ঢাকা ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
‘কষ্টদায়ক শিক্ষা’, বললেন প্যারাগুয়ে কোচ আলফারো সফল ব্যবসায়ী হতে চাইলে এড়িয়ে চলুন ৯টি বিষয় মে মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৬২২, আহত ১৬৫২ যুদ্ধবিরতির মাঝেই দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের বিমান হামলা, নিহত ১ ভয়ই ব্রাজিলকে সতর্ক রাখবে: আনচেলত্তি বোয়ালমারীতে মাদকের বিরুদ্ধে ‘মিনি ফুটবল বিশ্বকাপ’ উদ্বোধন আসামে ভারতীয় বিমানবাহিনীর পরিবহন বিমান বিধ্বস্ত শরীয়তপুরে নারীকে চুল কেটে, আলকাতরা মেখে খুঁটিতে বেঁধে রাখল প্রতিপক্ষ নগরীর কোলাহলমুক্ত সবুজ উদ্যান রমনা চুয়াডাঙ্গায় অপহরণের ৯ দিন পর যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার নাইজেরিয়ায় বন্দুকধারীদের হামলায় ১৭ কৃষক নিহত লাইনে বিড়াল ঢুকে পড়ায় সাময়িক বন্ধ ছিল মেট্রোরেল গাজীপুর পোশাক কারখানায় আগুন কসবায় হজযাত্রীর লাগেজ নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০ নিখোঁজ নাটকের অবসান, ‘গুপ্ত’ ছিলেন শিবির নেতা জিসান! যুক্তরাষ্ট্রের জয়ের পর ঐক্যের গান গাইলেন পচেত্তিনো মীনা বাজারে চাকরির সুযোগ, শুক্র-শনিবার ছুটি গণমাধ্যম সংস্কারে ‘ইউনিফাইড ইনস্টিটিউশন’ গঠনের তাগিদ মদে ট্যাক্স বাড়ানোই বিরোধী দলের দুঃখ: প্রধানমন্ত্রী গোপালগঞ্জে নিখোঁজের ৩ দিন পর যুবকের মরদেহ উদ্ধার বাজেটে জনগণের স্বস্তি হলেও বিরোধী দলের অস্বস্তি: প্রধানমন্ত্রী লক্ষ্মীপুরে ইউপি কার্যালয়ে চুরি শাবিপ্রবি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ জ্বালানিপ্রতিষ্ঠানে ড. সাকিব বিশ্বকাপ উন্মাদনায় কুইজ ও রিচার্জ অফার, থাকছে জামাল ভূঁইয়ার সাথে খেলা দেখার সুযোগ গবেষণা ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির অগ্রণী ভূমিকা ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ উপলক্ষে ক্রাউন প্লাজা ঢাকা গুলশানে বিশেষ আয়োজন জীবের বৃদ্ধি ও বংশগতি অধ্যায় থেকে ৫টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৬ষ্ঠ পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান গাড়ি ভেঙে ইংল্যান্ড দলের সরঞ্জাম চুরি, গ্রেপ্তার ২ কার্যকর জবাবদিহি নিশ্চিতে ব্যবস্থা নিন শুধু সংখ্যা বাড়াতে বিশ্বকাপে আসেনি হাইতি
Nagad desktop

রবীন্দ্রনাথের কবিতায় সাম্যবাদী নজরুলের লাঙল

প্রকাশ: ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১:১৮ এএম
আপডেট: ২০ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:৪৩ এএম
রবীন্দ্রনাথের কবিতায় সাম্যবাদী নজরুলের লাঙল
অলংকরণ: নিয়াজ চৌধুরী তুলি

‘জাগো, জাগো, বলরাম, ধরো তব মরুভাঙা হল 
বল দাও, ফল দাও, স্তব্ধ করো ব্যর্থ কোলাহল।’
                                         (‘লাঙল’-এর জন্য রবীন্দ্রনাথের আশীর্বাণী।)

