সিলেটে ভোটের মাঠে ছোট রাজনৈতিক দলের তেমন কোনো প্রচারণা চোখে পড়ছে না। তবে খোঁজ নিয়ে একটি বিচ্ছিন্ন দল পাওয়া গেছে। দলটির নাম ‘ইনসানিয়াত বিপ্লব, বাংলাদেশ’।
সিলেট-১ (সদর-মহানগর) আসনে এ দলের প্রার্থী শামীম মিয়া। তার দলীয় প্রতীক ‘আপেল’। মাত্র একটি লিফলেট ও একটি ব্যানার সাঁটিয়েই তার প্রচারণা সীমিত রয়েছে। এ কারণে তাকে অনেকটাই ‘ঘরবন্দী প্রার্থী’ বলা হচ্ছে।
খবরের কাগজে তার একটি ব্যানার দেখে খোঁজে নামে। দুদিন খোঁজাখুঁজির পর ফোন নম্বরে কল করে কথা বলা সম্ভব হয়। সিলেট-১ আসনে অন্যান্য প্রার্থীদের যেভাবে প্রচারণা, গণসংযোগ ও নির্বাচনি পথসভায় দেখা যাচ্ছে, আপনার দল ও আপনাকে সেভাবে দেখা যাচ্ছে না কেন এমন প্রশ্ন করা হয়।
শুরুতে এমন প্রশ্নে শামীম মিয়া বলেন, ‘আমরা একেবারেই প্রচারণা করছি না তা নয়। আমরা প্রতিদিনই প্রচারণায় যাচ্ছি। টিম ভাগ করে বিভিন্ন জায়গায় ভোটারদের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করছি। হয়তো অন্যরা যেভাবে যাচ্ছে, সেভাবে যেতে পারছি না। তাই আপনাদের কাছে বা মানুষের কাছে বেশি আলোড়ন-আলোচিত হচ্ছে না। সে কারণে আপনাদের মিডিয়ার কাছেও ফোকাস হচ্ছে না।’
ভোটের মাঠে দৃশ্যমান না থাকার পেছনে কোনো ঘাটতি আছে কি না এ প্রশ্নে শামীম জানান, তারা ভোটে নেমে মানুষ তৈরি করছেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা এখনো মানুষ তৈরি করছি। মানুষকে আমরা প্রচলিত ধারা থেকে উদ্ধারের চেষ্টা করছি। হ্যাঁ, সেই জায়গা থেকে যদি বলেন, আমাদের টিমে তেমন মানুষ নেই। কাজ করার মানুষের সংকট আছে। আর্থিক দিক থেকেও আমাদের নানা দুর্বলতা আছে। অভিজ্ঞতারও ঘাটতি আছে।’
পৃথিবীতে নিজেদের দলটিকে ‘একমাত্র মানবতাভিত্তিক দল’ আখ্যা দিয়ে শামীম মিয়ার ভাষ্য, ভোটারদের সাড়ার অপেক্ষায় আছেন তারা। তিনি বলেন, ‘পৃথিবীতে আমরাই একমাত্র মানবতাভিত্তিক রাজনৈতিক দল। রাজনীতিটা কী? সংক্ষেপে যদি বলি রাষ্ট্র, সরকার ও জনগণ। এই তিনটির সমন্বয়ে যে সুন্দর-সাবলীল সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালিত হবে, সেটাই তো রাজনীতি। প্রচলিত রাজনীতিতে মানবতা নেই। আমরা চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলতে পারি, মানবতাভিত্তিক একমাত্র দল ইনসানিয়াত বিপ্লব। তাই আমরা আমাদের ইশতেহার নিয়ে মানুষের কাছে যাচ্ছি। মানুষ আমাদের গ্রহণ করছে। এখনো দেখিনি কেউ বলছে না, আপনাদের আদর্শ-দর্শন ঠিক নয়। যতটুকু পর্যন্ত মানুষের কাছে গিয়েছি, মানুষ আন্তরিকভাবেই আমাদের সাধুবাদ জানাচ্ছেন। সুতরাং আমরাও আশাবাদী।’
সিলেট-১ আসনে হেভিওয়েট আরও প্রার্থী রয়েছেন। তাদের সঙ্গে এভাবে ‘ঘরবন্দী’ সেজে প্রার্থী হওয়ার মধ্যে কী চ্যালেঞ্জ দেখছেন এ প্রশ্নে শামীম এবার নড়েচড়ে বসেন। চ্যালেঞ্জ শব্দটি শুনে চনমনে ভঙ্গিতে তিনি বলেন, ‘মোটেই চ্যালেঞ্জ মনে করছি না। রাজনীতি করতে হলে সব মানুষের প্রতিনিধিত্ব করতে হবে। প্রচলিত যেসব দলের কথা বলছেন, সেগুলো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী, গোত্র বা একক ধর্মের রাজনীতি করছে। এগুলো রাজনৈতিক দল হতে পারে না। তাই যেগুলোকে রাজনৈতিক দল হিসেবে মনে করছি না, সেখানে চ্যালেঞ্জ আছে বলে মনে করি না। তারা তাদের জায়গা থেকে জাতীয়তাবাদী রাজনীতি করছেন। আমিও আমার জায়গা থেকে সবচ মানুষের মুক্তি, স্বাধীনতা ও সবাইকে মানবতার দিকে আহ্বান করছি। এগিয়ে যাচ্ছি। আমি কোনো বাধার সম্মুখীন হচ্ছি না।’
প্রশ্ন-উত্তরের পালায় শামীম মিয়া হঠাৎ একটি প্রশ্নকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ এবং উত্তরকে ‘কঠিন’ বলে মন্তব্য করেন।
‘মানুষ আপনাদের কেন বেছে নেবে?’ এই প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, কিছুটা কঠিনও বটে। আমরা তো চাই মানুষ দীর্ঘদিন যাবৎ ভোট দিতে পারেনি তাই ভোট নিয়ে মানুষের মধ্যে একদিকে উৎসাহ কাজ করছে, আবার একধরনের শঙ্কাও আছে। ইতোমধ্যেই আমাদের চোখে ধরা পড়েছে এবং পত্র-পত্রিকা ও মিডিয়ার মাধ্যমে আপনারাও দেখেছেন পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে এরই মধ্যে বিভিন্ন অনৈতিকতা ধরা পড়ছে। আমরা আমাদের প্রস্তাবনায় চেয়েছিলাম, এটা যেন একটি অ্যাপের মাধ্যমে আনা যায় কি না। তাহলে অনেকটাই নির্ভরযোগ্য হতো। ইতোমধ্যেই কারচুপির ইঙ্গিত আমরা দেখতে পাচ্ছি। তবুও আমরা চাই একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হোক। আর যেহেতু আমরা মানুষের মুক্তি, কল্যাণ ও স্বাধীনতা নিয়ে বৃহৎভাবে চিন্তা করছি, তাই মানুষ আমাদেরকেই বেছে নেবে বলে মনে করি।’
রিফাত/