কেউ ঘরে বানানো নানান রকম পিঠা, কেউ হাতে বানানো ফুল-পাখি, কেউ টিপ-চুড়ি ইত্যাদির পসরা সাজিয়ে বসেছে। দোকানিরা সবাই শিশু। সঙ্গে আছেন অভিভাবকেরা। মূলত ক্রেতা তারাই। আবার ক্ষুদে বিক্রেতারাও এ দোকান-ও দোকান ঘুরে কিনছে যার যার পছন্দের জিনিসপত্র।
শেষ দিকে আবার নিজেদের মধ্যেই আলোচনাকে কতজনের কাছে বিক্রি করতে পেরেছে, কে কত বিক্রি করেছে। একদম শেষে কেউ কেউ আবার হাতে বা ঘরে বানানো জিনিসপত্র অন্যদের মধ্যে বিলিয়ে দিয়েছে। এমন করেই এক অসাধারণ উৎসব উপহার দিয়েছে বাতিঘর সাংস্কৃতিক বিদ্যালয়। মূলত আলতা-মেহেদী উৎসব হলেও জ্যৈষ্ঠের এই বিকেল-সন্ধ্যাকে আরও রাঙিয়ে দিয়েছে শিশুদের এমন বিক্রি-বাট্টার আয়োজন।
শিশুদের মধ্যে বাংলার লোকায়ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও উৎসবের আনন্দ ছড়িয়ে দিতে ঈদের ছুটির আগে ব্যতিক্রমধর্মী এই আয়োজন করেছে বাতিঘর সাংস্কৃতিক বিদ্যালয়।
শুক্রবার (২২ মে) বাতিঘরের আয়োজনে বিদ্যালয়টির বেইলি রোড শাখায় (লিলি কটেজ, সুধীসমাজ গলি, সিদ্ধেশ্বরী) বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ‘আলতা ও মেহেদী উৎসব-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়। নানা বয়সী শিশু ও অভিভাবকদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় এই উৎসব। উৎসবে শিশুদের ছোট্ট হাত রাঙানো হয় মেহেদীর নকশায় এবং পায়ের পাতায় লাগানো হয় আলতার লাল ছোঁয়া।
উৎসবের পরিকল্পনাকারী ও বাতিঘরের শিক্ষাকর্মী আমির হামজা জানান, উৎসবজুড়ে শিশুদের হাতে ও পায়ে আলতা ও মেহেদী পরানোর পাশাপাশি বড় আকর্ষণ ছিল শিশুদের অংশগ্রহণে নানা ধরনের ছোট ছোট দোকান। এসব দোকানে শিশুরা নিজেদের তৈরি বা পছন্দের বিভিন্ন সামগ্রী প্রদর্শন ও বিক্রি করেছে। ফলে আনন্দের পাশাপাশি শিশুদের সৃজনশীলতা, আত্মবিশ্বাস ও সামাজিক যোগাযোগ দক্ষতা বৃদ্ধিতেও সহায়ক ছিল এই উৎসব।
উৎসব নিয়ে বাতিঘর সাংস্কৃতিক বিদ্যালয়ের পরিচালক মরিয়ম ইউসুফ বলেন, শিশুরা এই উৎসব বেশ উপভোগ করেছে। বর্তমান সময়ে শিশুদের প্রযুক্তিনির্ভর ব্যস্ততার বাইরে এনে বাংলা সংস্কৃতি, উৎসব ও পারস্পরিক সম্প্রীতির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আয়োজকেরা জানান, উৎসবটি শিশুদের জন্য ছিল একাধারে আনন্দ, রং ও ঐতিহ্যের মিলনমেলা।
মাহমুদুল আলম/রিফাত/