ক্লাস আর টিউশন শেষ করে সবে রুমে এসে বিছানায় শুয়েছি, অমনি বন্ধু ফাহিম এসে মাথায় এক বাড়ি দিয়ে জিজ্ঞেস করল–আজ কী বার?
হঠাৎ মনে পড়ল, আজ শনিবার। মানে ডাইনিংয়ে স্পেশাল মিল! পোলাও, রোস্ট, বুটের ডাল, সবজি আর ফিরনির আয়োজনে রোস্টের বড় পিসটি পাওয়ার জন্য চোখে-মুখে পানি দিয়ে ডাইনিংয়ের দিকে দৌড় দেওয়া–এটি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের নিত্য শনিবারের চেনা দৃশ্য।

বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে একজন শিক্ষার্থীর কাছে তার আবাসিক হল যেন সবচেয়ে আবেগের জায়গা এবং একটি ‘সেকেন্ড হোম’। পরিবার থেকে দূরে অচেনা শহরে একা পথচলা শুরু হলেও, ধীরে ধীরে সেই শূন্যতা ভরে ওঠে নতুন বন্ধুদের হাসিতে, করিডোরে রাত জাগা গল্পে আর এক নতুন পরিবারের উষ্ণতায়। এক্ষেত্রে ঐতিহ্যবাহী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল অন্য যেকোনো হলের জন্য একটি আদর্শ দৃষ্টান্ত।
উপমহাদেশের প্রখ্যাত রাজনীতিক হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নামে ১৯৬৯ সালে এই হলটি স্থাপিত হয়। চার তলাবিশিষ্ট হলের আবাসিক রুমগুলো ৪টি ব্লকে বিভক্ত, যেখানে মোট ১৬৮টি রুমে প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থীর আবাসন সুবিধা রয়েছে। ব্লকের মাঝে তিনতলা ভবনের নিচতলায় কমন রুম, দ্বিতীয় তলায় লাইব্রেরি ও তৃতীয় তলায় নামাজঘর অবস্থিত। হলের আবাসন ব্যবস্থা এতটাই গোছানো যে, প্রথম দিন থেকেই প্রত্যেক শিক্ষার্থী একটি করে সিঙ্গেল বেড পেয়ে যায়।

হলের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ এর সুইমিংপুল। গ্রীষ্মের ক্লান্তিকর দিন শেষে ক্লাস-পরীক্ষার সব ক্লান্তি নিমিষেই ধুয়ে যায় পুলে বন্ধুদের আড্ডায়। সাঁতার জানা বন্ধুটি যখন সাঁতার না জানা বন্ধুকে কাঁধে তুলে সাঁতার শেখায়, তখন সেই মুহূর্তগুলো বন্ধুত্বকে রূপ দেয় এক অনন্য ভ্রাতৃত্বে।
হলের আরেকটি সুপরিচিত দিক হলো এর চমৎকার ডাইনিং ব্যবস্থা। সাধারণত ডাইনিংয়ের খাবার নিয়ে শিক্ষার্থীদের মনে ক্ষোভ থাকলেও, এখানে পর্যায়ক্রমিক পদ্ধতিতে ছাত্ররা নিজেরাই ডাইনিং পরিচালনা করে। হলের প্রতিটি আবাসিক ছাত্র মাসের কোনো না কোনো দিন খাবার পরিবেশনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকে। ফলে সবাই সুস্থ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে খাবারের মান ধরে রাখতে সচেষ্ট থাকে। এ ছাড়া বিভিন্ন মৌসুমে হল প্রশাসন ও বড় ভাইদের সহযোগিতায় আয়োজিত নানা খেলাধুলা নবীনদের সঙ্গে প্রবীণদের চমৎকার মেলবন্ধন তৈরি করে। সব মিলিয়ে ৪ বছরের অনার্স জীবন শেষে হল ছাড়ার সময় শিক্ষার্থীর মন কতটা কাঁদে, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। দুরুদুরু বুকে হলে আসা তরুণটি যখন ক্যাম্পাস ছাড়ে, তখন একবুক মধুর স্মৃতি সঙ্গে নিয়েই আগামীর পথে পা বাড়ায়।
লেখক: সাবেক শিক্ষার্থী, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ
জীবনের শেষ লড়াইয়ে একা ছিলেন না নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) আইন বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের মেধাবী শিক্ষার্থী সাখাওয়াত হোসেন। দীর্ঘদিন মরণব্যাধি ক্রোনস ডিজিজ ও হিস্টোপ্লাজমোসিসের সঙ্গে লড়াই করে গত ১৮ মে রাজধানীর একটি হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার এক কৃষক পরিবারের কনিষ্ঠ সন্তান সাখাওয়াতের স্বপ্ন ছিল জজ হওয়া। সাফল্যের সঙ্গে এলএলবি (বিভাগে পঞ্চম) ও এলএলএম শেষ করার পরপরই রোগের আলামত টের পান। তার পেটে ব্যথা শুরু হয়। স্থানীয় হাসপাতাল ঘুরে পরবর্তী সময়ে ঢাকার পিজি ও ক্রিটিক্যাল কেয়ার হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। শেষ দিনগুলোয় কেবল স্যালাইনের ওপর বেঁচে থাকা সাখাওয়াতের চিকিৎসার আকাশচুম্বী খরচ বহন করা কৃষিজীবী পরিবারের পক্ষে অসম্ভব ছিল।
এই সংকটে পাশে দাঁড়ান তার সহপাঠীরা। ‘হেল্প ফর সাখাওয়াত’ উদ্যোগের মাধ্যমে অফলাইন ও অনলাইনে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় মাত্র ১৬ দিনে ৪,৯৫,৯৬৮ টাকা সংগৃহীত হয়। সেখান থেকে চিকিৎসায় ২,৭৯,০১৫ টাকা খরচ হলেও শেষ পর্যন্ত সাখাওয়াতকে বাঁচানো যায়নি। অবশিষ্ট ২,১৬,৯৫৩ টাকা তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
সহপাঠী আবু সুফিয়ান ও ইলমা সালসাবিল নাফিসার স্মৃতিচারণায় উঠে আসে সাখাওয়াতের সহজ-সরল, শান্ত ও বিনয়ী স্বভাবের কথা। বার কাউন্সিল পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া স্বপ্নবাজ এই ছেলেটি অসুস্থ হয়ে শেষ সময়ে ইশারায় আইসিইউ থেকে বাড়ি ফেরার আকুতি জানিয়েছিল। সাখাওয়াত আজ আর এই পৃথিবীতে নেই, কিন্তু তার জন্য সহপাঠীদের এই অনন্য মানবিক প্রয়াস ও ভালোবাসা নোবিপ্রবি ক্যাম্পাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
লেখক: শিক্ষার্থী, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী
ঈদে বাড়ি ফেরার পথে টিকিটের সংকট, অতিরিক্ত ভাড়া ও ভোগান্তি এড়াতে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) প্রশাসন শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ বাসসেবার উদ্যোগ নিয়েছিল।
ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন ছুটি উপলক্ষে পরিবহন পুলের পাঁচটি বাস ঢাকা, বগুড়া, নাটোর, কুড়িগ্রাম ও পঞ্চগড় রুটে ক্যাম্পাস থেকে ছেড়ে যায়। অনলাইনে আগে নিবন্ধনকারীদের অগ্রাধিকার দিয়ে এই সেবার আওতায় আনা হয়।
গণপরিবহনের ভোগান্তি ছাড়া নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের রিফা লুবানা রানিয়া ও ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের কাজী সিয়াম হোসাইন। রসায়ন বিভাগের বাপ্পি আহমেদসহ দূরবর্তী এলাকার শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে বরিশালসহ দেশের সব বিভাগীয় শহরে এই সেবা সম্প্রসারিত হোক।
পরিবহন পুলের পরিচালক মাসুদ রানা বলেন, সীমিত সম্পদের মধ্যেও শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে সাতটির মধ্যে পাঁচটি বাস যুক্ত করা হয়েছে।
উপাচার্য ড. মো. শওকাত আলী জানান, শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের কষ্ট কমাতে প্রশাসন সব সময় আন্তরিক এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের জনবান্ধব উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭ দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, রাজস্ব ঘাটতি, বৈদেশিক চাপ ও সীমিত কর্মসংস্থানের প্রেক্ষাপটে প্রস্তাবিত এ বাজেট নিঃসন্দেহে চ্যালেঞ্জপূর্ণ। এর সাফল্য নির্ভর করবে কার্যকর বাস্তবায়ন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ওপর। নতুন সরকারের প্রথম বাজেট ঘিরে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা তুলে ধরেছেন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুর রাব্বি হাসান ওয়ালিদ
মো. রবিউস সানি জোহা
এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড জিওগ্রাফি বিভাগ
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার বাজেটে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে সম্ভাব্য ২ লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি পূরণে ঋণের ওপর নির্ভর করতে হবে। বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা, মূল্যস্ফীতি ও রাজস্ব আদায়ের চ্যালেঞ্জের মুখে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সুশাসনকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় অর্থনীতিবিদরা এটিকে সতর্ক ও বাস্তবসম্মত বলছেন। বাজেটটিতে কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দেওয়া হলেও এর প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে কার্যকর বাস্তবায়ন ও প্রশাসনিক জটিলতা দূর করার ওপর। পরিশেষে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং টেকসই অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার নিশ্চিত করাই হবে এই বাজেটের মূল চ্যালেঞ্জ।
মো. রুহুল আমিন
ব্যবস্থাপনা বিভাগ
জাতীয় বাজেট সর্বজনীন ও জনকল্যাণমুখী হওয়া উচিত, যা উচ্চবিত্তের সুবিধা না বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করবে। বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় নিত্যপণ্যের দাম সহনশীল রাখা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। রাজস্ব বাড়াতে বিলাসবহুল পণ্যে কর বৃদ্ধি করা গেলেও, মধ্যবিত্তের বাহন মোটরসাইকেলের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপ অযৌক্তিক। হামের মতো রোগের বিস্তার ঠেকাতে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও গবেষণা খাতে বরাদ্দ বাড়ানো জরুরি। পাশাপাশি ধর্ষণ, সহিংসতা ও বিচারহীনতা রোধে সুশাসন নিশ্চত এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। তরুণদের দক্ষ করতে কারিগরি শিক্ষা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়ে একটি দূরদর্শী ও জনবান্ধব বাজেট প্রণয়নই এখন সময়ের দাবি।
আফিয়া আলম
সমাজকল্যাণ বিভাগ
জাতীয় বাজেট জনগণের সার্বিক কল্যাণের জন্য হলেও এর সুফল সর্বত্র দেখা যায় না। বাজেট মূলত কেন্দ্রভিত্তিক হওয়ায় তৃণমূল পর্যায়ে পর্যাপ্ত বরাদ্দ মেলে না। ফলে স্থানীয় মানুষ ন্যায্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়। জেলা ও উপজেলাগুলোয় মাঠ প্রশাসনের সীমিত অংশগ্রহণের কারণে অনেক প্রকল্প শুধু কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকে, বাস্তবে তার প্রয়োগ ঘটে না। নির্দিষ্ট কিছু মানুষের সুবিধা পাওয়ার এই দুর্বিষহ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য বাজেটের একপাক্ষিক কেন্দ্রীয় প্রবণতা দূর করা জরুরি।
দেশের সর্বাঙ্গীণ ও সামগ্রিক উন্নতির লক্ষ্যে সর্বক্ষেত্রে পরিমিত বাজেট বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে।
অন্যথায় সর্বস্তরের জনগণ বাজেট সুবিধা থেকে বঞ্চিতই থেকে যাবে।
মোছা. আহসানা হাবিবা অরনা
পরিসংখ্যান ও উপাত্ত বিজ্ঞান বিভাগ
একটি দেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা আগামী এক বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব বা জাতীয় বাজেটের ওপর নির্ভরশীল। তবে বাজেটের মেরুদণ্ড রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অধিকাংশ অর্থবছরেই পূরণ হয় না, যা বাজেট ঘাটতি তৈরি করে। রাজস্ব বিভাগের দুর্নীতি, স্বচ্ছতার অভাব ও আধুনিকায়নের ঘাটতি এর প্রধান কারণ।
এ ছাড়া উচ্চ কর-হারের কারণে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর রাজস্ব ফাঁকির প্রবণতা বাড়ে, যা অর্থনৈতিক বৈষম্য তৈরি করে। এই সংকট কাটাতে করের হার কিছুটা কমিয়ে যুগোপযোগী ও নৈতিক উপায়ে রাজস্ব আদায় করা প্রয়োজন।
তাই বাজেট ঘাটতি নিরসনে রাজস্বনীতির পরিবর্তন ও আধুনিকায়নে সরকারের নজরদারি বাড়ানো উচিত।
সাবিকুন নাহার অন্তি
ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগ
বাংলাদেশের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। সরকারের আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য রক্ষায় অবাস্তব লক্ষ্যমাত্রা না বাড়িয়ে, করের আওতা সম্প্রসারণ ও দক্ষতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। অন্যদিকে, অপচয় কমিয়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, জ্বালানি ও কর্মসংস্থানে বরাদ্দ বাড়ানো এবং অতিরিক্ত ঋণনির্ভরতা কমানো জরুরি। তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন, উদ্যোক্তা সহায়তা এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে সহায়তা পৌঁছানো নিশ্চিত করতে হবে। সর্বোপরি, কাগজে-কলমে উচ্চাভিলাষী না হয়ে বাজেটটি যেন বাস্তবায়নযোগ্য, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সক্ষম এবং দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
চাঁদপুর জেলার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের সংগঠনের উদ্যোগে গবেষণাভিত্তিক ফিকশন গ্রন্থ ‘টেইল অব হিলসা অ্যান্ড আ বয়’–এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে।
শনিবার (৬ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টায় ইলিশের শহরখ্যাত চাঁদপুরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বইটির আনুষ্ঠানিক প্রকাশনা করা হয়।
মেঘনা নদী, ইলিশ এবং মেঘনা অববাহিকার জীবন-জীবিকা, সংস্কৃতি ও নদীমাতৃক ঐতিহ্যকে কেন্দ্র করে গ্রন্থটি রচনা করেছেন গবেষক ও কবি মো. হাবিবুর রহমান। গবেষণাভিত্তিক এ ফিকশন গ্রন্থে সাহিত্যিক আঙ্গিকে নদী, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য-সংশ্লিষ্ট নানা বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।
বইটিতে জলবায়ু পরিবর্তন, নদীভাঙন, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, স্থানীয় ঐতিহ্য, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং মেঘনা অববাহিকার সামাজিক-অর্থনৈতিক বাস্তবতার বিভিন্ন দিক স্থান পেয়েছে। আয়োজকদের মতে, গ্রন্থটি শিক্ষার্থী, গবেষক ও তরুণ প্রজন্মকে নদীকেন্দ্রিক জীবন ও পরিবেশগত সংকট সম্পর্কে সচেতন করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
গ্রন্থটির লেখক মো. হাবিবুর রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী, গবেষক ও কবি। এর আগে তার কাব্যগ্রন্থ ‘মেঘবালিকার লোচনে জলতরঙ্গ’ একুশে বইমেলা ২০২৫-এ প্রকাশিত হয়।
মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে লেখক বলেন, বইটি তরুণ প্রজন্মের জন্য একটি গবেষণাধর্মী ও নীতিনির্ধারণ-সহায়ক সংকলন হিসেবে কাজ করবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, মেঘনা নদী ও ইলিশকেন্দ্রিক ঐতিহ্য, পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ এবং সম্ভাবনা সম্পর্কে পাঠকদের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি দিতে সক্ষম হবে গ্রন্থটি।
তিনি আরও জানান, প্রকাশের পর থেকেই বইটি দেশি-বিদেশি গবেষক, শিক্ষাবিদ ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে আগ্রহের সৃষ্টি করেছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে এর সৌজন্য কপি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে আয়োজক কমিটির সদস্য, পাঠক, স্থানীয় শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
আজম হোসেন/তামান্না রুপা/