ঢাকা ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
গোলের চেয়ে লাল কার্ড বেশি, লজ্জার ইতিহাস ৪০ বছর বয়সেও অদম্য জিকো মাঠে উল্লাস, বাইরে মৃত্যু বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে ৩ লাল কার্ড, জয়ে শুরু মেক্সিকোর বিশ্বকাপ ফুটবল ও গাজাবাসীর বাস্তবতা কানাডার স্বপ্নযাত্রা নাকি বসনিয়ার চমক? রিয়াল মাদ্রিদের কোচ হলেন মরিনিও পেনাল্টি শূন্য ম্যারাডোনা কুইনোনসের গোলে প্রথমার্ধে এগিয়ে মেক্সিকো ৬০০ ভক্তের যাতায়াত খরচ দেবেন জার্মানির ফুটবলাররা ‘ফিফা বিশ্বের রাজা নয়’ শাকিরার সুরের মূর্ছনায় বিশ্বকাপের বর্ণিল উদ্বোধন দর্শকের ভালোবাসাই আমার জীবনের সেরা প্রাপ্তি: সূচরিতা বিইউপি মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন ক্লাবের আয়োজনে আনস্ক্রিপ্টেড ১.০ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট দলে তাওহিদ-রবিউল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি দল ঘোষণা বাংলাদেশের খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আগুন, নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস পরাশক্তিরা যেদিন মাঠ ছেড়েছিল কান্নাভেজা চোখে দেশে ফের ভূমিকম্প অনুভূত আবারও রক্তাক্ত কাশ্মীর, সংঘর্ষে নিহত ১৬ সরকারের এই বাজেট ঐতিহাসিক প্রস্তাবিত বাজেট রাজনৈতিক চমকবাজি ছাড়া আর কিছু নয়: জাসদ ক্রিকেটার নাসির-তামিমাকে খালাস দেওয়ার পেছনে বিচারকের পর্যবেক্ষণ জাতীয় সংসদের জন্য বরাদ্দ ২৯১ কোটি টাকা বাজেট ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ: ইসি পাবে ৪ হাজার ৪০১ কোটি টাকা বড় বাজেটের বোঝা কী জনগণের ঘাড়েই, প্রশ্ন বাসদের আবাসন বৃত্তির অর্থ পাচ্ছে জবি শিক্ষার্থীরা ‘ফাঁপা’ বাজেটে বৈষম্য বাড়বে: সিপিবি জুনের শেষে প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর: ডেপুটি স্পিকার অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে টাইগারদের ওয়ানডে সিরিজ জয়
Nagad desktop

রূপগঞ্জে মুচলেকা দিয়ে মাদকব্যবসা ছাড়লেন নারীসহ ৭ জন

প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২৫, ১০:৫৩ এএম
রূপগঞ্জে মুচলেকা দিয়ে মাদকব্যবসা ছাড়লেন নারীসহ ৭ জন
ছবি: খবরের কাগজ

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে এলাকাবাসীর চাপে স্ট্যাম্পে মুচলেকা দিয়ে মাদক ব্যবসা ছেড়ে দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন আজগর, সুফি বেগম, রাবি বেগম, শ্যামল মিয়া, রিপন মিয়া, বিল্লাল মিয়া ও আলম মিয়া নামে স্থানীয় সাত চিন্তিত মাদক ব্যবসায়ী।

শনিবার (২৬ জুলাই) দুপুরে উপজেলার তারাব পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের মৈকুলী এলাকায় তারা এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে এ অঙ্গীকার করেন।

এলাকাবাসী জানান, আলী আজগর, সুফি বেগম, রাবি বেগম, শ্যামল মিয়া, রিপন মিয়া, বিল্লাল মিয়া ও আলম মিয়া মৈকুলী এলাকায় বড় মাদকের ডিলার হিসেবে পরিচিত। তারা মৈকুলীসহ উপজেলার বিভিন্নস্থানে তাদের লোকজন দিয়ে খুচরা ও পাইকারিভাবে মাদক বিক্রি করে আসছিলেন। গত বৃহস্পতিবার (২৪  জুলাই) রাতে মৈকুলী এলাকায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিসহ এলাকাবাসী মাদকবিরোধী একটি সভার আয়োজন করে। সভায় সিদ্ধান্ত হয় মৈকুলী এলাকায় কাউকে মাদক ব্যবসা করতে দেওয়া হবে না। মাদক ব্যবসা রোধে এলাকায় স্থানীয়রা অভিযান চালিয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের আটক করে পুলিশে সোপর্দ করবেন। এর প্রেক্ষিতে শুক্রবার (২৫ জুলাই) সন্ধ্যায় ৪২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে পিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেন এলাকাবাসী। এতে মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। 

