চতুর্থ অধ্যায় : আর্থিক বিশ্লেষণ
(গত ২১ অক্টোবর প্রকাশের পর)
অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন: অবচয়কে অনগদ খরচ বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: যেসব খরচ প্রতিষ্ঠানের নগদ অর্থের বহিঃপ্রবাহ ঘটায় না তাকে অনগদ খরচ বলে।
সাধারণত স্থায়ী সম্পদ যেমন- যন্ত্রপাতি দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে যে ক্ষয় হয় তাকে অবচয় বলে। বাৎসরিক অবচয়ের পরিমাণকে চলতি বছরের আয় বিবরণীতে খরচ হিসেবে দেখানো হয়। কিন্তু এই খরচের ফলে নগদ অর্থের পরিমাণ প্রতিষ্ঠানের বাইরে চলে যায় না। এজন্য অবচয় হচ্ছে একটি অনগদ খরচ।
প্রশ্ন: অবদান বা দত্তাংশ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: অবদান বা দত্তাংশ বলতে বিক্রিমূল্য ও পরিবর্তনশীল ব্যয়ের পার্থক্যকে বোঝায়। এ পার্থক্য ধনাত্মক বা ঋণাত্মক হতে পারে। ধনাত্মক অবদান অনুকূল হলে, ওই পরিমাণ দিয়ে প্রতিষ্ঠানের স্থায়ী খরচ ওই পরিমাণ মেটানো যাবে তাকে বোঝায়। আর ঋণাত্মক অবদান দিয়ে বিক্রি থেকে পরিবর্তনশীল খরচও মিটছে না বোঝায়।
প্রশ্ন: কন্ট্রিবিউশন মার্জিন কীভাবে নিরাপত্তা প্রান্তকে প্রভাবিত করে? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: বিক্রিমূল্য এবং পরিবর্তনশীল ব্যয়ের পার্থক্য হচ্ছে কন্ট্রিবিউশন মার্জিন। আবার প্রকৃত বিক্রি এবং ব্রেক-ইভেন বিক্রির পার্থক্য হচ্ছে নিরাপত্তা প্রান্ত। কন্ট্রিবিউশন মার্জিন বৃদ্ধি পেলে ব্রেক-ইভেন বিক্রি হ্রাস পাবে এবং নিরাপত্তা প্রান্ত বৃদ্ধি পাবে। সুতরাং কন্ট্রিবিউশন মার্জিন এবং নিরাপত্তা প্রান্তের মধ্যে ধনাত্মক সম্পর্ক বিদ্যমান।
প্রশ্ন: নিরাপত্তা প্রান্ত কেন নির্ণয় করা হয়?
উত্তর: বিক্রি হ্রাসের কারণে ক্ষতির সম্ভাবনা আছে কি না বা ক্ষতি স্বীকার না করে উৎপাদন ও বিক্রি চালু রাখা সম্ভব কি না, তা জানার জন্য নিরাপত্তা প্রান্ত নির্ণয় করা হয়।
সমচ্ছেদ বিক্রি থেকে প্রকৃত বিক্রি যে পরিমাণ বেশি হয় তাকে নিরাপত্তা প্রান্ত বলে। নিরাপত্তা প্রান্ত যত বড় হবে বিক্রি বৃদ্ধির কারণে ক্ষতির সম্ভাবনা তত হ্রাস পাবে। নিরাপত্তা প্রান্ত যত ছোট হবে বিক্রি হ্রাসের কারণে ক্ষতির সম্ভাবনা তত বেশি হবে। কারণ বিক্রি সমচ্ছেদ বিন্দুর নিচে নামলেই ক্ষতি শুরু হবে।
প্রশ্ন: সমচ্ছেদ বিন্দু একক ও টাকায় কেন নির্ণয় করা হয়?
উত্তর: যে বিন্দুতে প্রতিষ্ঠানের মোট বিক্রিলব্ধ আয় মোট ব্যয়ের সমান হয় তাকে সমচ্ছেদ বিন্দু বলে।
সমচ্ছেদ বিন্দু একক এবং টাকায় নির্ণয় করা হলে কী পরিমাণ বিক্রি করলে এবং কত একক বিক্রি করলে প্রতিষ্ঠানের ব্যয় উঠে আসবে তা জানা যায়। আবার কোম্পানি নির্দিষ্ট পরিমাণ মুনাফার বিপরীতে কত একক বিক্রি এবং কত টাকা বিক্রি করতে হবে তাও জানতে পারবে। তাছাড়া সমচ্ছেদ বিন্দু একক ও টাকায় নির্ণয় করা থাকলে প্রতিষ্ঠান খুব সহজেই তাদের দক্ষতা মূল্যায়ন করে ভবিষ্যৎ লক্ষ্য স্থির করতে পারে।
প্রশ্ন: সমচ্ছেদ বিন্দু বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: যে বিন্দুতে প্রতিষ্ঠানের মোট বিক্রিলব্ধ আয় মোট ব্যয়ের সমান হয় তাকে সমচ্ছেদ বিন্দু বলে।
সমচ্ছেদ বিন্দুতে প্রতিষ্ঠানের মুনাফাও অর্জিত হয় না এবং ক্ষতিও হয় না। এ বিন্দুতে বিক্রি, স্থায়ী ব্যয় ও পরিবর্তনশীল ব্যয়ের যোগফলের সমান হয়। স্থায়ী ব্যয়কে বিক্রি ও পরিবর্তনশীল ব্যয়ের ব্যবধান অর্থাৎ কন্ট্রিবিউশন মার্জিন দিয়ে ভাগ করে সমচ্ছেদ বিন্দু নির্ণয় করা যায়।
প্রশ্ন: প্রতি একক বিক্রিমূল্য ও ব্রেক-ইভেন বিন্দুর মধ্যে সম্পর্ক ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: প্রতি একক বিক্রিমূল্য ও ব্রেক-ইভেন বিন্দুর মধ্যে ঋণাত্মক সম্পর্ক বিদ্যমান। অর্থাৎ প্রতি একক বিক্রিমূল্য বৃদ্ধি পেলে ব্রেক-ইভেন বিন্দু হ্রাস পাবে। আবার প্রতি এক বিক্রিমূল্য হ্রাস পেলে ব্রেক-ইভেন বিন্দু বৃদ্ধি পাবে। কারণ প্রতি একক বিক্রিমূল্য বৃদ্ধি পেলে প্রতি একক কন্ট্রিবিউশন মার্জিন বৃদ্ধি পায়। ফলে ব্রেক-ইভেন বিন্দু হ্রাস পায়।
লেখক : সহকারী অধ্যাপক, হিসাববিজ্ঞান বিভাগ
সিদ্ধেশ্বরী কলেজ, ঢাকা
কবীর