ঢাকা ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
মাদারগঞ্জে এসএসসি পরীক্ষার্থীকে অপহরণ, গ্রেপ্তার ৬ দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে কোরিয়ার চেকমেট টেকনাফ সীমান্তে ১৫ কোটি টাকার ইয়াবাসহ দুই রোহিঙ্গা আটক টিভিতে আজকের খেলা সিরাজদিখানে জমি নিয়ে বিরোধে সংঘর্ষ, আহত ১০ দেশীয় শিল্পের সুরক্ষায় উদ্যোক্তাদের ছাড় আধুনিক বাজেট বনাম ইসলামের বায়তুল মাল ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ থেকে জিদানের ঢুস কর্মসংস্থানকে প্রধান অগ্রাধিকার বরাদ্দ কমিয়ে বৈদেশিক কর্মসংস্থানে উচ্চাভিলাষ! বাজেটে দুদকের বরাদ্দ বাড়েনি অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সাহসী রোডম্যাপ জুয়ার পূর্বাভাস, ভাঙতে পারে সব রেকর্ড মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশের মধ্যে রাখার লক্ষ্য কালোটাকা সাদা করার সুযোগ থাকছে ১২ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল নতুন বাজেট পুঁজিবাজারকে আস্থায় আনতে নানা পদক্ষেপ ১২ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল ইস্পাত রক্ষণ প্রাণে আলমিরন ফুটবলের চেয়ে বড় হয়ে উঠেছে রাজনীতি? প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগের শিরোপা কার? সব উপাদানের সমন্বয়ে তৈরি হয় সাফল্যের রেসিপি ‘ক্যাপ্টেন আমেরিকা’ ১২ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি বিশ্বকাপ ইতিহাসের ১০টি কালজয়ী মন্তব্য স্বাগতিকের চোখে স্বপ্ন, প্যারাগুয়ের চোখে চমক শেষটায় মেসি-রোনালদোর প্রথম দ্বৈরথ দেখা যাবে? নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু আজ আশার প্রদীপ ডেভিড মরক্কো শিবিরে বড় ধাক্কা, নেইমারকে নিয়ে এখনো দোলাচলে ব্রাজিল
Nagad desktop

মেহেরপুরে ধর্ষকের ব্ল্যাকমেইলের প্রতিবাদে থানায় অবস্থান কর্মসূচি ছাত্র-জনতার

প্রকাশ: ১৪ মার্চ ২০২৫, ১২:৩৯ পিএম
আপডেট: ১৪ মার্চ ২০২৫, ০১:৩০ পিএম
মেহেরপুরে ধর্ষকের ব্ল্যাকমেইলের প্রতিবাদে থানায় অবস্থান কর্মসূচি ছাত্র-জনতার
ছবি : খবরের কাগজ

মেহেরপুরে ৯ বছর বয়সী শিশু ধর্ষণ মামলার আসামি জামিন পেয়ে বাদীকে ব্লাকমেইল করে। প্রতিকার চেয়ে বাদী থানায় অভিযোগ দিলে পুলিশের এক এসআই অভিযুক্ত ধর্ষককে বাঁচাতে পক্ষপাত্বি করেছেন। এ অভিযোগে থানা ঘেরায় করে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্র-জনতা। এ ঘটনায় অভিযুক্ত এক পুলিশ সদস্যকে ক্লোজড করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) রাতে সদর থানায় এ ঘটনা ঘটে। 

জানা গেছে, মেহেরপুর সদর উপজেলার একটি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে বসবাসকারী ৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণ করে মদনাডাঙ্গা গ্রামের বায়েজিদ নামের এক যুবক। ধর্ষণের ঘটনার ভিডিও ধারণ করে বায়েজিদ সঙ্গীয় আলামিন হোসেন। এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে গেল ৯ সেপ্টেম্বর বায়েজিদ, আলামিন ও বরকত আলীর নামে মেহেরপুর আদালতে ধর্ষণ মামলা করেন। আসামিরা গ্রেপ্তারের কয়েক মাস হাজতবাসের পর জামিনে মুক্ত হয়। ধর্ষণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশের হুমকি দিয়ে বাদীকে মামলা তুলে নিতে বলে আসামিরা। এতে বাদী প্রতিকার চেয়ে মেহেরপুর সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। বিষয়টি মীমাংসার জন্য বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সদর থানার এসআই সুজয় কুমার উভয় পক্ষকে নিয়ে থানায় বসেন। এ সময় এসআই সুজয় কুমার ধর্ষণ মামলার আসামিদের পক্ষ থেকে বাদীকে চাপ দিতে থাকেন। খবর পেয়ে থানায় গিয়ে প্রতিবাদ করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র ও জনতা।

