ঢাকা ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, রোববার, ১৪ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
এমবাপ্পের সমালোচনা ‘অতিরিক্ত ও অন্যায়’ দেড় দশকের জ্বালানিনীতি ছিল আমদানিনির্ভর: তথ্যমন্ত্রী ইরানের অনুশীলন মাঠের পাশে মরদেহ উদ্ধার ওয়ানডে সিরিজ বাংলাদেশ ইমার্জিংদের ঝিলিকের মৃত্যুর রহস্যে নতুন মোড়, গ্রেপ্তার স্বামী রক্তদান মহৎ কিন্তু নিরাপদ রক্ত আরও গুরুত্বপূর্ণ আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কোটি কোটি টাকা নিয়ে ঘুরেছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী মরক্কোর বিপক্ষে ব্রাজিলের সম্ভাব্য একাদশ মার্তিনেজকে ঘিরে নতুন শঙ্কা শাহবাগে ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে ছাত্রদলের বিক্ষোভ নাটোরে ৭০ দরিদ্র রোগীর বিনামূল্যে ছানি অপারেশন চাকরি মেলায় সাড়া, রাজশাহীতে ৫০ শতাংশ প্রার্থীর তাৎক্ষণিক নিয়োগ ইনজুরিতে ছিটকে গেলেন মাইকেল অলিভার ‘ফেনীর সাংবাদিকতার ইতিহাসে উজ্জ্বল অধ্যায় ওছমান হারুন মাহমুদ দুলাল’ পেকুয়া পৌরসভার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী গ্রিন ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা বিভাগে নবীনবরণ অনুষ্ঠিত মিসরকে কেন জার্সি পরিবর্তন করতে বলল ফিফা? রবিবার বিশ্ব রক্তদাতা দিবস যে সম্পদ চোখের পলকে ধ্বংস হয়ে যায় রাজধানীতে প্রান্তিক গ্রামের ফুটবল উন্মাদনা, আর্জেন্টিনা–ব্রাজিল ম্যাচ একদিনে ৫ মরদেহ উদ্ধার, বরগুনায় চাঞ্চল্য ও উদ্বেগ দাউদকান্দিতে শিবির নেতার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ প্রলোভন দেখিয়ে ভোট আদায়কারীরা জনগণের বন্ধু নয়: তারেক রহমান মুন্সীগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা করায় আনন্দ মিছিল বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আগারগাঁওয়ে ‘রান ফর আর্থ’ আয়োজন সিদ্ধিরগঞ্জের ডিএনডি লেকে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু জনদুর্ভোগ নিরসন ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবি ডা. শফিকুর রহমানের ভারতীয় সেনাবাহিনীর শীর্ষ পদে ধীরাজ শেঠ ‘তুই আসামি, চোখ নামিয়ে কথা বল’—ওসির বিরুদ্ধে নাঈম হাসানের অভিযোগ প্রযুক্তিদক্ষ তরুণরাই গড়বে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ: তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী
Nagad desktop

নজরুলের ‘মতিলালদা’

প্রকাশ: ০৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৪:৫৮ পিএম
আপডেট: ০৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৮:১০ পিএম
নজরুলের ‘মতিলালদা’
প্রবর্ত্তক সঙ্ঘের আশ্রম। ছবি: লেখক

১৯২৫ সালের ২১ মে চেতনার কবি কাজী নজরুল ইসলাম হুগলি থেকে স্বাধীনতা সংগ্রামের মহান বিপ্লবী, ঋষি অরবিন্দের একান্ত অনুগামী, অধ্যাত্ম সাধক, প্রবর্ত্তক সঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা, সঙ্ঘগুরু শ্রীশ্রী মতিলাল রায়কে চিঠিতে লেখেন -

মতিলালদা,
এরা তিনজন উত্তরবঙ্গ থেকে আসছেন দেশভ্রমণে। এরা সকলেই ছাত্র, খুব ভালো ছেলে। প্রবর্তক সংঘের দেখবার মতো বস্তুগুলি এদেরকে দেখিয়ে দেবেন। এরা আমার সহোদর প্রতিম।

ইতি -
নজরুল

নজরুলের লেখা চিঠি

নজরুল স্মৃতি-বিজড়িত জায়গাগুলো সম্পর্কে তরুণ প্রজন্মকে অবগত করার উদ্দেশে নজরুলপ্রেমীদের সঙ্গে নিয়ে ছায়ানট (কলকাতা) দীর্ঘ ১৮ বছর কাজ করছে। নজরুল-চর্চার ধারাবাহিকতায়, চন্দননগরে অবস্থিত প্রবর্ত্তক সঙ্ঘের সঙ্গে প্রাথমিকভাবে বইয়ের পাতায় আমার পরিচয় ঘটে। পরবর্তীতে যাওয়ার সুযোগ হয় এবং প্রবর্ত্তক সঙ্ঘের বর্তমান সম্পাদক শ্রী প্রদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে ইতিহাসকে ছুঁয়ে দেখার চেষ্টা করি। 

