ঢাকা ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
পীরগাছায় পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল ভাই-বোনের পটিয়ায় ৮ কোটি ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ে মিনি স্টেডিয়ামের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন প্রান্তিক ধাপের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বাতিলের সুবিধা পাবেন না বস্তিবাসী গাছ লাগান, সওয়াব কামান পাসপোর্ট ও বিদেশযাত্রার প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে জটিলতা দূর, বাংলাদেশে টিভির পর্দায় দেখা যাবে ফুটবল বিশ্বকাপ যমুনা সেতুর পশ্চিম মহাসড়কে ১০ কিমি যানজট, চরম দুর্ভোগে যাত্রীরা মাস্টার বাড়ি কোরবানির চামড়া বিক্রিতে ধস বড়বাড়ি সীমান্তে ১০ নারী-পুরুষকে পুশইনের চেষ্টা কৃষি শব্দকোষ নড়াইলে দুপক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১৫ ঝিনাইদহের এসপি প্রত্যাহার টাঙ্গাইলে ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে আবারও সংঘর্ষ ঝিনাইদহে গাছ থেকে ঝুলন্ত নারীর মরদেহ উদ্ধার জীবনধারা বদলান, বিদ্যুৎ সাশ্রয় করুন সোনারগাঁয় মেঘনা টোলপ্লাজায় লরির ধাক্কায় আহত ৬ খবরের কাগজে পদোন্নতি-বাণিজ্যের প্রতিবেদন প্রকাশ: তদন্তে নেমেছে আইন মন্ত্রণালয় ফরিদপুরে হামে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২১ মেধাবীদের বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রবণতা কী বার্তা দিচ্ছে পারিশ্রমিক না পেয়ে ম্যাচ বয়কট ব্রাদার্সের ক্রিকেটারদের অস্তিত্ব সংকটে হাঁড়িধোয়া নদী উত্তরবঙ্গ শিল্পোন্নত হোক দীনেশচন্দ্র সেন ও লোককাহিনির মঞ্চ-পরিবাহন মোস্তফা কামালের বিষাদ বসুধা স্বাধীনতার অবিনাশী ছাত্র ও যুব নেতৃত্ব চাকরি দিচ্ছে ওয়ালটন, রয়েছে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বিদ্যুৎ-জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি: জীবনযাত্রা হবে আরও ব্যয়বহুল বিদ্যুতের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ক্ষুধা লাগলে মায়ের চিতায় ছুটে যান ৩ ভাই
Nagad desktop

গাজীপুরে নেশার টাকা না পেয়ে মামাকে কুপিয়ে হত্যা ভাগ্নের

প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৩:৪৫ পিএম
গাজীপুরে নেশার টাকা না পেয়ে মামাকে কুপিয়ে হত্যা ভাগ্নের
নিহত মামা আনিসুর রহমান

গাজীপুর সদর উপজেলার ভবানীপুর এলাকায় নেশার টাকা না পেয়ে আনিসুর রহমান (২৩) নামে মামাকে বটি দিয়ে কুপিয়ে হত্যার পর ভাগ্নে সৌরভ হাসান রুদ্র (২২) পালিয়ে গেছেন।

বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উত্তরার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আনিসুর রহমানের মৃত্যু হয়।

এর আগে দুপুর ২টার দিকে সদর উপজেলার ভবানীপুর (উত্তরপাড়া) জয়বাংলা মোড় এলাকায় নিহতের ভগ্নিপতি রোকনুজ্জামানের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আনিসুর রহমান গাজীপুর সদর উপজেলার ভবানীপুর এলাকার আলি নেওয়াজের ছেলে। ভাগিনা সৌরভ ভবানীপুর (উত্তরপাড়া) এলাকার রোকনুজ্জামানের ছেলে।

নিহতের মামা আব্দুর রশীদ জানান, আনিস ও সৌরভ মামা-ভাগিনা। পাশাপাশি বাড়ি হওয়ায় তারা প্রায়ই একসঙ্গে বন্ধুর মতো চলাফেরা করতেন। তাদের মধ্যে কি নিয়ে ঝগড়া হয়েছে তা তিনি নিশ্চিত করে বলতে পারেননি। তবে তিনি শুনেছেন সৌরভের ভাবি বটি দিয়ে রান্নার কাজে তরকারি কাটছিলেন। এ সময় সৌরভ তার ভাবির কাছ থেকে বটি নিয়ে ঘরে শুয়ে থাকা মামা আনিসুর রহমানকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করেন। পরে এলাকাবাসী তাকে গাজীপুর শহিদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেলে নিলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ৮টার দিকে আনিসুর রহমানের মৃত্যু হয়।

