কোটা সংস্কার দাবিতে আন্দোলনে নিহত হওয়া মোহাম্মদ রিয়াজ ও ইমন আলী নামে দুই শিক্ষার্থীর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে এ জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। এতে ইমমামতি করেন গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক ও ডাকসুর সাবেক সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক আখতার হোসেন।
এসময় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘রিয়াজ-ইমনসহ যারা শহিদ হয়েছেন তাদের প্রত্যেকের পরিবারের দায়িত্ব অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নেবে এবং ভবিষ্যতেও তাদের পরিবারের পাশে থাকবে সরকার। একই সঙ্গে যারা আহত হয়েছেন তাদের চিকিৎসার দায়িত্ব সরকার ইতোমধ্যে নিয়েছেন। যারা শহিদ ভাইদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে তাদের বিচার এই বাংলার মাটিতে হবে এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।’
জানাজা পড়তে আসা গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর বলেন, ‘৯০ এর শহিদ ডা. মিলন বা নূর হোসেনের মতো শহিদদের নির্দিষ্ট একটি দিনে স্মরণ করা হয় এবং সেখান ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এরপরই সেই জায়গা অযত্ন আর অবহেলায় পড়ে থাকে এবং ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়ে যায়। দ্বিতীয় এই গণঅভ্যুত্থানে শহিদদের যেন এ অবমূল্যায়ন না করা হয়। এজন্য রাজনৈতিক দলগুলোর একধরনের কমিটমেন্ট প্রয়োজন।’
এছাড়া ওই জানাজায় কোটা সংস্কার দাবির আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের প্লাটফর্ম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক সারজিস আলম, হাসনাত আবদুল্লাহ, রিফাত রশিদসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
গত ৪ আগস্ট দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে রিয়াজ জিগাতলায় গুলিবিদ্ধ হন। পরে গতকাল বিকেলের দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেলের দিকে মারা যায়। অপর দিকে নিহত ইমন আলী গত ৪ আগস্ট বিকালে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের গোরাইতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় সে গুলিবিদ্ধ হয়। পরে আজ সকালের দিকে ঢামেক হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ সকালে মারা যান।
আরিফ জাওয়াদ/এমএ/