বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) ১৫১ জন শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
সোমবার (৪ আগস্ট) দুপুরে চিহ্নিত ব্যক্তিবর্গের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্ত কমিশনের শাস্তির সুপারিশের প্রেক্ষিতে এমন সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্ত কমিশনের সদস্যসচিব অধ্যাপক ড. মো. আসাদুজ্জামান সরকার বলেন, গত ১৮ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩২৮তম সিন্ডিকেট অধিবেশনে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শাস্তির সুপারিশ করেছিল তদন্ত কমিশন। সেই সুপারিশের প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয়, এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার (৪ আগস্ট) তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করে প্রশাসন। একইসাথে আশরাফুল হক হলের ঘটনার জন্য ও অভিযুক্তদের বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, শিক্ষকদের মধ্যে ৬ জনকে বরখাস্ত, ১২ জনকে অপসারণ, ৮ জনকে নিম্নপদে অবনমন ও ৩১ জনকে তিরস্কার করা হয়েছে। কর্মকর্তাদের মধ্যে ৮ জনকে বরখাস্ত, ৮ জনকে অপসারণ, ৭ জনকে তিরস্কার ও ১ জনকে ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। কর্মচারীদের মধ্যে ২ জনকে বরখাস্ত ও ১৯ জনকে তিরস্কার করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১০ জনকে আজীবন বহিষ্কার ও ৩৯ জনের সনদপত্র বাতিল করা হয়েছে।
আরও জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশগ্রহণের কারণে ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে শারীরিক, মানসিক নির্যাতন ও হয়রানি এবং খুনি ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার সমর্থনে বিগত বছরের ৪ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ‘শেখ হাসিনাতেই আস্থা’ এবং, ‘ঘরে ঘরে খবর দে, এক দফার কবর দে’ স্লোগান দিয়ে মিছিলের মাধ্যমে জুলুম, নির্যাতন ও গণহত্যার উস্কানি ও সমর্থন প্রদান করে নিরীহ ছাত্র ও শিক্ষকদের ওপর হামলা, শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট, শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ নষ্ট এবং রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার দায়ে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তির সুপারিশ করা হয়েছিল। এরই পরিপ্রেক্ষিতে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও ২০২২ সালের ২৩ ডিসেম্বর আশরাফুল হক হলে বিকেল ৫টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত চারজন শিক্ষার্থীকে ছাত্রদল ও শিবির ট্যাগ দিয়ে শারীরিক নির্যাতনের ঘটনায় আরও ২১ জনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়েছে প্রশাসন। এর মধ্যে ১৮ জন শিক্ষার্থী (১৫ জনের সনদপত্র বাতিল ও ৩ জনকে আজীবন বহিষ্কার), ২ জন শিক্ষক (একজনকে নিম্নপদে অবনমন এবং অন্যজনের পদোন্নতি, বেতন বৃদ্ধি স্থগিত) ও ১ জন কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে অপসারণের শাস্তি প্রদান করা হয়েছে। এ নিয়ে মোট ১৫১ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ. কে. ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, তদন্ত কমিটি বিভিন্ন আলোচনা, সাক্ষাৎকার, তথ্যের ভিত্তিতে শাস্তি সুপারিশ করেছে এবং সেগুলোকে যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য সিন্ডিকেট সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়। গত ১৮ মে সিন্ডিকেট সভায় এই শাস্তি প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং পরবর্তী সভায় পরিসমর্থন হয়েছে। ৩ জন শিক্ষক এর মধ্যে হাইকোর্টে রিট করেছিলেন যে তদন্ত কমিটি বৈধ নয়। সেগুলো রিট গতকাল খারিজ হয়েছে। সোমবার (৪ আগস্ট) থেকে তাদের শাস্তি সংক্রান্ত কাগজ বিলি হচ্ছে।
কামরুজ্জামান মিন্টু/মাহফুজ