জয়দেবপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুর রব বলেন, 'নেশা করার জন্য সৌরভ তার মামা আনিসুর রহমানের কাছে টাকা চায়। মামা টাকা দেবে না বললে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। পরে মামা ঘরে গিয়ে শুয়ে পড়ে। হঠাৎ করে সৌরভ তার ভাবির কাছ থেকে বটি নিয়ে ঘরে শুয়ে থাকা মামাকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। ঘটনার পর থেকে সে পলাতক রয়েছে। স্থানীয়রা আহত আনিসকে হাসাপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহিদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পলাশ/মেহেদী/

শাহরাস্তিতে শিশু ধর্ষণের অভিযোগ বৃদ্ধের বিরুদ্ধে

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৯:৪২ এএম
আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬, ১১:৩৫ এএম
শাহরাস্তিতে শিশু ধর্ষণের অভিযোগ বৃদ্ধের বিরুদ্ধে
ছবি: খবরের কাগজ

চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলায় ১২ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে নাসিরউদ্দিনের (৬০) বিরুদ্ধে। এ ঘটনার পরে অভিযুক্ত পলাতক রয়েছেন।

ভুক্তভোগী শিশুটি বর্তমানে চিকিৎসাধীন এবং সে প্রায় পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে প্রায় সাত মাস আগে প্রতিবন্ধী বাবা-মা শিশুটিকে প্রতিবেশী নাসিরউদ্দিনের বাড়িতে গৃহস্থালির কাজে পাঠান। ভুক্তভোগী শিশুর অভিযোগ, সেই সুযোগে নাসিরউদ্দিন তাকে দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিকভাবে স্পর্শ করত এবং গত ফেব্রুয়ারি মাসে ঘরে আটকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। বিষয়টি কাউকে জানালে বাবা-মাকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়ায় প্রাণভয়ে এতদিন সে মুখ খোলেনি।

গত ২ জুন শারীরিক পরিবর্তন দেখে পরিবারের লোকজন জিজ্ঞাসাবাদ করলে শিশুটি ঘটনাটি বিস্তারিত প্রকাশ করে। পরে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে তার পাচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়।

ভুক্তভোগীর মা এই জঘন্য অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। স্থানীয় ইউপি সদস্যও ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে তদন্তের দাবি জানান।

এ বিষয়ে শাহরাস্তি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান জানান, এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পাওয়া মাত্রই তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তামান্না রুপা/

প্রধানমন্ত্রীর লাল টেলিফোনের তার চুরি করে ভাঙারিতে বিক্রি, গ্রেপ্তার ২

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ১০:৩৫ পিএম
আপডেট: ০৪ জুন ২০২৬, ১০:৩৬ পিএম
প্রধানমন্ত্রীর লাল টেলিফোনের তার চুরি করে ভাঙারিতে বিক্রি, গ্রেপ্তার ২
ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের লাল টেলিফোন সংযোগের তার চুরির ঘটনায় বাংলাদেশ সচিবালয়ের একজন আউটসোর্সিং কর্মীসহ মোট দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ।

গ্রেপ্তাররা হলেন আউটসোর্সিং কর্মী রঞ্জন চন্দ্র (২৬) ও ভাঙারি ব্যবসায়ী রেজাকুল ইসলাম (৩২)।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, সচিবালয়ে তার চুরির বিষয়ে প্রথম দিন থেকেই আমাদের তদন্ত চলছিল। বৃহস্পতিবার দুপুরে আমরা এ চুরির রহস্য উদ্‌ঘাটন করতে পারি। সচিবালয়ে ওই ভবন থেকে টেলিফোনের তার চুরি করে ভাঙারির দোকানে বিক্রি করে দিয়েছিল আউটসোর্সিং কর্মী রঞ্জন চন্দ্র। তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে যে ভাঙারির দোকানে তার বিক্রি করেছিল, সেই ভাঙারি ব্যবসায়ীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে সেখান থেকে আট কেজি চুরি হওয়া তার উদ্ধার করে পুলিশ।

