ঢাকা ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, রোববার, ০৭ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
রাসুল (সা.) যেভাবে চুল রাখতেন রামিসা হত্যাকাণ্ড: আদালতে আনা হলো আসামি সোহেল-স্বপ্নাকে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে আজ থেকে সোনারগাঁয় ফয়জুলের মৃত্যুর ঘটনায় বিচার দাবিতে মানববন্ধন সক্ষমতা বাড়াতে সুপরিকল্পিত বাজেটের তাগিদ টেকনাফ দিয়ে মাছ ধরা নৌকায় মানবপাচার প্রাকৃতিকভাবেই এইচআইভি দমনে সক্ষম দুই নারীর গল্প ঝিনাইদহে শিশু ধর্ষণের অভিযোগে গ্রাম্য চিকিৎসক আটক নিশ্চিহ্নের পথে শেরেবাংলার জন্মভিটা শিশু রামিসা হত্যা মামলার রায় আজ আম পাড়া নিয়ে ব্যস্ত মৌসুমি শ্রমিকরা মিউচুয়াল ফান্ড ও মার্জিন ঋণ বিধিমালা বাতিলের দাবি খুলনায় ধারাবাহিক খুন-চাঁদাবাজিতে উদ্বেগ, কাজে আসছে না বিশেষ অভিযানও নারায়ণগঞ্জে এনসিপির অনুষ্ঠানের চেয়ার টেবিল ভাঙচুর, আহত ১০ জয়পুরহাটে দিনমজুরকে পিটিয়ে হত্যা গ্রাহকের ব্যানারে আন্দোলনে ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তারা এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার বিষয় ও কর্মদিবস কমানোর পরিকল্পনা ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন যুগের সূচনা পুঁজিবাজারে লেনদেন বেড়েছে ৪৫ শতাংশ সাভারে তিন কারখানা থেকে ১৮৬৮ শ্রমিক অব্যাহতি এখনো উৎপাদনে আসেনি বন্ধ চিনিকল ৭ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল সিরাজগঞ্জে ৪০০ একর জমির ওপর শিল্প পার্ক ৭ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল ‘বরফ চিবিয়ে’ দিন পার, হামাগুড়ি দিয়ে বেস ক্যাম্পে ফেরা, বেঁচে ফেরা পর্বতারোহীর রোমহর্ষক বর্ণনা বন্ধ কারখানা চালু হলে গতি ফিরবে অর্থনীতিতে ময়মনসিংহে বাড়তি ভাড়া আদায়ে যাত্রীদের ভোগান্তি দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র সমাবেশ যত আক্রোশ মুক্তিযুদ্ধে ৭ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
Nagad desktop

সাদা পাথর লুটের তদন্তকালে ইউএনও বদলি

প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৫, ০৮:৩৯ পিএম
আপডেট: ১৮ আগস্ট ২০২৫, ০৯:১৯ পিএম
সাদা পাথর লুটের তদন্তকালে ইউএনও বদলি
বদলি হওয়া কোম্পানীগঞ্জের ইউএনও আজিজুন্নাহার। ছবি: সংগৃহীত

পাথর লুটে আলোচিত পর্যটনকেন্দ্র সাদা পাথরের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন জমা দিতে না পেরে আরও তিনদিন সময় চেয়েছিল। সময় দেওয়ার পরদিনই প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির অন্যতম সদস্য কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আজিজুন্নাহারকে। সাদা পাথর এলাকা কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার অধীন।

সোমবার (১৮ আগস্ট) সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে আজিজুন্নাহারকে কোম্পানীগঞ্জ থেকে প্রত্যাহার করে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জের ইউএনও হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। আর ফেঞ্চুগঞ্জের ইউএনও মোহাম্মদ শফিকুল ইসলামকে কোম্পানীগঞ্জের ইউএনও করা হয়েছে। তদন্তকালে ইউএনও প্রত্যাহার করা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে এ ব্যাপারে বিভাগীয় কমিশনারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এর আগে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রতন কুমার অধিকারীকেও বদলি করে তিনদিন পর আবার পুনর্বহাল করেছিলেন বিভাগীয় কমিশনার।