এর পর শনিবার দুপুরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিসহ এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে মাদক ব্যবসায়ী আলী আজগর, সুফি বেগম, রাবি বেগম, শ্যামল মিয়া, রিপন মিয়া, বিল্লাল মিয়া ও আলম মিয়া স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে মাদক ব্যবসা ছেড়ে দেওয়ার অঙ্গীকার করেন।

এ সময় মাদক ব্যবসায়ীরা বলেন, 'আমরা পুলিশকে মাসোহারা দিয়েই মাদক ব্যবসা করতাম। এলাকাবাসীর চাপে আমরা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে অঙ্গীকার করছি আমরা আর মাদকব্যবসা করব না। যদি আমরা মাদক ব্যবসা করি তাহলে এলাকাবাসী আমাদের পুলিশের কাছে সোপর্দ করতে পারবে।'  

এ ব্যাপারে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, 'মাদকব্যবসা রোধে এ ধরনের উদ্যোগ অবশ্যই ভাল। তবে এতে যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না হয়। মাদক রোধে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

পুলিশের মাসোয়ারার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'তাদের কাছ থেকে পুলিশের কে? কত টাকা? নেয় সেটি সুনির্দিষ্টভাবে বললে তার বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এভাবে ঢালাওভাবে বললে তো আর হবে না।'

রুবেল/মেহেদী/

খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আগুন, নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ১০:৫৫ পিএম
খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আগুন, নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস
ছবি: সংগৃহীত

খুলনা সিটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভয়াবহ আগুন লেগেছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট কাজ করছে। 

ফায়ার সার্ভিসের কর্মী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হাসপাতালে থাকা রোগী ও তাদের স্বজনরা আগুন লাগার পর আতঙ্কিত হয়ে বাইরে ছুটে আসছেন। এরই মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে ফায়ার সার্ভিস।

 তবে তাৎক্ষণিকভাবে আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, সে বিষয়ে কিছু জানা যায়নি। ১১, ১২, ১৩ তলায় আগুনের সূত্রপাত হলে মুহূর্তের মধ্যে ১৭ তলা হাসপাতাল ভবন ধোঁয়াচ্ছন্ন হয়ে যায়। রোগী এবং তাদের স্বজনরা দ্রুত সড়কে নেমে আসেন। এ সময় হুড়োহুড়িতে কয়েকজন আহত হন।

গত ২০ মে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের তৃতীয় তলায় আগুন লেগেছিল। সেই রেশ না কাটতেই খুলনা সিটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আগুন লাগায় আতঙ্ক ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

এসএন/

যশোরে স্ত্রীকে বেঁধে রেখে স্বামীকে কুপিয়ে হত্যা

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৮:৩৮ পিএম
যশোরে স্ত্রীকে বেঁধে রেখে স্বামীকে কুপিয়ে হত্যা
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

যশোরের চৌগাছা উপজেলায় জুয়েল আহমেদ রানা (৩৫) নামের এক যুবককে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে চৌগাছা উপজেলার পাতিবিলা ইউনিয়নের মুক্তদাহ মোড়ে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

নিহত জুয়েল রানা মুক্তদাহ গ্রামের ওয়াদুদ খন্দকারের ছেলে। তিনি দিনমজুরি ও গ্রামে গ্রামে কসমেটিক্স বিক্রি করে সংসার চালাতেন বলে জানিয়েছেন জুয়েল রানার স্ত্রী মায়া বেগম। 

স্থানীয়রা জানান, রাজনৈতিক কথা-বার্তা নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে মুক্তদাহ গ্রামের ইউসুফ, কাশেম, বাবু, সুমনসহ ৫/৬ জন দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে জুয়েলের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা কুপিয়ে ও পিটিয়ে জুয়েলের দুই পা ভেঙে দেয়। 

গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা জুয়েলকে উদ্ধার করে প্রথমে চৌগাছা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। দুপুর ১২টার দিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মোবাশ্বের হোসেন জুয়েল রানাকে মৃত ঘোষণা করেন। 

স্থানীয়রা জানান, নিহত জুয়েল আওয়ামী লীগ সমর্থক ছিলেন। তবে জুয়েলের স্ত্রী মায়া বেগম দাবি করেন, তার স্বামী কোনো রাজনীতির সাথে জড়িত ছিল না। স্থানীয় সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের কর্মকাণ্ড দেখে ফেলার কারণেই তার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে। 

মায়া বেগম জানান, বাড়ির পাশে মুক্তাদাহ মোড়ে একটি চায়ের দোকানে তার স্বামী ওপর হামলা করে দুর্বৃত্তরা। এসময় মায়া বেগম তাদের বাঁধা দিতে গেলে তাকে চায়ের দোকানের পিলারের সাথে বেঁধে রেখে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। 

যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মোবাশ্বের হোসেন বলেন, দুপুর ১২টার দিকে জুয়েল আহমেদ রানাকে হাসপাতালে আনা হয়। তার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ব্যান্ডেজ করা ছিল। ইসিজি করার পর নিশ্চিত হয়ে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। 

চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মামুনুর রশিদ বলেন, হত্যাকাণ্ডের খবর পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে এবং হত্যাকারীদের ধরতে অভিযান চালানো হবে। 

এইচ আর তুহিন/এসএন

টেকনাফ সীমান্তে র‌্যাবের অভিযানে ১৫ কোটি টাকার ইয়াবাসহ দুই রোহিঙ্গা আটক

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৬:১২ পিএম
টেকনাফ সীমান্তে র‌্যাবের অভিযানে ১৫ কোটি টাকার ইয়াবাসহ দুই রোহিঙ্গা আটক
ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে আন্তর্জাতিক মাদক পাচারকারী চক্রের সদস্য সন্দেহে দুই রোহিঙ্গাকে আটক করেছে র‌্যাব। এ সময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ১৫ কোটি টাকা মূল্যের ৫ লাখ ইয়াবা।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে র‌্যাব-১৫ এর কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র‌্যাব-১৫ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মোস্তাফিজুর রহমান।

আটকরা হলেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের বুচিডং জেলার মংডু থানার হায়েংখালী গ্রামের মৃত নূর মোহাম্মদ সায়েদের ছেলে মো. সাজেদ (৩২) এবং একই এলাকার মো. আব্দুল হামিদের ছেলে এনামুল হাসান (৩৩)।

সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-১৫ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার ভোর রাতে টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের নাফ নদীর মন্ডলপাড়া সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমার থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক পাচারের গোপন তথ্য পায় র্যাব। তথ্যের ভিত্তিতে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের একপর্যায়ে নাফ নদীর শূন্যরেখা অতিক্রম করে মিয়ানমারের দিক থেকে আসা ৭ থেকে ৮ জন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে স্থানীয় এক ব্যক্তির জমিতে অবস্থান করতে দেখা যায়। র্যাব সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পালানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া দিয়ে দুইজনকে আটক করা হয়। তবে অন্যরা কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পরে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে দুটি বস্তার ভেতর থেকে ৫ লাখ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ১৫ কোটি টাকা।

র‌্যাব-১৫ অধিনায়ক আরও জানান, আটক দুইজন এবং পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিরা সবাই মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিক এবং একটি আন্তর্জাতিক মাদক পাচারকারী চক্রের সদস্য। সীমান্তের এপারে মাদকের বড় চালান পৌঁছে দেওয়াই তাদের মূল কাজ। এ ঘটনায় আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে টেকনাফ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন র‌্যাবের এই কর্মকর্তা।

তারেকুর রহমান/এসএন 

নোয়াখালীতে মাদকসেবীদের হামলায় যুবক নিহত, গ্রেপ্তার ১

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৬:০৫ পিএম
নোয়াখালীতে মাদকসেবীদের হামলায় যুবক নিহত, গ্রেপ্তার ১
আরাফাত হোসেন ফাহিম। ছবি: সংগৃহীত

নোয়াখালীর সেনবাগে গাঁজা সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে মাদকসেবীদের হামলায় আরাফাত হোসেন ফাহিম (২২) নামে এক যুবক নিহত হয়েছে।

বুধবার (১০ জুন) রাত ১০টার দিকে নবীপুর ইউনিয়নের সোমবারিয়া বাজার সংলগ্ন বেলাল মাস্টারের বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আরাফাত হোসেন ফাহিম নবীপুর ইউনিয়নের দেবী সিংহপুর গ্রামের শাহজাহান সাজুর ছেলে।

এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত এলাকার চিহ্নিত মাদকসেবী হারুন মিয়াকে (২৬) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি একই গ্রামের জয়নাল আবেদীনের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, বুধবার রাতে দেবী সিংহপুর গ্রামের হারুন মিয়া (২৬), আমিনুল্লাহর ছেলে মমিন (২২) এবং মমিন উল্লাহর ছেলে জাহাঙ্গীর (২৪) একত্রিত হয়ে বেলাল মাস্টারের বাড়ির সামনে গাঁজা সেবন করছিলেন।

​এ সময় একই গ্রামের শাহজাহান সাজুর ছেলে আরাফাত হোসেন ফাহিম (২২), দুলালের ছেলে রিফাত (২৩) এবং শাহাবুদ্দিনের ছেলে শাকিব (২১) তাদের গাঁজা সেবনে বাধা দেন। এই নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে ধাক্কাধাক্কি ও সংঘর্ষে রূপ নেয়।