নজরুলের সম্পাদক-জীবন ও সাহিত্য-জীবনের বয়স প্রায় কাছাকাছি। শ্রমিকশ্রেণির মুখপত্র হিসেবে প্রকাশিত প্রথম খণ্ড (বিশেষ সংখ্যা)- ‘বুধবার ১লা পৌষ, ১৩৩২, ইং ১৬ ডিসেম্বর, ১৯২৫ সাল’-এ ‘লাঙল’ পত্রিকা। লাঙল পত্রিকা ছিল ‘শ্রমিক-প্রজা-স্বরাজ-সম্প্রদায়’-এর সাপ্তাহিক মুখপত্র। যার ‘নগদ মূল্য এক আনা’। ১৯২৬ সালের ১৫ এপ্রিলে শেষ সংখ্যা প্রকাশের মাধ্যমে পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে যায়। ‘লাঙল’-এর মোট ১৫টি সংখ্যা প্রকাশিত হয়। পত্রিকাটির গায়ে লেখা থাকত- ‘প্রধান পরিচালক নজরুল ইসলাম’। সম্পাদক মণিভূষণ মুখোপাধথ্যায়। প্রথম সংখ্যার প্রধান আকর্ষণ ছিল নজরুলের ‘সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলো। প্রথম পৃষ্ঠার মাঝখানে বড় করে লেখা ছিল- ‘এই সংখ্যার লাঙলের সর্ব্ব প্রধান সম্পদ কবি নজরুল ইসলামের কবিতা সাম্যবাদী’। ১৬ পৃষ্ঠার পত্রিকায় ৮ পৃষ্ঠাজুড়ে ছিল নজরুলের সাম্যবাদী কাব্যগ্রন্থের সবগুলো কবিতা। 
আমাদের হাজার বছরের সাহিত্য-সংস্কৃতির ইতিহাসে মাইকেল-রবীন্দ্রনাথের পর নজরুল। সমগ্র বাঙালি দেশ-কাল-সমাজ-সংস্কৃতিকে নজরুলকে নিয়ে একমাত্র রবীন্দ্রনাথ ছাড়া তার মতো আর কেউ বোধ করি আলোড়িত-উজ্জীবিত করতে পারেননি। নজরুল মূলত কবি হিসেবে জনচিত্তে শ্রদ্ধার আসন পেলেও তিনি একাধারে ছিলেন গীতিকার, নাট্যকার, কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, অনুবাদক, শিশুসাহিত্যিক, পত্রিকা-সম্পাদক প্রভৃতি। রবীন্দ্রনাথ সুবিশাল রবীন্দ্রসাহিত্য-সংস্কৃতি সাধনা দীর্ঘকাল পরিসরে পরিব্যাপ্ত; কিন্তু নজরুল-সাধনা মাত্র তেইশ বছরেই সমাপ্ত। তেইশ বছরের সাহিত্য-জীবন, তার পরও বেঁচেছিলেন কবি অনেক দিন। 

কাজী নজরুল ইসলাম প্রসঙ্গে রবীন্দ্রনাথের চিঠি
কল্যাণীয়েষু,
অনেকদিন পরে তোমার সাড়া পেয়ে মন খুশী হোলো। কিছু দাবী করেছ- তোমার দাবী অস্বীকার করা আমার পক্ষে কঠিন। আমার মুশকিল এই, পঁচাত্তরে পড়তে তোমার এখনো অনেক দেরী আছে, সেই জন্য আমার শীর্ণ শক্তি ও জীর্ণ দেহের পরে তোমার দরদ নেই। কোনো মন্ত্রবলে বয়স বদল করতে পারলে তোমার শিক্ষা হোতো। কিন্তু মহাভারতের যুগ অনেক দূরে চলে গেছে, এখন দেহমনে মানব সমাজকে চলতে হয় সায়েন্সের সীমানা বাঁচিয়ে।...
তুমি তরুণ কবি, এই প্রাচীন কবি তোমার কাছ থেকে আর কিছু না হোক, কয়টা দাবী করতে পারে। অকিঞ্চনের কাছে প্রার্থনা করে তাকে লজ্জা দিও না। এই নতুন যুগে যেসব যাত্রী সাহিত্য-তীর্থে 
ইতি ১৫ ভাদ্র, ১৩৪২ (আগস্ট, ১৯৩৫)
স্নেহরত
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

