উচ্চ মাধ্যমিকের পাট চুকিয়ে দু-চোখভরা স্বপ্ন নিয়ে শিক্ষার্থীরা স্নাতকে ভর্তি হন। পাবলিক বা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষাঙ্গন যেখানেই হোক না কেন- কমবেশি সবারই ইচ্ছা থাকে স্নাতক শেষে ভালো কোনো চাকরিতে যোগ দেওয়া কিংবা উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাড়ি দেওয়া। তবে শিক্ষাজীবনের এই পর্যায়ে এসে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের বিচরণের পরিধি কিন্তু অনেক বেশি বিস্তৃত হয়ে যায়। তারা পড়াশোনার পাশাপাশি সহশিক্ষামূলক নানা কাজে নিজেদের জড়িত করতে পারেন, যা তাদের আর্থিক সহায়তা ছাড়াও ভবিষ্যৎ কর্মজীবনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। অনার্সের চার বছরের সার্টিফিকেট শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ারের সম্পূর্ণ নিরাপত্তা না দিলেও এই সময়টায় পড়ালেখায় বেশি প্রাধান্য দিয়ে তারপর বাকি সব কাজে ফোকাস করতে পারেন। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে সদ্য পা রাখা অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা পড়ালেখার পাশাপাশি আর যেসব কাজ করতে পারেন–
টিউশনি
অনার্সের প্রথম বর্ষে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার প্রেশারটা তুলনামূলক কম থাকে। তাই টিউশনির মাধ্যমে তারা নিজেদের হাতখরচের টাকাটা সহজেই তুলে নিতে পারবেন। আমাদের স্কুল-কলেজের শিক্ষাব্যবস্থায় গণিত, ইংরেজি ও বিজ্ঞানের বিষয়গুলোয় শিক্ষকতার ভালো চাহিদা রয়েছে। যে বিষয়ে আপনার ভালো দক্ষতা আছে, সে বিষয়ে আপনি টিউশনি করাতে পারবেন। এতে যেমন হাতখরচের টাকা আসবে, তেমনি পড়ালেখার চর্চাও অব্যাহত থাকবে, সরকারি চাকরি পেতে যা কাজে লাগতে পারে।
পত্রিকা অফিসে কাজ
আমাদের অনেকেরই ধারণা, সাংবাদিকতা ব্যাকগ্রাউন্ডের না হলে কেউ গণমাধ্যমে কাজ করতে পারেন না। এটি একটি ভুল ধারণা। গণমাধ্যমে এমন অনেকেই আছেন যাদের একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড আলাদা। এর পরও তারা সাবলীলভাবেই ক্যাম্পাস প্রতিনিধির কাজ করেন। অনেকে পড়ালেখার পাশাপাশি পত্রিকার অফিসেও পার্টটাইম কাজ করে থাকেন। এখান থেকেও তারা টাকা আয় করতে পারবেন।
ফ্রিল্যান্স রাইটার
পত্রিকায় ফিচার লেখা, অনলাইন পোর্টাল বা ম্যাগাজিনে লেখালেখির অভ্যাস করতে পারেন। এতে অফিসে গিয়ে কাজ করার কোনো চাপ থাকবে না। উল্টো সুবিধা বলতে যেকোনো জায়গা থেকে অনলাইনে কাজ করতে পারবেন। পড়াশোনার সঙ্গে এ ধরনের সৃজনশীল কাজ আপনার মেধা ও মনন বিকাশেও সহায়তা করবে। আর আর্থিক সহায়তাটা তো থাকবেই।
রেস্টুরেন্ট অথবা ব্র্যান্ডের আউটলেটে কাজ
পড়ালেখার খরচ তুলতে ক্লাস টাইমের শেষে রেস্টুরেন্ট বা বিভিন্ন ব্র্যান্ডের আউটলেটগুলোয় পার্টটাইম কাজ করতে পারেন। এখান থেকে শিক্ষার্থীরা ভালো পরিমাণে রোজগার করতে পারবেন। এ ছাড়া এ ধরনের কাজে নানা ধরনের কাস্টমারের সঙ্গে ডিল করতে হয় বলে আচরণগত ও কথা বলার দক্ষতাও বৃদ্ধি পাবে। এসব কাজে তেমন কায়িক শ্রমও নেই। ফলে খুব বেশি কষ্টকরও নয়।
