ফুটবল যদি দুই মেরুর গল্প হয়, তাহলে তার একপ্রান্তে লিওনেল মেসি এবং অন্যপ্রান্তে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ক্লাব ফুটবলে অসংখ্যবার একে অপরের বিপক্ষে নেমেছেন তারা। গোল, ট্রফি, ব্যালন ডি’অর, রেকর্ড–সবকিছুর প্রতিদ্বন্দ্বিতা যেন দুই কিংবদন্তির নামের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে। কিন্তু একটি বড় মঞ্চে তারা কখনোই মুখোমুখি হননি বিশ্বকাপের প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে। ২০২৬ বিশ্বকাপ সেই অসম্পূর্ণ গল্পের শেষ অধ্যায় হয়ে উঠতে পারে।
এটা মেসি ও রোনালদোর ষষ্ঠ বিশ্বকাপ, যা ফুটবল ইতিহাসে বিরল এক রেকর্ড। রোনালদো বলেই রেখেছেন, এটা তার শেষ বিশ্বকাপ। বয়স বিবেচনায় মেসিও একই বাস্তবতা সামনে।
মেসির আর্জেন্টিনা পড়েছে ‘জি’ গ্রুপে। তাদের প্রতিপক্ষ আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া এবং জর্ডান। ১৬ জুন আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের অভিযান। এরপর ২২ জুন অস্ট্রিয়া এবং ২৭ জুন জর্ডানের বিপক্ষে খেলবে তারা। কাগজে-কলমে আর্জেন্টিনা এই গ্রুপের পরিষ্কার ফেভারিট। প্রত্যাশা অনুযায়ী তারা যদি গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়, তাহলে ৪ জুলাই শেষ-৩২ পর্বে মুখোমুখি হবে ‘এইচ’ গ্রুপের রানার্সআপ দলের। সেই গ্রুপে রয়েছে স্পেন, উরুগুয়ে, কেপ ভার্দে এবং সৌদি আরব। ফলে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে উরুগুয়ে।
রোনালদোর পর্তুগাল রয়েছে ‘কে’ গ্রুপে। তাদের প্রতিপক্ষ ডিআর কঙ্গো, উজবেকিস্তান এবং কলম্বিয়া। ১৭ জুন ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে মাঠে নামবে পর্তুগাল। এরপর ২৩ জুন উজবেকিস্তান এবং ২৭ জুন কলম্বিয়ার বিপক্ষে খেলবে তারা। পর্তুগালও নিজেদের গ্রুপের শীর্ষে থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদি তারা গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়, তাহলে ৪ জুলাই শেষ-৩২ পর্বে তাদের প্রতিপক্ষ হবে গ্রুপ ডি, ই, আই, জে অথবা এল-এর কোনো তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দল।
মেসি ও রোনালদোর বিশ্বকাপে মুখোমুখি হওয়ার সবচেয়ে সহজ সমীকরণ হলো–দুদলই নিজেদের গ্রুপে প্রথম হবে এবং শেষ-৩২ ও শেষ-১৬ পর্বের ম্যাচ জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছাবে। সেক্ষেত্রে কোয়ার্টার ফাইনালে দেখা যেতে পারে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত দ্বৈরথগুলোর একটি: আর্জেন্টিনা বনাম পর্তুগাল।
তবে গল্পটি আরও রোমাঞ্চকরও হতে পারে। যদি আর্জেন্টিনা ও পর্তুগাল উভয়েই নিজেদের গ্রুপে রানার্সআপ হয়, তাহলে তাদের দেখা হয়ে যেতে পারে শেষ-১৬ পর্বেই। অবশ্য তার আগে শেষ-৩২ পর্বের বাধা পেরোতে হবে।
যদি দুদলই নিজেদের গ্রুপে দ্বিতীয় হয়, তাহলে পরিস্থিতি আরও জটিল হবে। সে ক্ষেত্রে তারা শেষ-১৬ পর্বেই মুখোমুখি হতে পারে। তবে সেই পথে বাধা আরও কঠিন। রাউন্ড ৩২-এ আর্জেন্টিনাকে সম্ভবত খেলতে হবে স্পেনের বিপক্ষে, আর পর্তুগালের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হতে পারে ক্রোয়েশিয়া। অর্থাৎ, মেসি-রোনালদো দ্বৈরথ দেখতে হলে তাদের আগে শক্তিশালী ইউরোপীয় প্রতিপক্ষ পেরোতে হবে।
অনিক/