, রান্নাঘর ও জরুরি বিভাগে পর্যবেক্ষণ করে। পর্যবেক্ষণে বেশ কিছু অনিয়ম ধরা পড়ে। হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়া ৫০জন রোগীর জন্য মাছ প্রয়োজন ৮ কেজি ২০০ গ্রাম, সেখানে মাছ রয়েছে মাত্র ৫ কেজি, দেড় কেজি ডাল থাকার কথা থাকলেও দেওয়া হয়েছে মাত্র ৫০০ গ্রাম, দেড় লিটার তেল দেয়ার কথা থাকলেও দেওয়া হয়েছে মাত্র ৫০০ গ্রাম, ডিম ৫০জন রোগীর জন্য দেয়ার ৫০টি লাগবে, কিন্তু কাগজে ৪০টি লিখা থাকলেও গুণে পাওয়া গিয়েছে মাত্র ৩৪পিচ। এছাড়াও হাসপাতালের রোগীর আসনে সিট নাম্বার লেখা না থাকাসহ নানা ধরনের অসংগতি পাওয়া যায়।
এছাড়াও একজন রোগী ৮টি ঔষধ লেখা থাকলেও ৩টা, ৪টা, পাঁচটি ঔষধ বাহির থেকে আনা হয়েছে। বিষয়টি জানতে চাইলে ঔষধগুলো সাপ্লাই না বলে জানান। কিছু ঔষধ আছে চিকিৎসক লিখেই নাই, অথচ রেজিস্টারে ইনচার্জ বা নার্সরা রেজিষ্টারে বিতরণ দেখিয়েছে। যেসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুদক অভিযান চালায় সেগুলোর সত্যতা পেয়েছে। যে সমস্যাগুলো পাওয়া গেছে তা রিপোর্ট আকারে কমিশনে জমা দেওয়া হবে, কমিশন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
পলাশ প্রধান/এসএন