ইনতিশার হাসনাত। ছবি: সংগৃহীত
রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে গোসল করতে নেমে ইনতিশার হাসনাত (২২) নামে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক মেধাবী শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেলে হ্রদের চক্রপাড়া সংলগ্ন বালুচর এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। দীর্ঘ এক ঘণ্টার শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান শেষে সন্ধ্যার দিকে রাঙামাটি ফায়ার সার্ভিসের একটি ডুবুরি দল হ্রদের ২৫ ফুট গভীর তলদেশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহত ইনতিশার হাসনাত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক (আইআর) বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার শিলখালী ইউনিয়নের আলিচান মাতব্বর পাড়ার বাসিন্দা এবং চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক কলেজের উপাধ্যক্ষ মোঃ বেলাল উদ্দিন ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা শাহীন আখতার নাসরিন দম্পতির একমাত্র ছেলে।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম থেকে ইনতিশারসহ চার বন্ধু মিলে মঙ্গলবার রাঙামাটিতে বেড়াতে যান। বিকেলে তারা একটি নৌকা ভাড়া করে কাপ্তাই হ্রদ ভ্রমণে বের হন। নৌকাটি চক্রপাড়া সংলগ্ন বালুচর নামক স্থানে পৌঁছালে চার বন্ধু মিলে হ্রদের পানিতে গোসল করতে নামেন। সাঁতার কাটার একপর্যায়ে ইনতিশার বন্ধুদের অলক্ষ্যে হ্রদের গভীর পানিতে চলে যান এবং স্রোতের টানে তলিয়ে গিয়ে নিখোঁজ হন। বন্ধুরা তাঁকে খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়।
খবর পেয়ে রাঙামাটি ফায়ার স্টেশনের লিডার লিটন কান্তি দেবের নেতৃত্বে একটি বিশেষ ডুবুরি ইউনিট স্পিডবোটযোগে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক নিউটন দাস বলেন,
আমরা বিকেল ৫টার দিকে একজন পর্যটক নিখোঁজ হওয়ার খবর পাই। আমাদের ডুবুরি দল তাৎক্ষণিক উদ্ধার অভিযান শুরু করে। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় হ্রদের প্রায় ২৫ ফুট গভীর তলদেশ থেকে ওই শিক্ষার্থীকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারের পরপরই ইনতিশারকে ফায়ার সার্ভিসের অ্যাম্বুলেন্সে করে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে ফায়ার সার্ভিস নিশ্চিত করেছে।
একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে সম্পূর্ণ বাকরুদ্ধ ও শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছেন উপাধ্যক্ষ মোঃ বেলাল উদ্দিন ও শাহীন আখতার নাসরিন দম্পতি। ইনতিশারের একমাত্র বোনও ভাইয়ের এই আকস্মিক প্রস্থানে গভীর শোকে আচ্ছন্ন।
পারিবারিক ও ক্যাম্পাস সূত্রে জানা গেছে, ইনতিশার ছিলেন অত্যন্ত ভদ্র, নম্র ও সম্ভাবনাময় একজন তরুণ। শিক্ষাজীবনে তার মেধা ও বিনয়ী আচরণ শিক্ষক-সহপাঠী সবার প্রশংসা কুড়িয়েছিল। তার এই মৃত্যুতে পরিবার, চবি ক্যাম্পাস এবং পেকুয়ার নিজ এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
রকিবুল হাসান/এসএন