ঢাকা ৬ আষাঢ় ১৪৩১, বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০২৪

দুর্বল কোম্পানি জেড গ্রুপে স্থানান্তর করতে পারবে ডিএসই

প্রকাশ: ২৩ মে ২০২৪, ১২:০৭ পিএম
আপডেট: ২৩ মে ২০২৪, ১২:১২ পিএম
দুর্বল কোম্পানি জেড গ্রুপে স্থানান্তর করতে পারবে ডিএসই

পুঁজিবাজারে কোনো কোম্পানি ঘোষিত লভ্যাংশের কমপক্ষে ৮০ শতাংশ নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে পরিশোধ বা বিতরণ করতে ব্যর্থ হলে ওই প্রতিষ্ঠানকে জেড গ্রুপে স্থানান্তর করতে পারবে স্টক এক্সচেঞ্জ, এমন বিধান করে এ বিষয়ে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

এখন থেকে এ নীতিমালার আলোকে দুর্বল কোম্পানিগুলোকে ‘জেড’ গ্রুপে স্থানান্তর করবে স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষ। এ জন্য আলাদা করে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কোনো অনুমোদন নিতে হবে না।

গত সোমবার (২০ মে) এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। আগামী ২ জুলাই থেকে এ নির্দেশনা কার্যকর হবে। নতুন নিয়মানুযায়ী, পুঞ্জীভূত লোকসানের পরিমাণ কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ছাড়িয়ে গেলে ওই কোম্পানি জেড গ্রুপে যাবে।

বিএসইসির নির্দেশনায় বেশ কিছু শর্তের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তার যে কোনো একটি শর্ত লঙ্ঘন করলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) ওই কোম্পানিকে জেড ক্যাটাগরিতে স্থানান্তর করতে পারবে।

বিএসইসির নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে, তালিকাভুক্ত কোম্পানি শেষ লভ্যাংশ ঘোষণার তারিখ থেকে বা স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্তির তারিখ থেকে পরপর দুই বছরের জন্য কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করতে ব্যর্থ হলে জেড ক্যাটাগরিতে স্থানান্তর করা হবে। পাশাপাশি আইন অনুযায়ী একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) করতে ব্যর্থ হলেও একই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তবে কোনো রিট পিটিশন বা আদালতে বিচারাধীন কোনো আইনি প্রক্রিয়ার ফলস্বরূপ এজিএম অনুষ্ঠিত না হওয়ার ক্ষেত্রে, অর্থাৎ উপ-বিচারের বিষয় বা জোরপূর্বক ঘটনা ঘটলে জেড ক্যাটাগরিতে স্থানান্তরের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২ বছর সময় পর্যন্ত বিবেচনা করা যেতে পারে।

এতে বলা হয়েছে, যদি তালিকাভুক্ত কোম্পানির সংস্কার বা বিএমআরই (ভারসাম্য, আধুনিকীকরণ, পুনর্বাসন এবং সম্প্রসারণ) এর জন্য এই ধরনের কোনো সময় ব্যতীত ন্যূনতম ছয় মাস ধরে একটানা উৎপাদনে না থাকলে জেড ক্যাটাগরিতে স্থানান্তর করা হবে।

এ ছাড়াও পুঁঞ্জিভূত লোকসানের পরিমাণ কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ছাড়িয়ে গেলে ওই কোম্পানিকে জেড ক্যাটাগরিতে স্থানান্তর করা যাবে।
এ ছাড়া কোনো কোম্পানি ঘোষিত বা অনুমোদিত লভ্যাংশের কমপক্ষে ৮০ শতাংশ নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে পরিশোধ বা বিতরণ করতে ব্যর্থ হলে সেটিকে জেড ক্যাটাগরিতে স্থানান্তর করতে পারবে স্টক এক্সচেঞ্জ।

ব্যাংক, বিমা ও আর্থিক খাতের প্রতিষ্ঠান ছাড়া জেড ক্যাটাগরিভুক্ত অন্য কোনো কোম্পানির উদ্যোক্তা-শেয়ারহোল্ডার ও পরিচালকদের শেয়ার লেনদেনে নিষেধাজ্ঞা থাকবে। বিএসইসির অনুমতি ছাড়া তারা ওই কোম্পানির কোনো শেয়ার কিনতে, বেচতে বা হস্তান্তর করতে পারবেন না।
টি+৩ ভিত্তিতে জেড ক্যাটাগরির শেয়ারের লেনদেনের নিষ্পত্তি হবে।

নতুন এ আদেশের মাধ্যমে এর আগে ২০০৮ সালের ১৫ জানুয়ারি, ২০২০ সালের ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ সালের ৩০ নভেম্বর ও চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি বিএসইসির জারি করা আদেশ প্রযোজ্য ক্ষেত্রে রদ কিংবা প্রাধান্য দেওয়া হবে।

