ঢাকা ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
রোকনপুর সীমান্তে নদীপথে পুশইনের চেষ্টা, রুখে দিল বিজিবি মানামায় বাংলাদেশ দূতাবাসে গণশুনানি অনুষ্ঠিত গণমুখী বাজেট উপস্থাপনের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ফিনল্যান্ড বিএনপির অভিনন্দন রাঙ্গুনিয়ায় বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভ্যানগাড়ি ও নগদ অর্থ বিতরণ সাম্বার ছন্দে থেমে যাবে আটলাসের গর্জন? লাইসেন্স বাতিলে আদ্-দ্বীন ছাড়ছেন রোগীরা রাজশাহী ফুটবলপ্রেমীদের রঙিন শোভাযাত্রা ওয়ান্ডারল্যান্ড পার্কে ‘জলপরী’ প্রদর্শনী নিয়ে বিতর্ক চা শ্রমিকের সন্তানদের মধ্যে স্যানিটারি ন্যাপকিন ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ চট্টগ্রামে সরকারি খামারে প্রাণীর খাদ্য সরবরাহ বিশেষ চক্রের কাছে জিম্মি রাষ্ট্রীয় ব্যয় ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে ইন্দোনেশিয়ায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সেপটিক ট্যাঙ্ক থেকে অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার গৌরীপুর ও মুক্তাগাছায় পানির প্রকল্প: ২ বছরে অগ্রগতি মাত্র ২০ শতাংশ রাশিয়ার দখলকৃত ভূখণ্ড পুনরুদ্ধারের দাবি ইউক্রেনের সাম্বার অপেক্ষায় বিশ্ব অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ডস আমন্ত্রণে শিক্ষা ও গবেষণা সম্প্রসারণে ১৪ দিনের সফরে বেরোবি উপাচার্য জাকসু ভিপি ও জিএস: ছাত্রত্ব শেষে পদে বহাল থাকা নিয়ে বিতর্ক রমনার বন আসরা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি ১৪ জুন ১৩ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ১৩ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল অর্থবিল বিশ্লেষণ: পার পাচ্ছেন সম্পদশালীরা হাকিমি: আফ্রিকার আশা, মরক্কোর প্রাণ ভিনিসিয়ুস: এবার হলুদ জার্সিতে প্রমাণের পালা প্রেরণার নাম ম্যাকগিন মৃত্যুকূপে দাঁড়িয়ে ফিরে আসার রোমাঞ্চ হাইতির স্বপ্নসারথি ইসিদোর অবসর ভাবনায় কর্তোয়া ড্র দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু কানাডার কাতারের সামনে সুইজারল্যান্ড চ্যালেঞ্জ
Nagad desktop

ইউনিফর্মেও কমিশন খান যশোর পিটিআইয়ের আতিয়ার

প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৪, ০৯:২৮ এএম
আপডেট: ১৪ আগস্ট ২০২৪, ০২:০৫ পিএম
ইউনিফর্মেও কমিশন খান যশোর পিটিআইয়ের আতিয়ার
যশোর প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের সুপারিনটেনডেন্ট আতিয়ার রহমানকে অপসারণের দাবিতে প্রশিক্ষণার্থীদের মানববন্ধন (বাঁয়ে)। বিক্ষোভ বাড়তে থাকায় ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলছেন আন্দোলনকারীরা (ডানে)। ইনসেটে সুপারিনটেনডেন্ট আতিয়ার রহমান।

