ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কে আমরি ট্রাভেলসের বাসে সংঘটিত ডাকাতি ও শ্লীলতাহানির ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার সঙ্গে আরেক অভিযুক্ত রাজিব হোসেনকেও আটক করা হয়েছে। এ নিয়ে টাঙ্গাইলের গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) মামলার পাঁচজন আসামিকে গ্রেপ্তার করলো।
মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, আগেই গ্রেপ্তার হওয়া তিনজনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নেত্রকোনার পূর্বধলা থানার সাধুপাড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য আলমগীরকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে লুট করা চার হাজার ২১০ টাকা এবং দুটি রুপার আংটি উদ্ধার করা হয়। আলমগীরের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
জিজ্ঞাসাবাদে আলমগীর স্বীকার করে, লুট করা মোবাইল ফোন, ব্যবহৃত ছুরি ও নারীদের গহনা রাজিব হোসেনের কাছে রয়েছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকার আশুলিয়ার ধানসোনা এলাকার পলাশবাড়ি থেকে রাজিবকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ১০টি মোবাইল ফোন, গহনা ও তিনটি ব্যাগ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ আদালতে আলমগীরের জন্য সাত দিনের ও রাজিবের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছে। এর আগে গত শুক্রবার রাতে টাঙ্গাইলের গোয়েন্দা পুলিশ মামলার তিনজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছিলো।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ অনুযায়ী, সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টায় ঢাকার গাবতলী থেকে আমরি ট্রাভেলসের বাসটি ছেড়ে যায়। রাত সাড়ে ১২টার দিকে অস্ত্রের মুখে যাত্রীদের জিম্মি করে ডাকাতরা হামলা চালায়, কয়েকজনকে রক্তাক্ত করে এবং তিন ঘণ্টা ধরে লুটপাট ও শ্লীলতাহানির পর বাস থেকে নেমে যায়।
ডাকাতদের চলে যাওয়ার পর বাসচালক গন্তব্যে যেতে অস্বীকৃতি জানান। যাত্রীদের চাপে অবশেষে বাসটি আবার চলতে শুরু করে এবং মঙ্গলবার বেলা ১১টার পর যাত্রীরা বাস নিয়ে বড়াইগ্রাম থানায় যান।
ডাকাতির শিকার এক যাত্রী ওমর আলী, শুক্রবার মধ্যরাতে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থানায় এ ঘটনায় মামলা করেন।
পুলিশ বাসের চালক বাবলু আলী, সুপারভাইজার সুমন ইসলাম ও সহকারী মাহবুব আলমকে আটক করে ৫৪ ধারায় মামলা দেয়। পরে তারা আদালত থেকে জামিন পান।
রানা/তাওফিক/