এর আগে কিসের ভিত্তিতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি জেড গ্রুপে যাবে, সে বিষয়ে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি একটি নির্দেশনা জারি করে বিএসইসি। ওই নির্দেশনার শেষ পয়েন্টে বলা হয়, ইস্যুয়ার কোম্পানির পরবর্তী লভ্যাংশসংক্রান্ত ঘোষণা অথবা বার্ষিক/অন্তর্বর্তী লভ্যাংশসংক্রান্ত ঘোষণার দিন থেকে এ নির্দেশনা কার্যকর হবে।

নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনায় এমন বলা হলেও চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি ২২ কোম্পানিকে জেড গ্রুপে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। 

তখন বাজারসংশ্লিষ্টরা বলেছিলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনায় বলা হয়েছে এক রকম, আর বাস্তবায়ন হয়েছে অন্যভাবে। বিএসইসির নির্দেশনায় যেভাবে বলা হয়েছে, তাতে কোম্পানিগুলোর পরবর্তী লভ্যাংশসংক্রান্ত ঘোষণা আসার পর জেড গ্রুপে স্থানান্তরসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হওয়ার কথা। 

অন্যদিকে বিএসইসির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, সার্বিক বাজার ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে জেড গ্রুপ নিয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোম্পানিগুলোকে জেড গ্রুপে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি বাস্তবায়ন করেছে স্টক এক্সচেঞ্জ। সুতরাং স্টক এক্সচেঞ্জ থেকেই এ বিষয়ে প্রকৃত ব্যাখা দিতে পারবে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পক্ষ থেকে বলা হয়, নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনার আলোকেই ২২ কোম্পানিকে জেড গ্রুপে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ডিএসইর প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিআরও) এ বিষয়ে বিএসইসির সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তার ভিত্তিতেই এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।

জেড গ্রুপ নিয়ে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি জারি করা বিএসইসির নির্দেশনায় বলা হয়, যেসব কোম্পানি পরপর দুই বছর লভ্যাংশ দেবে না এবং দুই বছর বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) করবে না সেগুলো জেড গ্রুপভুক্ত হবে। এ ছাড়া ছয় মাস কোনো কোম্পানি উৎপাদনে না থাকলেও জেড গ্রুপভুক্ত হবে। এমনকি কোম্পানির রিটেইনড আর্নিংস পরিশোধিত মূলধনের থেকে বেশি হলেও, ওই কোম্পানির ঠিকানা হবে জেড গ্রুপে।

তবে নির্দেশনার শেষ পয়েন্টে উল্লেখ করা হয়েছে, ইস্যুয়ার কোম্পানির পরবর্তী লভ্যাংশসংক্রান্ত ঘোষণা অথবা বার্ষিক/অন্তর্বর্তী লভ্যাংশসংক্রান্ত ঘোষণার দিন থেকে এই নির্দেশনা কার্যকর হবে।

কিন্তু বিএসইসির নির্দেশনা জারির পর ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকেই হুট করে অলটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ, আরামিট সিমেন্টস, আজিজ পাইপস, ডেল্টা স্পিনিং, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, জিবিবি পাওয়ার, ইনটেক, ইন্টারন্যাশনল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, কেয়া কসমেটিকস, খুলনা প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং, ন্যাশনাল টি, প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইনান্স, রিজেন্ট টেক্সটাইল, রেনউইক যজ্ঞেশ্বর, রিং শাইন টেক্সটাইল, সাফকো স্পিনিং, স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক, ঢাকা ডাইং, ইউনিয়ন ক্যাপিটাল, উত্তরা ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, ইয়াকিন পলিমার এবং জাহিনটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজকে জেড গ্রুপভুক্ত করেছে ডিএসই।

চলতি বছরের ৪ মার্চ আরও ৬টি জেড শ্রেণিভুক্ত হয়। তাতে ডিএসইতে জেড শ্রেণির কোম্পানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৫৫টিতে।

এ সময়ে যে ৬টি কোম্পানিকে জেড শ্রেণিভুক্ত করা হয় তার মধ্যে প্রাইম টেক্সটাইল, প্রাইম ফিন্যান্স, এএফসি অ্যাগ্রো ও অ্যাকটিভ ফাইন ‘বি’ শ্রেণি থেকে এবং নিউলাইন ক্লথিংস ও ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স ‘এ’ শ্রেণি থেকে জেড শ্রেণিতে স্থানান্তর হচ্ছে।