এ ঘটনায় পুলিশের লাঠি পেটায় আহত হন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থী তুষার ও সিয়াম। তাদের অভিযোগ, ধর্ষণকারী ও তার সহযোগীদের বিচার চাইলে ক্ষিপ্ত হয়ে এসআই সুজয় কুমার থানার মধ্যেই তাদেরকে লাঠিপেটা করেন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে ছাত্র-জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে থানা ঘেরাও করে প্রতিবাদ করেন। এসআই সুজয় কুমার ও ধর্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক সাজার দাবিতে থানা ও থানার আশপাশের এলাকায় অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে ছাত্র-জনতা।

এদিকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সেনাবাহিনীর একটি দল থানায় গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। তখন মেহেরপুর পুলিশ সুপার মাকছুদা খানম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। 

ধর্ষিতার পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ছয় মাস আগে তাদের শিশুকন্যাকে ধর্ষণ করে বাইজিদ ভিডিও ধারণ করে ছড়িয়ে দেওয়া হয় বিভিন্ন জনের মুঠোফোনে। বাইজিদসহ কয়েকজনকে আসামি করে আদালতে মামলা করেন ধর্ষিতার মা। এই মামলায় সম্প্রতি জামিনে বেরিয়ে এসে পরিবারের সদস্যদের হুমকি দেন। এমনকি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার নাম করে অর্থ আদায় করে পরিবারের কাছ থেকে। গেল রবিবার রাতে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আবারও পরিবারের সদস্যদের হুমকি দিলে থানায় জানান বিষয়টি। বৃহস্পতিবার রাতে উভয় পক্ষকে নিয়ে সদর থানায় বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। এ সময় দুই পক্ষই বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক আনতে চেষ্টা করে পুলিশ।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, পুলিশ ধর্ষকের পক্ষ হয়ে এক সময় ছাত্র-জনতার ওপর লাঠিচার্জ শুরু করে। এতে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কর্মী সিয়াম ও তুষার আলতুফান আহত হন। পরে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী সাধারণ জনতা থানা চত্বরে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে। ঘটনার একপর্যায়ে তারা থানার মূল ফটোকে তালা লাগিয়ে দেয়। পুরো থানা চত্বর ঘিরে রাখে। দাবি তোলেন অভিযুক্ত হামলাকারী পুলিশ সদস্যদের শাস্তির। এ ছাড়াও ধর্ষণকারী বাইজিদ ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তার। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। রাত ১০টার পর ঘটনাস্থলে আসেন পুলিশ সুপার মাহমুদা আক্তার খানম। উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা করেন তিনি। একপর্যায়ে তারা রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসেন। রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঘোষণা দেন অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যকে ক্লোজড করা হয়েছে। 

বিক্ষুব্ধ ছাত্রদের দাবির প্রেক্ষিতে গেল রাত সাড়ে ১২টার দিকে সদর থানা পুলিশের এক সদস্যকে ক্লোজড করা হয়েছে। দোষী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা এবং ধর্ষক ও তাদের পক্ষের লোকজনকে গ্রেপ্তার করতে রাত থেকে শুরু হয়েছে যৌথ বাহিনীর অভিযান। রাত সাড়ে ১২টায়  পুলিশ সুপারের এমন আশ্বাসে থানা ত্যাগ করেন বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা।

বেনি আমিন/জোবাইদা/

মাদারগঞ্জে এসএসসি পরীক্ষার্থীকে অপহরণ, গ্রেপ্তার ৬

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ১০:৪১ এএম
মাদারগঞ্জে এসএসসি পরীক্ষার্থীকে অপহরণ, গ্রেপ্তার ৬
ছবি: খবরের কাগজ

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় এক এসএসসি পরীক্ষার্থীকে অপহরণের ঘটনায় ১০ যুবকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় ৬ জনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয়রা।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জামালপুর আদালতে পাঠানো হয়।