এর আগে, বৃহস্পতিবার ডিএমপির গণমাধ্যম শাখা থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রীর টেলিফোনের তার চুরির ঘটনায় পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের সিটি ইন্টেলিজেন্স অ্যানালাইসিস বিভাগ ছায়া তদন্ত শুরু করে। এ ঘটনায় বিটিসিএল কর্তৃপক্ষ বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করে। তদন্তে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের ভিত্তিতে সচিবালয়ের আউটসোর্সিং কর্মী রঞ্জন চন্দ্রকে বৃহস্পতিবার দুপুরে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে রঞ্জন চন্দ্র স্বীকার করেন, গত ২২ মে সচিবালয়ের ৩ নম্বর ভবন থেকে তিনি তার চুরি করেন। পরে ১ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একুশে হলের সামনে একটি ভাঙারি দোকানে প্রতি কেজি ৬০০ টাকা দরে মোট ৮ কেজি ২০০ গ্রাম তার বিক্রি করেন। আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে একুশে হলের সামনে ভাঙারি ব্যবসায়ী রেজাকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার তথ্য মতে চকবাজার থানার ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের হোসেনী দালান রোডে একটি ভাঙারির গুদাম থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের লাল টেলিফোন সংযোগের চুরি হওয়া তামার তার উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক তদন্তে সিটিটিসির ধারণা, সচিবালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংযোগের তার চুরির সঙ্গে একটি সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত। চক্রের মূল হোতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

গাংনীতে চুরির অভিযোগে যুবককে হত্যা

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ১১:০৬ এএম
গাংনীতে চুরির অভিযোগে যুবককে হত্যা
ট্রাকের সঙ্গে দড়ি দিয়ে বেঁধে বেধড়ক মারপিটে মারা যান অভিযুক্ত চোর। ছবি: খবরের কাগজ

মেহেরপুরের গাংনীর বামন্দীতে একটি টায়ারের দোকানে চুরির অভিযোগে এক যুবককে নির্মমভাবে নির্যাতনের পর হত্যার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় স্তব্ধ হয়েছে সভ্য সমাজ। অপরাধীকে শাস্তি দিতে গিয়ে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে অমানবিক ও নৃশংসভাবে হত্যাও বেআইনি বলে মনে করছেন সচেতন মহল। 

মঙ্গলবার (২ জুন) হত্যাকাণ্ডের এ ঘটনা ঘটে। 

জানা গেছে, ঘটনাস্থল থেকে বামন্দী পুলিশ ক্যাম্পের দূরত্ব মাত্র এক কিলোমিটার হলেও পাঁচ মিনিটের জায়গায় পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা সময় নেয়। চোর আটকের পর বামন্দী পুলিশ ক্যাম্পে খবর দেওয়া হলেও পুলিশ ঘটনাস্থলে না যাওয়ায় তাদের দায়িত্বে অবহেলা ও নীরব ভূমিকা নিয়ে নানান প্রশ্ন উঠেছে।

সচেতন মহলের অনেকেই মনে করছেন, পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হয়ত প্রাণহানির ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতো। একই সঙ্গে চুরির অভিযোগে আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে চোরচক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করার সুযোগ তৈরি হতো।

বামন্দীর খোকন টায়ার হাউসের পরিচালক বাদল আলী বলেন, ওই চোরকে আমার দোকানের কর্মচারী ধরার পরই পুলিশকে বাজার কমিটির সভাপতির ছোটোভাই ফোন দিয়েছিল কিন্তু পুলিশ ঘটনাস্থলে আসেনি। তাই চোরকে জামান ফিলিং স্টেশনের মধ্যে রাখা হয়।

বামন্দী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আওয়াল বলেন, ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ক্যাম্পের দূরত্ব পাঁচ মিনিট হলেও তারা এসেছে ৪-৫ ঘণ্টা পর। এটি পুলিশের দায়িত্বের চরম অবহেলার প্রমাণ দেয়। হয়ত পুলিশ আসলে অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঘটনাটি ঘটতো না এবং চোরের সঙ্গে জড়িত আরও ৪-৫ জন সদস্য ও পুরো নেটওয়ার্ক ধরা যেত। এ ঘটনায় পুলিশ দায়িত্বে চরম গাফিলতির প্রমাণ দিয়েছে।

বামন্দী বাসস্ট্যান্ড বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. কায়কোবাদ বলেন, আমি ঘটনাটি শোনার সঙ্গে সঙ্গে আনুমানিক সাতটার দিকে বামন্দী ক্যাম্পের পুলিশকে ফোন দিয়ে জানাই। কিন্তু লোকটি মারা যাওয়ার অনেক পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে।

স্থানীয় সাংবাদিক সোহেল রানা বাবু বলেন, হয়ত প্রশাসনের প্রতি মানুষ আস্থার জায়গা হারিয়েছে, যে কারণে আইন হাতে তুলে নিচ্ছে। তবে নিঃসন্দেহে এটিও মানুষের ভুল সিদ্ধান্ত।