জেড গ্রুপভুক্ত হওয়ায় এই কোম্পানিগুলোর শেয়ারের বিপরীতে মার্জিন ঋণসুবিধাও বন্ধ করে দেওয়া হয়। হুট করে এমন সিদ্ধান্ত আসায় ১৮ ফেব্রুয়ারি লেনদেনের শুরুতেই বড় ধরনের দরপতনের মধ্যে পড়ে কোম্পানিগুলো। 

শহিদুল ইসলাম নামের এক বিনিয়োগকারী বলেন, দুই দফায় ২৮ কোম্পানিকে জেড গ্রুপে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে তিন কোম্পানিতে আমার বিনিয়োগ রয়েছে। এতে আমি বড় ধরনের লোকসানের মধ্যে পড়েছি। জানি না আর কত লোকসান হবে।

রফিকুল ইসলাম নামের আরেক বিনিয়োগকারী বলেন, ২৮ কোম্পানি জেড গ্রুপ নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থবিরোধী হয়ে গেছে।

তখন ডিএসইর সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ড. এটিএম তারিকুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেছিলেন বিএসইসি যেভাবে বলেছে, সেভাবেই করা হয়েছে। আমাদের সিআরও বিএসইসি সংশ্লিষ্ট অফিসারের সঙ্গে আলোচনা করে এটা ঠিক করেছেন। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিএসইর এক সদস্য খবরের কাগজকে বলেন, ফ্লোর প্রাইস দিয়ে দীর্ঘদিন বাজার এক প্রকার বন্ধ করে রাখা হয়েছিল। ফ্লোর প্রাইস তুলে নেওয়ার পর বাজারে যখন গতি ফিরছিল, তখন জেড গ্রুপ নিয়ে নির্দেশনা আবার নতুন অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। বিএসইসির নির্দেশনায় ছিল একরকম। বাস্তবায়ন হয়েছে অন্যভাবে। এর ফলে বিএসইসি এবং ডিএসইর মধ্যে দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসে।

তবে নতুন নির্দেশনার ফলে এ দ্বন্দ্ব কিছুটা নিরসন হবে বলে মনে করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা। 

তালিকাভুক্ত কোম্পানির মধ্যে কোনগুলো জেড (জাঙ্ক) ক্যাটাগরিভুক্ত হবে, সে বিষয়ে বিএসইসি গত তিন বছরে ৫ বার আইন বদলেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমান কমিশন দায়িত্ব গ্রহণের সাড়ে তিন মাস পর জেড ক্যাটাগরি নির্ধারণে ২০২০ সালের ১ সেপ্টেম্বর একটি নির্দেশনা জারি করে। কিন্তু তার কার্যকারিতা স্থগিত রাখে বিএসইসি। এ কারণে টানা দুই বছর নগদ লভ্যাংশ দেওয়ায় ব্যর্থ কোম্পানিকে জেড ক্যাটেগরিভুক্ত করার কথা বলা হলেও টানা চার বছর কোনো লভ্যাংশ না দিয়েও তারা ‘এ’ বা ‘বি’ ক্যাটেগরিতে ছিল।

পুঁজিবাজারে সূচক বাড়লেও লেনদেন তলানিতে

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৪, ১১:৫৪ এএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৪, ১১:৫৪ এএম
পুঁজিবাজারে সূচক বাড়লেও লেনদেন তলানিতে

ঈদের আগে পুঁজিবাজারে টানা দরপতন হলেও ঈদের পর ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। ঈদের পর প্রথম কার্যদিবসে প্রধান পুঁজিবাজারে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অপর পুঁজিবাজারে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) মূল্যসূচক বেড়েছে।

মূল্যসূচক বাড়ার পাশাপাশি ডিএসইতে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। তবে লেনদেন আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে। ডিএসইতে লেনদেন কমে ২০২৩ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারির পর সর্বনিম্ন অবস্থানে চলে এসেছে।

এদিকে ঈদের আগে পুঁজিবাজারে বড় দরপতন হয়। অব্যাহত পতনের মধ্যে পড়ে ঈদের আগে শেষ সপ্তাহে ডিএসইর বাজার মূলধন কমেছে ১২ হাজার ৮৮৪ কোটি টাকা। আর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসই-এক্স কমে ১১৯ দশমিক ৫১ পয়েন্ট।

এ পরিস্থিতিতে ঈদের ছুটি শেষে গতকাল বুধবার পুঁজিবাজারে লেনদেন শুরু হয় বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতেই সূচক ঊর্ধ্বমুখী হয়। বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার প্রবণতা লেনদেনের শেষ পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।

এতে দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ২৩২টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ৯৬টি প্রতিষ্ঠানের। আর ৬৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

