খুলনার খালিশপুরে প্রায় আট হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে গ্যাসভিত্তিক রূপসা ৮০০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্লান্ট নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু এখানে গ্যাসের সরবরাহ না থাকায় প্লান্ট থেকে এখনই বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব নয়। ফলে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে ৮ হাজার কোটি টাকা খরচ হলেও জনগণ এটা থেকে কোনো উপকার পাচ্ছে না।
শনিবার (৩১ আগস্ট) খুলনার খালিশপুরে অবস্থিত রূপসা ৮০০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্লান্ট সম্মেলনকক্ষে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান এসব কথা বলেন।
এদিন তিনি বিদ্যুকেন্দ্রটি পরিদর্শন করেন।
তিনি জানান, খুলনার এই পাওয়ার প্লান্টের কাছে কেবল ভোলায় গ্যাস আছে, যা অপর্যাপ্ত। এখানে প্রয়োজন ১৪০ এমএমসিএফ গ্যাস; কিন্তু ভোলায় অতিরিক্ত আছে কেবল একশ এমএমসিএফ গ্যাস। তিন বছর সময় নিয়ে নতুন পাইপলাইন করে এ গ্যাস খুলনায় আনলেও সেটা পর্যাপ্ত হবে না।
এতদিন আমাদের দেশে একটি উন্নয়নের কাহিনি পড়া হচ্ছিল যে, বাংলাদেশে আমাদের মাথাপিছু আয় ও জিডিপি বাড়ছে এবং আমরা নিম্ন আয়ের দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হচ্ছি। এখন দেখা যাচ্ছে এটা একটা ভ্রান্তি। খুলনায় প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে পাওয়ার প্লান্ট হয়েছে, যা জাতীয় জিডিপিতে যুক্ত হয়েছে। জিডিপি বাড়লেও গ্যাসভিত্তিক এ পাওয়ার প্লান্ট সহসা বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারবে বলে মনে হচ্ছে না। আমরা তো অনেক আগে থেকেই জানতাম বাংলাদেশে গ্যাসের রিজার্ভ কমে যাবে, এখান থেকে বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ সম্ভব হবে না। বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে ৮ হাজার কোটি টাকা খরচ হলো; কিন্তু মানুষ এটা থেকে কোনো উপকার পাচ্ছে না। এটাই হলো উন্নয়নের ভ্রান্তি।
উপদেষ্টা আরও বলেন, সীমাবদ্ধতা থাকলেও এ পাওয়ার প্লান্টকে কীভাবে আংশিকভাবে সচল করা যায় সে বিষয়ে ভাবা হচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা বিদ্যুৎ খাতে অনিয়মের কাঠামো ভেঙে দিতে চাই। এরই মধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি আইন ২০১০ ও সরকার কর্তৃক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণের বিধান ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এ খাতে ঘটা অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে কমিটি গঠন করা হবে। আমরা বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলোকে পুনর্গঠন করতে চাই। নতুন এই বাংলাদেশে সবার সমান সুযোগ থাকবে। আগে থেকে ঠিক করা হবে না এই প্রজেক্টটা কে পাবে বা তার মতো করে প্রজেক্ট সাজানো হবে না।
সভায় বিদ্যুৎ বিভাগের সিনিয়র সচিব হাবিবুর রহমান, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব নূরুল আলম, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) রেজাউল করিম, খুলনার জেলা প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত) ইউসুফ আলীসহ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরে উপদেষ্টা খুলনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে জনপ্রতিনিধি, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের বিভাগীয় কর্মকর্তা, স্থানীয় সুশীল সমাজ, ছাত্র সমন্বয়ক ও প্রতিনিধিত্বকারী ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় উপদেষ্টা অংশগ্রহণকারীদের পরামর্শ ও অভিযোগসমূহ মনোযোগ সহকারে শোনেন ও সমাধানের আশ্বাস দেন।