বলিউড সিনেমার কিংবদন্তি অভিনেতা ধর্মেন্দ্র। হিন্দি সিনেমার এই মেগাস্টার গতকাল (২৪ নভেম্বর) ৮৯ বছর বয়সে মারা গেছেন। ছয় দশকের বেশি সময়জুড়ে তিনি বলিউডে তৈরি করেছেন এক অসামান্য উত্তরাধিকার, যেখানে ৩০০টির বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। এর পাশাপাশি রয়েছে সিনেমাপ্রেমীদের হৃদয়ে অমর হয়ে থাকা অসংখ্য চরিত্র।
ম্যাটিনি আইডল থেকে মেগাস্টার- দীর্ঘ এই যাত্রায় ধর্মেন্দ্র রুপালি পর্দায় জনপ্রিয়তার প্রায় প্রতিটি স্তরকেই ছুঁয়ে গেছেন। ষাটের দশকের সাদাকালো রোমান্স থেকে সত্তর-আশির দশকের টেকনিকালার ব্লকবাস্টার পর্যন্ত তার কাজ হিন্দি সিনেমার বিবর্তনের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত।
ভক্তদের কাছে ‘হি-ম্যান’ নামে পরিচিত এই অভিনেতা অ্যাকশন, কমেডি ও সামাজিক গল্প- চলচ্চিত্রের সব ধারাতেই তার বিরল বহুমুখী অভিনয়-দক্ষতার জন্য খ্যাতিমান ছিলেন। বলিপাড়ায় খুব কম অভিনেতাই আছেন, যারা তার মতো দীর্ঘস্থায়ী ও তারকাখ্যাতির ব্যাপ্তি অর্জন করতে পেরেছেন। ৮৯ বছর বয়সে না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেও এই তারকা চলচ্চিত্রে রেখে গেলেন ছয় দশকের মহাকাব্যিক উত্তরাধিকার।
এবার দেখে নেওয়া যাক এই মহানায়ক অভিনীত বলিউডের কয়েকটি আইকনিক সিনেমা, যা দর্শক থেকে শুরু করে সমালোচকদের কাছেও ভূয়সী প্রশংসিত হয়েছে। যেগুলোর আবেদন চলচ্চিত্রজগতে এখনো বিদ্যমান।
ফুল অর পাথর (১৯৬৬)
এই ছবির মাধ্যমেই পুরোদস্তুর নায়ক হিসেবে সিনেমায় জনপ্রিয়তা পান ধর্মেন্দ্র। তীব্রতা ও কোমলতার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা তার চরিত্রটি তিনি এতই ভালোভাবে ফুটিয়ে তোলেন, যা সেই সময়ের দর্শক ও সমালোচকদের ব্যাপক দৃষ্টি কাড়ে।
আঁখে (১৯৬৮)
বাণিজ্যিকভাবে সফল এই সিনেমাটি ধর্মেন্দ্রর তারকাখ্যাতিকে মজবুত অবস্থায় নিয়ে যায়। বক্স অফিস ইতিহাসের অন্যতম বড় হিট হিসেবে এটি বিবেচিত হয় এবং এই সিনেমাকে অভিনেতার ক্যারিয়ারের অন্যতম সফল কাজ হিসেবে ধরা হয়।
সত্যকম (১৯৬৯)
গভীর ও সংবেদনশীল চরিত্রায়ণের জন্য এ ছবিটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। একজন আদর্শবাদী ব্যক্তির চরিত্রে ধর্মেন্দ্র এতে অভিনয় করেছেন, যার নীতিবোধ যেন সিনেমাটিরই ওজন বহন করে। এখনো ‘সত্যকম’ তার সেরা গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর মধ্যে গণ্য হয়।
মেরা গাঁও মেরা দেশ (১৯৭১)
গ্রামীণ প্রেক্ষাপটের প্রতিশোধমূলক এই চলচ্চিত্রে ধর্মেন্দ্রর উদ্যমী নায়ক চরিত্র তাকে বক্স অফিসের নির্ভরযোগ্য মুখ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। সিনেমাপ্রেমীদের স্মৃতিতে ছবিটি আজও শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে।
সীতা অর গীতা (১৯৭২)
হেমা মালিনীর যমজ চরিত্রের বিপরীতে ধর্মেন্দ্রর স্বচ্ছন্দ অভিনয় ও রোমান্টিক উপস্থিতি ছবিটিকে জনমনে জনপ্রিয় করে তোলে। কমেডি, সংগীত ও তারকাখ্যাতির মিশেলে এটিও দর্শকের প্রিয় তালিকায় রয়েছে।
চুপকে চুপকে (১৯৭৫)
হাস্যরস ও সূক্ষ্ম অভিনয়ের জন্য এই কমেডি সিনেমায় ধর্মেন্দ্রর উপস্থিতি বিশেষ প্রশংসা পায়। তার নিখুঁত সময়জ্ঞান এবং স্বতঃস্ফূর্ত অভিনয় ছবিটির আকর্ষণে ভিন্নমাত্রা যোগ করে।
শোলে (১৯৭৫)
ভারতীয় চলচ্চিত্র ইতিহাসেরই অন্যতম আইকনিক ছবি হিসেবে এর নাম আজও মানুষের মুখে মুখে। কালজয়ী এই ছবিটি ধর্মেন্দ্রর ক্যারিয়ারেও অন্যতম বড় সফলতা হিসেবে ধরা দেয়। এতে ‘বীরু’ চরিত্রে ধর্মেন্দ্রর প্রাণবন্ত, হাস্যরসাত্মক ও স্মরণীয় অভিনয় তাকে রীতিমতো জাতীয় আইকনে পরিণত করে। শোলে অভিনেতার ক্যারিয়ারের অনিবার্য শ্রেষ্ঠত্বগুলোর অন্যতম।
হিন্দি চলচ্চিত্রে ধর্মেন্দ্রর অবদান কেবল জনপ্রিয়তার মাপকাঠিতেই নয়, বরং ধারাবাহিক শিল্পনৈপুণ্য ও বহুমুখী অভিনয়ের কারণেও চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তার মৃত্যুতে বলিউডে একটি যুগের অবসান ঘটল। তবে রেখে গেলেন এমন এক উত্তরাধিকার, যা প্রজন্মের পর প্রজন্মকে প্রভাবিত করবে।
/এমএস