যশোর পিটিআইর চলমান ব্যাচের ১৫০ প্রশিক্ষণার্থীর মাসিক ভাতা থেকে ২০০ টাকা করে কেটে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। খোদ সুপারিনটেনডেন্ট আতিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে উঠেছে এ অভিযোগ। ‘এজি অফিস ম্যানেজ’ করার নামে এই টাকা কেটে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রশিক্ষার্থীদের প্রাতিষ্ঠানিক পোশাক (ইউনিফর্ম) নির্দিষ্ট দোকান থেকে কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে। ওই দোকান থেকে সুপারিনটেনডেন্ট বড় অঙ্কের কমিশন নিচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এসব অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে আতিয়ার রহমানের অপসারণ দাবিতে গত সোমবার প্রশিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন। পিটিআই ক্যাম্পাসে দুপুর ১২টার দিকে এ কর্মসূচি পালিত হয়। এর আগে রবিবার বেলা ১১টা থেকে প্রশিক্ষণার্থীরা অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস বর্জন শুরু করেন। তারা জানিয়েছেন, যতদিন এই দুর্নীতিবাজ সুপারিনটেনডেন্ট দায়িত্বপালন করবেন, ততদিন তারা আর ক্লাসে ফিরবেন না।

সোমবার যশোর প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (পিটিআই) ক্যাম্পাসে গিয়ে দেখা গেছে, প্রশিক্ষণার্থীরা ক্লাস বর্জন করে শ্রেণিকক্ষের বাইরে অবস্থান করছেন। ক্লাস বর্জনের খবর পেয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তাদের বক্তব্য শুনতে পিটিআই ক্যাম্পাসে যান। সেখান থেকে তিনি সবাইকে ক্লাসরুমে যেতে বলেন। আশ্বাস দেন, ‘বিষয়টি তিনি দেখবেন’। কিন্তু আন্দোলন শুরুর দ্বিতীয় দিনেও নিষ্ক্রিয় থাকায় তাকে প্রশিক্ষণার্থীদের তোপের মুখে পড়ে পিটিআই ক্যাম্পাস ছাড়তে হয়। একই সঙ্গে তিনি লিখিত অভিযোগ দেওয়ার জন্য সবাইকে বলে আসেন।

২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের প্রশিক্ষার্থী আবু জাফর গিফারি বলেন, ‘সুপারিনটেনডেন্ট আতিয়ার রহমান যতদিন দায়িত্ব পালন করবেন, ততদিন আমরা কিছু শিখতে চাই না। তিনি দুনীর্তিগ্রস্ত। আমরা তো মানুষ গড়ার কারিগর। আমরা শিক্ষকরা এখানে এসেছি প্রশিক্ষণ নিতে। সেই কারিগররা দুর্নীতিবাজদের কাছে এসে কী শিখব। তার কাছ থেকে দুর্নীতি ছাড়া অন্য কিছু শিখতে পারব না। তাই তার অপসারণ চাচ্ছি।’ তিনি বলেন, ‘ক্লাস বর্জনের খবরে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এসেছিলেন। তিনি আমাদের আশ্বস্ত করেছিলেন সোমবার সুপারিনটেনডেন্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন। তিনি আজও (সোমবার) এসে কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানাননি। ফলে আমাদের কর্মসূচি চলবে।’ 

প্রশিক্ষণার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পেশাগত মানোন্নয়নের জন্য ১০ মাসের প্রশিক্ষণ কোর্স চলমান রয়েছে। এই কোর্সের জন্য ছয় মাস আবাসিক ও চার মাস অনাবাসিক প্রশিক্ষণ গ্রহণের নিয়ম রয়েছে। প্রতি ব্যাচে ১৫০ জন করে প্রশিক্ষণ নেন। শুরুতে প্রাতিষ্ঠানিক পোশাকের মধ্যে নারীদের শাড়ি ও পুরুষদের শার্ট-প্যান্ট এবং সকালে প্যারেডের জন্য নারী-পুরুষ উভয়কেই জুতা, টি-শার্ট, ট্রাউজার কিনতে হয়।
 এসব পোশাক কেনার জন্য সরকার জনপ্রতি দুই হাজার টাকা দিলেও তাদের পাঁচ হাজারের বেশি টাকা খরচ করতে হয়।