গ্রেপ্তাররা হলো, উপজেলার বালিজুড়ী ইউনিয়নের চরসুখনগরী বারখাদা এলাকার শাহজাহান মুন্সির ছেলে মনিরুল ইসলাম বাবু (২০), হবি মুন্সির ছেলে সবুজ মিয়া (২১), হবি মণ্ডলের ছেলে হোসেন আলী (১৮), জগলুল পাশার ছেলে সাজিবুল হাসান সজিব (২০), জোড়খালী ইউনিয়নের খিলকাটি গয়েসপাড়া এলাকার মহব্বত আলীর ছেলে আনন্দ হাসান (১৮) এবং তাছের মণ্ডলের ছেলে ইউনুস মিয়া (১৮)। অপহৃত কিশোরী ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী। অপহরণের পর থেকে তাকে নিয়ে অভিযুক্তরা আত্মগোপনে রয়েছে।

অপহৃত কিশোরীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার জোড়খালী ইউনিয়নের খিলকাটি গয়েসপাড়া গ্রামের নাইম ইসলাম (১৮) দীর্ঘদিন ধরে ওই কিশোরীকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। কিশোরী এতে সাড়া না দিয়ে বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানায়। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে নাইমের স্বজনদের বিষয়টি অবহিত করা হলে তারা কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। এক পর্যায়ে কিশোরীকে অপহরণের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়। 

আরও জানা গেছে, বুধবার (১০ জুন) রাত সাড়ে ১০টার দিকে নাইমসহ কয়েকজন যুবক ওই কিশোরীর বাড়িতে প্রবেশ করে। পরে তারা জোরপূর্বক কিশোরীকে তুলে নিয়ে যায়। এ সময় পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন ধাওয়া করে ছয়জনকে আটক করতে সক্ষম হয়। তবে নাইমসহ অন্যরা কিশোরীকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যায়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আটক ব্যক্তিদের থানায় নিয়ে আসে। 

মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্নেহাশীষ রায় বলেন, এ ঘটনায় অপহৃত কিশোরীর মা বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও তিন থেকে চারজনকে আসামি করে অপহরণ মামলা দায়ের করেছেন। তাদের মধ্যে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আজ বিকেলে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার এবং অপহৃত কিশোরীকে উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আসমাউল আসিফ/অন্তরা

টেকনাফ সীমান্তে ১৫ কোটি টাকার ইয়াবাসহ দুই রোহিঙ্গা আটক

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ১০:৩৪ এএম
আপডেট: ১২ জুন ২০২৬, ১১:১৩ এএম
টেকনাফ সীমান্তে ১৫ কোটি টাকার ইয়াবাসহ দুই রোহিঙ্গা আটক
ছবি: খবরের কাগজ

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সাবরাং সীমান্ত এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে ৫ লাখ পিস ইয়াবাসহ মায়ানমারের মাদক ব্যবসায়ী ও চোরাচালান চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১৫।

গ্রেপ্তাররা হলেন, মায়ানমারের মংডু শহরের হারি পাড়া এলাকার মো. সাজেদ (৩২) এবং এনামুল হাসান (৩৩)।

১১ জুন বিকেল ৪টায় কক্সবাজার র‌্যাব-১৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মোস্তাফিজুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

র‌্যাব জানায়, মাদক, অপহরণ, খুন, ডাকাতি ও ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে র‌্যাব-১৫ নিয়মিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

সীমান্তবর্তী এলাকায় সক্রিয় কিছু সংঘবদ্ধ চক্র মায়ানমার থেকে বড় ধরনের মাদক চালান অবৈধভাবে দেশে প্রবেশ করিয়ে স্থানীয় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে আসছে।

এই মাদক দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে যুব সমাজকে আসক্ত করে তুলছে এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। দেশব্যাপী মাদক বিস্তার রোধে র‌্যাব-১৫ তাদের দায়িত্বাধীন এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি ও নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, রাত আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটের সময় র‌্যাব-১৫ টেকনাফ ক্যাম্পের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে মায়ানমারের কতিপয় কুখ্যাত মাদক কারবারি চক্রের সদস্যরা একটি বড় ইয়াবার চালান নিয়ে টেকনাফের দিকে প্রবেশ করছে।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে ভোর আনুমানিক ৪টা ৩০ মিনিটে র‌্যাব সাবরাং ইউনিয়নের মন্ডল পাড়া এলাকায় মো. কবির হোসেনের জমিতে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় ইয়াবা কারবারীরা দেশে প্রবেশকালে তাদের আটক করার চেষ্টা করা হয়।