প্রদীপদার কথায় জানতে পারি - সঙ্ঘগুরু শ্রীশ্রী মতিলাল রায়কে নজরুল ‘মতিলালদা’ বলে সম্বোধন করতেন। সঙ্ঘজননী রাধারাণী দেবীর অকৃত্রিম স্নেহ নজরুল পেয়েছিলেন। অন্নপূর্ণা মন্দির, যেখানে রাধারাণী দেবী অবস্থান করতেন সেখানে অবলীলায় নজরুল প্রবেশ করতেন, মা অতি যত্নসহকারে নজরুলকে খাবার পরিবেশন করতেন এবং খাওয়ার পর নজরুলের হাতে একটি পান দিতেন। নজরুল সেই পান না চিবিয়ে গালে রেখে দিতেন, তাঁর সামনে হারমোনিয়াম দেওয়া হতো, নজরুল একের পর এক শ্যামাসঙ্গীত পরিবেশন করতেন। নজরুলের পরিবেশনায় মা-সহ আশ্রমকন্যারা অভিভূত হতেন।

প্রবর্ত্তক ছাত্রাবাস

বাসন্তী সঙ্গীত বিদ্যাবীথির প্রতিষ্ঠাতা ও শিক্ষক এবং কাজী নজরুল ইসলামের সহযোগী সঙ্গীতশিল্পী মনোরঞ্জন সেন তাঁর স্মৃতিচারণায় লিখেছেন-‘‘কাজী নজরুল ইসলামকে প্রথম দেখি ১৯২১ সালে চন্দননগরে প্রবর্তক সংঘের কার্যালয়ে শ্রদ্ধাস্পদ মতিলাল রায়ের সান্নিধ্যে, একটি সম্মেলন উপলক্ষে। ঐ সম্মেলনে আমি ‘বন্দেমাতরম’ গেয়েছিলাম, আর সেই সুবাদেই পরিচিত হলাম কাজী সাহেবের সঙ্গে। ওঁর পরিধানে তখন খদ্দরের খাটো ধুতি ও চাদর। লম্বা চুল, উজ্জ্বল চোখ আর ঘর-কাঁপানো হাসি তো ছিলই। পরিচয় হল বটে, তবে ঘনিষ্ঠতা নয়। কাজী সাহেবের সঙ্গীতচর্চার বেশির ভাগটাই তখন স্বদেশী গান নিয়ে, গাইছেন ‘বল নাহি ভয় নাহি ভয়’, ‘ভাই হয়ে ভাই চিনবি আবার’, ‘এস এস ওগো মরণ’, ‘আজি রক্ত নিশি ভোরে’, ‘কারার ঐ লৌহকপাট’, ‘দুর্গম গিরি কান্তার মরু’ প্রভৃতি গান। আমি মূলতঃ ক্ল্যাসিকাল চর্চা করি শুনে বাংলা গান গাওয়ার উৎসাহ দিলেন। মাঝে-মধ্যে দেখা হলেও ঘনিষ্ঠতা শুরু হল ১৯২৬ সাল নাগাদ।’’ 

প্রবর্ত্তক সঙ্ঘে নজরুল বেশ কয়েকবার যান, সেই সম্পর্কে মনোরঞ্জন সেনের এই লিখিত স্মৃতিচারণা অত্যন্ত গুরুত্ত্বপূর্ণ সাক্ষ্য বহন করে। 'প্রবর্ত্তক সঙ্ঘ’ নামটির সঙ্গে অনেকেই পরিচিত। প্রবর্ত্তক পত্রিকার প্রাক্-শতবর্ষ প্রথম সংখ্যার শুরুতেই লেখা হয় -

বিপ্লব তীর্থ সঙ্ঘ মন্দিরে সমাগত বিপ্লবীদের নামের তালিকা

‘প্রবর্ত্তক। মাত্র এই একটি শব্দের অভিঘাত ও ব্যঞ্জনা যে কতটা মর্ম্মভেদী হতে পারে ইতিহাস-বিস্মৃত আজকের প্রজন্মের সে বিষয়ে কোন ধারণা নেই। তবে যাঁরা প্রাচীন ও বিশিষ্ট; বিশেষতঃ যাঁরা বাঙালির বিগত এক শতাব্দীর হাল-হকিকতের খোঁজ-খবর রাখেন, তাঁদের কাছে প্রবর্ত্তকের নতুন করে পরিচয় দেওয়া বাতুলতা মাত্র। কারণ প্রবর্ত্তকের ইতিহাসের সঙ্গে আমাদের জাতীয় জীবনের ইতিহাস পরতে পরতে জড়িয়ে রয়েছে।’

পত্রিকার সম্পাদক লিখেছেন - ‘হঠাৎই পুরনো প্রবর্ত্তকের ফাইল ঘাঁটতে ঘাঁটতে পেলাম সেই মহামূল্যবান বিশল্যকরণী! কাজী নজরুলের একটি কবিতা - প্রবর্ত্তকের ঘুর্-চাকায়। মন বলল - অবশ্যই পারবে। প্রবর্ত্তকের চাকা তো অবিরত ঘুরছে। সে তো থামবার নয়।’ 

প্রবর্ত্তকের ঘুর্-চাকা কবিতায় নজরুল তারুণ্যের জয়গান গেয়েছিলেন -

যায় মহাকাল মূর্চ্ছা যায়
প্রবর্ত্তকের ঘুর্ চাকায়।
যায় অতীত
কৃষ্ণকায়
যায় অতীত
রক্ত-পায়—
যায় মহাকাল মূর্চ্ছা যায়
প্রবর্ত্তকের ঘুর্ চাকায়!
প্রবর্ত্তকের ঘুর্ চাকায়!
যায় প্রবীণ
চৈতী বায়,
আয় নবীন
শক্তি আয়!
যায় অতীত্
যায় পতিত্
আয় অতীথ্
'আয়রে আয়'—
বৈশাখী ঝড় সুর্ হাঁকায়—
প্রবর্ত্তকের ঘুর্ চাকায়!
প্রবর্ত্তকের ঘুর্ চাকায়!

