সিলেটে আটটি দেশীয় পাখিসহ দুই পাখি বিক্রেতাকে আটক করেছে বন বিভাগ। বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টায় সিলেট নগরীর মদিনা মার্কেট এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। পরে আটক দুজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
সিলেট বিমানবন্দর থেকে কাজ শেষে ফেরার পথে দৈনিক খবরের কাগজের সিলেট ব্যুরোর ফটোসাংবাদিক মামুন হোসেন নগরীর পাঠানটুলা এলাকায় দুইজন বিক্রেতাকে খাঁচায় দেশীয় পাখি বিক্রি করতে দেখেন। এর পর তিনি পরিবেশবাদী সংগঠন ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)’ সিলেটের সদস্য সচিব আব্দুল করিম কিমকে এই তথ্য জানান। পরে কিম সিলেট বন বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং পাখি বিক্রেতাদের আটক করে পাখিগুলো উদ্ধার করেন।
এ বিষয়ে আব্দুল করিম কিম বলেন, ‘গতকাল উদ্ধার করা তিনটি বালিহাঁস সুরমা নদীতীরে অবমুক্ত করছিলাম, তখনই মামুন হোসেন আমাকে কল দিয়ে মদিনা মার্কেটে পাখি বিক্রির খবর দেন। এর পর আমরা পাখি বিক্রেতাদের আটক করি, যদিও কিছু পাখি বিক্রি হয়ে গেছে।’ তিনি জানান, আটক পাখিগুলোর মধ্যে একটি পুরুষ লটকন, দুইটি মুনিয়া এবং পাঁচটি কাঠ শালিক রয়েছে।
সিলেট রেঞ্জের রেঞ্জার শহিদুল্লাহ বলেন, ‘আমরা দুই পাখি বিক্রেতাকে আটক করেছি এবং তাদের কাছ থেকে আটটি পাখি উদ্ধার করেছি। পাখি শিকারিদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে এবং আগামীকাল পাখিগুলো অবমুক্ত করা হবে।’
এ ছাড়া আব্দুল করিম কিম সিলেট নগরীতে প্রকাশ্যে পাখি বিক্রির ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘যদিও কয়েক বছর ধরে পরিবেশকর্মীদের নজরদারির কারণে প্রকাশ্যে পাখি বিক্রি প্রায় বন্ধ ছিল, তবে এখন আবার গোপনে বিক্রি হচ্ছে। এটি বন্ধ করতে হলে নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে এবং ক্রেতাদেরও জরিমানা করা প্রয়োজন।’
এদিকে মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সিলেট নগরীর টিবি গেট এলাকা থেকে বন বিভাগ তিনটি বালি হাঁসসহ একজন পাখি বিক্রেতাকে আটক করে, যাকে পরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
তাওফিক/