চট্টগ্রামের আনোয়ারার ২ নম্বর বারশত ইউনিয়নের একটি সড়ক দীর্ঘ একযুগ ধরে সংস্কারের অভাবে অচল হয়ে আছে। একসময়ের ব্যস্ততম এই সড়কটি এখন খানাখন্দে ভরা। ড্রেন ধসে পড়ায় বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি জমে রাস্তাটি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। ফলে এই পথে যাতায়াতকারীদের সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয়। প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি বখতিয়ারপাড়া চারপীর আউলিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে গোবাদিয়া রুস্তম আলী সড়ক পর্যন্ত বিস্তৃত।
স্থানীয় নুরুল আনোয়ার ইমরান বলেন, ‘এটা আমাদের এলাকার প্রধান সড়ক। অথচ বছরের পর বছর কোনো সংস্কার হয়নি। সরকার বলছে গ্রাম হবে শহর, কিন্তু এখানে মূল সড়কটিই দেখার মতো না। টানেলের টোলবক্স নির্মাণের পর আশা করেছিলাম দ্রুত কাজ হবে, কিন্তু আজও কিছুই হয়নি।’
ওই এলাকার পশ্চিমচাল এলাকার বাসিন্দা রহিমা বেগম। প্রতিদিন তাকে সন্তানদের স্কুলে নিয়ে যেতে হয়। তিনি বলেন, ‘বাচ্চাদের নিয়ে এই রাস্তায় হাঁটা মানে মৃত্যুকে আমন্ত্রণ করা। বৃষ্টি হলে আমরা বাড়ির বাইরে বের হতে পারি না। রিকশা-ভ্যান তো চলেই না। কতবার উল্টে যেতে যেতে বাচ্চারা পড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল।’
চারপীর আউলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাহমিদ বলে, ‘রাস্তার বড় গর্তগুলো দেখে পুকুর মনে হয়। স্কুলে যাওয়ার পথে ইউনিফর্মে কাদা লাগে। শিক্ষকরা বলেছেন, রাস্তার সমস্যার কথা সংশ্লিষ্ট বিভাগে জানানো হয়েছে। কিন্তু কোনো কাজ হচ্ছে না।’
স্থানীয় কৃষক আবদুল মজিদ বলেন, ‘আমাদের কৃষিপণ্য বাজারে নিতে ভ্যান-রিকশা পাওয়া যায় না। রাস্তা ভাঙা থাকায় অনেক ফসল নষ্ট হয়ে যায়। এটা শুধু একটা রাস্তা না, এর সঙ্গে আমাদের আয়ও জড়িত।’
বারশত ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নুর মোহাম্মদ বলেন, ‘এই সড়কের জন্য আগেও দুবার অনুমোদন এসেছিল। কিন্তু কাজ হয়নি। কেন হয়নি, তা আমাদেরও অজানা। আমরা ইউনিয়ন পরিষদে নতুন করে আবেদন করেছি। আশা করছি এবার অনুমোদন হবে।’
উপজেলা প্রকৌশলী জাহেদুল আলম চৌধুরী বলেন, ‘সড়কটি প্রায় দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ। রাস্তাটিকে একটি প্রকল্পের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলনাম আছে। নিয়ম অনুযায়ী কিছু আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হচ্ছে। আশা করছি শিগগিরই সড়কটি সংস্কারের আওতায় আসবে।’
আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার বলেন, ‘বিষয়টি ইতোমধ্যে আমার নজরে এসেছে। এলাকাবাসী সড়কটি সংস্কারের জন্য আবেদন জানিয়েছেন। আমরা বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখছি।’