র‌্যাব সদস্যরা মায়ানমার কেন্দ্রিক আন্তর্জাতিক মাদক চক্রের সঙ্গে জড়িত ২জন মায়ানমারের নাগরিককে আটক করে। এ সময় আরও ৪-৫ জন অজ্ঞাত মাদক কারবারি পালিয়ে যায় এবং তাদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

আটকদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তারা অবৈধভাবে মিয়ানমার থেকে নাফনদী পার হয়ে সীমান্ত অতিক্রম করে ইয়াবার বড় চালানটি নিয়ে আসে। অভিযান শেষে মোট ৫ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শেষে টেকনাফ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

শাহীন/তামান্না রুপা

সিরাজদিখানে জমি নিয়ে বিরোধে সংঘর্ষ, আহত ১০

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ১০:২৪ এএম
আপডেট: ১২ জুন ২০২৬, ১০:৪১ এএম
সিরাজদিখানে জমি নিয়ে বিরোধে সংঘর্ষ, আহত ১০

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে ৪ জন টেটাবিদ্ধ হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বেলা ১১টার দিকে বয়রাগাদি ইউনিয়নের কুমারখালি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুমারখালি গ্রামের শিরু মিয়ার ছেলে জয়নাল এবং একই এলাকার বিসা মাতবরের ছেলে দেলোয়ার হোসেনের মধ্যে জমির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। বুধবার বিরোধপূর্ণ জমিটি সার্ভেয়ার দিয়ে মাপা হলে তা নিয়ে উভয় পক্ষের বাকবিতণ্ডা হয়।

পরে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে দুই পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলে অন্তত ১০ জন আহত হন।

আহতদের মধ্যে টেটাবিদ্ধ হয়েছেন মো. আবুল হোসেন (৬০), মো. আমির আলী (৫৫), মো. সেলেম (৫৮) ও মো. ইয়ামিন (১৫)। তাদের মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ছাড়া অন্যান্য আহতরা বিভিন্ন হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

তবে ঘটনার বিষয়ে খবরের কাগজের প্রতিনিধি উভয় পক্ষের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়, ফলে কারো বক্তব্য নেওয়া যায়নি।

সিরাজদিখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলাউদ্দিন খবরের কাগজকে জানান, এখন পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। উভয় পক্ষই অভিযোগ দিয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সুমন/থিও

দেশীয় শিল্পের সুরক্ষায় উদ্যোক্তাদের ছাড়

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ১০:০৫ এএম
আপডেট: ১২ জুন ২০২৬, ১০:১৫ এএম
দেশীয় শিল্পের সুরক্ষায় উদ্যোক্তাদের ছাড়
ছবি: প্রতীকী

স্থানীয় শিল্পের বিকাশ, আমদানি বিকল্প পণ্য উৎপাদনে উৎসাহ এবং দেশীয় উদ্যোক্তাদের সুরক্ষা দিতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে আমদানি শুল্ক ও কর কাঠামোয় ব্যাপক পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কয়েকটি শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে কর সুবিধা বাড়ানো এবং স্থানীয় উৎপাদকদের সুরক্ষায় বিভিন্ন পণ্যের ওপর শুল্ক বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। ইলেকট্রিক গাড়িসহ পরিবহন, স্বাস্থ্য খাতেও সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব করেন গতকাল জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।   

কৃষি খাতের উন্নয়নে দেশে স্থানীয়ভাবে কীটনাশক ও বালাইনাশক উৎপাদনকে উৎসাহ দিতে ৩৬টি কাঁচামাল আমদানিতে মূল্য সংযোজন কর পুরোপুরি মওকুফ করার প্রস্তাব করা হয়েছে বাজেটে। স্থানীয়ভাবে জিংক সালফেট সার উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন এবং দেশীয় শিল্পকে উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে এর মূল কাঁচামাল জিংক অ্যাশ আমদানিতে বিদ্যমান আমদানি শুল্ক সম্পূর্ণ মওকুফের প্রস্তাব করা হয়। এমনকি কাজুবাদাম চাষকে উৎসাহ দিতে আমদানিতে শুল্ক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ ও দেশীয় শিল্পের প্রসারে আমদানি  করা পাঙাশ মাছের ফিলেটের ওপর ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়।