প্রশিক্ষণার্থীদের অভিযোগ, ওই পোশাকের দাম যাচাই করে নিজেদের ইচ্ছে মতো দোকান থেকে কেনার সুযোগ নেই। পিটিআই সুপারিনটেনডেন্ট আতিয়ার নিজের পছন্দের ব্যক্তি ও দোকান থেকে এসব পোশাক কিনতে বাধ্য করেন। এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান থেকে পিটিআই সুপার কমিশন নেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, যশোর কালেক্টরেট মার্কেটের বলাকা টেইলার্স থেকে পুরুষদের শার্ট-প্যান্ট ও নারীদের শাড়ি নিতে বাধ্য করা হয়। এই প্রতিষ্ঠান থেকে পুরুষদের শার্ট ও প্যান্টপ্রতি ১০০ টাকা করে কমিশন নেন অতিয়ার। এ ছাড়া নারী ও পুরুষদের অন্য পোশাকের ক্ষেত্রে ৩০০ টাকা করে কমিশন তোলেন তিনি।

কমিশনের টাকা দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বলাকা টেইলার্সের স্বত্বাধিকারী এনামুল কবির খবরের কাগজকে বলেন, ‘মিষ্টি খাওয়ার জন্য পুরুষদের শার্ট-প্যান্টপ্রতি পিটিআই সুপারিনটেনডেন্ট আতিয়ার রহমানকে ১০০ টাকা করে দিতে হয়।’ পাঁচ বছর ধরে তিনি পিটিআই প্রশিক্ষার্থীদের পোশাক তৈরি করে দিচ্ছেন বলে জানান।
 
সুপারিনটেনডেন্ট আতিয়ার রহমান যশোর পিটিআইতে চার বছর ধরে দায়িত্ব পালন করছেন। এই ইস্যুতে জানতে চাইলে সুপার আতিয়ার বলেন, ‘কাপড়ের রঙের ভিন্নতা এড়াতে একটি দোকান থেকে সবাইকে কিনতে বলা হয়েছে। কমিশনের অভিযোগ সত্য নয়।’ 

‘এজি অফিস ম্যানেজ’-এর নামে ২০০ টাকা কর্তন
প্রশিক্ষার্থীরা মাসিক তিন হাজার টাকা করে সরকারি ভাতা পান। চলতি মাসের টাকা পরের মাসে দেওয়া হয়। কিন্তু জেলা অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফাইন্যান্স অফিস (এজি অফিস) ম্যানেজ করার কথা বলে প্রত্যেক প্রশিক্ষাণার্থীর কাছ থেকে ২০০ টাকা করে কেটে নেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সুপারিনটেনডেন্ট আতিয়ার সাংবাদিকদের বলেন, ‘ঘুষের টাকা না দিলে এজি অফিস কোনো বিল পাস করে না। ২০০ টাকা করে প্রশিক্ষণার্থীদের কাছ থেকে নিয়ে এজি অফিসে ঘুষ দিতে হয়।’ অভিযোগের বিষয়ে জেলা অ্যাকাউন্স অ্যান্ড ফাইন্যান্স কর্মকর্তা মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ ঠিক না। বিল আনলে পাস করে দিই।’

সংস্থাপন চার্জ নিয়ে আপত্তি
আবাসিক হলে থাকার জন্য প্রত্যেক প্রশিক্ষণার্থীর কাছ থেকে মাসে ৫০০ টাকা করে সংস্থাপন চার্জ নেওয়া হয়। আবাসিক হলে না থাকলেও এই চার্জ দিতে হয়। ব্যাচপ্রতি মাসে ৭৫ হাজার টাকা করে ওঠে। দুটি আবাসিক হলের আয়ার বেতন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য এই টাকা তোলা হয়। অথচ এই টাকা গ্রহণের কোনো রশিদ দেওয়া হয় না। প্রশিক্ষার্থীরা বলেন, সংস্থাপন চার্জ নেওয়ার বিষয়ে কোনো প্রজ্ঞাপন আছে কি না তা আমাদের জানা নেই। রশিদ ছাড়াই প্রতি মাসে ৫০০ টাকা করে এই চার্জ নেওয়া হয়। প্রতি মাসে ৭৫ হাজার টাকা ওঠে। যা খরচ হওয়ার কথা না। আবাসিক হলের স্থায়ী অবকাঠামো উন্নয়নেও এই টাকা খরচ করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে সুপারিনটেনডেন্ট আতিয়ার রহমান বলেন, ‘সংস্থাপন চার্জের টাকা প্রশিক্ষণার্থীরা তোলেন। আবার তাদের মাধ্যমেই খরচ হয়। হোস্টেল সুপাররা বিষয়টি দেখেন। এখানে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।’

