পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দিনাজপুরে কোরবানির পশুর খামারগুলোয় চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। এরইমধ্যে জেলার বিরল উপজেলায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে প্রায় ২৫ মণ ওজনের বিশাল আকৃতির একটি ষাঁড়। খামারির দেওয়া নাম ‘রংবাজ’। বিশাল দেহ আর শান্ত স্বভাবের কারণে পশুপ্রেমী ও ক্রেতাদের নজর কেড়েছে এটি।
বিরল উপজেলার ১২ নম্বর রাজরামপুর ইউনিয়নের চেথরাবাজার এলাকায় অবস্থিত ইসলাম অ্যাগ্রো ফার্মে প্রায় পাঁচ বছর ধরে লালন-পালন করা হয়েছে এই রংবাজকে। খামার কর্তৃপক্ষ বলছে, ব্রাহমা ক্রস জাতের এই ষাঁড়টির বর্তমান ওজন প্রায় ২৫ মণ। এর দাম ধরা হয়েছে ৯ লাখ টাকা। প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ রংবাজকে দেখতে ভিড় করছেন খামারে।
খামারের তত্ত্বাবধায়ক মো. মঈনুল ইসলাম জানান, ২০১৯ সালে মাত্র দুটি গরু দিয়ে যাত্রা শুরু হয় ইসলাম অ্যাগ্রো ফার্মের। ধীরে ধীরে বড় পরিসরে খামার গড়ে তোলেন তিনি। রংবাজকে সন্তানের মতো যত্নে বড় করেছেন বলে জানান এই খামারি।
তিনি বলেন, ‘নামে রংবাজ হলেও স্বভাবে খুবই শান্ত। ছোটবেলা থেকেই নিয়মিত পরিচর্যা, উন্নত খাদ্য ও চিকিৎসার মাধ্যমে গরুটিকে বড় করেছি। এখন এর ওজন প্রায় ২৫ মণ হয়েছে।’
স্থানীয় কৃষক আব্দুল জলিল বলেন, ‘এত বড় গরু আমি আগে কাছ থেকে দেখিনি। এর কথা শুনে দেখতে এসেছি। গরুটার গঠন খুব সুন্দর, আচরণও শান্ত। হাটে উঠলে অনেক দাম হবে বলে মনে হচ্ছে।’
খামারের পরিচর্যাকারী হামিদুর রহমান জানান, রংবাজকে কখনো খামারের বাইরে ছাড়া হয় না। নিয়মিত পরিচর্যা ও সঠিক খাদ্য ব্যবস্থাপনার কারণেই দ্রুত ওজন বেড়েছে। শান্ত স্বভাবের হওয়ায় যে কেউ সহজেই তাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন।
বর্তমানে ইসলাম অ্যাগ্রো ফার্মে মোট ২২টি গরু রয়েছে। এর মধ্যে ছয়টি বাছুরও রয়েছে বলে জানান খামারি মঈনুল ইসলাম। আগামী কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে আরও বড় আকৃতির গরু প্রস্তুতের কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।
উপজেলা উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. ইসরাফিল হোসেন বলেন, ‘বর্তমানে বিরল উপজেলায় সবচেয়ে বড় গরুগুলোর মধ্যে রংবাজ অন্যতম। খামারিকে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এত বড় গরু লালন-পালন করা যেমন ব্যয়বহুল, তেমনি কষ্টসাধ্যও। তবে গরুটির স্বাস্থ্য খুব ভালো এবং বাজারে এটি দ্রুত বিক্রি হবে বলে আশা করছি।’
দিনাজপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুর রহিম বলেন, দিনাজপুর জেলায় এ বছর গরু, মহিষ ও ভেড়া ৪ লাখ ২৬ হাজার ৫২৩টি পশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। জেলাটিতে কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ২ লাখ ৭৩ হাজার ২৬২টি পশু। সেই হিসাবে ১ লাখ ৫৩ হাজার ২৬১টি পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে। এগুলো অন্য জেলায় পাঠানো হচ্ছে।