শুরুতে বিষয়টিকে গণধোলাইয়ে মৃত্যু বলা হলেও ঘটনাস্থলের আশপাশে সিসিটিভি ফুটেজ ও নির্যাতনের সময় মোবাইলে ধারণকৃত এক ব্যক্তির ভিডিও বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, হাতেগোনা মাত্র কয়েক জন লোক মিলেই চুরির অভিযোগে আরিফ নামে ওই ব্যক্তিকে মধ্যযুগীয় কায়দায় একটি ট্রাকের সঙ্গে দড়ি দিয়ে বেঁধে নির্যাতন করে। মৃত্যু নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের নির্যাতনের মাত্রা বাড়তেই থাকে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (২ জুন) ভোর ৪টা ৩৯ মিনিটে বামন্দী বাসস্ট্যান্ড এলাকার খোকন টায়ার হাউসে চুরির উদ্দেশ্যে একটি চোরচক্র হানা দেয়। এ সময় ওই টায়ারের দোকানের তুষার নামক কর্মচারীর হাতে চুরির অভিযোগে আরিফ ধরা পড়ে এবং একটি জিপ গাড়িতে আরও ৪ জন চোর পালিয়ে যায়। পরে তাকে পার্শ্ববর্তী মেসার্স জামান ফিলিং স্টেশনের ভেতর নিয়ে একটি ট্রাকের সঙ্গে দড়ি দিয়ে বেঁধে একটানা কয়েক ঘণ্টা বেধড়ক মারপিট করা হয়। সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে সড়কের পাশে ফেলে পানি ছিটানো হয়। মারা যাওয়ার পর বেশ কয়েকজন মিলে সড়কের পাশে একটু দূরে তাকে ফেলে রাখে।

চুরির অভিযোগে নিহত আরিফ হোসেন পাবনা জেলার চাটমোহর উপজেলার ধোলাঝাড় গ্রামের আফজাল হোসেনের ছেলে বলে নিশ্চিত করে পুলিশ। এ ঘটনায় গতকাল বুধবার (৩ জুন) গাংনী থানায় নিহত আরিফের স্ত্রী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেছেন।

নিহত আরিফের স্ত্রী তাম্মি খাতুন বলেন, আমার স্বামীকে হত্যার সঙ্গে জড়িতদের কঠিন বিচার চাই।

খবর পাওয়ার পরও পুলিশ না আসার বিষয়ে জানতে চাইলে বামন্দী পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই রফিকুল ইসলাম বিষয়টি অস্বীকার করেন। তবে তিনি সাংবাদিকদের কাছে এ ঘটনায় তার যেন কোনো ক্ষতি না হয়, সে বিষয়েও অনুরোধ জানান।

ঘটনার পরপরই পুলিশকে জানানো হলেও পুলিশ না আসার বিষয়ে জানতে চাইলে গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার দাস সাংবাদিকদের বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।

ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানান প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে, খবর পাওয়ার পর পুলিশ কেন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি এবং এই বিলম্বের পেছনে কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

তারেক হোসেন/নাঈম

পাবনায় বস্তাবন্দি মরদেহের রহস্য উন্মোচন, শ্বাসরোধে হত্যা করেন প্রেমিক নাঈম

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ১০:৩৪ এএম
আপডেট: ০৪ জুন ২০২৬, ১১:০১ এএম
পাবনায় বস্তাবন্দি মরদেহের রহস্য উন্মোচন, শ্বাসরোধে হত্যা করেন প্রেমিক নাঈম
ছবি: খবরের কাগজ

পাবনায় পদ্মা নদী থেকে বস্তাবন্দি অজ্ঞাত কিশোরীর মরদেহের পরিচয় মিলেছে। উন্মোচিত হয়েছে হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য। নিহত কিশোরীর নাম রিয়া খাতুন (১৫)।

রিয়ার বাড়ি পাবনা সদর উপজেলার ভাড়ারা ইউনিয়নের পূর্ব রাঘবপুর গ্রামে। তার বাবার নাম আজিজুল প্রামানিক। সে মাওলানা কাসিমুদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের  ৯ম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী প্রেমিকসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। উদ্ধার করা হয়েছে মরদেহ পরিবহনে ব্যবহৃত একটি সাদা রঙের প্রাইভেটকার।