ব্রিটিশ ভারতের একজন বিশিষ্ট বিচারক ও আইনশাস্ত্রজ্ঞ স্যার আবদুর রহীম কলকাতার ‘জমিয়তে উলামা-ই-হিন্দ্‌’-এর সম্মেলনে বলেছিলেন, ‘বাংলা ভাষা যদি শিক্ষার বাহন হয় তাহলে বাঙালী মুসলমানের সর্ব্বনাশ হবে’। এ ঘটনা উল্লেখ করে ‘লাঙল’ পত্রিকায় মন্তব্য করা হয়েছে: ‘স্যার আবদুর রহীম নিজে সাম্প্রদায়িক বিষে জর্জ্জরিত হয়ে আছেন। সে বিষ তিনি বাঙলার সকল মুসলমানকে পান করাবার জন্যে ব্যতিব্যস্ত হয়ে উঠেছেন।…’ পত্রিকাটি গুরুত্বসহকারে ত্রয়োদশ সংখ্যার ১৪ পৃষ্ঠায় ‘বিবিধ প্রসঙ্গ’ শিরোনামে স্যার আবদুর রহীমের সংবাদটি কড়া ভাষায় প্রতিবাদ করে। 
নজরুল সম্পূর্ণ মানুষ। নজরুল এখনো আমাদের চেতনার কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থিত। নজরুল অত্যধিক জনপ্রিয় এ কারণে যে, তিনি কবি হিসেবে একই সঙ্গে পত্রিকা সম্পাদক, সাম্যবাদী ও সংগ্রামী। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এক চিঠিতে লিখেছিলেন, ‘হ্যাঁ, কাজী, তুমি আমাকে সত্যিই হত্যা করবে। আমি মুগ্ধ হয়েছি তোমার কবিতা শুনে। তুমি যে বিশ্ববিখ্যাত কবি হবে তাতে কোন সন্দেহ নেই। তোমার কবিতার জগৎ আলোকিত হোক, ভগবানের কাছে এই প্রার্থনা করি।’ আমরা নজরুলকে অখণ্ড সম্পূর্ণ মানুষরূপে পেতে চাই বর্তমানে-ভবিষ্যতে। যে কবি বলতে পারেন- ‘শ্মশানে আমি গাহি সদা জীবনের গান’। শতবর্ষী ‘লাঙল’ পত্রিকা গবেষণা করলে আমাদের নতুন পথের সন্ধান দেবে। নজরুলের কথাতেই শেষ করি-
যেখানে মিশেছে হিন্দু-বৌদ্ধ-মুস্‌লিম-ক্রীশ্চান।
                                     গাহি সাম্যের গান।

কবিতা হেলিওস

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৩:৫৩ পিএম
হেলিওস

একটা অবসরপ্রাপ্ত দুপুরকে নিয়ে

          অর্ধবৃত্তের মতো অবকাশ রচনা করেছি

 

আছে মা-পাখির ডিম ভেঙে যাবার প্রতিকল্পে

            সর্বজনীন বেদনা

বৃদ্ধ বাবার ঝাপসা দৃষ্টির ভেতর এক বুকচাপা

            দীর্ঘশ্বাসের সীমিত চতুর্ভুজ

রানা প্লাজাসদৃশ ব্যথিত পাণ্ডুলিপি

তরতাজা যুবকের গুম হওয়ার ন্যায়

                   একটা দীর্ঘ সকাল

আছে মায়ের জেগে থাকা চোখ

আছে একজোড়া

            সুসিদ্ধ ইকোলজি

আছে বোনের ব্যবহৃত কাঁকড়া ক্লিপের উদার সৌন্দর্য

আছে একটা গামছায় হাত মোছার দুটো অবিকল সবাক ছবি

 

এই তো আমার রূপকল্পের ইতিবৃত্ত

 

 এখন কোনো অবসরপ্রাপ্ত দুপুরকে নিয়ে

            আমি পূর্ণবয়স্ক অবকাশ রচনা করব

জীবনের সব হুলস্থূল এনে ভরে রেখে দেব

 

 দ্যাখো, হেলিওসের মতোনই তোমাদের কাছে যাব আমি

 

ছোট্ট এক টুকরো আত্মা

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৩:৫১ পিএম
ছোট্ট এক টুকরো আত্মা