জানা গেছে, গত ১২ আগস্ট পাথর লুট ও চুরির ঘটনায় তৎকালীন জেলা প্রশাসক শের মাহবুব মুরাদ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) পদ্মাসন সিংহকে প্রধান করে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কমিটির বাকি দুই সদস্য হলেন- কোম্পানীগঞ্জের ইউএনও আজিজুন্নাহার ও পরিবেশ অধিদপ্তরের একজন সহকারী পরিচালক। ১৭ আগস্ট তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা ছিল। তদন্ত কমিটির প্রধান ও সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) পদ্মাসন সিংহ তদন্তের সময় বাড়ানোর বিষয়টি খবরের কাগজকে নিশ্চিত করেন। তবে তদন্ত দলের একজন সদস্য বদলিজনিত অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

প্রশাসনের একটি সূত্র জানায়, গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্য কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আজিজুন্নাহারের বিরুদ্ধে রয়েছে পাথর লুটপাট ঠেকাতে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগ। তাই তাকে কমিটিতে রাখায় পাথর লুটপাটের সঠিক তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এর মধ্যে ইউএনওকে বদলি করে পুরো ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার বিষয়টি দৃশ্যমান হয়েছে বলে মনে করছেন পরিবেশবাদীরা।

পরিবেশবাদী সংগঠন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) সিলেটের সদস্য সচিব আব্দুল করিম চৌধুরী কিম খবরের কাগজকে বলেন, এভাবে বদলির অর্থ হলো দৃশ্যের আড়াল করে রাখা। এ ক্ষেত্রে বিভাগীয় কমিশনারের ভূমিকা ঊর্ধ্বতনদের নজর দেওয়া উচিত। কেননা, লুটকাণ্ড প্রশাসনিক প্রশ্রয় ছিল। প্রশাসনের মূল কর্তাব্যক্তি হচ্ছেন বিভাগীয় কমিশনার।

 

 

সোনারগাঁয় ফয়জুলের মৃত্যুর ঘটনায় বিচার দাবিতে মানববন্ধন

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৯:৩৫ এএম
আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬, ০৯:৪৮ এএম
সোনারগাঁয় ফয়জুলের মৃত্যুর ঘটনায় বিচার দাবিতে মানববন্ধন
ছবি: সোনারগাঁওয়ে ফয়জুলের মৃত্যুর ঘটনায় বিচার দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল।(সংগৃহীত)

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয় মাদক নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফয়জুল মিয়ার (৫৫) মৃত্যুর ঘটনায় বিচার দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন তার স্বজন ও এলাকাবাসী।

শনিবার (৬ জুন) বিকেলে সোনারগাঁও উপজেলা পরিষদের প্রধান ফটকের সামনে নিহতের পরিবারের উদ্যোগে মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। 

এতে স্বজন, প্রতিবেশী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। ঘটনার তিন দিন পেরিয়ে গেলেও মামলার প্রধান আসামিদের গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তারা।

মানববন্ধনে ফয়জুল মিয়ার মৃত্যুতে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, সুষ্ঠু তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।

কর্মসূচিতে ফয়জুল মিয়ার স্ত্রী মাসুদা বেগম বলেন, ‘আমার স্বামীকে সুস্থ অবস্থায় চিকিৎসার জন্য সেখানে দেওয়া হয়েছিল। নিরাময় কেন্দ্রের মালিক সজীব, রকি এবং তাদের সহযোগীদের নির্মম নির্যাতন ও মারধরের কারণেই আমার স্বামীর মৃত্যু হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যেই তার লাশ ফিরে এসেছে। আমি আমার স্বামীর হত্যার বিচার চাই। যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।’

নিহতের বড় মেয়ে নুরজাহান বেগম বলেন, ‘আমরা বাবাকে বাঁচানোর জন্য নিরাময় কেন্দ্রে দিয়েছিলাম। কিন্তু বাবাকে আর জীবিত ফিরে পাইনি।  সন্তানের কাছে বাবাকে হারানোর বেদনা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আমরা শুধু ন্যায় বিচার চাই।’

স্থানীয় সূত্র ও পরিবার জানায়, উপজেলার বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের হাড়িয়া চৌধুরীপাড়া এলাকায় অবস্থিত একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে গত বুধবার (৩ জুন) রাতে ফয়জুল মিয়ার মৃত্যু হয়। তিনি দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন।

এ ঘটনায় তার বড় মেয়ে নুরজাহান বেগম বাদী হয়ে সোনারগাঁ থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া এলাকাবাসীও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান। তাদের অভিযোগ, নিরাময় কেন্দ্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। তাই দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান তারা।

মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল উপজেলা পরিষদ এলাকা প্রদক্ষিণ করে।

মো: ইমরান হোসেন/খাদিজা রুমি/

টেকনাফ দিয়ে মাছ ধরা নৌকায় মানবপাচার

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৯:২৫ এএম
আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬, ০৯:৩৭ এএম
টেকনাফ দিয়ে মাছ ধরা নৌকায় মানবপাচার
ছবি: খবরের কাগজ

কক্সবাজারের টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের একটি স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে আল শাহারিয়া। কয়েক দিন আগে বলীখেলা দেখতে যাওয়ার পথে সে অপহরণের শিকার হয়। দুই অজ্ঞাত ব্যক্তি তাকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নেয়। এরপর তার খোঁজ মিলছিল না। গত শুক্রবার রাতে তাকে উদ্ধার করে কোস্টগার্ড। বাহারছড়ার মারিচবনিয়া উপকূল দিয়ে সাগরপথে তাকে ট্রলারে করে মালয়েশিয়া পাচার করা হচ্ছিল। ওই ট্রলারে অভিযান চালিয়ে আল শাহারিয়াসহ ৫০ জনকে উদ্ধার করে কোস্টকার্ড। এ সময় আটক করা হয় মানব পাচারে জড়িত ৯ জনকে।

শাহারিয়ার দাবি, ফারুক নামে এক ব্যক্তি তাকে মানবপাচারকারী দালাল চক্রের কাছে বিক্রি করে দিয়েছিল।

অভিযানে উদ্ধার ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, বিদেশে উন্নত জীবন ও উচ্চ বেতনে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাদের সংঘবদ্ধ মানব পাচারকারী চক্র টেকনাফে নিয়ে আসে। পরে তাদের গোপন আস্তানায় আটকে রেখে পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায় করা হয়। এরপর সুযোগ বুঝে তাদের সাগরপথে মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে পাচারের পরিকল্পনা করে। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে অনেককে অপহরণ করে এনেও পাচারের চেষ্টা ও মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনা রয়েছে। 

অভিযোগ রয়েছে, টেকনাফের বিভিন্ন উপকূলীয় নৌঘাট ও সংলগ্ন এলাকা দীর্ঘদিন ধরে মানবপাচারকারীদের রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। স্থানীয়দের দাবি, এসব এলাকা থেকে নৌপথে বিভিন্ন ধরনের অবৈধ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। চিহ্নিত ঘাটগুলোর মধ্যে রয়েছে বাহারছড়া ইউনিয়নের নোয়াখালীপাড়া, শীলখালী, বড় ডেইল, কচ্ছপিয়া, মাথাভাঙ্গা ও মারিচবনিয়া নৌঘাট।

গতকাল শনিবার কেরুনতলি টেকনাফ কোস্টগার্ড স্টেশনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাহিনীটির স্টেশন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মুত্তাকীন সিদ্দিকী বলেন, বিপুলসংখ্যক মানুষকে সাগরপথে মালয়েশিয়ায় পাচারের প্রস্তুতি চলছে—এমন গোপন তথ্যে গত শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত অভিযান চালানো হয়। এ সময় একটি সন্দেহভাজন ট্রলারকে থামার সংকেত দিলে সেটি পালানোর চেষ্টা করে। পরে ধাওয়া করে টেকনাফের বাহারছড়াসংলগ্ন সমুদ্র এলাকায় এটিকে থামানো হয়। এ সময় ৫০ ভুক্তভোগীকে উদ্ধার ও ৯ পাচারকারীকে আটক করা হয়। 

মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আটক ট্রলারের স্টাফরা অবশ্য নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন। বলেছেন, মাছ ধরার কথা বলে তাদের সমুদ্রে নামানো হয়। পরে ট্রলারমালিক তাদের মানুষ টানতে বাধ্য করেন। স্টাফদের একজন সিরাজুল ইসলাম। তিনি জানান, তাকে মাছ ধরতে যাওয়ার কথা বলে ট্রলারে আনা হয়েছিল। তারা দুই দিন সাগরে মাছ শিকার করেন। পরে হঠাৎ জাল তুলে ট্রলারটি টেকনাফের বাহারছড়া মরিশবুনিয়াসংলগ্ন সাগরে নোঙর করা হয়। 

