চট্টগ্রাম নগরের চন্দনপুরা এলাকায় এক ব্যবসায়ীর বাসায় গুলির ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি সাবমেশিন গান (এসএমজি), ব্রাজিলের তৈরি ৯ এমএম টরাস পিস্তল ও পয়েন্ট ৩২ বোরের একটি বিদেশি রিভলবার জব্দ করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন- আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী ওরফে ইমন, মোহাম্মদ মনির ও মোহাম্মদ সায়েম। তারা সবাই বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের সহযোগী বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাত সাড়ে ১০টার দিকে নগরের দামপাড়ায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার ওয়াহিদুল হক চৌধুরী।
মঙ্গলবার সকাল থেকে নগরের চকবাজার, পাঁচলাইশ ও বায়েজিদ বোস্তামী থানা-পুলিশের সমন্বিত অভিযানে আসামিদের গ্রেপ্তার ও অস্ত্রগুলো জব্দ করা হয়।
বুধবার (১১ মার্চ) পুলিশ জানিয়েছে, নগরের চকবাজার এলাকা থেকে রিভলবার ও গুলি, পাঁচলাইশ এলাকা থেকে টরাস পিস্তল ও একটি মোটরসাইকেল এবং খুলশী এলাকা থেকে দুটি ম্যাগাজিনসহ এসএমজি উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে পিস্তলটি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ডবলমুরিং থানা এবং রিভলবারটি পাহাড়তলী থানা থেকে লুট করা হয়েছিল। অপরদিকে এসএমজিটি খাগড়াছড়ির একটি পাহাড়ি সশস্ত্র গোষ্ঠীর কাছ থেকে কেনা। এসএমজির ৫০টি এবং রিভলবারের ৯টি গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার ওয়াহিদুল হক চৌধুরী বলেন, স্মার্ট গ্রুপের মালিক মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর কাছে ১০ কোটি টাকা চাঁদার দাবি করেছিল সন্ত্রাসীরা। পরে চাঁদার দাবিতে তারা প্রথমে গত ২ জানুয়ারি এবং সবশেষ গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ভোরে ওই ব্যবসায়ীর চন্দনপুরা এলাকার বাসায় গুলি ছুড়ে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে আবদুল কাইয়ুম ২০০০ সালের ১২ জুলাই বহদ্দারহাটে আটজনকে খুনের ঘটনায় করা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি। অন্যদিকে মনির ও সায়েম প্রত্যেকের বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও অস্ত্র আইনসহ ১০টি করে মামলা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আবদুল কাইয়ুমের কাছে আমরা একটি ভিডিও পেয়েছি। সেখানে দেখা যায়, বড় সাজ্জাদ বাহিনীর এক নতুন সদস্য পবিত্র কোরআন ছুঁয়ে শপথ নিচ্ছেন। মূলত সাজ্জাদের নির্দেশে এই বাহিনী খুন, ডাকাতি, চাঁদাবাজি এবং বালুমহাল নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।
এসজি/