পোলট্রি, ডেইরি ও মৎস্যজাত খাদ্য উৎপাদনকারী শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে রেয়াতি সুবিধার প্রস্তাব করা হয়। এ ছাড়া পোলট্রি ও ডেইরি শিল্পের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ উৎপাদনকারী দেশীয় প্রতিষ্ঠানের কতিপয় উপকরণ আমদানিকে রেয়াতি সুবিধা শূন্য শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়।
কৃষির মতো স্বাস্থ্য খাতেও বিভিন্ন সুবিধার প্রস্তাব করা হয় বাজেটে। দেশে চিকিৎসা যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ উৎপাদনকারী শিল্পের বিকাশের স্বার্থে এই শিল্পের অতি প্রয়োজনীয় কিছু কাঁচামাল আমদানিতে ১৫ শতাংশ এবং অন্যকিছু কাঁচামাল আমদানিতে ৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত বলবৎ রাখার প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী।

এ ছাড়া কিডনি রোগে আক্রান্ত মানুষের জীবন বাঁচাতে ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানিতে আরোপিত বিদ্যমান ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর এবং ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়। এমনকি মৃতদেহ সংরক্ষণে ব্যবহৃত মর্চুয়ারির আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়।

ক্যানসারের ওষুধ তৈরির নতুন ৯টি কাঁচামাল আমদানিতে রেয়াতি সুবিধার প্রস্তাব করা হয়। দেশীয় ফার্মাসিউটিক্যালস শিল্পকে স্থানীয়ভাবে আন্তর্জাতিক মানের ও সাশ্রয়ী মূল্যের ক্যানসার প্রতিরোধী ওষুধ উৎপাদনে সক্ষম ও স্বাবলম্বী করে তুলতে আমদানি শুল্ক ও ভ্যাট শূন্য শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়। এ ছাড়া অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্ট (এপিআই) তৈরির নতুন ৫১টি কাঁচামালের আমদানি শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করার প্রস্তাব করা হয়। জনস্বাস্থ্য খাতেও ঢাকা ও বিভাগীয় শহরে শিল্প-কারখানার বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন এবং ‘সার্কুলার ফিউচার মডেল’ বাস্তবায়নে সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট আমদানিতে বিদ্যমান আমদানি শুল্ক কমানোর প্রস্তাব করা হয়। 

ইলেকট্রিক গাড়ি (ইভি) জনপ্রিয় করতে শুল্ক ছাড়ের ঘোষণা করা হয়েছে বাজেটে। পরিবেশ দূষণ রোধ এবং জ্বালানি নিরাপত্তা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় বা অনুরূপ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত ইলেকট্রিক বাস আমদানিতে বিদ্যমান সমুদয় শুল্ক-কর এবং অন্যান্য ইলেকট্রিক বাস-ট্রাকের ক্ষেত্রে ভ্যাট ব্যতীত সমুদয় শুল্ক-কর অব্যাহতি সুবিধা ২০৩০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বর্ধিত করার প্রস্তাব করা হয়।

প্রযুক্তি খাতে উন্নত বাংলাদেশ এবং আইটি খাতে ব্যাপক কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে ল্যাপটপ, ডেস্কটপ কম্পিউটার, সার্ভার, কম্পিউটার প্রিন্টার ও কম্পিউটার মনিটর আমদানির ক্ষেত্রেও সমুদয় আমদানি শুল্ক, রেগুলেটরি শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক ও ভ্যাট প্রত্যাহার করার প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী। 
স্থানীয় শিল্পের বিকাশেও কর ছাড়ের প্রস্তাব করা হয়। ওয়াশিং মেশিন, ইলেকট্রিক ওভেন ও মাইক্রোওয়েভ ওভেন প্রস্তুতকারী শিল্পের অন্যতম প্রধান কাঁচামাল ফ্লোট গ্লাস  আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান ৪৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার এবং এলপিজি সিলিন্ডার, অটো ট্যাঙ্ক এবং ভাল্ব উৎপাদনকারী শিল্পের উপকরণ ও কাঁচামাল আমদানিতে বিদ্যমান রেয়াতি ও শুল্ক অব্যাহতি সুবিধা ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বহাল রাখার প্রস্তাব করা হয়।

