ঢাকা ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, রোববার, ০৭ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
পঞ্চগড়ে পুকুরে ডুবে দুই মাদরাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যু প্রোগ্রামিং ভাষা অধ্যায়ের ১৩টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৫ম পর্ব, এইচএসসির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিশ্বের এই বৃহত্তম যৌথ পরিবারে দৈনিক লাগে ৯০ কেজি চাল প্রতিশ্রুতি প্রদানে মন্ত্রী-এমপিদের দায়িত্বশীল হওয়ার পরামর্শ দিলেন স্পিকার ঝিনাইদহে তেলবাহী ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত, ৯ ঘণ্টা পর স্বাভাবিক গানে আর ফিরবেন না রিংকু ওয়েমোর চালকহীন নতুন রোবোট্যাক্সি ‘ওজাই’ শাড়ির নিচে লুকিয়েও রক্ষা পেলেন না তৃণমূল নেতা কুষ্টিয়ায় ধর্ষককে গণধোলাই নোয়াখালীতে জেলি মিশ্রিত চিংড়ি ধ্বংস, লাখ টাকা জরিমানা টেসলার রোবোট্যাক্সি সেবায় ধীরগতি সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ এবং শত্রু-মিত্র খেলা এ যেন মাঠ ভরাট নয়, সম্প্রীতির উৎসব শেরপুরে প্রাইভেটকারে মদ, কারবারি আটক টেকনাফে সিএনজি-কাভার্ডভ্যান সংঘর্ষ, দুই এসআইসহ আহত ৪ নবাব সলিমুল্লাহর জন্মবার্ষিকী উদযাপন মজুরি বাড়াতে দৌলতপুরে বিড়ি শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু রোগীর বেশে ইয়াবা পাচারের চেষ্টা, রামুতে তিন নারী আটক ৬ নবজাতকের প্রত্যেক পরিবারকে ৮০ লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা তোফায়েল আহমেদসহ ১৬ এমপির মৃত্যুতে শোকপ্রস্তাব কিছু মানুষের কারণে কেন অপমানিত হবে ১৮ কোটি বাংলাদেশি? ঘোড়ার মাংস খাওয়া নিয়ে জয়ার রিটে যা নির্দেশ দিল হাইকোর্ট মনোযোগ বাড়াতে চাইলে কী খেতে হবে রাঙামাটিতে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ৬ দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পটুয়াখালীর পৌর পার্ক এলাকা থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার নতুন সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশন শুরু এবি ব্যাংকের এআই-চালিত ডিজিটাল লোনসেবা ‘এবি ই- লোন’ এর উদ্বোধন বানারীপাড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র মঞ্জু মোল্লা গ্রেপ্তার কুড়িগ্রামে নদীগর্ভে বিলীন শতাধিক বাড়ি
Nagad desktop

কিশোরী ধর্ষণ: আড়ালে নির্মম ‘স্টিলবার্থ’ তথ্য

প্রকাশ: ২১ মে ২০২৬, ০৫:০৪ পিএম
আপডেট: ২১ মে ২০২৬, ০৫:০৫ পিএম
কিশোরী ধর্ষণ: আড়ালে নির্মম ‘স্টিলবার্থ’ তথ্য
যুবদলের এই কার্যালয়ে হয় সালিশি বৈঠক

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল ভাটিয়ারী গ্রামে এক কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনায় একের পর এক চাঞ্চল্যকর ও নির্মম তথ্য বেরিয়ে আসছে। অভিযোগ উঠেছে, ধর্ষণের শিকার হয়ে ওই কিশোরী গর্ভবতী হয়ে পড়ে। পরে তার গর্ভের সাত মাসের সন্তান হাসপাতালে নিয়ে নষ্ট করা হয়, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘স্টিলবার্থ’ বা মৃতপ্রসব হিসেবে পরিচিত।

  • ধর্ষণকারী ও ভুক্তভোগীর বাবাকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা দিয়ে দফারফার চেষ্টা
  • ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদকসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা
  • মামলা প্রত্যাহারে কিশোরীর বাবাকে আদালতে নেওয়ার অভিযোগ
  • তদন্ত কর্মকর্তার দাবি- আসামি ধরতে গেলে ‘মব’ আতঙ্ক রয়েছেন

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ভাটিয়ারী পোর্টলিংক কনটেইনার ডিপোর পূর্ব পাশের মনাঘোনা পাহাড়ি এলাকায়।

গত সোমবার (১৮ মে) কিশোরীর বাবা মোহাম্মদ আবদুর রশিদ বাদী হয়ে সীতাকুণ্ড মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে চারজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