এতে গাঁজা সেবনকারী হারুন এবং বাধা প্রদানকারী আরাফাত হোসেন ফাহিম ও শাকিবসহ উভয় পক্ষের চারজন গুরুতর আহত হন।

তাদেরকে উদ্ধার করে নোয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত পৌনে ১১টায় ফাহিমের মৃত্যু হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ( প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে হত্যায় অভিযুক্ত একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।


ইকবাল হোসেন মজনু /এসএন

রাজশাহীতে ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগারে শেখ হাসিনা ও বঙ্গবন্ধুর বই নিয়ে ছাত্রদলের আপত্তি, অপসারণের নির্দেশ ডিসির

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৫:৫৭ পিএম
রাজশাহীতে ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগারে শেখ হাসিনা ও বঙ্গবন্ধুর বই নিয়ে ছাত্রদলের আপত্তি, অপসারণের নির্দেশ ডিসির
ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহীতে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের একটি ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগারের গাড়িতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন ব্যক্তিকে নিয়ে লেখা বই সংরক্ষিত থাকার অভিযোগে গাড়িটি আটকের ঘটনা ঘটেছে।

বুধবার (১১ জুন) দুপুরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা গাড়িটি আটকের পর জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয়ে নিয়ে যান। পরে জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম গ্রন্থাগার কর্তৃপক্ষকে সংশ্লিষ্ট বইগুলো সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তর ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগার প্রকল্পের একটি গাড়ি বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজশাহী কলেজ প্রাঙ্গণে অবস্থান করছিল। এ সময় ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী সেখানে থাকা কিছু বই নিয়ে আপত্তি তোলেন। পরে রাজশাহী মহানগর ছাত্রদলের সদস্য সচিব এমদাদুল হক লিমনের নেতৃত্বে গাড়িটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নেওয়া হয়।

জেলা প্রশাসকের নির্দেশনার পর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগারের রাজশাহী ইউনিটের ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলম একটি লিখিত অঙ্গীকারনামা দেন। এতে তিনি উল্লেখ করেন, সংশ্লিষ্ট বইগুলো দ্রুত অপসারণ করা হবে এবং ভবিষ্যতে এসব বই পাঠকদের জন্য প্রদর্শন বা বিতরণ করা হবে না। পাশাপাশি ঘটনার জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

তবে, রাজশাহী মহানগর ছাত্রদলের সদস্য সচিব এমদাদুল হক লিমন বলেন, ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগারে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন ব্যক্তিকে নিয়ে লেখা বই পাওয়া গেছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও এসব বই পাঠকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছিল বলে দাবি করেন তিনি।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এসব বই নিষিদ্ধ কি না, সে সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নেবে। তবে দেশের বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের বই সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা বাস্তবায়িত হলেও রাজশাহীতে তা হয়নি। একই সঙ্গে এ ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তিনি।

রাজশাহী মহানগর ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক খালিদ বিন ওয়ালিদ আবির বলেন, '৫ আগস্টের পরও রাজশাহী কলেজে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগারে ফ্যাসিবাদের আমলের বই সংরক্ষিত থাকার প্রমাণ আমরা পেয়েছি। সেখানে এমন অনেক বই ছিল, যেগুলো ফ্যাসিস্ট শাসনের সময়কার মিথ্যা বয়ান বহন করে। গ্রন্থাগারটির প্রায় ৮০ শতাংশ বই ওই সময়ের বলে আমাদের কাছে মনে হয়েছে। অন্য জায়গা থেকে এসব বই সরিয়ে নেওয়া হলেও এখানে রাখা হয়েছে। বিষয়টি আমাদের বিস্মিত করেছে।'

অন্যদিকে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগারের রাজশাহী ইউনিটের ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, 'বইগুলো আগে থেকেই ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগারে ছিল। প্রায় এক বছর প্রকল্পটি বন্ধ ছিল এবং গাড়িটি প্রধান কার্যালয়ে অবস্থান করছিল। ৫ আগস্টের পর বইগুলো আমরা ব্যবহার থেকে প্রত্যাহার করেছিলাম। তবে সংরক্ষণের জন্য আলাদা কোনো জায়গা না থাকায় সেগুলো গাড়ির ভেতরে আড়াল করে রাখা হয়েছিল, যাতে পাঠকেরা দেখতে না পান। পরে কিছু পাঠক খুঁজে বের করে বইগুলো এলোমেলো করে রাখেন।'

তিনি আরও বলেন, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিষয়টি তাদের নজরে এনেছেন এবং তারা দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন।

এনায়েত করিম/এসএন