স্থানীয় ট্রান্সফরমার শিল্পকে শক্তিশালী করতে ১ কেভিএ পর্যন্ত ক্ষমতাসম্পন্ন ট্রান্সফরমার আমদানির ওপর বিদ্যমান ১০ শতাংশ আমদানি শুল্ক বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা এবং অতিরিক্ত ৫ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।
স্থানীয় ওয়াশিং মেশিন শিল্পকে সুরক্ষা দিতে সব ধরনের হাউসহোল্ড টাইপ ওয়াশিং মেশিন আমদানির ওপর নতুন করে ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত সাইকেলের যন্ত্রাংশ ‘ফ্রি হুইল’-এর বাজার সুরক্ষায় আমদানি শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ এবং অতিরিক্ত ৫ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্ক আরোপের সুপারিশ করা হয়েছে।

দেশীয় কাগজ শিল্পের সুরক্ষায় গ্রিজপ্রুফ পেপার ও গ্লাসিন পেপার আমদানির ওপর শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করার পাশাপাশি ৫ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্ক আরোপের প্রস্তাব রয়েছে। কপার তার ও টিউব উৎপাদনকারী শিল্পের সুরক্ষায় কপারের তার আমদানিতে ১০ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্ক এবং কপার টিউব আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান ১৫ শতাংশ শুল্ক বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

রি-ফ্র্যাক্টরি সিমেন্ট শিল্পের প্রধান কাঁচামাল বল ক্লেসহ পাঁচটি কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। ডিটারজেন্ট শিল্পের অন্যতম প্রধান কাঁচামাল লিনিয়ার অ্যালকাইল বেনজিন (এলএবি) আমদানির ক্ষেত্রে মাত্র ১ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপ ও দেশীয় ফ্লোট গ্লাস শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় পাঁচ ধরনের কাঁচামালের আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় টায়ার ও টিউব উৎপাদনকারী শিল্পের দুটি কাঁচামাল আমদানিতে রেয়াতি সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। অন্যদিকে স্কিন কেয়ার ও বিউটি প্রোডাক্টস উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য দুটি কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান ৩০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক কমিয়ে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

পরিবেশবান্ধব শিল্পায়নকে উৎসাহ দিতে ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (ইটিপি) পরিচালনায় প্রয়োজনীয় রাসায়নিক আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান শুল্ক অব্যাহতি সুবিধা আগামী ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। অন্যদিকে দেশের বিদ্যুৎ খাতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিদ্যুৎকেন্দ্রের কয়লা আমদানিতে বিদ্যমান শুল্ক ও কর রেয়াত সুবিধার মেয়াদ ২০৩০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বহাল রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। এভাবে বাজেট বক্তৃতায় বিভিন্ন খাতে সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী। 

কালোটাকা সাদা করার সুযোগ থাকছে

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৯:২৭ এএম
আপডেট: ১২ জুন ২০২৬, ০৯:৩৫ এএম
কালোটাকা সাদা করার সুযোগ থাকছে
ছবি: সংগৃহীত

প্রায় দুই দশক পর ক্ষমতায় আসা বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটে আবারও অপ্রদর্শিত আয় বা কালোটাকা সাদা করার সুযোগ রাখা হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, অর্থবিলে বিধান রাখা হয়েছে, নির্ধারিত কর পরিশোধ করে এ সুযোগ গ্রহণ করলে ওই অর্থের উৎস নিয়ে কোনো কর্তৃপক্ষ প্রশ্ন তুলতে পারবে না। 

বিভিন্ন মহল থেকে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ না রাখার কথা বলা হলেও শেষ পর্যন্ত আগামী বাজেটে এ-সংক্রান্ত বিধান রাখা হয়েছে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পাস হবে আগামী ৩০ জুন। অপ্রদর্শিত আয় বৈধ করার যে বিধান রাখা হয়েছে, তা অপরিবর্তিত থাকলে আসছে জুলাই থেকে পরবর্তী বছরের জুন মাসের মধ্যে জমি, বিল্ডিং বা অ্যাপার্টমেন্ট কেনাবেচার ক্ষেত্রে অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করার এ সুযোগ মিলবে।