তিনি বলেন, ‘ট্রলারে মোট ১৪ জন মাঝি-মাল্লা ছিলেন। একপর্যায়ে একটি ছোট মাছ ধরার ডিঙি নৌকায় করে কয়েকজন লোককে এনে ট্রলারে তোলা হয়। বিষয়টি মাঝির কাছে জানতে চাইলে তিনি তখন জানান, এটি মালিকের নির্দেশে করা হয়েছে। পরে ওই লোকজন রাতেই ট্রলারে অবস্থান নেন।’ 
সিরাজুল জানান, পরে কোস্টগার্ড ট্রলারটি ঘিরে ফেলে। এ সময় মাঝি শাহীনসহ কয়েকজন সাগরে লাফ দিয়ে পালিয়ে যান। তিনি দাবি করেন, ট্রলারের মালিক জসিম এবং মাঝি শাহীন হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ করে এসব অপকর্ম করতেন। তাদের মাছ ধরার কাজের কথা বলে ট্রলারে আনা হলেও প্রকৃতপক্ষে অন্য উদ্দেশ্যে ট্রলারটি ব্যবহার করা হচ্ছিল।

টেকনাফের নোয়াখালীপাড়া এলাকার বাসিন্দা ও চলচ্চিত্র অভিনেতা ইলিয়াস কোবরা বলেন, ‘নোয়াখালীপাড়া থেকে বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের দূরত্ব প্রায় ২৫ কিলোমিটার। এই দীর্ঘ দূরত্বের সুযোগ নিয়ে পাহাড়ি সন্ত্রাসীরা ডাকাতি, অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধ সংঘটিত করে দ্রুত পাহাড়ে পালিয়ে যায়। এলাকাবাসীর নিরাপত্তার স্বার্থে নোয়াখালীপাড়ায় একটি পুলিশ চৌকি স্থাপন করা জরুরি।’

বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক আবু সাঈদ জানান, মানবপাচার, অপহরণ ও অন্যান্য অপরাধ প্রতিরোধে উপকূলীয় ও পাহাড়ি এলাকায় টহল কার্যক্রম এবং চেকপোস্টের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে ১০০ সদস্যের একটি গ্রাম প্রতিরোধ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা শিগগিরই বাস্তবায়ন করা হবে।

নিশ্চিহ্নের পথে শেরেবাংলার জন্মভিটা

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৯:১২ এএম
আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬, ০৯:১৪ এএম
নিশ্চিহ্নের পথে শেরেবাংলার জন্মভিটা
ঝালকাঠির রাজাপুরের সাতুরিয়া গ্রামে অযেত্ন পড়ে থাকা শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের জন্মভিটা। ছবি: খবরের কাগজ

ঝালকাঠির রাজাপুরের সাতুরিয়া গ্রামে দাঁড়িয়ে আছে এক নীরব ইতিহাস। ভাঙাচোরা দেয়াল, খসে পড়া পলেস্তারা আর আগাছায় ঢেকে যাওয়া প্রাঙ্গণ-এ সবকিছুর মাঝেই যেন হারিয়ে যেতে বসেছে বাংলার কিংবদন্তি নেতা শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের জন্মভিটা।

একসময় যে জমিদারবাড়ির আঙিনায় ছিল মানুষের পদচাণ ও প্রাণচাঞ্চল্য, সেখানে এখন নেমে এসেছে গভীর নীরবতা। অবিভক্ত বাংলার এই প্রখ্যাত রাষ্ট্রনায়ক, কৃষক-প্রজার অধিকার আন্দোলনের অগ্রদূত ও ‘শেরেবাংলা’ খ্যাত এ কে ফজলুল হক ১৮৭৩ সালের ২৬ অক্টোবর এই বাড়িতেই জন্মগ্রহণ করেন। অথচ শতবর্ষ পেরিয়ে সেই ঐতিহাসিক স্থাপনাই আজ অবহেলা ও অযত্নে ধুঁকছে।

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার সাতুরিয়া ইউনিয়নের মিয়া বংশের পুরোনো জমিদারবাড়িতে পা রাখলেই চোখে পড়ে শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের স্মৃতিবিজড়িত জন্মভিটা। একসময় ঐতিহ্যবাহী এই ভবনটি এখন জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। ভাঙাচোরা দেয়াল, খসে পড়া পলেস্তারা আর আগাছায় ঢেকে যাওয়া আঙিনা যেন দীর্ঘদিনের অবহেলা আর অযত্নের সাক্ষ্য বহন করছে। কোথাও কোথাও উন্মুক্ত হয়ে আছে শতবর্ষী ইটের গাঁথুনি, আবার বিভিন্ন দেয়ালে দেখা দিয়েছে ফাটল। চারপাশজুড়ে ঝোপঝাড়ের বিস্তার ভবনটিকে আরও নিঃসঙ্গ করে তুলেছে। দীর্ঘদিন ধরে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে স্থাপনাটির ঐতিহ্য ও সৌন্দর্য অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, দিনের বেলাতেও নির্জন ও অযত্নে পড়ে থাকা ভবনটি অনেকটা পরিত্যক্ত বাড়ির মতো। অথচ এই জন্মভিটা বহন করছে বাংলার ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের স্মৃতি। প্রতিবছর দেশ-বিদেশের গবেষক, শিক্ষার্থী ও ইতিহাস-অনুরাগীরা শেরেবাংলার স্মৃতিবিজড়িত এই স্থান দেখতে আসেন। তবে জরাজীর্ণ ভবন ও অব্যবস্থাপনা দেখে অনেকেই হতাশ হয়ে ফিরে যান।