রেডিও জকি
বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থীই রেডিওতে আরজে হিসেবে কাজ করে থাকেন। ক্লাস টাইমের ফাঁকে তারা এই কাজে যুক্ত হন। রেডিওর শোগুলোর নির্দিষ্ট সময় থাকায় শিক্ষার্থীরা তাদের সুবিধামতো সময়ে অনএয়ারে কাজ করতে পারেন। এ কাজে অনেক কথা বলতে হয় বলে তাদের কথা বলার জড়তাও কেটে যায়। আর রেডিওতে কাজের অনুপাতে স্যালারিও বেশ ভালো হয়ে থাকে।
স্বেচ্ছাসেবক
অনার্সে অধ্যয়নকালে অনেকে বিভিন্ন প্রোগ্রামে স্বেচ্ছাসেবীর কাজ করতে পারেন। এটা যেমন নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে করতে পারেন, আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের কোনো কমার্শিয়াল প্রোগ্রামেও করতে পারেন। কমার্শিয়াল প্রোগ্রামে স্বেচ্ছাসেবীদের ভালো সম্মানী দেওয়া হয়। আর এসব কাজে নেটওয়ার্কিং অনেক ভালো হয়। এই নেটওয়ার্ক পরবর্তী চাকরিজীবনে ভীষণ কাজে লাগে।
ফ্রিল্যান্সিং
অনার্সের এই পর্যায়ে স্বাধীনভাবে কাজ করার জন্য ফ্রিল্যান্সিং খুব ভালো একটি অপশন। কারও অধীনে কাজ না করে এখানে ইচ্ছেমতো সময়ে কাজ করা যায়। যারা গ্রাফিক্স ডিজাইন, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট ও প্রোগ্রামিং, অনলাইন মার্কেটিং, অ্যানিমেশনের কাজ পারেন, তাদের জন্য ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজ হলো সোনায় সোহাগা। এখানে দেশের বাইরের বিভিন্ন ক্লায়েন্টের জন্য তাদের চাহিদা অনুযায়ী কাজ সম্পাদন করতে হয়। এই খাত থেকে অনেক টাকা আয় করা যায়। আর রিমোট জব হওয়ায় এ কাজে ঝামেলাও কম।
ক্লাবিং
বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন ধরনের ক্লাব থাকে। ভিন্ন ভিন্ন ক্লাব ভিন্ন ভিন্ন কাজ করে থাকে। শিক্ষার্থীরা নিজেদের দক্ষতা বাড়াতে এসব ক্লাবে যোগদান করতে পারেন। যেসব ক্লাবে তাদের আগ্রহ, শুধু সেসব ক্লাবেই তারা যোগদান করবেন। ক্লাবগুলো নানা সময়ে বিভিন্ন প্রোগ্রামের আয়োজন করে থাকে। এখানে দেশের বিভিন্ন স্তরের বড় বড় কর্তাব্যক্তি আসেন। তাদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ভালো যোগাযোগ স্থাপিত হয়। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে ক্লাবগুলো বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণের আয়োজন করে থাকে। তাই শিক্ষার্থীরা ক্লাবিংয়েও জড়িত হতে পারেন।
করপোরেট
অনেক করপোরেট অফিসে পড়াশোনা চলাকালেই শিক্ষার্থীদের নিয়োগ দেওয়া হয়। সেখানে তারা পার্টটাইম কাজ করে থাকেন। অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরাও করপোরেটে যোগদানের চেষ্টা করতে পারেন। এতে ভালো অভিজ্ঞতাও অর্জন করতে পারবেন, যা চাকরিজীবনে কাজে লাগে।
কলি