প্লাস্টিকের তৈরি স্ট্র ও কটনবার্ড নিষিদ্ধ করা হতে পারে, এ নিয়ে প্লাস্টিক উৎপাদনকারীরাও একমত হয়েছেন। হয়তো শিগগিরই নিষিদ্ধকরণের যাওয়া হতে পারে।
শনিবার (১৯ এপ্রিল) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ‘উন্নয়নের স্বার্থে পরিচ্ছন্ন সবুজ ক্যাম্পাস’ কর্মসূচির সনদ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ দুটি পণ্য নিষিদ্ধকরণের কথা জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
শিগগিরই পণ্য দুটি নিষিদ্ধ করা হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘প্লাটিকের স্ট্র ১০০ বছরে পৃথিবী থেকে সরবে? সরবে না তো, এটি নদীতে পড়ে ভাঙবে, ভেঙে মাছ খাবে, মাছ থেকে আপনি এবং আপনার বাচ্চারা খাবেন। ডাক্তাররা বলেন, কটনবার্ড ব্যবহার করা খুবই খারাপ। কেননা, এতে কানের ওয়েক্সিনগুলো সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে যায়। আমাদের যারা প্লাস্টিক উৎপাদনকারী, তারা এই পণ্যগুলো নিষিদ্ধকরণের ব্যাপারে একমত হয়েছেন এবং আমরা খুব দ্রুত নিষিদ্ধকরণের দিকে যাব।’
সুপারশপে পলিথিন শপিং ব্যাগ নিষিদ্ধ করতে পারলেও কাঁচাবাজারে এই পলিথিন সম্ভব হয়নি। এর পেছনে নিজেদের অভ্যাসকে দায়ী করে উপদেষ্টা বলেন, ‘আপনাকে যখন প্যাকেটটা দেওয়া হচ্ছে তখন আপনি বলছেন না, আমার ব্যাগে দিন। আরেকটা হলো, আমাদের অভ্যাস। ব্যাগে একটু রক্ত লাগলে এটি নিতে পারে না। কিন্তু বছরের পর বছর মাইক্রো প্লাস্টিকওয়ালা মাছ-মুরগি খাবেন, এটি তারা মানতেন পারেন।’
প্লাস্টিক নিষিদ্ধে সরকার এখনো কঠোর অবস্থানে যায়নি উল্লেখ করে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘প্লাস্টিক রাতারাতি বন্ধ করতে পারব না। তবে ক্রমান্বয়ে এটি অবশ্যই বন্ধ করতে পারব। ২০০২ সালে বাংলাদেশ প্রথম দেশ হিসেবে পলিথিন নিষিদ্ধের ঘোষণা দেয়। এত বছর পর আমরা সেই নিষেধাজ্ঞা শুধু সুপার শপে বাস্তবায়িত করতে পেরেছি। আমরা বুঝেছি, এটি অভ্যাসের ব্যাপার এবং আমাদের বিকল্প নিয়ে মাঠে এগোতে হবে। এখন পলিথিন শপিং ব্যাগের বিকল্প নেই, এটি মানা আমার পক্ষে সম্ভব না।’
উপদেষ্টা বলেন, পলিথিন শপিং ব্যাগের বিকল্প হিসেবে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভর্তুকি মূল্যে পাটের তৈরি ব্যাগ সরবরাহ করা হবে। এ নিয়ে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় একযোগে কাজ করবে। এ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এটি আমরা সুলভ মূল্যে সরবরাহ করব যাতে ক্রেতারা ৪০ টাকায় একটি পাটের ব্যাগ কিনতে হবে- এই চিন্তা থেকে সরে আসতে পারেন।’
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বায়ুদূষণ রোধে পাতা পোড়ানো, ময়লা একত্র করে পোড়ানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে আবর্জনা গর্ত করে মাটিচাপা দেওয়ার কথা বলেন। পাশাপাশি আমাদের হর্নমুক্ত ক্যাম্পাসও গড়ে তুলতে হবে বলে জানান তিনি। সদিচ্ছা ও সচেতনতা থাকলে এ কাজগুলো করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেন সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এই উপদেষ্টা।
ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মো. রিদওয়ানুল হকের সঞ্চালনায় এ অনুষ্ঠানে ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, নরওয়ে দূতাবাসের সচিব মিস ম্যারিওন রাহবি কোলাভেলরাদ, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ, পরিবেশ অধিদপ্তরের ডিজি ড. মো. কামরুজ্জামান, ইউনিডো বাংলাদেশের প্রতিনিধি ড. জাকি উজ জামান, প্রাণ-আরএফএলের পরিচালক চৌধুরী কামরুজ্জামান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
আরিফ জাওয়াদ/মাহফুজ