ঢাকা ১ আষাঢ় ১৪৩১, শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪

ডেয়ারিতে স্বাবলম্বী হচ্ছেন নারীরা

প্রকাশ: ২১ মে ২০২৪, ০২:৩৫ পিএম
আপডেট: ২১ মে ২০২৪, ০৪:৩৬ পিএম
ডেয়ারিতে স্বাবলম্বী হচ্ছেন নারীরা
ছবি: সংগৃহীত

৩৮ বছর বয়সী রুপালি কর্মকার সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার একজন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা। পূর্ণিমাগাঁতী গ্রামে রয়েছে তার একটি দুধ সংগ্রহ কেন্দ্র। তিন সন্তানের মা রুপালির সংগ্রহ কেন্দ্রে ২৩৩ জন মহিলা দুগ্ধ খামারি রয়েছেন, যেখানে ৩০-৩৫ জন কৃষক দৈনিক দুধ সরবরাহ করেন।

তিনি তার সংগ্রহ কেন্দ্র থেকে গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে মোবাইল ফোন, বিকাশ এবং নগদের মতো ডিজিটাল লেনদেন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করেন।

রুপালি কর্মকার খবরের কাগজকে বলেন, স্বচ্ছ ডিজিটাল ব্যবস্থা আমাকে কৃষকদের আস্থা অর্জন করতে সাহায্য করেছে। কর্মের অনেক ক্ষেত্র তৈরি হওয়ায় মেয়েদের হাতে কৃষি ব্যবসা চলে আসছে। পুরুষরা তার এলাকায় কাপড় ও মাছের ব্যবসায় বেশি আগ্রহী। সরকারি ও বেসরকারি দুধ কোম্পানির কাছে দুধ বিক্রি করে রুপালির মাসিক আয় এখন প্রায় ৬০,০০০ টাকা। ‘চলতি বছরের মধ্যে আশপাশের গ্রাম মিলিয়ে ৫০০ জন নারী খামারি আমার সঙ্গে যুক্ত হবেন’ বলে জানান রুপালি।

রুপালির মতো যশোরের শার্শার পারভীন আকন্দ, পাবনার দিলারা বেগম দুগ্ধ খামার দিয়ে স্বাবলম্বী হয়েছেন। পারভীন আকন্দ বলেন, ২টা ফ্রিজিয়ান গরু দিয়ে শুরু করেছিলেন ২০১২ সালে। এখন তার ফার্মে ১৮টি গাভী, ৫টা ষাঁড় এবং ৮টা বাছুর। এ বছর প্রায় ১৪ লাখ টাকা আয় করছেন পারভীন আকন্দ। 

পারভীন জানান, সরকারের ডেইরি অ্যান্ড লাইভস্টক ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট হতে শতাধিক নারী সব ধরনের সুবিধা পাচ্ছেন। এখানে প্রশিক্ষিণ পাচ্ছেন, যা তাদের কাজকে সঠিকভাবে পরিচালনার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করছে। 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশের সরকারি-বেসরকারি সব সেবাসহ দেশের প্রায় প্রতিটি কর্মকাণ্ডে লেগেছে প্রযুক্তির ছোঁয়া। প্রান্তিক খামারিও এ প্রযুক্তির সুবিধা নিচ্ছে। খামারে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে একদিকে যেমন সময়, শ্রম ও অর্থের সাশ্রয় করছেন, অন্যদিকে বাড়ছে উৎপাদনও। এর ফলে নিরাপদ খাদ্যের নিশ্চয়তার দিকে এগোচ্ছে দেশ। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র খামারিদের পণ্যের ন্যায্যমূল্যও নিশ্চিত হচ্ছে।

বাংলাদেশ ডেইরি ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিডিএফএ) অনুসারে, দেশে প্রায় ১২ লাখ দুগ্ধ খামার রয়েছে। ৯৪ লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দুগ্ধশিল্পের সঙ্গে জড়িত। বর্তমানে স্থানীয় দুগ্ধ খাতে আনুমানিক বিনিয়োগ প্রায় ৯০ হাজার কোটি টাকা। দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি, উচ্চ আয় এবং ক্রমবর্ধমান পুষ্টিসচেতনতার কারণে দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যের চাহিদা বাড়ছে। গত ২০ বছরে দেশে দুধের উৎপাদন অন্তত পাঁচগুণ বেড়েছে। উৎপাদন বাড়লেও চাহিদা ও জোগানের মধ্যে ব্যবধান রয়েছে।

যান্ত্রিকীকরণ ও ডিজিটাইজড করা প্রসঙ্গে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মো. আব্দুর রহমান সম্প্রতি বলেছেন, খামারিদের প্রযুক্তিগত সুবিধার আওতায় আনতে সরকার কাজ করছে। প্রযুক্তির ব্যাপক সম্প্রসারণ ঘটাতে চাই। যারা প্রযুক্তির সেবা গ্রহণ করবেন তাদের প্রশিক্ষণের প্রয়োজন আছে। সেদিকে নজর রয়েছে সরকারের।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের প্রাণিসম্পদ খাতের প্রধান চালিকাশক্তি এখন নারী। বিশেষ করে গ্রামীণ নারীদের শ্রমে ভর করে এগোচ্ছে দেশের গবাদিপশু সম্প্রসারণ কার্যক্রম। বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এ খাতে নারীর অংশগ্রহণ ৮৮ দশমিক ২ এবং পুরুষের মাত্র ১১ দশমিক ৮ শতাংশ।

বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএলআরআই) একটি গবেষণা প্রতিবেদনে জানা যায়, প্রাণিসম্পদ খাতে বর্তমানে শতকরা ২০ ভাগ প্রত্যক্ষ এবং ৫০ ভাগ পরোক্ষভাবে মানুষের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে। যার অধিকাংশই নারী। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবমতে, বর্তমানে জিডিপিতে প্রাণিসম্পদ খাতের অবদান ১ দশমিক ৯০ শতাংশ এবং প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ১০ শতাংশ। কৃষিক্ষেত্রে প্রাণিসম্পদের অবদান ১৬ দশমিক ৫২ শতাংশ, যা জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ মানুষকে প্রত্যক্ষ এবং ৫০ শতাংশ মানুষকে পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত করে। এসব কারণেই গবাদিপশুর খামার দ্রুত বর্ধনশীল ও সম্ভাবনাময় একটি খাত হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলেন, গ্রামাঞ্চলে বেশির ভাগ পরিবারেই গবাদিপশু লালন-পালন করা হয়। সাধারণত বাড়ির নারীরাই এগুলোর দেখাশোনা করেন। নারীদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া হলে সামনের দিনগুলোয় এর মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে তারা আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন। পাশাপাশি প্রাণিসম্পদ খাতেও উৎপাদন বাড়বে।

কৃষি অর্থনীতিবিদ গোলাম হাফিজ কেনেডি খবরের কাগজকে বলেন, ‘নারীরা পরিবারের দেখাশোনার পাশাপাশি গবাদিপশু লালন-পালন করতে পারেন। এতে তারা পরিবারের আয়েও বড় ভূমিকা রাখতে পারেন। এতে ঘরে বসে থেকেই তাদের আয় করার সুযোগ রয়েছে। নারীদের স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ রয়েছে। 

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন খবরের কাগজকে বলেন, ‘নারীরা পারিবারিকভাবে গবাদিপশু দেখাশোনা করেন। বাড়ির কাজ যেমন অবৈতনিক, তেমনি পারিবারিক গবাদিপশু লালন-পালনও অবৈতনিক। এটা তাদের সম্পূর্ণ কর্মসংস্থান নয়। বৃহত্তর পারিবারিক কাজের অংশ হিসেবেই তারা এটা করে থাকেন।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের (এলডিডিপি) চিফ টেকনিক্যাল কো-অর্ডিনেটর ড. মো. গোলাম রব্বানী খবরের কাগজকে বলেন, ‘সামাজিকভাবে আমাদের দেশে পরিবারগুলোর কর্তা পুরুষ। সে কারণে প্রাণিসম্পদ খাতে নারীর অংশগ্রহণ বেশি থাকলেও পুরুষরাই বেশি মালিকানায় রয়েছেন। এক্ষেত্রে মালিকানার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো পারিবারিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীর অংশীদারত্ব বাড়ানো। সেটাকে প্রাধান্য দিতে হবে এবং তার জন্য বিভিন্ন স্থানে নারীদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করতে বিভিন্ন সংস্থা কাজ করছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ পশুর খাদ্য তিন ধরনের- দানাদার, শুকনো খড় ও ঘাস। অনেক সময় যে পরিমাণ খাবার খাওয়ানো প্রয়োজন, তার চেয়ে বেশি খাওয়ানো হয়। আবার ওষুধও মাঝে মধ্যে বেশি ব্যবহার করা হয়। এতে খরচ বেড়ে যায়। আমরা উদ্যোক্তাদের কীভাবে কম খরচে উৎপাদন করা যায় তার প্রশিক্ষণ দিচ্ছি।’

নিত্যপণ্যের দাম চড়া, বেচাকেনায় ভাটা

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৪, ১১:২৭ এএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৪, ১১:২৭ এএম
নিত্যপণ্যের দাম চড়া, বেচাকেনায় ভাটা
ছবি : সংগৃহীত

অন্য বছরে বসে থাকার সময় ছিল না। কাস্টমার চাপাচাপি করত। অথচ এবার কোরবানি ঈদে ভিন্ন চিত্র। কাস্টমার নেই। বিক্রিও নেই। সব জিনিসের দাম বাড়ার কারণে বিক্রি কমে গেছে। এভাবে কোরবানির ঈদের বেচাকেনার ব্যাপারে হতাশার কথা জানান কারওয়ান বাজারের লক্ষ্মীপুর জেনারেল স্টোরের কামরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ঈদের আগে আদা ও রসুনের দাম কেজিতে ২০-৩০ টাকা বেড়ে গেছে। শুধু এই খুচরা বিক্রেতাই নন, বিভিন্ন বাজারের অন্যান্য বিক্রেতাও বলছেন, ঈদের আগে জিরা, এলাচিসহ বিভিন্ন মসলার দাম বেড়ে গেছে। কাস্টমাররা ঢাকা ছেড়ে গ্রামে চলে যাচ্ছেন। এ জন্যও বিক্রি কমে গেছে। তবে আগের মতোই পেঁয়াজ ৯০ টাকা, ডিমের ডজন ১৫৫-১৬০ টাকা। চাহিদা কমায় আলু, পেঁপেসহ অন্যান্য সবজির দাম কিছুটা কমেছে। 

বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

বিক্রি কমেছে মসলার

ঈদুল আজহা এলে বেচাকেনার ধুম পড়ে যায়। কিন্তু রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও ডলারসংকটের কারণে বিভিন্ন মসলার দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। তাই এবার ঈদে বেচা-বিক্রি একেবারে কম বলে বিক্রেতারা জানান। 

তারা জানান, জিরা ৮০০ টাকা কেজি, এলাচির কেজি ৩৪০০ থেকে ৪০০০ হাজার টাকা, গোলমরিচ ১১০০, লবঙ্গ ১৬০০ টাকা কেজি, কিশমিশ ৫৪০ টাকা, কাজু বাদাম ১১৫০ টাকা, কাঠবাদাম ১৩৫০ টাকা। বাজারের সব মসলার দামই বেশি। এ জন্য কেউ বেশি করে কেনেন না।

আব্দুস সালাম নামে এক বিক্রেতা বলেন, কাস্টমার আগের মতো আসছেন না। সামনে ঈদ। অনেকেই বাড়ি চলে যাচ্ছেন। কাজেই ঢাকাতে বিক্রিও কমে গেছে। 

অন্য খুচরা বিক্রেতারাও বলছেন, গত বছরের চেয়ে দাম বেড়ে গেছে। তাই এবারে ঈদে বিক্রি কম। গত মাসে ডলারের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছু মসলার দাম বেড়ে গেছে। আগের মতো বোতলজাত সয়াবিন তেলের লিটার ১৬৭ টাকা ও পাঁচ লিটার ৭৯০-৮১০ টাকা, ২ কেজি আটা ১১০-১৩০ টাকা, বেসন ১২০, খোলা চিনি ১৩০, প্যাকেট চিনি ১৩৫ টাকা, সেমাই প্যাকেট ৪৫-৫০ টাকা।

ঈদের আগে আগে পেঁয়াজের দামও বেড়ে গেছে। গত বছরের এই সময়ে পেঁয়াজের কেজি ৪০ টাকার নিচে থাকলেও এবার ৯০ টাকায় উঠে গেছে। ভারত রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করলেও সেই ঘোষণার কোনো প্রভাব দেখা যায় না বাজারে। দেশে প্রচুর পেঁয়াজ উৎপাদন হলেও মোকামের ব্যাপারীরা ইচ্ছামতো দাম আদায় করছেন। ৮৫-৯০ টাকা কেজি বিক্রি করছেন খুচরা বিক্রেতারা। পাইকারিতে ৭৩-৭৭ টাকা বলে বিক্রেতারা জানান।

পেঁয়াজের দামের ব্যাপারে টাউন হল বাজারের শফিকুল খবরের কাগজকে বলেন, মোকামেই বেশি দাম। এ জন্য আমাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হয়। কয়েক দিন ধরে ৮৫-৯০ টাকা কেজি বিক্রি করা হচ্ছে। আদা ৩২০-৩৪০ টাকা। রসুনের দামও চড়া। কারওয়ান বাজারের এরশাদ বলেন, পেঁয়াজ, আদা ও রসুনের দাম ঈদের আগে বেশি। ফরিদপুরের পেঁয়াজের কেজি ৮৫ টাকা, আদা ৩২০ ও রসুন ২২০-২৫০ টাকা কেজি। 

সপ্তাহের ব্যবধানে আলুর দাম কমেছে কেজিতে ৫ টাকা। খুচরা বিক্রেতারা জানান, ৫৫-৬০ টাকা কেজি বিক্রি করা হচ্ছে। টাউন হল বাজারের রফিক বলেন,  সপ্তাহের ব্যবধানে ৫ টাকা কমে বর্তমানে ৫৫ কেজি। গোল লাল আলুর দাম একটু বেশি ৬০ টাকা কেজি।

স্থিতিশীল মাংসের দাম

ঈদ ঘনিয়ে আসায় পোলট্রি মুরগির দাম বাড়েনি। আগের মতোই  ১৯০-২০০ কেজি বিক্রি ও সোনালির দাম ৩০০-৩২০ টাকা কেজি বিক্রি হতে দেখা যায়। দেশি মুরগিও কমে ৬৫০ টাকা কেজিতে নেমেছে। ডিম বিভিন্ন বাজারে ১৫৫-১৬০ টাকা ডজন বিক্রি করা হচ্ছে। গত সপ্তাহের মতোই গরুর মাংস ৭৫০ টাকা, খাসির মাংস ১ হাজার ৫০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা কেজি বলে বিক্রেতারা জানান। 

