মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকার ইউনাইটেড হাসপাতালের ভুল চিকিৎসায় মনিকা আক্তার (৩৮) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার (১৩ মে) রাতে ইউনাইটেড হাসপাতালে মনিকার এপেন্ডিসাইটিস অপারেশন করা হয়। অপারেশনের পর অবস্থার অবনতি হলে প্রথমে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
শুক্রবার (১৫ মে) বিকেল ৪টায় এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত মনিকা আক্তার মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার জাগির কামারদিয়া এলাকার ফুলচান মিয়ার স্ত্রী।
অভিযোগ উঠেছে, চিকিৎসাগত অবহেলা ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ছাড়াই অপারেশন করা হয়। অপারেশনে সার্জন ছিলেন ডা. মো. জিয়াউর রহমান এবং এনেস্থিসিয়া চিকিৎসক ছিলেন ডা. নাসিম উদ্দিন। তবে অপারেশনের আগে রোগীর শারীরিক অবস্থা মূল্যায়ন বা প্রি-এনেস্থিসিয়া চেকআপ করা হয়নি।
নিহতের ভাতিজা নিহাদ হোসেন জানান, অপারেশনের পরদিন সকালেই রোগীর হাত-পায়ে রক্ত জমাট বাঁধা ও শরীর ঠান্ডা হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দেয়। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কখনো ডেঙ্গু, কখনো পানিশূন্যতার কথা বলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে।
তবে মৃত্যুর কারণসংক্রান্ত মেডিকেল সার্টিফিকেটে উল্লেখ করা হয়েছে, অপারেশনের পর গুরুতর সংক্রমণ বা সেপসিস তৈরি হয়। পরবর্তীতে কিডনি বিকল, শরীরে এসিড বৃদ্ধি, রক্ত জমাটের সমস্যা এবং রক্তচাপ কমে গিয়ে হাইপোভোলেমিক শকে আক্রান্ত হন রোগী।
এ বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক আবু রায়হান আল বেরুনী রাজা বলেন, সদর হাসপাতালে সব টেস্ট করা হয়েছিল এবং ফিট সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছিল। তবে অপারেশনের আগে প্রি-এনেস্থিসিয়া চেকআপ কেন করা হয়নি, সে বিষয়ে তিনি বলেন, 'এসব ডাক্তাররা জানেন।'
ঘটনার পর শুক্রবার (১৫ মে) সন্ধ্যা ৭টার দিকে ক্ষুব্ধ স্বজনরা ইউনাইটেড হাসপাতাল ঘেরাও করেন। এ সময় হাসপাতালের পরিচালক আবু রায়হান আল বেরুনী দফায় দফায় স্বজনদের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে ৫ লাখ টাকায় বিষয়টি মীমাংসা করা হয় বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করে।
একই হাসপাতালে গত বছরের ৬ সেপ্টেম্বর টনসিল অপারেশনের পর জেসমিন আক্তার নামে আরেক গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল। সেই সময়ও এনেস্থিসিয়া চিকিৎসকের অবহেলার অভিযোগ উঠেছিল।
আসাদ জামান/আমান