ঈশ্বরদীতে এ মৌসুমের রোপা আমন ধান কাটা শুরু হয়েছে। স্থানীয় কৃষি বিভাগ বলছে, এবার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি হবে। মাঠের ফলন দেখে কর্মকর্তারা নিশ্চিত, ধানের উৎপাদন গত বছরের তুলনায় ভালো।
উৎপাদন বাড়ার কারণ হিসেবে তারা বলছেন- আনুকূল্যপূর্ণ আবহাওয়া, সময়মতো পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত, নির্ধারিত সময়ে কৃষি প্রণোদনার বীজ ও সার বিতরণ, কৃষকদের নিবিড় পরিচর্যা ও পরিশ্রম। কৃষকরাও বলছেন, এবারের আমন মৌসুমে ফলন আশানুরূপ হয়েছে।
ইতোমধ্যে উপজেলার মাঠে মাঠে নমুনা শস্য কর্তনের মাধ্যমে ধান কাটা শুরু হয়েছে। গত মঙ্গলবার আড়ামবাড়িয়ার গোপালপুর গ্রামের এক খেতে নমুনা শস্য কর্তনের আয়োজন করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন ঈশ্বরদী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ধীমান তানভীর স্বাক্ষর, উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা এখলাছুর রহমান, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা (সাঁড়া ইউনিয়ন ব্লক) আবদুল আলীম ও কৃষকরা।
ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলার ৩ হাজার ৬৬৫ হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১২ হাজার ২০০ মেট্রিক টন। উপজেলার সাতটি ইউনিয়নেই কমবেশি ধানের আবাদ হয়। এর মধ্যে মুলাডুলি ও দাশুড়িয়ায় ধান উৎপাদন বেশি। পৌরসভার ইস্তা ও নারিচা এলাকাতেও ধানের আবাদ উল্লেখযোগ্য।
ইস্তা গ্রামের কৃষক মাসুদ রানা জানান, তিনি নিজের ১০ বিঘা জমিতে আমন ধান চাষ করেছেন। তার ভাষায়, ‘মাঠের চেহারা দেখে মনে হচ্ছে ফলন ভালো হবে।’ তিনি আশা করছেন, প্রতি বিঘায় ১৮ থেকে ২০ মণ ধান পাবেন। তার হিসাব অনুযায়ী, এক বিঘায় খরচ হয়েছে প্রায় ১১ হাজার টাকা। বর্তমানে প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকায়। তিনি বলেন, ‘২০ মণ ধান বিক্রি করলে বিঘাপ্রতি ২৬ হাজার টাকা পাব। খরচ বাদে লাভ থাকবে প্রায় ১৫ হাজার টাকা।’
গোপালপুর গ্রামের কৃষক তোজাম্মেল হোসেন জানান, তিনি ২ বিঘা জমিতে ব্রি-১০৩ জাতের আমন ধান আবাদ করেছেন। তিনি বলেন, ‘এবার আবহাওয়া অনুকূলে ছিল, পানির সময় ঠিকমতো বৃষ্টি হয়েছে। ফলে সেচ খরচ হয়নি।’ তিনি আশা করছেন, ২ বিঘা জমি থেকে ৪০ মণ ধান পাবেন। তার খরচ হয়েছে প্রায় ১৫ হাজার টাকা। ১ হাজার ৩০০ টাকা মণ দরে বিক্রি করলে মোট আয় হবে ৫২ হাজার টাকা। খরচ বাদে লাভ থাকবে প্রায় ৩৭ হাজার টাকা।
সাঁড়া ইউনিয়ন ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবদুল আলীম জানান, এ ইউনিয়নে এবার ৩৫ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড ও উফশী জাতের আমন ধানের আবাদ হয়েছে। সময়মতো বৃষ্টি এবং অনুকূল আবহাওয়ার কারণে হেক্টরপ্রতি উৎপাদন ভালো হবে বলে তিনি জানান। তার ভাষায়, ‘হাইব্রিড জাতের ধান ২০-২২ মণ এবং উফশী জাতের ধান ১৮-২০ মণ পাওয়া যাবে বলে আশা করছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘মাঝে পোকার আক্রমণ হয়েছিল, তবে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় তেমন ক্ষতি হয়নি।’
ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল মমিন জানান, ‘এবার ঈশ্বরদীতে ধান উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।’ তিনি বলেন, ‘সরকারের বিনামূল্যে কৃষি প্রণোদনার উপকরণ সময়মতো বিতরণ, উন্নতমানের বীজ সরবরাহ, কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও তদারকির কারণে ফলন ভালো হয়েছে।’