ছবি: খবরের কাগজ
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয় অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ নিয়ে রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যবহার ও গ্যাস চুরির অভিযোগে এক চুন কারখানার মালিককে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে অবৈধ গ্যাস ব্যবহারের অভিযোগে আরও কয়েকটি কারখানার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (১১জুন) দিনব্যাপী তিতাস গ্যাসের আঞ্চলিক বিক্রয় বিভাগ, সোনারগাঁয়ের আওতাধীন এলাকায় অবৈধ গ্যাস সংযোগ শনাক্ত ও বিচ্ছিন্ন করতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
জেলা প্রশাসক, তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানকালে সোনারগাঁ জাদুঘর সংলগ্ন ইছাপাড়া এলাকায় অবস্থিত একটি চুন কারখানায় অবৈধ গ্যাস ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে কারখানাটির মালিক মেসার্স প্রান্ত ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো. আবু বক্করকে (২৬) আটক করা হয়।
তদন্তে জানা গেছে, বৈধ অনুমোদন ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে তিনি অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে গ্যাস ব্যবহার করেন। এতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় বাংলাদেশ গ্যাস আইন, ২০১০-এর ১২(১) ধারায় তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুহা তাবিল। আদালত তাকে ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন।
কর্মকর্তারা জানান, ইছাপাড়া এলাকার কারখানাটির পাশাপাশি দিঘিরপাড় এলাকায় একটি এবং পিরোজপুর ইউনিয়নের মহাসড়কের দুই পাশে অবস্থিত আরও দুটি চুন কারখানায় অবৈধভাবে গ্যাস ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া যায়।
তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুহা তাবিল বলেন, "রাষ্ট্রীয় সম্পদ গ্যাস চুরি এবং অবৈধ সংযোগের বিরুদ্ধে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। অবৈধ গ্যাস ব্যবহারকারীদের শনাক্ত করতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
অভিযানের সময় তিতাস গ্যাসের কর্মকর্তা-কর্মচারী, জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। অভিযান শেষে এলাকায় থাকা কয়েকটি অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।
ইমরান/তামান্না রুপা