জেলা প্রশাসক আবরাউল হাছান মজুমদার বলেন, ‘বিষয়টি শুনে আমি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে সেখানে পাঠিয়েছিলাম। তিনি বিষয়টা দেখছেন।’ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল আলম বলেন, ‘আমি পিটিআই ক্যাম্পাসে গিয়ে প্রশিক্ষণার্থীদের অভিযোগগুলো শুনেছি। তাদের লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে শিক্ষা সচিব ও অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে পাঠিয়ে দিব।’

রোকনপুর সীমান্তে নদীপথে পুশইনের চেষ্টা, রুখে দিল বিজিবি

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৯:২৩ এএম
রোকনপুর সীমান্তে নদীপথে পুশইনের চেষ্টা, রুখে দিল বিজিবি
ছবি: খবরের কাগজ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রোকনপুর সীমান্ত দিয়ে নদীপথে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কঠোর প্রতিরোধের মুখে বিএসএফের এই অবৈধ চেষ্টা ব্যর্থ হয়।

শুক্রবার (১২ জুন) মধ্যরাতে রোকনপুর সীমান্তের শূন্যরেখায় এ ঘটনা ঘটে। মোট ১৫ জনকে পুশইনের চেষ্টা করা হয়। সেখানে দুইজন পুরুষ, আটজন নারী এবং পাঁচটি শিশু ছিলেন।

বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাত ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে রোকনপুর বিওপির সীমান্ত পিলার ২২০/এমপি-এর কাছে ভারতের ৮৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের কোটালপুর ক্যাম্পের সদস্যরা ওই ১৫ জনকে একটি নৌকায় করে নদীপথে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করে।

বিজিবি সদস্যরা দ্রুত সেখানে অবস্থান নেন এবং অনুপ্রবেশে বাধা দেন। বিজিবির তীব্র বাধার মুখে অনুপ্রবেশকারীরা ভারতের সীমান্তেই শূন্যরেখায় দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য হয়। পরে রাত ২টা ৪০ মিনিটের দিকে বিএসএফ সদস্যরা ওই ১৫ জনকে সীমান্ত-সংলগ্ন ভবানীপুর এলাকা দিয়ে পুনরায় ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।

নওগাঁ ১৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। 

তিনি জানান, বিএসএফের পুশইনের চেষ্টা বিজিবির সতর্ক অবস্থানের কারণে সফল হয়নি। বর্তমানে ওই সীমান্ত এলাকায় বিজিবির কড়া নজরদারি ও টহল অব্যাহত রয়েছে।

আসাদুল্লাহ/আমান

রাঙ্গুনিয়ায় বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভ্যানগাড়ি ও নগদ অর্থ বিতরণ

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৯:০০ এএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ০৯:১১ এএম
রাঙ্গুনিয়ায় বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভ্যানগাড়ি ও নগদ অর্থ বিতরণ
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে বিকল্প কর্মসংস্থান কর্মসূচির আওতায় সুবিধাবঞ্চিতদের মাঝে সবজিসহ ভ্যানগাড়ি ও নগদ টাকা বিতরণ করা হয়েছে।

শুক্রবার (১২ জুন) বিকালে উপজেলায় এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তিনজন উপকারভোগীর হাতে সবজিসহ ভ্যানগাড়ি তুলে দেওয়া হয়। +

পাশাপাশি বাংলাদেশ জাতীয় সমাজ কল্যাণ পরিষদের অর্থায়নে আরও চারজন উপকারভোগীকে নগদ টাকা দেওয়া হয়।