কমেছে চালের দাম 

সারা দেশেই বোরো ধান উঠে গেছে। এর প্রভাবে ঢাকায় চালের দাম কমেছে। আগের সপ্তাহের ৬৮-৭০ টাকার মিনিকেট বর্তমানে ৬৬-৬৭ টাকা, ৫৩-৫৫ টাকার আটাশ চাল ৫২-৫৪ টাকা ও মোটা চাল ৫২ টাকা কেজি। 

কারওয়ান বাজারের খুচরা চাল বিক্রেতা হাজি মাঈন উদ্দিনসহ অন্য বিক্রেতারা জানান, ধান উঠায় কমছে চালের দাম। ঈদে পোলাও চালের চাহিদাও বাড়ে। তবে এবার সেভাবে বিক্রি হচ্ছে না বিক্রেতারা জানান। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পোলাওয়ের প্যাকেট চাল ১৫০-১৭০ ও বস্তার চাল ১২০-১৪০ টাকা কেজি।

মাছের দামও কমতির দিকে

ঈদে মানুষ ঢাকা ছাড়তে থাকায় চাহিদা কমে গেছে মাছেরও। কেজিতে গড়ে ৩০-৫০ টাকা কমেছে বলে বিক্রেতারা জানান। বর্তমানে রুই ও কাতল ৩২০-৫৫০ টাকা কেজি, চিংড়ি ৫৫০-৮০০ টাকা। তবে নদীর চিংড়ি ১২০০-১৬০০ টাকা। পাবদা ৫০০-৭০০, পাঙাশ ২০০, তেলাপিয়া ২০০-২৫০, শিং ও মাগুর ৪০০-৬০০ টাকা কেজি।

পড়েছে সবজির দাম

গত সপ্তাহে পেঁপে ৪০-৬০ টাকা কেজি বিক্রি হলেও গতকাল ৫০ টাকা বিক্রি হতে দেখা যায়। প্রতি কেজিতে ১০-২০ টাকা কমেছে। টমেটোর কেজি ৪০-৫০ টাকা। করলা ৪০-৫০, ঢ্যাঁড়শ ৩০-৪০, মিষ্টিকুমড়া ৩০-৪০, ঝিঙে ও ধুন্দুল ৪০-৫০, শজনে ডাঁটা ৮০-১২০, পটল ৪০-৫০ টাকা, বেগুন ৬০-৮০ টাকা। কাঁচা মরিচ কেজি ২২০-২৩০ টাকা কেজি। তবে শসার কেজি ১০ টাকা বেড়ে ৪০-৬০ টাকা থেকে ৬০-৮০ টাকায় উঠেছে।

বিজিএপিএমইএ'র বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলন নতুন আরোপিত ও বর্ধিত শুল্ক প্রত্যাহার দাবি

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৪, ০৯:৫২ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৪, ০৯:৫৪ পিএম
নতুন আরোপিত ও বর্ধিত শুল্ক প্রত্যাহার দাবি
বাজেট প্রতিক্রিয়া জানাতে বৃহস্পতিবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সংবাদ সম্মেলন করে বিজিএপিএমইএ। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ গার্মেন্টস এক্সেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএপিএমইএ) সভাপতি মো. শাহরিয়ার বলেছেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট অবাস্তব নয়, তবে এটি বাস্তবায়ন করতে হলে ব্যবসাবান্ধব হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। এ কারণে রপ্তানিমুখী গার্মেন্টস এক্সেসরিজ ও প্যাকেজিং শিল্পের বিকাশ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে বাজেটে নতুনভাবে আরোপিত ও বর্ধিত শুল্ক প্রত্যাহার করার দাবি জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়।

২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর প্রতিক্রিয়ার অংশ হিসেবে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, বিজিএপিএমইএর সাবেক সভাপতি রাফেজ আলম, কাদের খান, বর্তমান কমিটির সহসভাপতি মোজাহারুল হক শহিদ, পরিচালক কাজী ফাহাদ, জামিল আহমেদ, মো. জসীম উদ্দিন প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে গার্মেন্টস এক্সেসরিজ ও প্যাকেজিং খাতে উৎসে কর আগামী পাঁচ বছরের জন্য দশমিক ৫০ শতাংশ ধার্য করে কর্তিত উৎসে করকে চূড়ান্ত কর দায় হিসেবে নিষ্পত্তি করার দাবি জানান মো. শাহরিয়ার। বাজেটের কিছু ইতিবাচক দিক তুলে ধরে বিজিএপিএমইএর সভাপতি বলেন, আমরা প্রস্তাবিত বাজেটকে জনবান্ধব এবং ব্যবসাবান্ধব হিসেবে বলতে পারব কিনা তাতে দ্বিধান্বিত হচ্ছি। কারণ, মূল্যস্ফীতি কম থাকলে কর্মসংস্থান বাড়ে, আয়ের উৎসও বাড়ে, ছোট ব্যবসায়ীরা ব্যবসা প্রসারের সুযোগ-সুবিধা পায়। কিন্তু প্রস্তাবিত বাজেটে এ উদ্দেশ্য অর্জনে সুনির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা নেই। তা ছাড়া যেখানে কর প্রদানকারীদের করহার বৃদ্ধি করে ৩০ শতাংশ করা হয়েছে। সেখানে অপ্রদর্শিত ও কালোটাকা ১৫ শতাংশ কর দিয়ে বৈধ করার সুযোগ দেওয়াকে আমরা যৌক্তিক মনে করি না।

