সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সীগঞ্জ ইউনিয়নের হরিনগরের সিংহরতলী গ্রামে ৬০ থেকে ৭০ ফুট বেড়িবাঁধ চুনকুড়ি নদীতে ধসে গেছে। যে অংশটুকু অক্ষত আছে। সেটাও যেকোনো মুহূর্তে ভেঙে যেতে পারে। স্থানীয়রা স্বেচ্ছাশ্রমে ও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) গাছ কেটে নদীর পাড়ে গেড়ে ও বালির বস্তা দিয়ে বাঁধ রক্ষা করার চেষ্টা করছেন। এ ছাড়াও রিং বাঁধের মাধ্যমে লোকালয়ে পানি প্রবেশ ঠেকানোর চেষ্টা করছেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, কয়েক দিন আগে বেড়িবাঁধটিতে ফাটল দেখা দিলে পাউবোকে জানানো হলেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। জরুরিভিত্তিতে বাঁধ রক্ষার চেষ্টা না করায় তা ধসে পড়ছে। বাঁধটি ভেঙে গেলে মুন্সীগঞ্জ ইউনিয়নের সিংহরতলী ও চুনকুড়ি গ্রামসহ পার্শ্ববর্তী ১০ থেকে ১৫টি গ্রাম প্লাবিত হবে। সেই সঙ্গে অনেক মাছের ঘের ভেসে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। সে জন্য চুনকুড়ি ও সিংহরতলীসহ পার্শ্ববর্তী গ্রামের বাসিন্দারা বাঁধ মেরামতে কাজ করছেন।
স্বেচ্ছায় ভাঙনরোধে কাজ করা মতলব হোসেন বলেন, ‘আমি যখন গত শনিবার সকালে শুনেছি আমাদের এলাকার চুনকুড়ি নদীর বাঁধ ভেঙে যাচ্ছে তখনই কাজে নেমে পড়েছি। এখানে এলাকাবাসীর সঙ্গে মিলে খেয়ে না খেয়ে গাছ কেটে সেগুলো বাঁধে গেড়েছি। সেই সঙ্গে বস্তায় বালি ভরে নদীতে ফেলছি যেন বাঁধ ভেঙে পানি আমাদের গ্রাম ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় প্রবেশ করতে না পারে। আমরা অনেক আতঙ্কে আছি। যেকোনো সময় আমাদের বাড়িঘরে পানি ঢুকে যেতে পারে। কয়েক দিন আগে এই স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছিল। সেই সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে পাউবোকে জানানো হয়েছিল। কিন্তু কাজের কাজ কিছু হয়নি। এখন এই স্থানে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। শেষ পর্যন্ত কী হবে আল্লাহ জানেন।’
এদিকে গত শনিবার সিংহরতলীর চুনকুড়ি নদীর ভাঙন পরিদর্শনে গিয়ে শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. রনী খাতুন জানান, দ্রুত সময়ের মধ্যে বাঁধটি মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
পাউবোর সাতক্ষীরা-১-এর উপ-সহকারী প্রকৌশলী প্রিন্স রেজা বলেন, গত শনিবার থেকে সিংহরতলী এলাকার বেড়িবাঁধ মেরামতের চেষ্টা করা হচ্ছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তারাও ভাঙন স্থানে থেকে কাজ তদারকি করছেন।
অন্যদিকে, আশাশুনিতে শ্রীউলা ইউনিয়নে খোলপেটুয়া নদীর বাঁধেও ভাঙন দেখা দিয়েছে। বাঁধ ছিদ্র হয়ে জনপদে জোয়ারের পানি ঢুকছে। স্থানীয়রা বলছেন, বাঁধটি সম্পূর্ণ ভেঙে গেলে পুরো ইউনিয়ন প্লাবিত হয়ে যাবে।