নির্ধারিত কর পরিশোধ করে এ সুবিধা নিলে অর্থের উৎস কিংবা পরিশোধিত কর নিয়ে কোনো ধরনের প্রশ্ন তোলা বা তদন্তমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে না।

নতুন বিধান অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি জমি, ভবন বা অ্যাপার্টমেন্টের প্রকৃত ক্রয়মূল্য দলিলমূল্যের চেয়ে বেশি দেখাতে চান, তাহলে ওই অতিরিক্ত অঙ্ককে অপ্রদর্শিত আয় হিসেবে ঘোষণা করে ব্যক্তিশ্রেণির জন্য প্রযোজ্য নিয়মিত আয়কর হারে কর পরিশোধ করতে হবে। অর্থাৎ প্রচলিত আয়কর স্ল্যাব অনুযায়ী কর দিয়ে তিনি ওই অর্থ বৈধ করতে পারবেন।

একই ধরনের সুযোগ রাখা হয়েছে বিক্রেতাদের জন্যও। কোনো করদাতা যদি জমি বা ভবন বিক্রির ক্ষেত্রে দলিলমূল্যের বাইরে অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণ করে থাকেন, তবে সেই অপ্রদর্শিত অংশের ওপর মূলধনি মুনাফার জন্য প্রযোজ্য হারে কর পরিশোধ করে অর্থ বৈধ করতে পারবেন। বর্তমানে মূলধনি মুনাফার ওপর ১৫ শতাংশ হারে কর প্রযোজ্য।

তবে কিছু শর্তও আরোপ করা হয়েছে। কোনো করদাতার বিরুদ্ধে আয়কর আইনের আওতায় অডিট বা অন্য কোনো কার্যক্রম শুরু হওয়ার আগে তিনি যদি স্বপ্রণোদিতভাবে অপ্রদর্শিত আয় ঘোষণা করেন, তাহলে নিয়মিত হারে কর পরিশোধ করেই সুবিধা পাবেন। 

কিন্তু কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর অর্থ বৈধ করতে চাইলে তাকে নির্ধারিত করের পাশাপাশি অতিরিক্ত ২০ শতাংশ কর দিতে হবে।
এ ছাড়া অপ্রদর্শিত আয় বৈধ করতে আগ্রহী ব্যক্তিকে আয়কর রিটার্নে জীবনযাপনসংক্রান্ত ব্যয়ের বিবরণী এবং উৎসে কর্তিত বা সংগৃহীত করের তথ্য উল্লেখ করতে হবে। এর ভিত্তিতেই কর কর্তৃপক্ষ বিষয়টি বিবেচনা করবে।

তবে কোনো ব্যক্তি যদি অপ্রদর্শিত আয় ঘোষণার আগেই আদালতে বিচারাধীন কোনো মামলায় অভিযুক্ত হন অথবা কোনো অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হন, তাহলে তিনি এ সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন না।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে অপ্রদর্শিত আয় বৈধ করার একটি বিধান রাখা হয়েছিল। কিন্তু ব্যাপক সমালোচনার মুখে তা পরে প্রত্যাহার করা হয়। এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও বিভিন্ন সময়ে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল এবং সেসব ক্ষেত্রেও অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন না তোলার বিধান ছিল।

এদিকে প্রস্তাবিত বাজেটে এমন সুযোগ রাখার খবরে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি বলছে, কোনো ধরনের কর্তৃপক্ষের প্রশ্ন করার সুযোগ না রেখে ‘নিঃশর্ত ক্ষমা’ ঘোষণার মাধ্যমে কালোটাকা বৈধ করার উদ্যোগ দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক বৈধতা দেওয়ার শামিল।

সম্প্রতি এক বিবৃতিতে টিআইবি বলেছে, আবাসন খাতের স্থবিরতা দূর, শিল্পে বিনিয়োগ বৃদ্ধি কিংবা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার অজুহাতে এ ধরনের সুযোগ দেওয়া আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। এটি রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় দুর্নীতি ও অনিয়মকে স্বাভাবিক করে তোলার নামান্তর। সংস্থাটি কালোটাকা সাদা করার সুযোগ স্থায়ীভাবে বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে।

একই সঙ্গে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফেরাতে ‘সাধারণ ক্ষমা’ বা অ্যামনেস্টি দেওয়ার যে আলোচনা চলছে, সে ক্ষেত্রেও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ এবং কঠোর জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি।