জুলাই অভ্যুত্থানের পর শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের জোরপূর্বক আবাসিক হল থেকে বের করে দেওয়ায় জড়িতদের তদন্ত সাপেক্ষে শাস্তির দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রদল।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাজেদুল করিম বরাবর একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন শাবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি রাহাত জামান, সিনিয়র সহ-সভাপতি সোহাগ মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক নাঈম সরকারসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা।
স্মারকলিপিতে নেতাকর্মীরা জানান, ২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলসমূহে অবস্থানরত সচেতন শিক্ষার্থীদের কোনো উসকানি ছাড়াই অযৌক্তিকভাবে কতিপয় দুষ্কৃতকারী শিক্ষার্থী এবং ইসলামী ছাত্রশিবির, শাবিপ্রবি শাখার কিছু সহযোগী মিলে জোরপূর্বক হল ত্যাগে বাধ্য করে। এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ও উদ্বেগজনক ঘটনা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, স্বাভাবিক শিক্ষাব্যবস্থা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সুষ্ঠু পরিবেশের ওপর মারাত্মক হুমকি।
ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনের লক্ষ্যে একটি নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত কমিটি গঠন করা এবং ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট ছাত্র নামধারী কুচক্রীদের শনাক্ত করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ছাত্রদলের সভাপতি রাহাত জামান বলেন, দীর্ঘ প্রায় দুই বছর অতিবাহিত হলেও হল থেকে শিক্ষার্থীদের বের করে দেওয়ার মতো গুরুতর ঘটনার কোনো দৃশ্যমান তদন্ত না নেওয়া অত্যন্ত হতাশাজনক। একটি বিশ্ববিদ্যালয় শুধু শিক্ষা গ্রহণের স্থান নয়, এটি ন্যায়বিচার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তারও প্রতীক।
ছাত্রদলের পক্ষ থেকে ছাত্রশিবিরের সংশ্লিষ্টতার যে অভিযোগ আনা হয়েছে এ ব্যাপারে শাবিপ্রবি শিবিরের সভাপতি মাসুদ রানা তুহিন বলেন, এটা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রনোদিত এবং ছাত্রশিবিরের নামে মিথ্যাচার। ছাত্রশিবির কখনোই হল দখল, গেস্টরুম কালচারে অভ্যস্ত না। এগুলো আমাদের আদর্শে নেই।
এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাজেদুল করিম বলেন, 'হল থেকে শিক্ষার্থীদের বের করার ঘটনায় জড়িতদের বিচার চেয়ে ছাত্রদল স্মারকলিপি দিয়েছে। এ ব্যাপারে ভিসি মহোদয় আসলে অবগত করব।
উল্লেখ্য, ২০২৪-এর ২৬ আগস্ট শাবিপ্রবির আবাসিক হলে ছাত্রলীগের দোসর রয়েছে এমন অভিযোগ এনে হল ছাড়তে দফায় দফায় আলটিমেটাম দেন স্থানীয় এলাকাবাসী। পরবর্তীতে এলাকাবাসীর তোপের মুখে আবাসিক হল ছাড়তে বাধ্য হন শিক্ষার্থীরা। ঐ সময় প্রশাসনিক শূন্যতায় কোনো প্রদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে প্রশাসন নিয়োগ হলে শিক্ষার্থীদেরকে নতুন করে মেধা ও আর্থিক সংকট বিবেচনায় হলে সিট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।
মো: ইসফাক আলী/এসএন