এতে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসই-এক্স ৪৩ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ১৬১ পয়েন্টে উঠে এসেছে। অপর দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ্ সূচক আগের দিনের তুলনায় ১৩ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১২১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আর বাছাই করা ভালো ৩০টি কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ২২ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৮৪৪ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

সবকটি মূল্যসূচক বাড়লেও লেনদেন তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। দিনভর বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ২৪৬ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। ঈদের আগে শেষ কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৪২৩ কোটি ১৪ লাখ টাকা। সে হিসাবে লেনদেন কমেছে ১৭৬ কোটি ৭০ লাখ টাকা। এর মাধ্যমে ২০২৩ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারির পর ডিএসইতে সর্বনিম্ন লেনদেন হলো। ২০২৩ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি লেনদেন হয় ২৩১ কোটি ৪১ লাখ টাকা।

বুধবার (১৯ জুন) টাকার অঙ্কে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার। কোম্পানিটির ১১ কোটি ৬১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছ। দ্বিতীয় স্থানে থাকা প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৮ কোটি ৯২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। ৭ কোটি ৭৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ফরচুন সুজ।

এ ছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, লাভেলো আইসক্রিম, বিকন ফার্মাসিটিক্যাল, ফারইস্ট নিটিং, ইউনিক হোটেল, ক্যাপটিভ গ্রামীণ ব্যাংক গ্রোথ ফান্ড এবং আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ।

এদিকে দেশের অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ৬১ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৪৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৫৩টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৭১টির এবং ২১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ৬ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ১১৬ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।

সামিট পাওয়ার: শেয়ারের দাম কমলেও কারণ জানে না কর্তৃপক্ষ

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৪, ১১:৪৮ এএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৪, ১১:৪৮ এএম
সামিট পাওয়ার: শেয়ারের দাম কমলেও কারণ জানে না কর্তৃপক্ষ
সামিট পাওয়ারের বিদ্যুৎকেন্দ্র। ছবি: সংগৃহীত

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত জ্বালানি-বিদ্যুৎ খাতের কোম্পানি সামিট পাওয়ারের শেয়ারের মূল্য হ্রাসের পেছনে কোনো অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য নেই। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) এক চিঠির জবাবে এই তথ্য জানিয়েছে কোম্পানিটি।

সম্প্রতি আরও কয়েকটি কোম্পানির মতো সামিট পাওয়ারের শেয়ারের বেশ দরপতন হয়। এটি বাজার মূলধনে অন্যতম শীর্ষ কোম্পানি হওয়ায় এর শেয়ারের সামান্য দরপতন ডিএসইর মূল্যসূচককে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ডিএসই কোম্পানিটির কাছে জানতে চায়, সাম্প্রতিক দরপতনের পেছনে কোনো মূল্য সংবেদনশীল তথ্য আছে কি না। উত্তরে কোম্পানিটি জানায়, কোম্পানির পরিচালনা ও মুনাফাসংক্রান্ত অপ্রকাশিত কোনো সংবেদনশীল তথ্য নেই।

তথ্যে দেখা যায়, গত ২০ মে সামিট পাওয়ারের শেয়ারদর ছিল ২২ টাকা ২০ পয়সা। যা ১৩ জুন লেনদেন শেষে দাঁড়িয়েছে ২০ টাকা ৩০ পয়সায়। অর্থাৎ গত ১ মাসে শেয়ারটির দর কমেছে ১ টাকা ৯০ পয়সা বা ৯ শতাংশ।

চলতি অর্থবছরের অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে ৮৭ কোটি ৫৬ লাখ টাকা মুনাফা করেছে সামিট পাওয়ার লিমিটেড, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ শতাংশ বেশি। আগের অর্থবছরের একই সময়ে মুনাফা হয়েছিল ৮১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা।

সাম্প্রতিক ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে ৮২ পয়সা। আগের বছর যা ছিল ৭৬ পয়সা। এ ছাড়া অর্থবছরের প্রথমার্ধে সামিটের আয় হয়েছে ১৮২ কোটি ৬০ লাখ টাকা, যা আগের বছরের ১৬৭ কোটি ৬৫ লাখ টাকা থেকে ৯ শতাংশ বেশি। এই হিসাবে অর্ধবার্ষিক ইপিএস ১ টাকা ৫৭ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ১ টাকা ৭১ পয়সা। বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী কোম্পানিটির ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে শেয়ারপ্রতি নিট অপারেটিং ক্যাশ ফ্লো হয়েছে ২ টাকা ২১ পয়সা।

