সিলেটে দিনদুপুরে মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারীকে (৩০) রাবার বাগানের টিলায় নিয়ে ধর্ষণের ঘটনায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে গ্রেপ্তার দুই আসামি। বুধবার (১২ মার্চ) এই দুই আসামি আদালতে জবানবন্দি দেয়।
এর আগে মঙ্গলবার (১১ মার্চ) দুপুরে সিলেট সদর উপজেলার ৩নং খাদিমনগর ইউপি, ৯নং ওয়ার্ড এলাকাধীন ছড়ারগাং রাবার বাগানে এই ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার রাতেই ধর্ষণকারীদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়া আসামিরা হলেন শাহপরান থানার উত্তর মোকামের গোল পীরেরবাজার এলাকার লেগুনা চালক আব্দুর করিম (২৯)। এই থানার দলুইপাড়ার চালকের সহকারী রাকিব মিয়া (২৫)।
স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে ধর্ষক লেগুনা চালক ও তার সহযোগী বলেন, শাহপরান (রহ.) মাজারে সামনে থেকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে তারা ওই নারীকে লেগুনা গাড়িতে (সিলেট ছ ১১-১২৭০) তোলেন। এরপর এয়ারপোর্ট থানাধীন ছড়াগাং চা বাগানের ১নং সেকশনস্থ তেমুখী রাস্তা সংলগ্ন পূর্ব পাশের টিলার উপর নিয়ে গিয়ে তারা দুজন ওই নারীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এয়ারপোর্ট থানাধীন এলাকায় তরুণীকে দলবেঁধে ধর্ষণের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগীকে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় ইউপি মেম্বারের সহযোগিতায় সিলেট এম এ জি ওসমানী হাসপাতালে ওসিসিতে চিকিৎসার জন্য পাঠায়। লেগুনা গাড়ির নম্বরের সূত্র ধরে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ শাহপরান (রহ.) তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশের সহায়তায় শাহপরান থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ব্যাপারে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ কমিশনার (মিডিয়া) সাইফুল ইসলাম খবরের কাগজকে জানান, এই ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেপ্তার আসামিরা আমাদের আছে ধর্ষণের ঘটনা স্বীকার করে। পরে তাদের আদালতে নিলে ফৌজদারি কার্যবিধি ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে তারা। যদিও আমরা ভিকটিমের পরিবারের মৌখিক অভিযোগেই আসামিদের গ্রেপ্তার করি। তবে পরবর্তী সময়ে ভিকটিমের বাবা বাদী হয়ে এজাহার দায়ের করলে এয়ারপোর্ট থানার মামলা নং-১০, তাং-১২/০৩/২০২৫ইং, ধারা-নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০২০) এর ৭/৯(৩) রুজু হয়।
শাকিলা ববি/মাহফুজ