চিলড্রেন্স হোম

‘প্রবর্ত্তক শতবার্ষিক সংকলন’-এ বাংলা সাহিত্যের উজ্জ্বল নক্ষত্রদের লেখা প্রকাশিত হয়েছে, বলাই বাহুল্য নজরুলের কবিতা ও গান খুব স্বাভাবিকভাবেই এই পত্রিকায় স্থান পেয়েছে। এই পত্রিকা সম্বন্ধে সম্পাদক শুভেন্দু মজুমদার সংক্ষেপে পাঠকদের ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। 

তিনি লিখেছেন - আজকের পাঠকদের কাছে খুব সংক্ষেপে অতীতের প্রবর্ত্তক পত্রিকা সম্পর্কে কিছু বলা প্রয়োজন। বাংলা সাময়িক পত্রের ইতিহাসে একদিকে যেমন বহু পত্র-পত্রিকার আবির্ভাব হয়েছে, অন্যদিকে আবার মহাকালের নিয়মে সেগুলির মধ্যে কোন কোনটি চিরতরে বিদায় নিয়েছে। প্রবর্ত্তক পত্রিকার জন্মের সঙ্গে শ্রী অরবিন্দ, বিপ্লবতীর্থ চন্দননগর এবং বিশেষ করে প্রবর্ত্তক পত্রিকা ও পরবর্তীকালে প্রবর্ত্তক সঙ্ঘের জন্মদাতা শ্রী মতিলাল রায়ের নাম বিশেষভাবে যুক্ত। আজকের প্রজন্মের অধিকাংশ বাঙালি না জানলেও এ কথা ইতিহাস-স্বীকৃত যে, প্রবর্ত্তক পত্রিকা ও প্রবর্ত্তক সঙ্ঘের সাথে আমাদের জাতীয় জীবনের ইতিহাস ওতপ্রোতভাবে জড়িত, রয়েল ৮ পেজি ১৬ পৃষ্ঠার একটি পূর্ণ পাক্ষিক হিসেবে ফরাসি চন্দননগর থেকে ১৯১৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর (২৫ ভাদ্র, ১৩২২ বঙ্গাব্দ) প্রবর্ত্তক পত্রিকা আত্মপ্রকাশ করেছিল। প্রতি সংখ্যার মূল্য ছিল এক আনা, বার্ষিক সডাক দুই টাকা। এই সাময়িক পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন মণীন্দ্রনাথ নায়েক। পত্রিকাটি প্রথমে চন্দননগরের কোরাল প্রেস থেকে ছাপা হতো। পত্রিকার নামকরণ শ্রী মতিলাল রায়ের। তিনিই ছিলেন প্রবর্ত্তকের প্রকৃত পরিচালক। 

শ্রী অরবিন্দ এই গৃহে কিছুকাল অবস্থান করেন

পত্রিকার নামকরণ প্রসঙ্গে শ্রী মতিলাল রায় লিখেছেন, ‘‘পত্রিকা বাহির হইবে, ইহা নিশ্চয়। কিন্তু কি তাহার নাম হইবে, তাহা জানিনা। তাহা ভগবান তখনও জানান নাই।... পরদিন অতি প্রত্যুষে শয্যাত্যাগ করিয়া ধ্যানে বসিলাম।...অন্তর্জগতের দুয়ার যেন উন্মুক্ত হইল। মুদিত চক্ষেই দেখিলাম - কয়েকটি জ্যোতির্ময় অক্ষর। বঙ্গাক্ষর নহে, দেবনাগরী অক্ষরে প্রবর্ত্তক এই শব্দটি আমি সুস্পষ্ট দেখিলাম...পত্রিকাখানির নাম ‘প্রবর্ত্তক’ হইবে, সকলকে জানাইলাম। কথাটা সকলেরই ভালো লাগিল।’’

এভাবেই শুরু হলো প্রবর্ত্তক পত্রিকার পথ চলা যা আজও বহমান। এই পত্রিকায় ১৩৪৯ বঙ্গাব্দে কার্ত্তিক সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল নজরুলের কবিতা-

