মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নের জামালপুর গ্রাম সংলগ্ন মেঘনা নদীতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, পাঁচ রাউন্ড গুলিভর্তি একটি ম্যাগাজিন ও একটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে প্রশাসন। অভিযানের সময় সশস্ত্র একদল সন্ত্রাসী কৌশলে পালিয়ে গেলেও একটি বাল্কহেডসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে।
শনিবার (১৫ মার্চ) দুপুরে গজারিয়া উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে অভিযানের বিস্তারিত তুলে ধরেন উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
গজারিয়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও অভিযানের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মামুন শরীফ জানান, গুয়াগাছিয়া ও কালীরচর সংলগ্ন মেঘনা নদীতে দীর্ঘদিন ধরে একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী চক্র অবৈধ বালুমহাল পরিচালনা, নৌযানে চাঁদাবাজি, ডাকাতি ও অপহরণসহ নানা অপকর্ম চালিয়ে আসছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার (১৪ মার্চ) রাতে উপজেলা প্রশাসন ও কোস্ট গার্ড ঢাকা জোনের যৌথ অভিযানে নদীতে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়।
প্রথম দফায় অভিযানে গেলে ট্রলারে থাকা ১০-১১ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী পালিয়ে যায়। তবে কৌশল পরিবর্তন করে প্রশাসনের সদস্যরা নদীর পাড়ে লুকিয়ে থাকেন। কিছুক্ষণ পর সন্ত্রাসীরা পুনরায় ফিরে এসে ডাকাতির উদ্দেশ্যে এগিয়ে আসে। তখন তারা প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করে এবং গুলিবর্ষণের প্রস্তুতি নেয়। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় তারা পিছু হটে ও বসুরচর এলাকায় ট্রলার ডুবিয়ে পালিয়ে যায়।
পরে পানিতে ভেসে ওঠা একটি কাঠের বাক্স তল্লাশি করে একটি বিদেশি পিস্তল, পাঁচ রাউন্ড তাজা গুলি ও একটি দা উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া ঘটনাস্থলের অদূরে অবৈধ বালুমহালের সঙ্গে যুক্ত একটি বাল্কহেড তিনজন স্টাফসহ আটক করা হয়েছে। জব্দকৃত অস্ত্র ও গুলি আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গজারিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
কোস্টগার্ড ঢাকা জোনের লেফটেন্যান্ট কমান্ডার তাকিউল আহসান বলেন, ‘নৌপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২৪ ঘণ্টা টহলসহ আকস্মিক অভিযান চালানো হচ্ছে। এর ফলে ডাকাতি, চোরাচালান, মাদক পাচার ও অবৈধ বালু উত্তোলনের ঘটনা প্রায় শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে।’
গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলম বলেন, ‘অভ্যন্তরীণ নৌপথ নিরাপদ রাখতে এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
এদিকে দীর্ঘদিন ধরে গজারিয়ার জামালপুর গ্রাম সংলগ্ন মেঘনা নদীতে কুখ্যাত নৌডাকাত নয়ন-পিয়াস বাহিনী অবৈধভাবে বালুমহাল পরিচালনা করছিল। বালুমহালকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজি, ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধ সংঘটিত হওয়ার অভিযোগ ছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একাধিকবার অভিযান চালিয়েও অপরাধীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে পারেনি। তবে সর্বশেষ অভিযানে অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের ইঙ্গিত দিয়েছে প্রশাসন।
সুমন/তাওফিক/