গ্রেপ্তার তিনজন হলেন- মূলহোতা প্রেমিক পাবনা সদর উপজেলার ভাড়ারা ইউনিয়নের পূর্ব রাঘবপুর গ্রামের মো. নাঈম এবং তার দুই সহযোগী একই গ্রামের ইয়াসিন শেখ ও তুহিন প্রামানিক।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্কে টানাপোড়েন ও আর্থিক লেনদেনে বিরোধে প্রেমিক নাঈম তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে বন্ধুদের সহযোগিতায় মরদেহ বস্তায় ভরে পদ্মা নদীতে ফেলে দেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (২ মে) আনুমানিক বেলা ১১টার দিকে রিয়া খাতুন প্রেমিক নাঈমের বাসায় বেড়াতে যায়। সেখানে উভয়ের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের একপর্যায়ে কিছু আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়। পরবর্তীতে তা বিরোধে রূপ নিলে নাঈম ক্ষিপ্ত হয়ে রিয়া খাতুনকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন।

হত্যার পর নাঈম ঘটনা গোপন করার জন্য তার দুই সহযোগী একই গ্রামের  ইয়াসিন শেখ ও  তুহিন প্রামানিককে ঘটনাস্থলে ডেকে আনেন। তারা রিয়ার দুই হাত দড়ি দিয়ে বাঁধে এবং গলায় একটি বাজারের ব্যাগ পেঁচিয়ে মুরগির খাবারের বস্তায় ভরেন। এরপর রাত সাড়ে ১০টার দিকে রিয়ার বস্তাবন্দি মরদেহ পদ্মা নদীতে ফেলতে যায়।

নদীর তীরে নিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ প্রাইভেটকারটি নষ্ট হয়ে গেলে গাড়ির ভেতরে মরদেহ থাকা অবস্থাতেই চারজন যুবককে গাড়ি ঠেলতে দেখে স্থানীয়রা এগিয়ে আসেন। মানবিক কারণে স্থানীয়রা গাড়িটি ঠেলে বলরামপুর মুজিব বাঁধ পর্যন্ত পৌঁছে দেন। তবে যুবকদের সন্দেহজনক আচরণে স্থানীয়দের মনে সন্দেহ তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত স্থানীয়দের সেই সন্দেহের সূত্র ধরেই ঘটনার জট খুলল পুলিশ।

পরে বুধবার (৩ মে) সকাল ১০টার দিকে পাবনা সদরের ভাড়ারা ইউনিয়নের বলরামপুর পীরপুর-সংলগ্ন পদ্মা নদীর তীরে কৃষকেরা চরে কাজে যাওয়ার সময় একটি নৌকার পাশে বস্তা ভাসতে দেখেন। পরে তারা বস্তার মুখ কেটে হাত-পা বাঁধা কিশোরীর মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
 
মরদেহ উদ্ধারের পর তদন্তে নামে পুলিশ। তদন্তকারীরা স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য এবং বলরামপুর স্কুলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডে জড়িত নাঈম, ইয়াসিন ও তুহিনকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাদের স্বীকারোক্তিতে মরদেহ বহনকারী প্রাইভেটকারটি জব্দ করা হয়।
 
পাবনা জেলা পুলিশ সুপার মো. ছুফি উল্লাহ জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছেন। ঘটনার সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত আছেন কি-না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   

আমিনুল জুয়েল/তামান্না রুপা/

চাঁদপুরে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে যুবক হত্যায় গ্রেপ্তার ৭

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ১০:২৫ এএম
আপডেট: ০৪ জুন ২০২৬, ১০:৪৪ এএম
চাঁদপুরে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে যুবক হত্যায় গ্রেপ্তার ৭
ছবি: খবরের কাগজ

চাঁদপুরের হাইমচরে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধে চোখে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে ওমর ফারুক নামের এক যুবককে হত্যার ঘটনায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে পাঁচজন নারী ও দুইজন কিশোর।

বুধবার (৩ জুন) দুপুরে গ্রেপ্তার আসামিদের চাঁদপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ জানায়, এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত ফারুকের বাবা আবদুল খালেক ঢালী বাদী হয়ে বুধবার সকালে হাইমচর থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার আসামিরা হলেন- আখি আক্তার (২৩), নাজমা বেগম (৪৫), লাকী বেগম (৩০), সোনিয়া বেগম (১৯) ও তয়মুনন্নেছা (৫৫), জুম্মান (১৫) ও আব্দুল্লাহ (১৩)।

হাইমচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাজমুল হাসান খবরের কাগজকে বলেন, নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশ তৎপরতার সঙ্গে মূল আসামিদের গ্রেপ্তার করেছে। ঘটনায় জড়িত বাকিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ফয়েজ আহমেদ/খাদিজা রুমি/