অ-ধরা
কাছে তুমি থাক যখন, তখন আমি দিই না ধরা,
দূরে গিয়ে কাঁদ যখন, তখনই হই স্বয়ম্বরা।
তখন তোমার অভিসারে
মন ছুটে যায় অন্ধকারে
তখন ওঠে বিরহেরি ব্যাকুল রোদন পাগল-করা।।
প্রিয়, তুমি যবে রহ পাশে
কেন এত ভয় জাগে গো, কেন মনে দ্বিধা আসে?
ভিক্ষা যখন চাও ভিখারী,
হাত কাঁপে গো দিতে নারি —
তুমি চলে গেলে লুকিয়ে কাঁদি ভিক্ষা নিয়ে আঁচলভরা।
১৩৪৫ বঙ্গাব্দে কার্ত্তিক সংখ্যায় প্রকাশিত হয় নজরুল রচিত শ্যামা - সঙ্গীত —
পায়ের বেড়ী কাট্‌ল না তোর
আরও আঘাত হান্‌তে হবে।
ওরে আরও নিষ্ঠুর হ’
হয়ত শিকল টুট্‌বে তবে।।
(তুই) পালিয়ে যেতে চাইবি যত
প্রহরীরা ঘির্‌বে তত,
যত ফাঁকি চাইবি দিতে
(ওরা) ততই সজাগ হ'য়ে রবে।।
মায়ার ডোরে বন্দী ওরে, সহজে কি মুক্তি মেলে,
আয় বেরিয়ে, মিথ্যে সুখের জতুগৃহে
আগুন জ্বেলে।
বাঁধতে তোরে আস্‌বে ধেয়ে,
কাঁদ্‌তে কাঁদ্‌তে ছেলে মেয়ে,
দেখ্‌বি নারে পিছু চেয়ে
(এসব) মায়ার খেলা বুঝবি যবে।।

‘প্রবর্ত্তক শতবার্ষিক সংকলন’ গ্রন্থে সংক্ষিপ্ত লেখক পরিচিতি হিসেবে নজরুল সম্পর্কে লেখা হয়েছে-‘‘নজরুল ইসলাম (১৮৯৯-১৯৭৬) পরিচিতি নিষ্প্রয়োজন। চির-বিদ্রোহী কবি নজরুলও রবীন্দ্রনাথের মতন প্রবর্ত্তক সঙ্ঘের আদর্শের প্রতি বিশেষ শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। প্রবর্ত্তকের জন্য গান ও কবিতা লিখেছেন। ১৯২৪ সালে দ্বিতীয় বর্ষ অক্ষয় তৃতীয়া উৎসব ও মেলায় এসেছেন।’’

এই ঘরে বসে রবীন্দ্রনাথ গান শুনিয়েছিলেন

ইতিহাস-প্রসিদ্ধ প্রবর্ত্তক সঙ্ঘের গ্রন্থাগারে এখনও শোভা পায় একটি বোর্ড, যেখানে উল্লেখ রয়েছে বহু গুণী মানুষের নাম, তাঁদের সম্পর্কে লেখা হয়েছে - ‘যাঁদের মলিন চরণধূলায়/ধন্য হয়েছে ধরণীতল।/আলোর-পথের যাত্রী তাঁরাই/প্রেরণা-প্রদীপ অচঞ্চল।’

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ, নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু, আচার্য্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়, জাতির জনক মহাত্মা গান্ধী, অমর কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, সরলা দেবী চৌধুরানী, শিল্পাচার্য্য অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর সহ বহু প্রণম্য ব্যক্তি এই প্রবর্ত্তক সঙ্ঘে এসেছেন। 

প্রবর্ত্তক সঙ্ঘের বর্তমান সম্পাদক শ্রী প্রদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে নজরুলের লেখা চিঠি তুলে দিচ্ছেন ছায়ানট (কলকাতা)- এর সভাপতি সোমঋতা

স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ প্রবর্ত্তক সঙ্ঘ সম্পর্কে বলেছিলেন - ‘এই আশ্রমের সঙ্গে যেটুকু পরিচয়, হউক তা ক্ষণকালের - একদিনের, কয়েক ঘণ্টার, তা হলেও আমার অভিজ্ঞতা থেকে আমি এ কথা বলতে পারি, এখানে যে সত্যের আবির্ভাব ঘটেছে তার সম্পূর্ণতা, মহৎ সার্থকতা একদিন আসবেই।’

বিশ্বকবির আশীর্বাণীকে পাথেয় করে মানবতার দিশারী, সত্যের পূজারী প্রবর্ত্তক সঙ্ঘের পথচলা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হোক।

লেখক: নজরুল সঙ্গীতশিল্পী এবং সভাপতি, ছায়ানট (কলকাতা)

দেশপ্রেমের কালজয়ী কণ্ঠকে শিল্পকলার বিশেষ সম্মাননা

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৯:৫০ পিএম
দেশপ্রেমের কালজয়ী কণ্ঠকে শিল্পকলার বিশেষ সম্মাননা
দেশাত্মবোধক গানের কিংবদন্তি সৈয়দ আব্দুল হাদীকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হচ্ছে। ছবি: খবরের কাগজ

বাংলা গানের অবিসংবাদিত সম্রাট, যার কণ্ঠস্বর কয়েক প্রজন্মের আবেগের নাম, সেই বরেণ্য সংগীতশিল্পী সৈয়দ আব্দুল হাদী।

দীর্ঘ অর্ধশতাব্দীরও অধিক সময় ধরে সংগীতের সুধায় সিক্ত করে  তিনি পেয়েছেন এক বিশেষ সম্মাননা।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে বর্ণাঢ্য আয়োজনে এই কালজয়ী শিল্পীকে দেওয়া হলো বিশেষ সম্মাননা স্মারক।

শুক্রবার (১২ জুন) সন্ধ্যায় রাজধানীর জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় এই বিশেষ আয়োজন।

জাতীয় সংস্কৃতির বিকাশ ও লালনে অসামান্য অবদান রাখা গুণীজনদের মূল্যায়নের অংশ হিসেবে এই অনুষ্ঠানের অবতারণা করা হয়।