মামলার আসামিরা হলেন- মাহাবুবুল আলম (বয়রা মাহবু), ফয়জুল হক, রিপন এবং চান মিয়া ওরফে চান্দু মিয়া।

মঙ্গলবার (১৯ মে) মামলার তিন নম্বর আসামি রিপনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায় পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জানান, রিপনকে আটকের পর কিছু উচ্ছৃঙ্খল যুবক থানায় এসে তাকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।

এদিকে অভিযোগ উঠেছে, ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে স্থানীয়ভাবে একটি সালিশি বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সেখানে ভুক্তভোগী পরিবারকে এলাকা ছাড়ার হুমকি দেওয়া হয় এবং তাদের ঘরবাড়ি ও দোকান ভাঙচুরেরও চেষ্টা চালানো হয়।

বুধবার (২০ মে) কিশোরীর বাবাকে মামলা প্রত্যাহারের জন্য জোরপূর্বক আদালতে নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে পরিবার। মামলা তুলে না নিলে এলাকা ছাড়তে হবে- এমন হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে দাবি তাদের। পাশাপাশি কিশোরীকে বিয়ে দিয়ে ‘প্রতিষ্ঠিত’ করার প্রলোভনও দেখানো হয়।

সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মহিনুল ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, ‘ধর্ষণের ঘটনায় মামলা হয়েছে। এজাহারভুক্ত আসামি রিপনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। সামাজিক সালিশের মাধ্যমে এ ধরনের অপরাধের বিচার করার কোনো সুযোগ নেই। যারা এমন সালিশ করেছে, তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ভুক্তভোগী কিশোরীর মা ফরিদা আক্তার জানান, তারা অত্যন্ত দরিদ্র পরিবার। তার স্বামী চা-পানের দোকান চালান এবং পাহাড়ে কৃষিকাজ করেন। তাদের নিজস্ব জমিজমা নেই।

তিনি অভিযোগ করেন, তার ১৫ বছর বয়সী মেয়ে বাড়ির পাশে সিডিএ আবাসিক এলাকার খালি মাঠে গরু চরাতে যেত। সেখানে স্থানীয় ৬৫ বছর বয়সী মাহাবুবুল আলম ওরফে বয়রা মাহবু তাকে ফুসলিয়ে একটি পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে। এতে মেয়েটি সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে।

ফরিদা আরও বলেন, বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর গত ৮ মে কিছু যুবক জোরপূর্বক হুমকি দিয়ে মেয়েকে চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে গর্ভের সন্তান নষ্ট করে। একই সময়ে ধর্ষণকারীর অনুসারীরা তাদের বাড়ি ও দোকান ভাঙচুরের চেষ্টা চালায়।

স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কাসেম জানান, সালিশি বৈঠকটি নবনির্মিত যুবদল কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ধর্ষণকারী মাহাবুবুল আলমকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই পরিমাণ জরিমানা করা হয় কিশোরীর বাবাকেও, যাতে কিশোরীকে বিয়ে দেওয়া যায়।

তবে অভিযোগ রয়েছে, গত ১০ মে জরিমানার টাকা পরিশোধের কথা থাকলেও মাহাবুবুল তা না দিয়ে উল্টো পরিবারটিকে এলাকা ছাড়ার হুমকি দেন।

ভাটিয়ারী ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ও মামলার দুই নম্বর আসামি ফয়জুল হক বলেন, ‘আমাকে কেন মামলার আসামি করা হয়েছে, জানি না। সালিশি বৈঠক দলীয় কার্যালয়ে হয়নি, কিশোরীর বাড়ির সামনে রাস্তায় হয়েছে।’ তবে তিনি বৈঠকে উপস্থিত থাকার কথা স্বীকার করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা সুলতানা জাহান বলেন, ‘একজন বৃদ্ধের লালসার শিকার হয়ে কিশোরীটি সম্ভ্রম হারানোর পাশাপাশি গর্ভধারণ করে। পরে গর্ভের সন্তান নষ্ট হওয়ার পর ঘটনাটি চাপা দিতে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সালিশি বৈঠক করা হয়। সেখানে ভুক্তভোগী পরিবারের ওপরও জরিমানা চাপিয়ে অপমানজনক সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে।’

এদিকে একের পর এক নির্যাতন, গর্ভের সন্তান হারানো এবং এলাকা ছাড়ার হুমকিতে পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ধনতোষ ত্রিপুরা খবরের কাগজকে বলেন, ‘ধর্ষণ মামলার আসামি এক যুবদল কর্মীকে আটকের পর বিএনপির কিছু নেতা আমাকে হুমকি দিচ্ছে। দুই নম্বর আসামি যুবদলের নেতা। তাকে ধরতে গেলে মব তৈরি হতে পারে- এ আতঙ্ক রয়েছে। তারপরও কোনো আসামিকে ছাড় দেওয়া হবে না। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।’