উপকারভোগীদের মাঝে এসব সুবিধা তুলে দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কামরুল হাসান।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মুহাম্মদ হাসান। এছাড়া সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরীর প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউছুপ চৌধুরী ও ইউছুপ কামাল তালুকদার।

ভ্যানগাড়ি পেয়ে এক উপকারভোগী আব্দুল আলিম বলেন, ভ্যানগাড়ি পেয়ে আমার খুব উপকার হয়েছে। আমার পাঁচজনের সংসারে আমি একাই উপার্জনকারী। আমি উপজেলা সমাজসেবা অফিস ও এমপিকে ধন্যবাদ জানাই। এখন থেকে ভ্যান চালিয়ে আয় রোজগার করব। 

বিকল্প কর্মসংস্থান কর্মসূচির মাধ্যমে সরকার সুবিধাবঞ্চিত ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে স্বনির্ভর করে তুলতে নিয়মিত এ ধরনের সহায়তা দিয়ে আসছে।

তৈয়্যবুল ইসলাম/খাদিজা রুমি/

রাজশাহী ফুটবলপ্রেমীদের রঙিন শোভাযাত্রা

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৮:৫৮ এএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ০৯:০২ এএম
রাজশাহী ফুটবলপ্রেমীদের রঙিন শোভাযাত্রা
র‌্যালিতে অংশ নেওয়া বিভিন্ন দলের সমর্থকরা। ছবি: খবরের কাগজ

বিশ্বকাপ ফুটবলের উত্তাপ যখন বিশ্বের কোটি কোটি সমর্থকের হৃদয়ে ছড়িয়ে পড়েছে, তখন সেই উন্মাদনার রঙ লেগেছে রাজশাহীর রাজপথেও।

শুক্রবার (১২ জুন) প্রিয় দলের পতাকা, জার্সি আর শতাধিক মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারের বহরে নগরীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ফুটবলপ্রেমীদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা।

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ উপলক্ষে রাজশাহীর ফুটবলপ্রেমীদের সংগঠন ‌‌ফুটবল ফ্যানস অব রাজশাহীর উদ্যোগে আয়োজন করা হয় ‘ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ গ্র্যান্ড র‍্যালি’। বিকেলে হযরত শাহ মখদুম কেন্দ্রীয় ঈদগাহ সংলগ্ন মোড় থেকে শুরু হওয়া র‍্যালিটি নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

এতে অংশ নেন বিভিন্ন দলের সমর্থক, ক্রীড়াপ্রেমী, তরুণ-যুবক ও সাধারণ মানুষ।

র‍্যালিতে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, জার্মানি, স্পেন, পর্তুগালসহ বিভিন্ন দেশের জাতীয় পতাকার সমারোহ দেখা যায়। কেউ প্রিয় দলের জার্সি পরে, কেউ মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার সাজিয়ে অংশ নেন এ আয়োজনে।

বিশ্বকাপের থিম সং, সমর্থকদের স্লোগান আর উচ্ছ্বসিত অংশগ্রহণে পুরো নগরী যেন রূপ নেয় এক ক্ষুদ্র ফুটবল কার্নিভালে।

আয়োজকরা জানান, ফুটবল কেবল একটি খেলা নয়, এটি মানুষে মানুষে সম্প্রীতি ও বন্ধনেরও মাধ্যম। ভিন্ন দেশের সমর্থক হলেও খেলাটির প্রতি ভালোবাসা সবাইকে একই প্ল্যাটফর্মে নিয়ে এসেছে।

র‍্যালিতে অংশ নেওয়া ফুটবলপ্রেমী জুবায়ের রশীদ বলেন, 'রাজশাহীতে ফুটবলপ্রেমীদের এমন মিলনমেলা সত্যিই আনন্দের। আমরা ভিন্ন ভিন্ন দলের সমর্থক হলেও আমাদের পরিচয় একটাই, আমরা ফুটবলপ্রেমী। বিশ্বকাপকে ঘিরে এমন আয়োজন তরুণদের খেলাধুলার প্রতি আরও আগ্রহী করে তুলবে।'