সম্মাননা গ্রহণকালে আবেগময় কণ্ঠে সৈয়দ আব্দুল হাদী বলেন, ‘আমি সবার প্রশংসায় আকুণ্ঠ নিমজ্জিত হয়েছি। তবে আমার একটিই অনুরোধ; আমরা যেন নিজেদের ভারে দেশটাকে ভারাক্রান্ত না করে ফেলি। আসুন, আমরা সবাই দেশটাকে ভালোবাসি।’ 

অনুষ্ঠানের সূচনা হয় সৈয়দ আব্দুল হাদীর বর্ণাঢ্য জীবন ও কর্মের ওপর নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে। এরপর মঞ্চে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।

এতে সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতি সচিব কানিজ মওলা।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এমপি এবং তথ্য ও সম্প্রচার এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) ড. জাহেদ উর রহমান। সম্মানিত অতিথি হিসেবে ছিলেন জাসাস-এর আহ্বায়ক হেলাল খান।

‘সৈয়দ আব্দুল হাদী’ একটি মানদণ্ড
শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক ও কবি শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ (রেজাউদ্দিন স্টালিন) বলেন, ‘বাংলা গানের উচ্চতা এখন নির্ণিত হয় সৈয়দ আব্দুল হাদীর কণ্ঠস্বরকে ঘিরে। নতুন প্রজন্মের কোনো শিল্পী কেমন গাইলেন, তা যাচাই করতে গিয়ে আজও শ্রোতারা সৈয়দ আব্দুল হাদীর গায়কীর মানদণ্ডেই বিচার করেন। এটিই তার সার্থকতা।’

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, ‘বিগত সময়ে আমাদের সংস্কৃতির যে ক্ষতি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠে সংস্কৃতি অঙ্গনকে ঢেলে সাজাতে চাই। রবীন্দ্র-নজরুল থেকে শুরু করে সংগীতের প্রতিটি শাখাকে নতুন উদ্যমে এগিয়ে নেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।’

গীতসন্ধ্যায় শ্রদ্ধাঞ্জলি
সম্মাননা পর্ব শেষে আয়োজিত হয় ‘গীতসন্ধ্যা’। এখানে নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের কণ্ঠে সুরের মূর্ছনায় উঠে আসে সৈয়দ আব্দুল হাদীর কালজয়ী সব গান। স্মরণ, নোলক বাবু, অনন্যা আচার্য, পিয়াল হাসানসহ একঝাঁক শিল্পীর পরিবেশনায় মুখরিত হয়ে ওঠে মিলনায়তন। ‘আছেন আমার মোক্তার’ ও ‘সূর্যোদয়ে তুমি, সূর্যাস্তেও তুমি’-এই দুটি গান সমবেত কণ্ঠে পরিবেশনের মাধ্যমে কিংবদন্তি শিল্পীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

জয়ন্ত সাহা/এসএন

শিল্পের ক্যানভাসে তিন প্রাণের সেতুবন্ধন

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৯:২২ পিএম
আপডেট: ১২ জুন ২০২৬, ০৯:২৪ পিএম
শিল্পের ক্যানভাসে তিন প্রাণের সেতুবন্ধন
ছবি: খবরের কাগজ

ক্যানভাস যেন এক নীরব ভাষা, যেখানে তুলির আঁচড়ে জমে ওঠে অস্ফুট অব্যক্ত কথা। প্রকৃতির স্নিগ্ধতা, মানুষের চোখের জলছবি আর রাজপথের সংগ্রামী মানুষদের নীরব মর্যাদার মিশেলে তৈরি এক অদ্ভুত সুরের মূর্ছনা এখন ঢাকার ধানমন্ডির আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকার লা গ্যালারিতে। 

শুক্রবার (১২ জুন) সন্ধ্যায় তিনটি ভিন্ন ধারার প্রতিভাবান শিল্পী মো. ফারিয়াজ ইমরান, নীহারিকা অহনা বারসাত এবং সুরভী আক্তারের শিল্পকর্মে সেজে উঠেছে প্রদর্শনী ‘ত্রিবন্ধন’। শিল্পীর মন ও ক্যানভাসের মধ্যকার এই যে নিবিড় সংযোগ, তা যেন আজ এক মূর্ত রূপ পেয়েছে শিল্পানুরাগীদের সামনে। উদ্বোধনী আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন প্রখ্যাত শিল্পী সাইদুল হক জুইস, রশীদ আমিন এবং অধ্যাপক আনিসুজ্জামান আনিস। 

স্মৃতির অতল থেকে উঠে আসা পরিচয়, প্রকৃতির সাথে মানবিক বন্ধন আর নগরের ব্যস্ততায় হারিয়ে যাওয়া জীবনের গল্পগুলো এখানে একে অপরের সাথে সংলাপে মগ্ন।

নীহারিকা অহনা বারসাত দর্শকদের নিয়ে গেছেন এক স্বপ্নিল কাব্যিক জগতে। তার জলরঙ ও অ্যাক্রিলিকের বহুস্তরবিশিষ্ট কাজগুলোতে বৃক্ষ, পাখি ও নারীমূর্তির পুনরাবৃত্তি যেন এক প্রকার আরোগ্যের মন্ত্র উচ্চারণ করে। প্রকৃতিকে তিনি কেবল দৃশ্যপট হিসেবে নয়, বরং আত্মরূপান্তরের এক অবিচ্ছেদ্য সঙ্গী হিসেবে উপস্থাপন করেছেন।