[গর্ভাবস্থার ২০ বা ২৮ সপ্তাহ পার হওয়ার পর ভূমিষ্ঠ হওয়ার আগে বা প্রসবের সময় গর্ভস্থ শিশুর মৃত্যু হলে তাকে স্টিল বার্থ বা মৃতসন্তান প্রসব বলা হয়।]

অমিয়/

মেয়েকে অশালীন কথা বলার প্রতিবাদ করায় প্রাণ গেল বাবার

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০২:৩৯ পিএম
আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬, ০২:৪০ পিএম
মেয়েকে অশালীন কথা বলার প্রতিবাদ করায় প্রাণ গেল বাবার
সিলেটের মানচিত্র

নিজের মেয়েকে অশালীন কথা বলার জেরে মারামারি করে প্রতিবেশীর ঘুষিতে প্রাণ হারিয়েছেন চৈতন্য গোয়ালা নামে এক ব্যক্তি।

গতকাল শনিবার বিকেলে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং চা বাগানে এই ঘটনা ঘটে। 

রবিবার (৭ জুন) দুপুরে অভিযুক্ত সুমন প্রধানকে (৪২) গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

নিহত চৈতন্য গোয়ালার মরদেহ ময়নাতদন্তের পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত চৈতন্য গোয়ালা ও সুমন প্রধান প্রতিবেশী। তারা বাগানে চা শ্রমিকের কাজ করেন। শনিবার বিকেলে চৈতন্য গোয়ালার মেয়ে পুকুর থেকে গোসল করে উঠলে সুমন প্রধান তাকে অশালীন কথা বলেন। তখন পাশে থাকা বাবা এর প্রতিবাদ করলে দুজনের হাতাহাতি হয়। এক পর্যায়ে চৈতন্য গোয়ালাকে ঘুষি মারেন সুমন। এতে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে তাকে উপজেলা সদর হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। 

এই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে গোয়াইঘাট থানায় মামলা করেন। পরে অভিযুক্ত সুমনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এ বিষয়ে মধ্য জাফলং ইউনিয়নের মেম্বার শৈলেন দেব খবরের কাগজকে বলেন, নিহত চৈতন্য গোয়ালা ও সুমন প্রধান পাশাপাশি বাড়িতে থাকতেন। দুজনই চা শ্রমিক। একই সঙ্গে চলাফেরা তাদের। একই পুকুরে দুই পরিবারের সদস্যরা গোসল করে। ঘটনার দিন চৈতন্য গোয়ালার মেয়ের গোসল করা নিয়েই দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও পরে মারামারি হয়। তখন চৈতন্যকে ঘুষি মারে সুমন। এতে সে অজ্ঞান হয়ে গেলে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

গোয়াইঘাট থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফয়েজ উদ্দিন খবরের কাগজকে বলেন, চৈতন্য গোয়ালার মেয়েকে অশালীন কথা বলেন সুমন প্রধান। তখন এক সঙ্গে বাড়ির সিঁড়িতে বসা ছিলেন চৈতন্য ও সুমন। অশালীন কথার প্রতিবাদ করলে চৈতন্যকে কানের বাম পাশে ঘুষি মারেন সুমন।  হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সুমনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

অমিয়/

নড়াইলে প্রতিবন্ধীকে ধর্ষণের অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ১০:১৪ এএম
আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬, ১০:১৮ এএম
নড়াইলে প্রতিবন্ধীকে ধর্ষণের অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার
অভিযুক্ত সেলিম শেখ

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় এক বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে অপহরণ করে ধর্ষণের অভিযোগে সেলিম শেখ (২৬) নামের এক ইজিবাইকচালককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শনিবার (৬ জুন) আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় থানায় মামলার পর অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার সেলিম শেখ লক্ষীপাশা ইউনিয়নের বয়রা গ্রামের বাসিন্দা।

মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী লোহাগড়া এলাকার একটি গ্রামে তার নানা বাড়িতে থাকতেন। শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলের দিকে অভিযুক্ত সেলিম শেখ তাকে রাস্তা থেকে ইজিবাইকে করে তুলে নিয়ে যান। তারপর ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে ধর্ষণ করা হয়।

তারপর সন্ধ্যায় তাকে উপজেলার দিঘলিয়া ইউনিয়নের একটি বাজার এলাকায় নামিয়ে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত সেলিম। পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে গেলে সে পুরো ঘটনা তাদের জানায়।

