পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) ছিল দক্ষিণ উপকূলীয় অঞ্চলে সংঘটিত ভূমিকম্প ও সুনামি পর্যবেক্ষণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থাপন করা হয়েছিল সিসমোগ্রাফ কেন্দ্র। কিন্তু সিসমোগ্রাফ যন্ত্রটি স্থাপনের কয়েক বছরের মধ্যে প্রযুক্তিগত ত্রুটি এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অচল হয়ে পড়ে। দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় অবস্থায় পড়ে আছে যন্ত্রটি। এতে উপকূলীয় দুর্যোগ-সতর্ক ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট গবেষণার বড় সুযোগটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে।
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালে পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের উদ্যোগে সিসমোগ্রাফটি স্থাপন করা হয়। স্থাপনের সময় বলা হয়েছিল, এটি ভূমিকম্পের প্রাথমিক তরঙ্গ শনাক্ত করতে পারবে, যা উপকূলীয় ঝুঁকি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কিন্তু প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যারের আপডেট, প্রশিক্ষিত কারিগরি জনবল এবং নিয়মিত ক্যালিব্রেশনের অভাবে যন্ত্রটি প্রথমে অনিয়মিতভাবে এবং পরে পুরোপুরি অচল হয়ে যায়। বর্তমানে যন্ত্রটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি কক্ষে ধুলাবালিতে ঢাকা পড়ে যাওয়া পুরোনো লোহার বাক্সের মতো অচল হয়ে আছে।
শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ ও হতাশা
পরিবেশবিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থীরা জানান, যন্ত্রটি সচল না থাকায় তারা গবেষণার সুযোগ হারাচ্ছেন। পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগ ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী গোলাম সরোয়ার বলেন, ‘উপকূলীয় অঞ্চলের বড় বিশ্ববিদ্যালয়ে এত গুরুত্বপূর্ণ একটি যন্ত্র ১৪ বছর ধরে অচল থাকাটা খুবই দুঃখজনক। এতে আমরা প্রয়োজনীয় গবেষণার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছি।’
পরিবেশবিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. এনামুল আমিন বলেন, ‘যন্ত্রটি স্থাপনের পর নিয়মিত ক্যালিব্রেশন, সফটওয়্যার আপডেট এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আলাদা বাজেট বরাদ্দ ছিল না। সিসমিক ডেটা বিশ্লেষণের জন্য প্রশিক্ষিত টেকনিক্যাল টিমের প্রয়োজন ছিল, যা কখনো তৈরি হয়নি। যদি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত করা যেত, সিসমোগ্রাফটি বহু বছর সক্রিয় রাখা সম্ভব ছিল।’
এ বিষয়ে পবিপ্রবির ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. কাজী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘যন্ত্রটি বহু বছর ধরে অকেজো হয়ে আছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় দেখা গেছে, এটি আর সচল করা সম্ভব নয়। আমরা নতুন একটি প্রকল্পের প্রস্তাব তৈরি করছি। এটি চূড়ান্ত হলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে।’