র‍্যালি চলাকালে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়। সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে অনেকে রঙিন পতাকা ও সুসজ্জিত যানবাহনের বহর উপভোগ করেন তারা। কেউ ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন, আবার কেউ হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান অংশগ্রহণকারীদের। এতে পুরো নগর জুড়ে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর ও প্রাণবন্ত পরিবেশ।

আমান/

ওয়ান্ডারল্যান্ড পার্কে ‘জলপরী’ প্রদর্শনী নিয়ে বিতর্ক

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৮:৫৭ এএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ০৯:০৮ এএম
ওয়ান্ডারল্যান্ড পার্কে ‘জলপরী’ প্রদর্শনী নিয়ে বিতর্ক
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ ওয়ান্ডারল্যান্ড পার্কে  পাহাড়ি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর দুজনকে জলপরী সেজে প্রদর্শনীর ঘটনা ঘটেছে। এতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালেচনার ঝড় উঠেছে। তবে পার্ক কর্তৃপক্ষ বলছে, ঈদুল আজহার ১০ দিন পর তারা চলে গেছে। এখন সেই প্রদর্শনী নেই।

জানা গেছে, চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ এলাকার ওয়ান্ডারল্যান্ড পার্ক বিনোদনকেন্দ্রে ‘জলপরী’ নামে প্রদর্শন করে পার্ক কর্তৃপক্ষ। সেখানে দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করতে ‘জলপরী’ নাম ব্যবহার করা হলেও বাস্তবে বিশেষ পোশাক পরে দুই পাহাড়ি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর নারীকে পানিতে প্রদর্শন করানো হয়। পরে এই প্রদর্শনীর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।  

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন পোস্টে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই দাবি করেছে, এই আয়োজন দর্শকদের কাছে বিভ্রান্তিকর বার্তা দিচ্ছে। এতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মর্যাদা ও উপস্থাপন পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। এই প্রদর্শনীটাই অনৈতিক। তবে কেউ কেউ এটিকে আবার বিনোদনের অংশ হিসেবে দেখার পক্ষে মত দিয়েছেন। 

পার্কে ঘুরতে আসা আগ্রাবাদের এক সরকারি কর্মকর্তা কামাল হোসেন বলেন, ‘বিকেলে আগ্রাবাদের একটা অফিসে গিয়েছিলাম। সেখানকার এক কর্তা আমাকে ফিসফিস করে বললেন, ও বদ্দা ‘জলপরী’ চাইতা যাইবা না? (ও ভাই, জলপরি দেখতে যাবেন না?)। দেখতে গিয়ে হতাশ হলাম। দুইটা চাকমা মেয়েকে মাছের মতো কাপড় পরিয়ে বাতাসভর্তি টিউব ধরিয়ে পানিতে ছেড়ে দিয়েছে। মানুষের ভিড়ে গমগম অবস্থা। একটা পিচ্চি বায়না ধরেছে সে জলপরীদের চিপস খাওয়াবে। আরেক শিশু আবার পানিতে নামতে চায়।’ 

চট্টগ্রাম বারের সিনিয়র আইনজীবী আহমদ কবীর করিম বলেন, ‘মানুষকে প্রদর্শন করে টাকা রোজগার করা অন্যায়। এটা খুবই অমানবিক কাজ। মানবতার দৃষ্টিকোণ থেকে এটা অপরাধ। কেউ চাইলে এ বিষয় নিয়ে মামলা দায়ের করতে পারেন। তখন সাজা হবে ওই কর্তৃপক্ষের।’ 

আরও জানা যায়, চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ ওয়ান্ডারল্যান্ড পার্কটি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন থেকে ২৫ বছরের জন্য ইজারা নেয় ওয়ান্ডারল্যান্ড গ্রুপ কর্তৃপক্ষ। গত ডিসেম্বর চসিক মেয়র এ পার্কটি উদ্বোধন করেন। এ পার্কে প্রতিদিন এক থেকে দেড় হাজার দর্শনার্থী প্রবেশ করেন। 

