পিরোজপুরের ১০টি গ্রামের সাত শতাধিক পরিবারে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হচ্ছে। সুরেশ্বর পীরের অনুসারীরা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে মঠবাড়িয়া উপজেলার ছয়টি গ্রাম, কাউখালী উপজেলার তিনটি গ্রাম ও নাজিরপুর উপজেলা একটি গ্রামের মানুষ ঈদুল ফিতর উদযাপন করছেন।
রবিবার (৩০ মার্চ) মঠবাড়িয়া উপজেলার সাপলেজা ইউনিয়নের ভাইজোড়া, কচুবাড়িয়া, সাপলেজা, ঝাটিবুনিয়া, খেতাছিড়া ও চকরগাছিয়া, কাউখালী উপজেলার বেতকা, শিয়ালকাঠী ও পারসাতুরিয়া গ্রামে এবং নাজিরপুর উপজেলার শেখমাটিয়া ইউনিয়নের খেজুরতলা গ্রামে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার সুরেশ্বর গ্রামের মরহুম হজরত মাওলানা জান শরীফ ওরফে শাহে আহম্মদ আলীর অনুসারী হিসেবে উপজেলার সাপলেজা ইউনিয়নের পূর্ব সাপলেজা, ভাইজোড়া, কচুবাড়িয়া, খেতাছিড়া, বাদুরতলী ও চড়কগাছিয়া গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ শত বছরের বেশি সময় ধরে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রোজা রাখা, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উদযাপন করে আসছেন।
সুরেশ্বর পীরের অনুসারী মিরাজ খন্দকার বলেন, আমরা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রোজা রেখেছি এবং আজ সৌদি আরবের সঙ্গেই ঈদ উদযাপন করছি।
তিনি আরও বলেন, কচুবাড়িয়া গ্রামের প্রয়াত হাজি ওয়াহেদ আলী হাওলাদার, শীতল খাঁ, হাজি সমিরুদ্দিন ১৮ শ শতকের শেষ দিকে সুরেশ্বর গ্রামের পীর মরহুম হজরত মাওলানা জান শরীফকে কচুবাড়িয়ায় নিয়ে আসেন। সেই থেকে কচুবাড়িয়া ও ভাইজোড়া গ্রামে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে প্রথম রোজা রাখা ও ঈদ উদযাপন শুরু হয়। ধীরে ধীরে তাদের অনুসারীর সংখ্যা বেড়ে আশপাশের গ্রামগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে।
১২৫নং ভাইজোড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ফারুক খন্দকার সাপলেজা ইউনিয়নের ছয় গ্রামে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপনের সত্যতা নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, আমাদের গ্রামে সুরেশ্বর পীরের অনুসারীরা আজ ঈদ উদযাপন করছেন। রোজার শেষে আজ আমাদের আনন্দে দিন।
এদিকে সুরেশ্বর পীরের অনুসারীরা যেন শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে ঈদ উদযাপন করতে পারে সে বিষয়ে বিভিন্ন ব্যবস্থা নিয়েছে পুলিশ।
হাসিবুল ইসলাম/অমিয়/