সামিট পাওয়ার সিঙ্গাপুরভিত্তিক হোল্ডিং কোম্পানি সামিট পাওয়ার ইন্টারন্যাশনালের (এসপিআই) একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশে তাদের ১৫টি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মালিকানা আছে। এদিকে বিদ্যুৎ খাতের কোম্পানি সামিট পাওয়ার লিমিটেডের (এসপিএল) ২০২৩ হিসাব বছরে মুনাফা কমেছে ৪৬ শতাংশ। একই হিসাব বছরে কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের জন্য ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। অর্থাৎ কোম্পানিটির বিনিয়োগকারীরা লভ্যাংশ হিসাবে প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে নগদ ১ টাকা করে পাবেন।

প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায় ২০২৩ হিসাব বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে ২ টাকা ৭ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৩ টাকা ৮৭ পয়সা। সে হিসাবে কোম্পানিটির সমন্বিত ইপিএস কমেছে ৪৬ দশমিক ৫১ শতাংশ। সমাপ্ত হিসাব বছরে কোম্পানিটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ (এনওসিএফপিএস) হয়েছে ৭ টাকা ৪ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৫ টাকা ৯১ পয়সা। গত ৩১ ডিসেম্বর শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৩৮ টাকা ২ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৩৫ টাকা ৭২ পয়সা। 

এদিকে সামিট পাওয়ার জানিয়েছে, মূলত তিনটি কারণে তাদের মুনাফা কমেছে। প্রথমত, প্রতিকূল বিনিময় হারের কারণে জ্বালানির দামের তুলনায় এটি সংগ্রহে ব্যয় বেশি হয়েছে। দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কাছ থেকে দেরিতে বিল পাওয়ার কারণে স্থানীয় ব্যাংকের কাছ থেকে নেওয়া চলতি মূলধন সহায়তার বিপরীতে নিট আর্থিক ব্যয় বেড়ে গেছে। তৃতীয়ত, বিদেশি উৎস থেকে নেওয়া প্রকল্প অর্থায়নের কিস্তির অর্থ প্রতি প্রান্তিকে পরিশোধের ক্ষেত্রে বৈদেশিক মুদ্রাজনিত ক্ষতি বেড়ে গেছে। এসব কারণে কোম্পানিটির মুনাফার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

এর আগে গত বছরের অক্টোবরে সামিট পাওয়ার জানিয়েছিল, ডলারের বিপরীতে টাকার বড় ধরনের অবমূল্যায়নের পাশাপাশি বিপিডিবি কর্তৃক বিদ্যুতের মাসিক বিল দিতে বিলম্ব হওয়ার কারণে সামিট অয়েল অ্যান্ড শিপিং কোম্পানি লিমিটেড (এসওএসসিএল) তীব্র অর্থসংকটে ভুগছে। এসওএসসিএল সামিট পাওয়ারের মালিকানাধীন বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর জন্য হেভি ফার্নেস অয়েল (এইচএফও) আমদানি ও সরবরাহ করে। বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্ন রাখতে গত বছরের অক্টোবরে অনুষ্ঠিত বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে এসওএসসিএলকে অতিরিক্ত তহবিল সহায়তা প্রদানের অনুমোদন নিয়েছিল।

বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় হারজনিত বাড়তি ব্যয়ের বিষয়টি বাংলাদেশ ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইপিপিএ) সঙ্গে মিলে এরই মধ্যে বিপিডিবি ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছে সামিট পাওয়ার। বিল জমা দেওয়ার তারিখ ও বিল পরিশোধের তারিখের মধ্যে বিনিময় হারে ওঠানামার কারণে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর যে লোকসান হয় সেটির ক্ষতিপূরণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আশ্বাস পেয়েছে তারা। এর পরিপ্রেক্ষিতে সামিট পাওয়ার বিপিডিবির কাছে সম্পূরক বিল জমা দিয়েছে। 

সামিট পাওয়ার লিমিটেড ২০০৫ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে বর্তমানে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে অবস্থান করছে। তাদের ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন ১ হাজার ৬৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা। রিজার্ভের পরিমাণ ২ হাজার কোটি ৯৪ লাখ টাকা। কোম্পানিটির মোট ১০৬ কোটি ৭৮ লাখ ৭৭ হাজার ২৩৯ শেয়ার রয়েছে। ডিএসইর সর্বশেষ তথ্যমতে, মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে ৬৩ দশমিক ১৮ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর কাছে ১৮ দশমিক ৬৭ শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারীর কাছে ৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীর কাছে ১৪ দশমিক ৫০ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

এদিকে সাম্প্রতিক সামিট পাওয়ারের তিনটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মেয়াদ আরও ৫ বছর বাড়ানো হয়েছে। কেন্দ্র তিনটি আশুলিয়া, মাধবদী ও চান্দিনায় অবস্থিত। প্রতিটি কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা ১০ মেগাওয়াট।

