রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড, দেশব্যাপী নারী-শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণসহ নারীদের প্রতি সব সহিংসতার বিচার ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদ জানিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা বাংলাদেশ ইসলামি ছাত্রী সংস্থা।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুর সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে এসব দাবি জানান সংস্থাটি।
মানববন্ধনে তারা 'ধর্ষকের কালো হাত, ভেঙে দাও গুড়িয়ে দাও', 'আমি বিচার চাই না, আপনারা বিচার করতে পারবেন না' 'জাস্টিস ফর রামিসা', 'তনু থেকে আছিয়া-রামিসা, তারপরে আর কত?' ইত্যাদিসহ বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।
এ সময় মন্নুজান হল সংসদের ভিপি সুমাইয়া জাহান বলেন, রামিসা হত্যাকাণ্ড বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। অতীতেও নারী ও শিশুদের ওপর সহিংসতার বহু ঘটনা ঘটেছে। নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। সরকার নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিভিন্ন উদ্যোগের কথা বললেও বাস্তবে অনেক নারী ও শিশু নিজেদের নিরাপদ মনে করছেন না। আমি চাই রামিসাসহ নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত সব সহিংস ঘটনার বিচার নিশ্চিত হোক এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে যেন কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়।
সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষক রুমানা আক্তার বলেন, একটি স্বাধীন রাষ্ট্রে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া খুবই উদ্বেগজনক। আজ রামিসা, কাল অন্য কোনো শিশু, এই শঙ্কা নিয়ে পরিবারগুলো থাকতে পারে না। শিশুদের জন্য নিরাপদ ও মানবিক পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হলে অনেক সময় মানুষের আগ্রহ ও গুরুত্ব কমে যায়। তাই আজ আমরা এ ঘটনার দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।
ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক ড. মুর্শেদা রহমান বলেন, এ ধরনের ঘটনা শুধু একটি পরিবারের ক্ষতি নয়, পুরো সমাজের নৈতিক সংকটের বহিঃপ্রকাশ। ধর্মীয় ও মানবিক উভয় দৃষ্টিকোণ থেকেই শিশু ও নারীর প্রতি সহিংসতা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে দ্রুত বিচার ও কার্যকর শাস্তি নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
রাকসুর মহিলা বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দা হাফসা বলেন, শিশু ও নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রকে আরও কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ না হলে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকানো কঠিন হবে। আমরা দ্রুত বিচার এবং নিরাপদ সামাজিক পরিবেশ চাই।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন, ছাত্রীসংস্থার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মী ও বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
শাকিবুল হাসান/নাঈম