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, প্রস্তাবিত বাজেটে দেশীয় শিল্প সুরক্ষার কথা বলা হলেও শিল্প খাতে আগের দেওয়া অনেক সুবিধা হ্রাস করা হয়েছে। নতুন বন্ড লাইসেন্স ফি ৫০ হাজার টাকার স্থলে এক লাখ টাকা এবং লাইসেন্স নবায়ন ফি বার্ষিক ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকার প্রস্তাব করা হয়েছে। ব্যাংকে গচ্ছিত আমানতের ওপর আবগারি শুল্কহার বৃদ্ধি করা হয়েছে। কাস্টমস আইনে আমদানি করা পণ্যের এইচএস কোডের ভুলজনিত কারণে ২০০ থেকে ৪০০ শতাংশ জরিমানার বিধান করা হয়েছে। শিল্পাঞ্চলের বাইরে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংযোগ এবং ব্যাংকঋণ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ পদক্ষেপগুলোর কারণে উৎপাদন খরচ বাড়বে। এতে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো ভয়াবহ সংকটে পড়বে, কারখানা বন্ধ হয়ে যাবে। শ্রমিকরা বেকার হয়ে পড়বে। তাই আমরা দেশ ও জনগণের স্বার্থে নতুনভাবে আরোপিত এসব সিদ্ধান্ত ও শুল্ক প্রত্যাহার চাচ্ছি। 

মো. শাহরিয়ার বলেন, শিল্প-কারখানার জন্য প্রি-ফেব্রিকেটেড কারখানা ভবন নির্মাণে আমদানি উপকরণের শুল্ক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। জ্বালানি সাশ্রয়ী বাতির ওপর ভ্যাট ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। শিল্পের স্বার্থে আমরা এসব কর প্রত্যাহার চাচ্ছি।

শিল্পের উন্নয়নে সংবাদ সম্মেলনে সরকারের কাছে বেশকিছু দাবি তুলে ধরেন বিজিএপিএমইএর এই নেতা। এ সময় মো. শাহরিয়ার বলেন, গার্মেন্টস এক্সেসরিজ ও প্যাকেজিং খাতের সরাসরি রপ্তানির অনুকূলে নগদ প্রণোদনা নিশ্চিত করা; মূলধনী যন্ত্রাংশ, নির্মাণসামগ্রী এবং অগ্নি ও নিরাপত্তা সরঞ্জাম আমদানিতে রেয়াতি শুল্ক হারের সুবিধা দেওয়া; এক্সপোর্ট রিটেইনিং কোটা অ্যাকাউন্টের ওপর আয়কর ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ ধার্য করা এবং গার্মেন্টস এক্সেসরিজ ও প্যাকেজিং খাতের পণ্য ও সেবা সম্পূর্ণভাবে ভ্যাটের আওতামুক্ত রাখার দাবি জানাচ্ছি।

উৎপাদনে ফিরছে সাফকো স্পিনিং

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৪, ০২:৪১ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৪, ০২:৪১ পিএম
উৎপাদনে ফিরছে সাফকো স্পিনিং

দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বস্ত্র খাতের কোম্পানি সাফকো স্পিনিং মিলস লিমিটেড কোম্পানির উৎপাদন মিলগুলো বন্ধের দুই মাস পরে পুনরায় খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী ১ জুলাই থেকে প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানানো হয়েছে। 

সংশ্লিষ্টরা বলেন, চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে ২ মাসের জন্য উৎপাদন বন্ধ করে দেয় কোম্পানিটি। কী কারণে উৎপাদন বন্ধ করেছে তা জানানো হয়নি। এরপর চলতি বছরের ১২ এপ্রিল থেকে আরও দুই মাস উৎপাদন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় কোম্পানিটি। 

তবে বুধবার (১২ জুন) কোম্পানিটির উৎপাদন বন্ধ থাকার মেয়াদ শেষ হলেও কোম্পানিটি ৩০ জুন পর্যন্ত কারখানা এবং উৎপাদন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিভিন্ন সমস্যার কারণে সাফকো স্পিনিং মিলস লিমিটেড উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন কার্যক্রম গত ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে বন্ধ রয়েছে। উৎপাদন বন্ধের কারণ সম্পর্কে কিছু জানানো হয়নি। তবে উৎপাদন বন্ধ হলেও মেইনটেন্যান্সসহ অন্যান্য কার্যক্রম চালু আছে বলে কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

এদিকে সাম্প্রতিক সময় ঋণ খেলাপি হওয়ার কারণে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বস্ত্র খাতের কোম্পানি সাফকো স্পিনিং মিলসের সম্পদ নিলামে তোলা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। ব্যাংক এশিয়ার কাছে ঋণ নেওয়ার জন্য বন্ধক ছিল কোম্পানিটির সম্পদ। ঋণের অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় কোম্পানিটির সম্পদ নিলামে তোলার সিদ্ধান্ত নেয় প্রতিষ্ঠানটি। 