কেন্দ্র তিনটি থেকে বিদ্যুৎ কেনার চুক্তির মেয়াদ গত বছরের (২০২৩) ৩১ আগস্ট শেষ হয়ে যায়। নতুন করে মেয়াদ বাড়ানোর ফলে সরকার এসব কেন্দ্র থেকে আগামী পাঁচ বছর বিদ্যুৎ কিনবে। তবে ‘নো ইলেকট্রিসিটি, নো পেমেন্ট’ ভিত্তিতে কেন্দ্র তিনটি পরিচালিত হবে। অর্থাৎ যখন সরকারের প্রয়োজন হবে, কেবল তখনই কেন্দ্র তিনটি থেকে বিদ্যুৎ কেনা হবে। আর শুধু ওই বিদ্যুতের বিলই পাবে কেন্দ্র তিনটি।

আশুলিয়া, মাধবদী ও চান্দিনায় অবস্থিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো ২০০৩ সালে ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১, নরসিংদী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এবং কুমিল্লা পল্লীর সঙ্গে ১৫ বছরের বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তির (পিপিএ) অধীনে স্বাধীন বিদ্যুৎ কেন্দ্র (আইপিপি) হিসেবে স্থাপিত হয়। ২০১৮ সালের ৩১ আগস্ট চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে তা ৫ বছরের জন্য বাড়ানো হয়। বর্ধিত চুক্তির মেয়াদ ২০২৩ সালের ৩১ আগস্ট শেষ হয়ে গেলে কোম্পানিটি তা নবায়নের জন্য আবেদন করলে আজ সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে তা অনুমোদন পায়।

সংশ্লিষ্টরা বলেন বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড এবং নেগোসিয়েশন কমিটি কর্তৃক স্পন্সর কোম্পানির সঙ্গে নেগোসিয়েশনের মাধ্যমে সুপারিশকৃত চুক্তির শর্ত চূড়ান্ত করে তিনটি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মেয়াদ ২০২৩ সালের ২২ নভেম্বর থেকে ৫ বছর বৃদ্ধির জন্য সামিট পাওয়ার লিমিডেটের সঙ্গে ট্যারিফ কিলোওয়াট ঘণ্টায় ৫ দশমিক ৮২ টাকা হিসাবে নো ইলেকট্রিসিটি, নো পেমেন্ট ভিত্তিতে সংশোধিত চুক্তি সম্পাদনের প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

প্রথমবারের মতো আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে জিরা আমদানি

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৪, ০৩:৪২ পিএম
আপডেট: ১৫ জুন ২০২৪, ০৩:৪২ পিএম
প্রথমবারের মতো আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে জিরা আমদানি
ছবি: খবরের কাগজ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে সাত টন জিরা এসেছে। গত বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) সন্ধ্যায় একটি ট্রাকে করে জিরাগুলো বন্দরে পৌঁছায়। হাইড্রোল্যান্ড সলিশন নামে ঢাকার একটি প্রতিষ্ঠান এ জিরা আমদানি করেছে। তবে শুক্রবার (১৪ জুন) বন্দর ছুটি থাকায় আজ শনিবার (১৫ জুন) জিরা খালাস করা হবে বলে আশা প্রকাশ করছে প্রতিষ্ঠানটি।

আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে স্থলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট মেসার্স শফিকুল ইসলাম আমদানীকৃত জিরার কাস্টমস ক্লিয়ারিংয়ের কাজ করবে।

আমদানিকারক সূত্র জানায়, প্রতি টন জিরার দাম পড়েছে ২ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার, যা স্থানীয় মুদ্রায় ২ লাখ ৯২ হাজার ৫০০ টাকার মতো। আখাউড়া স্থলবন্দরের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মো. ছাগিরুল ইসলাম বলেন, হাইড্রোল্যান্ড সলিশন আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে সাত টন জিরা আমদানির জন্য এলসি খুলেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জিরা নিয়ে একটি ট্রাক বন্দরে প্রবেশ করেছে। প্রথমবারের মতো এই স্থলবন্দর দিয়ে দেশে জিরা আমদানি করা হলো। -বাসস

ভারতে খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এখনো ৮ শতাংশের বেশি

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৪, ০৩:৩১ পিএম
আপডেট: ১৫ জুন ২০২৪, ০৩:৩২ পিএম
ভারতে খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এখনো ৮ শতাংশের বেশি
প্রতীকী ছবি

গত মাসে ভারতের খুচরো বাজারে মূল্যবৃদ্ধির হার নেমেছিল ৪.৭৫ শতাংশে। এটি ছিল গত এক বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম। কিন্তু তার পরও উদ্বেগ কমল না। খাদ্যপণ্যের মূল্য বেড়ে দাঁড়াল ৮ শতাংশের বেশি।

সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, বাজার করতে গিয়ে এখনো নিম্ন এবং মধ্যবিত্তদের মুখের হাসি মিলিয়ে যাচ্ছে। তাদের কিছুটা স্বস্তি দেওয়ার কথা ভাবা উচিত দেশটির নতুন সরকারের।

গরমে ধাক্কা খাওয়া উৎপাদন এবং সরবরাহ মে মাসে খাদ্যপণ্যের দামকে বাড়িয়ে খুচরা মূল্যবৃদ্ধির মাত্রাকে আরও বাড়িয়ে দেবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছিল বেশ কয়েকটি সমীক্ষা। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, সেই দিক থেকে কিছুটা নিশ্চিন্ত তৃতীয় বার ক্ষমতায় আসা মোদি সরকার। কারণ মূল্যবৃদ্ধি টানা চার মাস ধরে অল্প অল্প করে কমে ৪ শতাংশের অনেক কাছে নেমেছে। খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রেও তা এপ্রিলের ৮.৭০% থেকে সামান্য কমে হয়েছে ৮.৬৯%। তবে সংকট যে যায়নি, সেটা এখন বুঝতে পারছে তারা। কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যানই জানিয়েছে, গত মাসে সবজির দাম বেড়েছে ২৭.৩৩% হারে। ডালের মূল্যবৃদ্ধি ছিল ১৭.১৪%, মাছ-মাংস-ডিমের ক্ষেত্রে ৭ শতাংশের ওপরে, ফলের প্রায় ৭%। কমেছে শুধু ভোজ্য তেলের দাম।

আইসিএআইয়ের পূর্বাঞ্চলের সাবেক চেয়ারম্যান অনির্বাণ দত্ত বলেন, ‘মধ্যবিত্ত মানুষের স্বস্তি নেই...গৃহস্থের হেঁশেলে এই খরচ সরাসরি ধাক্কা দিচ্ছে।’ তিনি বলেছেন, জ্বালানির (পেট্রল-ডিজেল) দাম না কমানো পর্যন্ত খাদ্যপণ্য নিয়ে চিন্তা বহাল থাকবে। একাংশের বক্তব্য, সম্প্রতি বিশ্ব বাজারে অশোধিত তেলের দাম ৮০ ডলারের বেশ খানিকটা নিচে নামায় ফের দেশে তেলের দাম কমানোর দাবি ওঠে সেই কারণেই। যদিও গত বুধবার তা আবার ৮০ ডলার পেরিয়েছে।

সম্প্রতি ঋণনীতি ঘোষণায় খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে রিজার্ভ ব্যাংকও। ইঙ্গিত দিয়ে বলেছে, খুচরা মূল্যবৃদ্ধিকে ৪ শতাংশে না নামিয়ে সুদ কমাবে না। পটনা আইআইটির অর্থনীতির অধ্যাপক রাজেন্দ্র পরামানিকের বক্তব্য, ‘ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা যেকোনো মুহূর্তে তেলের দামকে অনেক বাড়াতে পারে।’-আনন্দবাজার পত্রিকা

সবার নজর ‘ব্ল্যাক ডায়মন্ডের’ দিকে

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৪, ০৩:২৭ পিএম
আপডেট: ১৫ জুন ২০২৪, ০৩:২৭ পিএম
সবার নজর ‘ব্ল্যাক ডায়মন্ডের’ দিকে
নড়াইল সদর উপজেলায় চিত্রা অ্যাগ্রো ফার্মে ২২ মনের বেশি ওজনের ষাঁড় ‘ব্ল্যাক ডায়মন্ড’। ছবি: খবরের কাগজ

নড়াইলে এবার কোরবানির জন্য ৪ হাজার ৪৭৮টি খামারে ৫৩ হাজার ৬৩৯ পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে জেলায় অন্যতম আকর্ষণ ২২ মণের বেশি ওজনের ষাঁড় ‘ব্ল্যাক ডায়মন্ড’।

জানা যায়, নড়াইল সদর উপজেলার তারাপুর এলাকায় প্রকৃতির মাঝে গড়ে ওঠা চিত্রা অ্যাগ্রো ফার্মে রয়েছে বিভিন্ন জাতের ৭৫টি গরু। এর মধ্যে এবার কোরবানির জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে ৫৫টি ষাঁড়। সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ২২ মণের বেশি ওজনের ষাঁড় ‘ব্ল্যাক ডায়মন্ড’। ব্ল্যাক ডায়মন্ডের দৈর্ঘ্য ৯ ফুট ও উচ্চতায় ৬ ফুটের মতো। ষাঁড়টির মালিক দাম হাঁকাচ্ছেন ৮ লাখ টাকা। এরই মধ্যে এটির দাম ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত উঠেছে।