উল্টো পিঠেই আবার সুরভী আক্তারের শিল্পভাষায় ধরা দিয়েছে মানবিকতার সূক্ষ্ম রেখা। এই শিল্পী ব্রাউন পেপারের ধূসর জমিনে লাল বলপয়েন্ট কলমের আঁচড়ে মানুষের চোখের ভাষা পড়তে চেয়েছেন। প্রযুক্তিনির্ভর এই যান্ত্রিক পৃথিবীতে যেখানে মানুষ একে অপরের থেকে দূরে সরে যাচ্ছে, সেখানে তার প্রতিকৃতিগুলো দর্শককে থমকে দাঁড়াতে এবং দৃষ্টির গভীরে লুকিয়ে থাকা নীরব কথাগুলো শুনতে আহ্বান জানায়।

নগরজীবনের না বলা আখ্যানকে মলাটবন্দি করেছেন মো. ফারিয়াজ ইমরান। ঢাকার রাজপথ, রিকশাচালকদের ঘামভেজা শরীর আর প্রান্তিক মানুষের সংগ্রামগুলোকে তিনি জলরঙের মায়ায় জীবন্ত করে তুলেছেন। সমাজের জনপরিসরে যারা প্রায়শই অদৃশ্য থেকে যান, ফারিয়াজের তুলিতে তারাই হয়ে উঠেছেন অনন্য সাধারণ।

সামগ্রিকভাবে ‘ত্রিবন্ধন’ কেবল একটি প্রদর্শনী নয়, এটি ব্যক্তি, সমাজ ও প্রকৃতির মধ্যকার সম্পর্কের এক নান্দনিক উদযাপন। আগামী ১৭ জুন পর্যন্ত প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত এই প্রদর্শনীটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

জয়ন্ত সাহা/রিফাত/

সুর-ছন্দের আন্তর্জাতিক মেলবন্ধন চার দিনের সংগীত উৎসবে মেতে উঠছে ঢাকা

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৭:৫৭ পিএম
চার দিনের সংগীত উৎসবে মেতে উঠছে ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

বর্ষার আগমনী বার্তার মাঝেই সুরের মায়াজালে জড়াতে শুরু করেছে রাজধানী ঢাকা। শুরু হয়েছে চার দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সঙ্গীত উৎসব 'ফেত দ্য লা মিউজিক ২০২৬'।

বুধবার (১০ জুন) থেকে শুরু হওয়া এই উৎসবে সুরের মূর্ছনা ছড়াচ্ছেন বাংলাদেশ, ফ্রান্স, ব্রাজিল ও ফিনল্যান্ডের শিল্পীরা। আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকা (এএফডি) তাদের সহযোগী সাংস্কৃতিক ও শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে এই উৎসবের আয়োজন করেছে, যা চলবে আগামী ১৩ জুন পর্যন্ত।

আয়োজকরা জানিয়েছেন, সাংস্কৃতিক বিনিময় ও সৃজনশীল অনুসন্ধানের চেতনাকে কেন্দ্র করে এবারের সুরের আড্ডাকে সাজানো হয়েছে। চার দিনের এই আয়োজনে কর্মশালা, লাইভ পারফরম্যান্স এবং সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনের মাধ্যমে দর্শক-শ্রোতারা সমসাময়িক বৈশ্বিক সংগীতধারার এক অনন্য অভিজ্ঞতা পাবেন।

রাজধানীর গুলশানের ‘বাটারনোট – আ জ্যাজ ক্যাফেতে’ গতকাল বুধবার বিকেলে ইলেকট্রনিক মিউজিক কর্মশালার মাধ্যমে উৎসবের পর্দা ওঠে। ফরাসি সংগীতশিল্পী ও পারকাশনবাদক সুভাষ ধুনুচন্দ এই কর্মশালা পরিচালনা করেন। উৎসবের দ্বিতীয় দিন আজ বৃহস্পতিবার দর্শকদের জন্য থাকছে বিশেষ কনসার্ট ‘বসা ও সোলেই কুশঁ’। এতে পারফর্ম করবেন ফিনল্যান্ডের মিরভা তুলিয়া, ব্রাজিলের আকিলা লিমা এবং বাংলাদেশের ইমরান আহমেদ, তৌফিক আরিফিন ও তানভীর হক। বোসা নোভার মনোমুগ্ধকর সুর ও ছন্দের মাধ্যমে সেখানে তৈরি হবে এক অনন্য সাংস্কৃতিক সংলাপ। অন্যদিকে আজ সন্ধ্যায় ধানমন্ডির গ্যেটে-ইনস্টিটিউট বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘তবলাট্রনিক’। সুভাষ ধুনুচন্দের লাইভ পারফরম্যান্সে তবলা, পারকাশন এবং ইলেকট্রনিক প্রোগ্রামিংয়ের সমন্বয়ে ঐতিহ্য ও প্রযুক্তির এক দারুণ মেলবন্ধন দেখার অপেক্ষায় আছেন শ্রোতারা।