গত ১ ফেব্রুয়ারি ব্যাংকটি এই বিষয়ে নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। এ সময় জানানো হয় ২৮ ফেব্রুয়ারি নিলাম অনুষ্ঠিত হবে। নিলামে কোম্পানিটির হবিগঞ্জে ৬১০ ডেসিমেল জমি এবং কারখানার অবকাঠামোর জন্য দরপত্র জমা দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়। 

এ সময় ব্যাংক এশিয়ার এক কর্মকর্তা নিলামের বিষয়ে বলেন, ‘আমরা তাদের যথেষ্ট সময় দিয়েছিলাম; কিন্তু তারা ঋণ পরিশোধ করেনি। সে কারণেই আমরা তাদের সম্পদ নিলামে তুলছি।’ জানা যায়, ২০১৫ সালে ব্যাংক এশিয়ার করপোরেট শাখা থেকে ঋণের জন্য সম্পদ বন্ধক হিসাবে রাখা হয়েছিল। ৩০ জানুয়ারি, ২০২৪ পর্যন্ত সুদসহ সাফকোর বকেয়া পাওনা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১২২ কোটি টাকা। সর্বশেষ আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে সাফকো স্পিনিংয়ের সম্পত্তির আনুমানিক মূল্য ১৪০ কোটি টাকার বেশি।

তবে সাফকোর স্পিনিংয়ের কোম্পানি সচিব ইফতেখার আহমেদ খবরের কাগজকে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমরা নিলামের বিজ্ঞপ্তি পাইনি।’ তবে তিনি স্বীকার করেন, নানা কারণে কোম্পানিটি ব্যবসায়িক চাপে রয়েছে। যে কারণে ঋণ খেলাপিতে নিয়ে গেছে। তিনি বলেন, কোম্পানিটির এই ঋণ পুনর্নির্ধারণের জন্য গত বছরের ডিসেম্বরে ব্যাংক এশিয়ার কাছে আবেদন করেছিল। এর আগে ২০১৯ সালে একবার ঋণ পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছিল।

প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায় ২০২২-২৩ অর্থবছরে স্পিনিং মিলের রাজস্ব আগের বছরের তুলনায় ৩৯ শতাংশ কমে ৪১ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর মেয়াদে কোম্পানিটির ব্যবসায়িক সংকট অব্যাহত ছিল। এই সময়ের মধ্যে রাজস্ব আয় ৮৬ শতাংশের বেশি কমে যায়।

সাফকো স্পিনিং মিলসের ২০২২-২০২৩ হিসাব বছরে লোকসান হয়েছে ৩৭ কোটি ২১ লাখ ৫৫ হাজার ১৭৫ টাকা। আর বছর শেষে পুঞ্জীভূত নিট লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৬ কোটি ৫৩ লাখ ৭০ হাজার ৭৫৯ টাকায়। ২০২২-২০২৩ হিসাব বছরে সাফকো স্পিনিং মিলসের শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৫ টাকা ৫২ পয়সা। এর আগের হিসাব বছরে অবশ্য কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছিল ৩৩ পয়সা। কোম্পানির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ১৫ টাকা ৯৪ পয়সায়। আগের হিসাব বছর শেষে যা ছিল ২১ টাকা ৪৪ পয়সায়।

সাফকো তার বার্ষিক প্রতিবেদনে বলেছে, মূল্যস্ফীতি, ডলারের ঘাটতি এবং গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটসহ বেশ কয়েকটি কারণে এর উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। এ ছাড়া সুতার উৎপাদন খরচ বেড়েছে। এদিকে গত এক বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে কমছে স্থানীয় বাজারে সুতার দাম। ফলে উৎপাদন খরচের চেয়ে কম দামে সুতা বিক্রি করে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রতিষ্ঠানিটির বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোম্পানিটির মূলধন সংকট রয়েছে। যে কারণে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে ব্যাংক ঋণের কিস্তি পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি। এ ছাড়া আর্থিক সমস্যার কারণে সাফকো স্পিনিং গত অর্থবছরে শেয়ারহোল্ডারদের কোনো ডিভিডেন্ড দিতে পারেনি।

সাফকো স্পিনিং মিলস লিমিটেডের তৃতীয় প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে উল্লেখিত সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৩ টাকা ৯২ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে লোকসান ছিল ৫৫ পয়সা। অর্থবছরের তিন প্রান্তিকে বা ৯ মাসে (জুলাই-মার্চ) কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ১১ টাকা ৩৮ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে লোকসান ছিল ২ টাকা ৫৫ পয়সা।

বিশ্ববাজারে বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৪, ০২:২৭ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৪, ০২:২৭ পিএম
বিশ্ববাজারে বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম
আরব উপসাগরে অবস্থিত সৌদি আরবের সাফানিয়া তেলক্ষেত্র। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ববাজারে আবারও বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিবিষয়ক প্রতিষ্ঠান এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এবং পেট্রোলিয়াম রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংস্থা ওপেকের বৈশ্বিক ভালো চাহিদার পূর্বাভাসের মধ্যেই গত বুধবার জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। জ্বালানি শিল্পের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এই দাম বেড়েছে, যেখানে দেখা গেছে, গত সপ্তাহে মার্কিন অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মজুত যেমনটা থাকার প্রত্যাশা করা হয়েছিল তার চেয়ে বেশি কমে গেছে। খবর রয়টার্সের।

ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থাটির খবরে বলা হয়, অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার-আদর্শ ব্রেন্টের ভবিষ্যৎ সরবরাহ চুক্তিমূল্য ৫০ সেন্ট বা দশমিক ৬০ শতাংশ বেড়েছে। এদিন জ্বালানি পণ্যটির দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮২ ডলার ৪২ সেন্টে পৌঁছেছে। অন্যদিকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মার্কিন বাজার-আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) ভবিষ্যৎ সরবরাহ চুক্তিমূল্য ৬২ সেন্ট বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৮ দশমিক ৫২ শতাংশ হয়েছে। সে হিসাবে ডব্লিউটিআইয়ের দাম বেড়েছে দশমিক ৮০ শতাংশ। 

বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের চাহিদা বৃদ্ধির পূর্বাভাস পরিবর্তন করেছে এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন। প্রতিষ্ঠানটি ২০২৪ সালের জন্য বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের চাহিদা বৃদ্ধির পূর্বাভাস আগের দৈনিক ৯ লাখ ব্যারেল (বিপিডি) থেকে বাড়িয়ে ১১ লাখ ব্যারেলে উন্নীত করেছে। 

অন্যদিকে পেট্রোলিয়াম রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংস্থা ওপেক, ২০২৪ সালের জন্য তাদের পূর্বাভাস আগেরটাই বজায় রেখেছে। বছরের দ্বিতীয়ার্ধে ভ্রমণ ও পর্যটনের প্রত্যাশার কথা উল্লেখ করে তারা বিশ্বব্যাপী তেলের চাহিদা তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী বৃদ্ধি পাওয়ার কথা জানিয়েছে।

এর আগে ওপেক ও তার মিত্ররা চলতি বছরের অক্টোবর মাস থেকে জ্বালানি তেল উত্তোলন কমানোর সিদ্ধান্ত পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের কথা জানানোর পর গত সপ্তাহে দাম ২ শতাংশের বেশি কমে গিয়েছিল।

অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক বহুজাতিক ব্যাংকিং ও আর্থিক পরিষেবা সংস্থা এএনজেডের বিশ্লেষকরা একটি বিবৃতিতে বলেছেন, ওপেক চাহিদা বৃদ্ধির পূর্বাভাস বজায় রেখেছে, এ কারণে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। চাহিদা বৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি বা কারণ হিসেবে চীন ও অন্যান্য উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর ভূমিকার (শিল্প-কারখানাগুলোতে চাহিদা বাড়বে) কথাও বলেছেন বিশ্লেষকরা। 

বিশ্লেষকরা আরও বলেন, যদিও গত সপ্তাহে ঘোষণা করা হয়েছে যে, চলতি বছরের শেষের দিকে ওপেক তাদের স্বেচ্ছামূলক জ্বালানি তেল উত্তোলন কমাতে যাচ্ছে, তা সত্ত্বেও পূর্বাভাস অনুসারে বাজারে তাদের এই ঘোষণা সহজেই লুফে নেবেন ব্যবসায়ীরা।’

এদিকে আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের পরিসংখ্যান উদ্ধৃত করে বাজারের একটি সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ জুন শেষ হওয়া সপ্তাহে মার্কিন অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মজুত ২৪ লাখ ২৮ হাজার ব্যারেল কমেছে।

মার্কিন মজুত কমে যাওয়াটা রয়টার্স দ্বারা করা জরিপে বিশ্লেষকদের প্রত্যাশার চেয়ে বেশি ছিল। 

খবরে জানানো হয়, স্থানীয় সময় অনুযায়ী, গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা বা ১৪:৩০ জিএমটিতে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পরিসংখ্যান বিভাগ ইইএ-এর তথ্য প্রকাশিত হওয়ার কথা ছিল। এ ছাড়া বিনিয়োগকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা মূল্য সূচক (সিপিআই) প্রতিবেদনের জন্য উন্মুখ হয়ে  ছিলেন, যা গতকাল বাজার খোলার আগে প্রকাশিত হয় এবং একই দিনের পরে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি ঘোষণার দিকেও তাকিয়ে ছিলেন।

বাজার বিশ্লেষক টিনা টেং বলেছেন, আসন্ন বৈঠকে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিমালার শিথিলতার প্রত্যাশা বুধবার জ্বালানি তেলের দামের ঊর্ধ্বমুখী ধারাকে সমর্থন করবে বলা হচ্ছে। কারণ নীতিমালার শিথিলতা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে উদ্দীপ্ত করবে এবং জ্বালানি তেলের চাহিদা বাড়াতে সহায়ক হবে। টিনা টেং আরও বলেন, ‘তবে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা দীর্ঘমেয়াদে একটি বিয়ারিশ ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াতে পারে।’ অর্থাৎ দীর্ঘমেয়াদে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা জ্বালানি তেলের দামের জন্য একটি নেতিবাচক প্রভাব হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

খবরে বলা হয়, বিশ্বের বৃহত্তম অপরিশোধিত জ্বালানি আমদানিকারক দেশ চীনে মে মাসে ভোক্তা মূল্যস্ফীতি স্থিতিশীল ছিল। কারণ দেশটিতে উৎপাদক মূল্য হ্রাসের হার কমে এসেছে। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, বেইজিংকে দুর্বল অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং অসম অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারকে সমর্থন করার জন্য আরও বেশি কিছু করতে হবে।

শরীয়তপুরে বাণিজ্যিকভাবে মলা মাছ চাষে সফলতা

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৪, ০১:৫৬ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৪, ০২:২৮ পিএম
শরীয়তপুরে বাণিজ্যিকভাবে মলা মাছ চাষে সফলতা
শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার বিকেনগরে মলা মাছ ধরছেন চাষিরা। ছবি: খবরের কাগজ

শরীয়তপুরে বাণিজ্যিকভাবে মলা মাছ চাষ করে সফলতা পেয়েছেন মৎস্যচাষিরা। ৮০ শতাংশ জমিতে ৯ মাসে ৪০ মণ মলা মাছ উৎপাদন করেছে জাজিরা উপজেলার চাষিরা। পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) অর্থায়নে  শরীয়তপুর ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির (এসডিএস) সহযোগিতায় প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে এ মাছের চাষাবাদ করছে মৎস্যচাষিরা। এসডিএসের মৎস্য বিভাগ বলছে, অল্প খরচে পুষ্টিগুণ সম্পন্ন দেশি এ মাছ চাষ করে অধিক লাভবান হওয়া সম্ভব।

জানা গেছে, দেশীয় মাছ মলা খেতে যেমন সুস্বাদু, তেমনি পুষ্টিসমৃদ্ধ। বিভিন্ন ধরনের রোগীর চিকিৎসকরা প্রায়ই মলা মাছ খেতে পরামর্শ দেন। এক সময় খালে-বিলে প্রচুর মলা মাছ পাওয়া যেত। তবে সেই মাছ এখন প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে। মলা মাছ যেন হারিয়ে না যায় সেজন্য পিকেএসএফের অর্থায়নে ও এসডিএসের সহযোগিতায় এই মাছ পুকুরে বাণিজ্যিকভাবে চাষে জেলেদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। বাণিজ্যিকভাবে চাষের মাধ্যমে উৎপাদন, ব্রুড ব্যাংক (উচ্চমানের পোনা উৎপাদনের জন্য নির্বাচিত মাছ) করছেন শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলার বিকেনগর ইউনিয়নের জেলেরা। এ ধরনের মাছ চাষ করে তারা নিজেদের ভাগ্য বদল করছেন। ভালো উৎপাদন হচ্ছে আর প্রত্যাশিত দামও পাওয়া যাচ্ছে। 

এসডিএসের মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, কৃত্রিম প্রজনন পদ্ধতি আবিষ্কার হওয়ার ফলে মলা মাছ এখন বড় পরিসরে চাষাবাদ শুরু হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া দেশীয় অন্য মাছও তারা চাষের মাধ্যমে উৎপাদন করছেন। এ ধরনের উদ্যোগ দেখে অনেক খামারিরা মলা চাষে আগ্রহ দেখিয়েছেন। আর এদিকে ভালো দাম পেয়ে খুশি মৎস্য খামারিরা।

এ ব্যাপারে বিকেনগর এলাকার মাছচাষি আব্দুস সালাম মাদবর বলেন, ‘আমরা এসডিএস মৎস্য কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেনের পরামর্শ নিয়ে মলা মাছ চাষ শুরু করি। চলতি বছরে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার মলা-ঢেলা মাছ বিক্রি করেছি। আগামীতে আরও বেশি করে এসব মাছ চাষ করব।’

এ মাছ চাষ ও খাদ্য সম্পর্কে এসডিএসের কৃষি কর্মকর্তা তানভীর হোসেন  জানান, কার্প বা অন্য মাছ চাষের মতো পুকুর প্রস্তুত করে মলা মাছ চাষ করা হয়। মলা কার্প মাছের সঙ্গে মিশ্র চাষ বা এককভাবেও চাষ করা যায়। মলা প্রাকৃতিক খাদ্য পানির প্লাংকটন, জৈব পদার্থ  খায়। পুকুরে নিয়মিত ভাসমান খাদ্য ও রাসায়নিক সার ইউরিয়া, টিএসসি প্রয়োগে উৎপাদন বাড়ায়।

এসডিএসের মৎস্য কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমাদের দেশের খাল-বিল কমে যাওয়ায় প্রাকৃতিকভাবে এখন আর মলা মাছ তেমন একটা পাওয়া যায় না। প্রাকৃতিক পদ্ধতিতেই মলা মাছ এখন বড় পরিসরে চাষাবাদ শুরু হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। মলা দেশীয় প্রজাতির ছোট মাছ, যা সুস্বাদু, পুষ্টিকর। এ মাছে প্রচুর ভিটামিন এ, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও জিংক রয়েছে।’