চিত্রা অ্যাগ্রো ফার্মের কর্মী আরহাম ও আব্দুর রহমান বলেন, “খামারে অনেক গরুর মধ্যে ‘ব্ল্যাক ডায়মন্ড’ সবচেয়ে বড়। এটি খুব শান্ত হলেও মাঝেমধ্যে অশান্ত হয়ে যায়। ষাঁড়টি বের করতে গেলে ১৫ থেকে ২০ জন লোক লাগে। নিয়মিত পরিচর্যায় দুই বেলায় গোসল করানো হয় ষাঁড়টিকে। নিয়ম করে তিন বেলা খাবারে দেওয়া হয় খামারির নিজস্ব জমির কাঁচা ঘাস, ভুট্টা, চিটাগুড়, খৈল, লবণ, গম ভাঙা। ব্ল্যাক ডায়মন্ডের সঙ্গে একই খামারে ৭৫টি গরু লালন-পালন করা হচ্ছে। চলতি বছরে কোরবানি ঈদের জন্য ৫৫টি দেশি ষাঁড় প্রস্তুত করা হয়েছে এই খামারটিতে।”

খামার কর্তৃপক্ষর দাবি পুরো জেলায় ‘ব্ল্যাক ডায়মন্ডের’ চেয়ে বড় গরু আর একটিও নেই। এই ষাঁড়টি দেখতে প্রতিদিনই লোকজন ভিড় করছেন খামারে। দরদাম করছেন অনেকে। কেউ কেউ ছবিও তুলছেন।

চিত্রা অ্যাগ্রো ফার্মের মালিক মিল্টন এইচ সিকদার বলেন, ‘ইঞ্জিনিয়ারিং পেশায় পড়াশোনা শেষ করে ১৭ বছর মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে উচ্চ বেতনে চাকরি করেছি। লোভনীয় অফারকে প্রত্যাখ্যান করে নিরাপদ খাদ্য জনগণের মাঝে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে স্মার্ট কৃষিতে নিজেকে নিয়োজিত করেছি।’

মিল্টন আরও বলেন, ‘গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে যশোরের সাতমাইল হাট থেকে ষাঁড়টি কিনে আনি। তখন এর ওজন ছিল ৪০০ কেজির মতো। আমরা একে প্রাকৃতিকভাবে লালন-পালন করেছি, পরিমিত খাবার দিয়েছি। বেশি খাবার দিলে এর ওজন ৬ থেকে ৭ মণ বেশি হতো। ওজন অতিরিক্ত হলে ঝিমায় যেত, কিন্তু ষাঁড়টি খুবই প্রাণবন্ত। ষাঁড়টিকে আমরা হাটে তুলব না, খামার থেকেই বিক্রি করব।’

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘নড়াইল জেলায় এবার কোরবানির জন্য ৪ হাজার ৪৭৮টি খামারে মোট ৮৪ হাজার ৮১২ গবাদিপশু প্রস্তুত রয়েছে। আর সদরের তারাপুরে চিত্রা অ্যাগ্রো খামারটিতে অনেক বড় একটি গরু আছে। শুরু থেকে খামারটির বিষয়ে খোঁজখবর রাখা হয়েছে। সেই সঙ্গে খামারিকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করা হয়েছে।’

সিদ্দিকুর রহমান আরও জানান, জেলায় মাঝারি ও ছোট গরুর চাহিদা বেশি হওয়ায় খামারিরা বড় গরু পালনে কম আগ্রহী। জেলায় ১০টি গরুর হাটে ভেটেনারি টিমের উপস্থিতিতে সুস্থ গরু পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে ভোক্তার কাছে তুলে দেওয়া হচ্ছে।

প্রাণিসম্পদ অফিসের তথ্য মতে, জেলায় খামারি রয়েছেন ৪ হাজার ৪৭৮ জন। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ৫৩ হাজার ৬৩৯টি গবাদিপশু মোটাতাজা করেছেন। তার মধ্যে ষাঁড় ১৫ হাজার ৩৪৮টি, বলদ ২ হাজার ২৮৮৬, গাভি ৪ হাজার ৭১৫, ছাগল ৩১ হাজার ২৫৫ ও ভেড়া ৩৫টি। জেলায় কোরবানিযোগ্য পশুর চাহিদা রয়েছে ৩৮ হাজার ৬৭৬টি। পশু চাহিদার তুলনায় উদ্বৃত্ত থাকছে ১৪ হাজার ৯৬৩টি, যা পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে পাঠানো হবে।