উৎসবে শুক্রবারের মূল আকর্ষণ অ্যালিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকার শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সংগীত উদ্‌যাপন। তাদের নিজস্ব পরিবেশনার পাশাপাশি সেদিন ক্যাফে লা ভেরান্দায় গান শোনাবেন তপেশ চক্রবর্তী ও জ্যাজ ব্যান্ড ‘দ্য সোসাইটি’। আগামী শনিবার উৎসবের শেষ দিনে সমাপনী আকর্ষণ হিসেবে মঞ্চস্থ হবে ‘বাংলা ব্রাজিল: দ্য সাউন্ড অব দ্য ইউনিভার্স’। ব্রাজিলের আকিলা লিমা এবং বাংলাদেশের মিঠুন চক্রের এক অনন্য পারকাশন যুগলবন্দির মধ্য দিয়ে পর্দা নামবে চার দেশের শিল্পীদের এই মিলনমেলার।

জয়ন্ত সাহা/এসএন

ক্যানভাসে জীবন, সমাজ ও প্রকৃতি আলিয়ঁসে শুরু  হচ্ছে তিন শিল্পীর ‘ত্রিবন্ধন’

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৭:৩৮ পিএম
আলিয়ঁসে শুরু  হচ্ছে তিন শিল্পীর ‘ত্রিবন্ধন’
ছবি: সংগৃহীত

একই গ্যালারি, অথচ তিনটি ভিন্ন চোখ দিয়ে দেখা চেনা-অচেনা জীবন। কেউ খুঁজে ফিরছেন প্রকৃতির মাঝে মানুষের আত্মিক আরোগ্য, কেউ মানুষের চোখের গভীরতায় খুঁজছেন মনের অলিগলি, আবার কারও তুলিতে মূর্ত হয়ে উঠছে ঢাকার রাস্তায় খেটে খাওয়া মানুষের নীরব লড়াই। তিন উদীয়মান শিল্পীর এমন তিন ঘরানার শিল্পভাষাকে এক সুতোয় বেঁধেছে ‘ত্রিবন্ধন’।

শুক্রবার (১২ জুন) রাজধানীর ধানমন্ডির আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকার ‘লা গ্যালারি’তে পর্দা উঠবে এই প্রদর্শনীর। তরুণ চিত্রশিল্পী মো. ফারিয়াজ ইমরান, নীহারিকা অহনা বারসাত এবং সুরভী আক্তারের সম্মিলিত চিত্রকর্ম নিয়ে সেজেছে এই প্রদর্শনী।

স্মৃতি, পরিচয়, প্রকৃতি, মানবিক সংযোগ এবং চেনা নগরজীবনের নানা অনুষঙ্গ উঠে এসেছে এই তিন তরুণের ক্যানভাসে। ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি আর মাধ্যম ব্যবহার করলেও, শিল্পীদের কাজগুলো একসঙ্গে মিলে যেন গড়ে তুলেছে সহমর্মিতা, স্থিতিস্থাপকতা আর আত্মরূপান্তরের এক গভীর সংলাপ।

প্রদর্শনীতে শিল্পী নীহারিকা অহনা বারসাতের চিত্রকর্মগুলো দর্শকদের নিয়ে যায় এক কাব্যিক জগতে, যেখানে প্রকৃতি আর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা মিলেমিশে একাকার। তার ক্যানভাসে বারবার ফিরে এসেছে পাখি, বৃক্ষ ও নারীমূর্তি। অ্যাক্রিলিক ও জলরঙে নির্মিত তার বহুস্তরবিশিষ্ট কম্পোজিশনে প্রকৃতি কেবল পটভূমি হয়ে থাকেনি, বরং রূপান্তরের এক সক্রিয় চরিত্র হয়ে উঠেছে। তার প্রতিটি কাজ যেন আরোগ্য, বিকাশ ও আত্ম-অন্বেষণের গল্প বলে; নতুন করে ভাবতে উদ্বুদ্ধ করে মানুষ ও পরিবেশের অদৃশ্য সম্পর্ক নিয়ে।

শিল্পী সুরভী আক্তারের ক্যানভাসের মূল শক্তি মানুষের চোখ। মানবমুখের সবচেয়ে অভিব্যক্তিপূর্ণ এই উপাদানটিকে কেন্দ্র করেই তার পুরো শিল্পচর্চা। ব্রাউন পেপারের ওপর লাল বলপয়েন্ট কলম আর রঙিন পেন্সিলের সূক্ষ্ম টানে সুরভী ফুটিয়ে তুলেছেন একের পর এক প্রতিকৃতি। ক্ষণস্থায়ী আর চটজলদি ছবির এই যুগে সুরভীর কাজগুলো দর্শকদের থমকে দাঁড়াতে বাধ্য করে। প্রতিটি চোখের দৃষ্টিতে লুকিয়ে থাকা আবেগ, মনস্তাত্ত্বিক গভীরতা আর মানবিক সংযোগকে নিবিড়ভাবে দেখার আহ্বান জানায় তার এই প্রতিকৃতিগুলো।

