জাতির উদ্দেশে নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত বুধবার প্রথম ভাষণ দেন। তিনি বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং কঠোরভাবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জনগণের মনে শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনাই হবে তার সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। জনজীবনে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ উদ্যোগ গ্রহণ করছে। দেশের প্রতিটি সাংবিধানিক এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান চলবে বিধিবদ্ধ নীতি-নিয়মে। দলীয় কিংবা রাজনৈতিক প্রভাব-প্রতিপত্তি অথবা জোরজবরদস্তি করে নয়। আইনের শাসনই হবে রাষ্ট্র পরিচালনার শেষ কথা। দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও ভঙ্গুর অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারের জন্য নতুন সরকারের সামনে চ্যালেঞ্জ বহুমুখী। সঙ্গত কারণেই প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে জোর দিয়েছেন। কারণ এটি প্রতিষ্ঠিত করতে না পারলে কোনো অর্জনই সফলতার আলো দেখবে না।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান-পরবর্তী জনআকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ গড়তে নতুন নির্বাচিত সরকারের দায়িত্বশীল ভূমিকা রয়েছে। সে হিসেবে গঠিত নতুন মন্ত্রিসভা কতটা সফল হবে তা নির্ভর করবে তার সঠিক কৌশল ও কর্মপরিকল্পনার দক্ষাতার ওপর। শপথ নেওয়ার পরদিনই সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকে নতুন সরকারের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে তিনটি অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে সেগুলো বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়েছেন তিনি। রমজান শুরু হয়েছে এজন্য দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে অগ্রাধিকার দিয়েছে সরকার।
নির্বাচিত সরকারের মন্ত্রীদের প্রথম কার্যদিবসে সবাই যার যার অবস্থান থেকে দুর্নীতিমুক্ত নতুন দেশ গড়তে বদ্ধপরিকর। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ দেশে আর কোনোভাবেই মব কালচার বরদাশত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। রমজানকে মুনাফা লাভের মাসে পরিণত না করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। দ্রব্যমূল্য যাতে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে না যায় সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। সরকার রেল যোগাযোগকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে। কারণ সারা দেশে রেল যোগাযোগব্যবস্থা সহজ এবং নিরাপদ করা গেলে একদিকে যেমন জনগণের শহর নগরকেন্দ্রিক নির্ভরতা কমবে, অপরদিকে পরিবেশেরও উন্নতি হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভাগীয় শহরগুলোতে বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায় যানজট প্রায় নিয়ন্ত্রণহীন। হাটে মাঠে ঘাটে অফিস আদালতে জনগণের ভোগান্তির শেষ নেই। জনজীবনের নানা ক্ষেত্রে জনদুর্ভোগ লাভ করা না গেলে জনমনে স্বস্তি ফিরবে না। এ ছাড়া বৃহৎ যুবশক্তিকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছে তার সরকার। জাতীয় নির্বাচনের আগে দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে তারেক রহমান সাধারণ জনগণের মাঝে বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করে তিনি তার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। তার এ শুভ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই।
প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে বলেছেন, বিএনপি সরকার বিশ্বাস করে দল-মত, ধর্ম-দর্শন যার যার, রাষ্ট্র সবার। এ দেশে প্রতিটি বাংলাদেশি নাগরিকের অধিকার সমান। কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনে বিএনপি সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ বাস্তবায়নে সব পক্ষকেই এগিয়ে আসতে হবে। সব রাজনৈতিক দলকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে এবং একটি কার্যকর জাতীয় সংসদ গড়ে তুলতে সরকার এবং বিরোধী দল সবার সহযোগিতা জরুরি। জাতির উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ভাষণ জনপ্রত্যাশার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। সচিবালয়ের প্রথম দিনেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে তার সরকারের শক্ত অবস্থান দেশ গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে বলে আমরা মনে করি। জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনই হোক এ সরকারের মূল লক্ষ্য। দেশের প্রতিটি সেক্টরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হোক, সেটাই কাম্য।