শনিবার (৬ জুন) এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা লোহাগড়া থানায় অপহরণ ও ধর্ষণ মামলা করেন।

লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজিত কুমার রায় বলেন, ভুক্তভোগী মেয়েটির মা বাদী হয়ে অপহরণ ও ধর্ষণ মামলা করেন। এছাড়া ভুক্তভোগীর ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আসামি সেলিম শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আদালতে পাঠানো হয়েছে।

শরিফুল/আমান/

নাগরপুরে প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৯:৫৬ এএম
আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬, ১০:১৬ এএম
নাগরপুরে প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা
ছবি: খবরের কাগজ

টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলায় বুদ্ধি প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠেছে তার প্রতিবেশী এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তার মা বাদী হয়ে নাগরপুর থানায় মামলা করেছেন।

শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে উপজেলার সহবতপুর ইউনিয়নের কাজীর-পাচুরিয়া গ্রামে ঘটনাটি ঘটেছে।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, শুক্রবার বিকেলে প্রতিবন্ধী মেয়েকে নিয়ে বাড়ির পাশে ধানের খোলায় কাজ করছিলেন। কিছু সময় পর মেয়েটি ধান নিয়ে বাড়ির দিকে রওনা দেয়। ফিরতে দেরি হলে মা তাকে খুঁজতে বের হন।

এ সময় বাড়ির পাশের জমির আইলে প্রতিবেশী সাজ্জাদের ছেলে মো. শাকিব তার মেয়েকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করতে দেখেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে শাকিব পালিয়ে যায়।

ভুক্তভোগীর মা জানান, অভিযুক্ত শাকিব তাদের প্রতিবেশী ও আত্মীয়। তার মেয়ে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী হওয়ায় সুযোগ নিয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

নাগরপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল ইসলাম জানান, ভুক্তভোগীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

নাগরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুরাদ হোসেন বলেন, ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত শাকিব পলাতক। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

জুয়েল রানা/তামান্না রুপা/

ঝিনাইদহে শিশু ধর্ষণের অভিযোগে গ্রাম্য চিকিৎসক আটক

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৯:১৮ এএম
আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬, ০৯:২৭ এএম
ঝিনাইদহে শিশু ধর্ষণের অভিযোগে গ্রাম্য চিকিৎসক আটক
ছবি: খবরের কাগজ

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে ৮ বছরের শিশু ধর্ষণের অভিযোগে আত্তাব হোসেন (৬০) নামে এক পল্লী চিকিৎসককে আটক করা হয়েছে।

শনিবার (৬ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ তাকে বিক্ষুব্ধ জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে আটক করে।

অভিযুক্ত আত্তাব হোসেন উপজেলার মনোহরপুর গ্রামের বাসিন্দা।

ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বলেন, শনিবার (৬ জুন) বিকেলে তার মেয়ে দাদির জন্য ওষুধ আনতে আত্তাবের দোকানে যায়। এ সময় শিশুটিকে একা পেয়ে চিকিৎসক আত্তাব ঘরের মধ্যে নিয়ে ধর্ষণ করে। এ ঘটনা জানাজানির পর স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে আটকে রাখে। এ সময় এলাকাজুড়ে চরম উত্তেজনা দেখা দেয়। সংবাদ পেয়ে রাত সাড়ে ৯টার দিকে কালীগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

ভিকটিম ও তার পরিবার আরও বলেন, শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়েছে। শিশুটি বাড়ি ফেরার পর তার আচরণ দেখে সন্দেহ হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে সব স্বীকার করে। এছাড়া শিশুটির মা যৌনাঙ্গ থেকে রক্তক্ষরণ দেখতে পান বলেও জানান।

কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বরত চিকিৎসক আরিফুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়েছে। আরও নিশ্চিত হওয়ার জন্য শিশুটিকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।

কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জেল্লাল হোসেন বিষয়টি নিয়ে বলেন, সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত আত্তাবকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। শিশুটিকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ঝিনাইদহ ২৫০ শয্যা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ভিকটিমের ডাক্তারি পরীক্ষা শেষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মাহফুজুর রহমান/অন্তরা

খুলনায় ধারাবাহিক খুন-চাঁদাবাজিতে উদ্বেগ, কাজে আসছে না বিশেষ অভিযানও

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৮:৫৯ এএম
আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬, ০৯:২৪ এএম
খুলনায় ধারাবাহিক খুন-চাঁদাবাজিতে উদ্বেগ, কাজে আসছে না বিশেষ অভিযানও
ছবি: খবরের কাগজ