এ বিষয়ে কথা বলতে পার্ক ম্যানেজার বীর মুক্তিযোদ্ধা সোহরাব হোসেনের দপ্তরে গেলে সেখানে তাকে পাওয়া যায়নি। সেখানে থাকা অন্য কর্মকর্তা সুভাষ নামের একজন বলেন, জলপরী নিয়ে পার্কে শিশু-কিশোরদের বিনোদনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। পরে সমালোচনা হওয়ায় তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এক সপ্তাহ পর তারা চলে যায়। এর পরও সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনা হচ্ছে। 

চা শ্রমিকের সন্তানদের মধ্যে স্যানিটারি ন্যাপকিন ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৮:৫৪ এএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ০৯:০৭ এএম
চা শ্রমিকের সন্তানদের মধ্যে স্যানিটারি ন্যাপকিন ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ
চা শ্রমিক সন্তানদের মধ্যে ইনার হইল ক্লাব অব সিলেট হেরিটেজ স্যানেটারি ন্যাপকিন ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ

সিলেটে চা শ্রমিকের সন্তানদের মধ্যে স্যানিটারি ন্যাপকিন ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করেছে ইনার হুইল ক্লাব অব সিলেট হেরিটেজ ডিস্ট্রিক্ট-৩৪৫।

শুক্রবার (১২জুন) বিকেলে নগরীর দলদলী চা বাগানের ১৫ জন শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের স্যানেটারি ন্যাপকিন, শিক্ষা উপকরণ ও মৌসুমি ফল বিতরণ করা হয়।

ইনার হুইল ক্লাব অব সিলেট হেরিটেজের প্রেসিডেন্ট জান্নাতুল ফেরদৌসের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি শাকিলা ববির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইনার হুইল ক্লাব অব মৌলভীবাজার এর ইসি মেম্বার শাহরিন সুলতানা।

অনুষ্ঠানের উপস্থিত ছিলেন সহসভাপতি-১ ইমরানা বেগম পিংকি, সহসভাপতি-২ নিপা মনির, ট্রেজারার জান্নাতুল ফেরদৌসী শাম্মী, আইএসও রহিমা খাতুন লুবনা, ক্লাব করেসপন্ডেন্ট বুশরা নূর ইসি মেম্বার সুমি বেগম।

স্যানিটারি ন্যাপকিন, শিক্ষা উপকরণ ও মৌসুমি ফল বিতরণের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পিরিয়ডকালীন পরিছন্নতা, নিজের সাধ্য অনুযায়ী পুষ্টিকর খাবার খাওয়া, ভালোভাবে লেখাপড়া করে সুন্দর ক্যারিয়ার গঠন নিয়ে কথা বলেন শাকিলা ববি ও শাহরিন সুলতানা।

ক্লাবের প্রেসিডেন্ট জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, এটা আমাদের প্রথম প্রজেক্ট। চা শ্রমিকদের সন্তানদের মধ্যে স্যানেটারি ন্যাপকিন, শিক্ষা উপকরণ ও মৌসুমী ফল বিতরণ করে আমরা আমাদের কার্যক্রম শুরু করেছি। গত মাসের ১২ তারিখ আমাদের ডিস্ট্রিক্ট চেয়ারম্যান মোশায়লা করিম, ডিস্ট্রিক্ট সেক্রেটারি ইসমত আরা মিলি, ইন্টারন্যাশনাল সার্ভিস অর্গানাইজার শাহনাজ পারভীন মিতা, ওয়েবমাস্টার শারমীন হোসেন, ইনার হুইল ক্লাব অব দিলকুশার প্রেসিডেন্ট জিনাত সুলতানাসহ ডিস্ট্রিক্ট নেতারা ক্লাব ফরমেশন ও ভিজিট করেন এবং আমাদের প্রথম প্রজেক্টের জন্য আর্থিক অনুদান দেন। সেই আনুদানেই আজ সম্পন্ন হলো আমাদের প্রথম প্রজেক্ট।

শাকিলা ববি/তামান্না রুপা/