রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনে ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য নানা কৌশল অবলম্বন করছেন প্রার্থীরা। প্রচারের সময় কেউ সাজছেন কৃষক, কেউ পুলিশ অফিসার, কেউ ভোটারদের স্মরণে থাকার জন্য তৈরি করছেন চমকপ্রদ ব্যালট। বিভিন্ন কার্টুন, প্রজাপতি, দৈত্য, হাতপাখার পরে এবার সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবয়বে ব্যালট তৈরি করে প্রচার চালাচ্ছেন এক প্রার্থী। রাকসুর জিএস ও সিনেট প্রার্থী সালাহউদ্দিন আম্মার এই ব্যালট তৈরি করেছেন। ‘আধিপত্যবাদবিরোধী ঐক্য পরিষদ’ প্যানেল থেকে নির্বাচন করছেন তিনি।
ব্যালটে শেখ হাসিনা একটি ব্যালট বক্স নিয়ে আছেন এবং তাতে লেখা আছে ‘ছেলেটার জন্য আজ আমি সুখে আছি, শ্বশুরবাড়িতে। সবাই ওরে ভোট দিও’। নিচে লেখা আছে, ‘সালাহউদ্দিন আম্মার (জিএস) পদপ্রার্থী, ওর ব্যালট নং ০৯।’
এ ধরনের ব্যালটের বিষয়ে সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, ‘চব্বিশের জুলাই ফ্যাসিস্ট হাসিনা পালাতে বাধ্য হয়েছে। তিনি তথাকথিত শ্বশুরবাড়িতে (ভারত) আছেন। বিষয়টিকে সমালোচনা করে আমি এমন ব্যালট বানিয়েছি। আমি এটা শিক্ষার্থীদের কাছে দিয়ে ভোট চাচ্ছি। আমার আরও কয়েক ধরনের ব্যালট বানানো আছে, তার মধ্যে এটা শিক্ষার্থীরা খুবই আনন্দের সঙ্গে গ্রহণ করছেন।’
জমে উঠেছে নির্বাচনি প্রচার
রাকসু নির্বাচনের বাকি আর মাত্র ৭ দিন। সময় ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে প্রার্থীদের ব্যস্ততা। তারা ছুটছেন ভোটারদের দোরগোড়ায়। ক্যাম্পাসের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মেস এবং বাসাতেও গিয়ে ভোট চাচ্ছেন প্রার্থীরা।
প্রচারের বিষয়ে ‘রাকসু ফর রেডিক্যাল চেঞ্জ’ প্যানেলের ভিপি পদপ্রার্থী মেহেদী হাসান মারুফ বলেন, ‘পূজার ছুটি থাকায় প্রচার তেমন ছিল না। তবে ক্যাম্পাস খোলার পর আবারও আমেজ ফিরেছে, শিক্ষার্থীদের মধ্যে বেশ উদ্দীপনা লক্ষ করা যাচ্ছে। আমরা ভোট চাইতে গেলে বিভিন্ন দাবির কথা জানাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। আমরা সেগুলো নোট করে নিচ্ছি। শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে অবস্থান করায় ক্যাম্পাসের পাশাপাশি মেসগুলোতেও যেতে হচ্ছে। সব মিলিয়ে ব্যস্ত সময় যাচ্ছে।’
স্বতন্ত্র সিনেট পদপ্রার্থী ইরফান তামিম বলেন, ‘নির্বাচনের সময় এগিয়ে আসছে ক্রমেই। তবে শঙ্কা, অনিশ্চয়তা নিয়েই ভোটারদের কাছে যাচ্ছি, তাদের প্রশ্ন, চাওয়াগুলো শুনছি এবং আমরা ইশতেহার সম্পর্কেও তাদের জানাচ্ছি। এখন পর্যন্ত ভোটারদের ভালো সাড়া পাচ্ছি। জয়ের ব্যাপারে আমি আশাবাদী।’
গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাকসু নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও ১৮ সেপ্টেম্বর শর্ত সাপেক্ষে প্রশাসন পোষ্য কোটা ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিলে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে ২০ সেপ্টেম্বর জুবেরী ভবনে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কর্মবিরতিতে যান। এতে ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক কার্যক্রম থমকে যায়। এমন পরিস্থিতিতে ২২ সেপ্টেম্বর জরুরি সভা করে নির্বাচন পিছিয়ে ১৬ অক্টোবর করার সিদ্ধান্ত নেয় নির্বাচন