শহুরে জীবনের কোলাহল আর উপেক্ষিত মানুষের গল্প নিয়ে হাজির হয়েছেন মো. ফারিয়াজ ইমরান। তার ক্যানভাসের অনুপ্রেরণা ঢাকার রাস্তাঘাট, বিশেষ করে রিকশাচালক ও নগরের পেছনের সারির খেটে খাওয়া মানুষ। জলরঙের স্তরবিন্যাস আর চমৎকার মানবকেন্দ্রিক কম্পোজিশনের মাধ্যমে ফারিয়াজ তুলে ধরেছেন শ্রমজীবী মানুষের নীরব মর্যাদা, সংগ্রাম ও আত্মমগ্নতার মুহূর্তগুলোকে। ঢাকার চাকা সচল রাখা যে মানুষগুলো জনপরিসরের আলোচনায় প্রায়শই অদৃশ্য থেকে যান, ফারিয়াজের তুলি তাদেরই দিয়েছে সামাজিক স্বীকৃতি ও পরিচয়ের নতুন ভাষা।

এই প্রদর্শনী আগামী ১৭ জুন পর্যন্ত প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

জয়ন্ত সাহা/এসএন

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর চলচ্চিত্র 'সাঁকোটা দুলছে'

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৯:২৮ এএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬, ০৯:৩৫ এএম
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর চলচ্চিত্র 'সাঁকোটা দুলছে'
ছবি: খবরের কাগজ

সাংহাই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব-২০২৬ এর ‘এশিয়ান নিউ ট্যালেন্ট কম্পিটিশন’ বিভাগে নির্বাচিত হয়েছে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ‘দ্য ব্লাইন্ড গার্ল অ্যান্ড অ্যান এলিফ্যান্ট’ (সাঁকোটা দুলছে)।

চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইশতিয়াক আহমেদ জিহাদ।

আগামী ১২ থেকে ২১ জুন ২০২৬ পর্যন্ত চীনের সাংহাই শহরে অনুষ্ঠিত সাংহাই চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হবে চলচ্চিত্রটি।

পরিচালক জিহাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বর্তমানে তিনি স্নাতকোত্তর পর্যায়ে অধ্যয়নরত।

তরুণ এই পরিচালকের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র এটি। চলচ্চিত্রটির প্রযোজনা করেছেন তার বিভাগেরই সহকারী অধ্যাপক ও জনপ্রিয় অভিনেতা মনোজ কুমার প্রামাণিক।

বাংলাদেশের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘মনপাচিত্র’ এবং জার্মানির ‘মগডোর ফিল্ম’-এর যৌথ উদ্যোগে নির্মিত হয়েছে চলচ্চিত্রটি। প্রযোজক ও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানটিরও প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র এটি।

সংশ্লিষ্টরা জানান, চলচ্চিত্রটির আন্তর্জাতিক নির্মাণযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন জার্মান প্রযোজক ক্রিস্টোফ থোকে। তিনি সহযোগী প্রযোজক হিসেবে পোস্ট-প্রোডাকশন পর্যায়ে প্রকল্পটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

এছাড়া আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চলচ্চিত্র সমালোচক, প্রযোজক ও প্রোগ্রামার ডার্সি প্যাকুয়েট চলচ্চিত্রটির কনসাল্টিং প্রযোজক হিসেবে এবং চলচ্চিত্র নির্মাতা ও প্রযোজক ফজলে হাসান শিশির সহ-প্রযোজক হিসেবে যুক্ত ছিলেন।

মূলত, গ্রামীণ বাংলাদেশের তিন নারীর জীবনকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে চলচ্চিত্রটি।

যেখানে গল্পে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, কুসংস্কার, পিতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা ও সামাজিক নিপীড়নের বেড়াজাল থেকে মুক্তির স্বপ্ন দেখা এসব নারীর সংগ্রামের গল্প।

সম্পূর্ণ সাদা-কালোতে নির্মিত চলচ্চিত্রটি নারীর জীবন, বিশ্বাস, সামাজিক নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যক্তিস্বাধীনতার প্রশ্নকে গ্রামীণ বাংলাদেশের বাস্তবতার আঙ্গিকে উপস্থাপন করেছে।

এশিয়া মহাদেশের অন্যতম বৃহৎ এই চলচ্চিত্র উৎসবে নিজের প্রথম চলচ্চিত্রের নির্বাচনের বিষয়ে পরিচালক ইশতিয়াক আহমেদ জিহাদ বলেন, ‘গ্রামীণ বাংলাদেশে বেড়ে ওঠার অভিজ্ঞতা থেকে আমি দেখেছি, কীভাবে কুসংস্কার, রক্ষণশীলতা এবং সামাজিক বিধিনিষেধ নারীদের জীবনে প্রভাব ফেলে। এই চলচ্চিত্র সেই বাস্তবতা থেকেই জন্ম নিয়েছে। সাংহাই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে নির্বাচিত হওয়া আমাদের পুরো টিমের জন্য অত্যন্ত সম্মানের। পাশাপাচি চলচ্চিত্রে প্রতিফলিত মানুষদের জীবন ও অভিজ্ঞতার একটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।’

চলচ্চিত্রটির বিষয়ে প্রযোজক মনোজ কুমার প্রামাণিক বলেন, ‘এই যাত্রা শুরু হয়েছিল খুব সীমিত অর্থ, অল্প অভিজ্ঞতা এবং একদল স্বপ্নবান তরুণ চলচ্চিত্রকর্মীকে নিয়ে। সাংহাই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে নির্বাচিত হওয়া আমাদের বহু বছরের পরিশ্রম, ত্যাগ, বিশ্বাস এবং স্বাধীন চলচ্চিত্রচর্চার প্রতি অঙ্গীকারের স্বীকৃতি।’

তাসনিম হক/তামান্না রুপা/