শীর্ষ সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে খুলনা। অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, মাদক কারবার ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে খুলনায় ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ড-হামলা, গুলি বিনিময়ের ঘটনায় উদ্বেগ ছড়াচ্ছে। চলতি মাসের শুরুতে নগরীর লবণচরা এলাকায় রাশিদুল ইসলাম নামে এক যুবককে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এর আগে ১৯ মার্চ তার বাড়িতে হামলা চালিয়ে পরিবারের চারজনকে গুলি করার ঘটনা ঘটে। 

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে খুলনায় এখন পর্যন্ত ৩৬টি হত্যার ঘটনা ঘটেছে। ২০২৫ সালে ৮৩টি ও ২০২৪ সালে আরও ৬০টি হত্যার ঘটনা ঘটে।

খুলনায় হত্যা, চাঁদাবাজি, টাকার বিনিময়ে টার্গেট কিলিং, মাদক সিন্ডিকেটে কমপক্ষে ৯টি গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে বলে জানা গেছে। ২০২৪ সালের আগস্টের পর পুলিশের নিষ্ক্রিয়তায় অপরাধ প্রবণতা বেড়েছে বলে দাবি করেন বিশ্লেষকরা। এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ, র‍্যাব ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার অন্য ইউনিটগুলো বিশেষ যৌথ অভিযান শুরু করেছে। তবে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের কেউ এখনো ধরা না পড়ায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দিন পার করছেন নগরবাসী।

জানা গেছে, গত ৪ মার্চ নগরীর ডাকবাংলা মোড়ে রূপসা উপজেলা শ্রমিক দলের সাবেক আহ্বায়ক মাসুম বিল্লাহকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এই মিশনে একাধিক সন্ত্রাসী দল অংশ নেয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্রসহ একজনকে গ্রেপ্তার করলেও পরবর্তী সময়ে তদন্ত কার্যক্রম আর এগোয়নি। ২৯ মে নগরীর সোনাডাঙ্গা এলাকায় দুই নাতিসহ বৃদ্ধ নানিকে হত্যার ঘটনা ঘটে। এ মামলার প্রধান আসামি রফিকুল ইসলাম হাওলাদারকে ৫ জুন রাতে বরিশাল থেকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। একইভাবে ২ জুন লবণচরা এলাকায় বাড়ির সামনে থেকে রাশিদুল ইসলাম নামে এক যুবককে মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। পরে প্রকাশ্যে তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

পুলিশ জানায়, প্রায় তিন বছর আগে একটি মামলায় রাশিদুল কারাগারে ছিলেন। সেখানে ইমরান নামের আরেক যুবকের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সেই সূত্রে ইমরানের পরিবারের সঙ্গে রাশিদুলের যোগাযোগ গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে ইমরানের স্ত্রীর সঙ্গে রাশিদুলের পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরপর আট মাস আগে ইমরান আরেকটি মামলায় কারাগারে গেলে রাশিদুল তার স্ত্রীকে বিয়ে করেন। কারাগার থেকে বের হয়ে ইমরান দলবল নিয়ে ১৯ মার্চ রাশিদুলের বাড়িতে হামলা করলে ৪ জন গুলিবিদ্ধ হয়। পরে ২ জুন বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে রাশিদুলকে হত্যা করা হয়।

মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা খুলনার সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট মোমিনুল ইসলাম জানান, সাম্প্রতিক সময়ে খুলনায় মাদক কারবার, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসী চক্রগুলোর সংঘাত আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রায়ই নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অস্ত্রের মহড়া, গোলাগুলি ও খুনের ঘটনা ঘটছে।

এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতে ৩ জুন কেএমপির সদর দপ্তরে শহরের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিসংক্রান্ত বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে যৌথভাবে বিশেষ অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত হয়। শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত চলা অভিযানে চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের কয়েকজন সহযোগী, মাদক কারবারি, অস্ত্রসহ ৬২ জন গ্রেপ্তার হয়।

পুলিশ, র‌্যাব ও অন্যান্য বিশেষায়িত ইউনিট বর্তমানে একযোগে সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করছে। গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র এবং অবৈধ মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়। তবে অভিযানে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের কেউ এখনো গ্রেপ্তার না হওয়ায় ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম-চাঁদাবাজি অব্যাহত থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ কাটছে না।

পুলিশ জানায়, এর আগে ১৫ এপ্রিল নগরীর বিভিন্ন থানার ওসি রদবদল করা হয়। তবে ওসিদের বদলেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি। 
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান বলেন, শীর্ষ পর্যায় থেকে যৌথ অভিযানের নির্দেশনা রয়েছে। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের তালিকা করা হয়েছে। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখা পুলিশের কর্তব্যের মধ্যে পড়ে। অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোকে অভিযানে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।