মাদারীপুর শহরের একটি ফ্ল্যাট বাসা থেকে ৮ মাস বয়সী শিশুসহ একই পরিবারের তিনজনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় নতুন তথ্য প্রকাশ করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, স্ত্রীর দীর্ঘদিনের চিকিৎসার ব্যয় ও পুঞ্জীভূত ঋণের চাপে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে চিন্ময় শিকদার প্রথমে তার স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে শিশুসন্তানকে সঙ্গে নিয়ে তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন।
মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ফারিহা রফিক ভাবনা এসব তথ্য জানিয়েছেন।
পুলিশ আরও জানায়, ঘটনাস্থলটি আগে চিন্ময়ের চাচাতো বোনের বাসা বলে ধারণা করা হলেও মূলত সেটি ছিল তার সৎ মায়ের বাসা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শহরের আমিরাবাদ এলাকার মৃত বীরেন্দ্রনাথ দত্তের স্ত্রী সান্তনা রানী চন্দের বাড়িতে দীর্ঘ সাড়ে তিন বছর ধরে ভাড়া থাকেন মাদারীপুর সদর উপজেলার পূর্ব কলাগাছিয়া এলাকার যতিন শিকদার ও তার স্ত্রী মিষ্টি বাড়ৈ। গত রবিবার বিকেলে মিষ্টির সৎ ছেলে চিন্ময় শিকদার তার স্ত্রী ইশা ও ৮ মাস বয়সী কন্যাশিশুকে নিয়ে ঢাকা থেকে ওই বাসায় বেড়াতে আসেন। রাতের খাবার শেষে তারা নিজ কক্ষে ঘুমাতে যান। গভীর রাত পর্যন্ত কক্ষের ভেতরে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে এবং দরজা বন্ধ দেখে সন্দেহ হলে মিষ্টি বাড়ৈ জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দেন। পরে পুলিশ গিয়ে দরজা ভেঙে কক্ষের ভেতর থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে।
তদন্তে জানা গেছে, নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার মাসকা গ্রামের এরশাদ মিয়ার মেয়ে ইসরাত জাহান সাউদার (ইশা) সঙ্গে চিন্ময়ের প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং পরে তারা বিয়ে করেন। ইশা দীর্ঘদিন ধরে জটিল শ্বাসকষ্টজনিত রোগে ভুগছিলেন। তার চিকিৎসার পেছনে প্রায় ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকা ব্যয় করে চিন্ময় চরমভাবে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন। পুলিশের ধারণা, ঋণের বোঝা ও মানসিক যন্ত্রণা সইতে না পেরে এই চরম পথ বেছে নেন চিন্ময়।
মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, মাদারীপুর শহরের আমিরাবাদে মিষ্টির বাসা থেকে যে তিনটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল ময়নাতদন্ত শেষে আজ বেলা ৩টার দিকে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মিষ্টির সঠিক অভিভাবক না থাকায় ও নিরাপত্তার কারণে তাকে ফরিদপুরের সেফ কাস্টডিতে পাঠানো হয়েছে। সিআইডি, র্যাব, পুলিশসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থার তদন্ত চলমান রয়েছে।
মাদারীপুর জেলা পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে বিষয়টিকে পারিবারিক কলহ ও ঋণের চাপের কারণে সৃষ্ট হত্যাকাণ্ড ও আত্মহত্যা বলে মনে হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন হাতে পেলে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও সময় সম্পর্কে আরও বিস্তারিত ও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যাবে।’
রফিকুল ইসলাম/সালমান/