ট্রাম্পের নতুন শুল্কনীতি কোনো নিয়ম মেনে করা হয়নি। এটি যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর একটি হাতিয়ার। রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র আয়োজিত গত রবিবার এক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
‘বাণিজ্যের উদীয়মান দৃশ্যপট: ট্রাম্পের শুল্কনীতি এবং বাংলাদেশের ওপর তার প্রভাব’ শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করে ঢাকা ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিটিকস (দায়রা)।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ যদি পণ্যের বৈচিত্র্যকরণ করতে পারে এবং বাণিজ্য খরচ কমাতে পারে তাহলে লাভবান হবে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের (বিআইডিএস) গবেষণা পরিচালক ড. কাজী ইকবাল বলেছেন, ‘আমরা একটি অনিশ্চিত অর্থনীতি এবং ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে আছি। বাণিজ্য একসময় নিয়মনীতি অনুসরণ করে চলত। কিন্তু এখন তা বড় মাছ ছোট মাছকে খেয়ে ফেলার অবস্থা দাঁড়িয়েছে।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. দীন ইসলাম, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিভাগের যুগ্ম প্রধান মো. মামুন-উর-রশীদ অসকারী, ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি শামস মাহমুদসহ অন্যরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
ড. কাজী ইকবাল ট্রাম্পের শুল্কনীতি সম্পর্কে মন্তব্য করে বলেন, ‘বৈচিত্র্যকরণ প্রয়োজন, কিন্তু এটি সহজ নয়। আমাদের শুধু বিনিয়োগ আকর্ষণ করলে হবে না। পাশাপাশি প্রযুক্তি এবং জ্ঞানের প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে। ট্রাম্পের শুল্কনীতি কোনো গতানুগতিক নিয়ম মেনে নেওয়া হয়নি। এটি যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর একটি হাতিয়ার।
বাংলাদেশের যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তৈরি পোশাকের ওপর নির্ভরশীলতার বিষয়টি তুলে ধরে ড. দীন ইসলাম বলেন, ‘মাত্র ছয় থেকে সাত ক্যাটাগরির পোশাক আমরা যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে রপ্তানি করি। যদি একটি পণ্যের ওপরেও শুল্কের হারের পরিবর্তন হয়, তাহলে মারাত্মক একটি প্রভাব পড়ে। পারস্পরিক শুল্ক পদ্ধতি অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে যুক্তিসংগত নয় এবং শুল্কটি সঠিকভাবে নির্ধারণ করা হয়নি। এটি সঠিকভাবে নির্ণয় করা হলে শুল্কের হার বর্তমানে দেওয়া হারের মাত্র এক-চতুর্থাংশ হতো।’ তিনি বাণিজ্য চুক্তি সম্প্রসারণ, নতুন বাজার খোঁজা এবং রপ্তানিকারকদের সহায়তায় নতুন প্রযুক্তি সংযোজনের পরামর্শ দেন। একইভাবে, তিনি স্মার্ট কূটনীতি, কাঠামোগত সংস্কার এবং বেসরকারি খাতের উদ্ভাবনের ওপর মনোযোগ দেন।
শামস মাহমুদ বলেন, ট্রাম্পের পাল্টা শুল্কারোপের ফলে চীনের কিছু অর্ডার আমাদের দেশে আসতে পারে। কিন্তু এই ক্ষেত্রে আবার আমাদের বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পাবে। ভিয়েতনামের শুল্কহার বেশি হলেও তারা তাদের দক্ষতা দিয়ে এটি পুষিয়ে নেবে। সেই দক্ষতা আমাদের দেশে নেই।’
মো. মামুন-উর-রশীদ অসকারী বলেন, ‘এই পরিবর্তন বাংলাদেশের জন্য একটি সুযোগ তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এই নতুন শুল্ক ব্যবস্থায় রপ্তানি বৃদ্ধি করা কঠিন হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যগুলোর শুল্ক কমানো বলার জন্য যতটা সহজ, কাজটা ততটা সহজ নয়। কারণ, এই ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে বিশেষ সুবিধা দিতে হবে। সেটা ওয়ার্ল্ড ট্রেড অর্গনাইজেশনের নীতির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়।’