ছোট্ট এক টুকরো আত্মা

গহিন অতলের অবাধ চত্বরে বৈভবে থাকে

তাকে কি টুকরো টুকরো করা যায়

অবয়বে বেড়ে ওঠে না কস্মিনকালে

এক টুকরোই থেকে যায় আদিঅন্ত কাল

ভূমিদস্যুরা তবু ওই জলা দখলে মত্ত হয়

বেপরোয়া ছুরি-কাঁচির নির্মমতায়

ঝরনার উৎস স্তব্ধ করে

ফালি ফালি করা অবয়ব থেকে বেরোয়

অজস্র শোণিত ধারা

নদী পর্যন্ত যেতে পারে না শুকিয়ে জ্বলে

ভেসে ভেসে বেড়ায় নিশ্চিহ্ন কাঠামো

নিক্ষিপ্ত হয় মর্তের ঝড়ে

মর্গের ব্যবচ্ছেদে খুঁজে পায় না শিশু আত্মা

পায় শুধু

ছোট্ট এক টুকরো জীবনের অবিকাশ! অবিকাশ!

কবিতা অধরা ও কবি

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৩:৪৫ পিএম
অধরা ও কবি

অধরা

সময়ের বেড়াজালে বন্দি খাঁচায়

দূর পানে চেয়ে থাকি তোমার আশায়

উজান সময় স্রোতে এই অবেলায়

তুমি আসবে তো? ভালোবাসবে তো?

 

কবি

কী আছে তোমার? অর্থ, বিত্ত, বৈভব?

প্রভাব, প্রতিপত্তি? বলো, চুপ থেকো না

, এসব তোমার নেই! এবার, তুমিই বলো

আমি কেমন করে তোমার কবিতা হই?

কেমন করে তোমার কাছে আসি

কেমন করে তোমায় ভালোবাসি?

কবিতা প‌রিণ‌তি

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৩:৪২ পিএম
প‌রিণ‌তি

কালো চিমনিরধোঁয়ায় আকাশের বুকজুড়ে মে কালোমেঘ

মৃত পাখির বাসা সে ড়ে রক্তাক্ত নে

্যামল বাগানগুলো ড়ে আছে যুদ্ধাহত ক্ষতবিক্ষত সৈনিকের তো

জ্বলন্ত কয়লার পাহাড়,

জাগিয়ে তোলে মাটির গহ্বরে ঘুমিয়ে থাকা আগুনকে

প্লাস্টিকের সমুদ্দুর,

ক্ষুধার্ত দৈত্যের তো গিলে খাচ্ছে পৃথিবীকে

যুদ্ধের দামামা পোড়ামাটির ্যস বাড়াতে থাকে শুধু

বোমার ব্দে রে পড়ে পাখির পালক,

আকাশের নীল রং

ভাঙা কাচ য়ে আছড়ে ড়ে মিনে

পৃথিবীর কপালে আগুনের থার্মোমিটার

কামারের হাতুড়ির তো আছড়ে ড়ে উন্মত্ত রোদ

জ্বরে পোড়া পৃথিবীর গা থেকে ঝরতে থাকে বরফ অবিরাম

বৃদ্ধের শুভ্র দাড়ির তন

 

ক্ষুধার্ত সমুদ্র গিলে খায়,

মানুষের স্বপ্নে বোনাউঠোন

তৃষ্ণার কঙ্কা মিনে আঁকে ছড়ানো মানচিত্র

নদীর তীর ক্ষুধার্ত ষাঁড়ের তো গ্রামে ঢুকে ড়ে পাখির কিচিরমিচির বাজেয়াপ্ত হয় কোনো এক ভোরে,

বাড়তে থাকে ছিন্নমূল মানুষের ভেলা,

পৃথিবীর জ্বর নামানোর দাওয়াই খুঁজতে,

লি থেকে মাথাগুলো জড়ো হয় জাতিসংঘের টেবিলে

কথার খই ফোটে, বে চোখ বাঁধা থাকে কালো ফিতায়

 

কবিতা বলির আগে

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৩:৩৪ পিএম
বলির আগে

আমার কথার পরে যদি কোনোদিন

ব্যথা পেয়ে থাকো

যদি এই দুর্দিনে সমূহ বিপদে মনে করো

ডাক দিও কোনো এক নির্মম সকালে

 

আমার বুকেরপরে দূর্বা যেমন থাকে

বেদনায় নীলপদপিষ্ট হলুদ সোহাগে

একবার চোখের জলে ধুয়ে নিও

সকল কলুষতাযেভাবে ধর্ম ছাগ

বলির আগে মুছে ফেলে যত ক্লেদ