স্থানীয়রা জানান, ২০১০ সালের ১৮ মার্চ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর শেরেবাংলার জন্মভিটাকে সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসেবে গেজেটভুক্ত করে। একই বছর একটি নামফলক স্থাপন ও সীমিত পরিসরে সংস্কারকাজ করা হয়। পরে ২০১৭ সালে ভবনের ছাদের কিছু অংশ মেরামত করা হলেও এরপর আর কোনো উল্লেখযোগ্য কাজ হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা মাহবুবুর রহমান বলেন, সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসেবে ঘোষণার পর এলাকাবাসী আশা করেছিলেন জন্মভিটাটি একটি আকর্ষণীয় ঐতিহাসিক স্থানে পরিণত হবে। কিন্তু বাস্তবে তেমন কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। দ্রুত সংস্কার না হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হয়তো বইয়ের পাতাতেই শেরেবাংলার জন্মভিটার কথা পড়বে।

শেরেবাংলার নিকটাত্মীয় হোসনেয়ারা বেগম বুলু দীর্ঘদিন ধরে ভবনটির একটি অংশে বসবাস করছেন। তিনি বলেন, কয়েক বছর আগে ছাদের কিছু অংশ মেরামত করা হয়েছিল। এরপর আর কেউ খোঁজ নিতে আসেনি। বৃষ্টি, রোদ ও সময়ের ক্ষয়ে ভবনটির অবস্থা ক্রমেই খারাপ হচ্ছে।

ইতিহাসবিদ সিরাজ উদ্দিন আহমদের মতে, সাতুরিয়ার এই জমিদারবাড়ি শুধু একটি পুরোনো স্থাপনা নয়, এটি বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ স্মারক। শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের শৈশব ও কৈশোরের একটি বড় অংশ কেটেছে এই গ্রামে। বরিশাল জিলা স্কুলে ভর্তি হওয়ার আগে এখানেই তার প্রাথমিক শিক্ষার হাতে খড়ি।

বরিশালের গবেষক ও লেখক কবি হেনরী স্বপন বলেন, সাতুরিয়া গ্রামের পুরোনো জমিদারবাড়ির ভাঙা দেয়ালে হাত রাখলে যেন ইতিহাসের স্পন্দন অনুভব করা যায়। এই বাড়িতেই ১৮৭৩ সালের ২৬ অক্টোবর জন্ম নিয়েছিলেন অবিভক্ত বাংলার কিংবদন্তি নেতা শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক। 

তিনি আরও বলেন, শেরেবাংলার জন্মভিটাকে কেন্দ্র করে একটি পূর্ণাঙ্গ জাদুঘর, গবেষণা কেন্দ্র এবং পর্যটনবান্ধব অবকাঠামো গড়ে তোলা হোক। এতে নতুন প্রজন্ম দেশের ইতিহাস জানার সুযোগ পাবে এবং এলাকাটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হবে।

রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আরা মৌরি বলেন, শেরেবাংলার জন্মভিটা সংরক্ষণের বিষয়ে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি দর্শনার্থীদের যাতায়াত সহজ করতে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নেও পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

জয়পুরহাটে দিনমজুরকে পিটিয়ে হত্যা

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৮:৫৮ এএম
আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬, ০৮:৫৮ এএম
জয়পুরহাটে দিনমজুরকে পিটিয়ে হত্যা
ছবি: খবরের কাগজ

জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলায় শ্যামল চন্দ্র মালী নামে এক দিনমজুরকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। 

শনিবার (৬ জুন) বিকেলে উপজেলার কাশিড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত হাসান আলীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে গ্রামবাসী।

নিহত শ্যামল চন্দ্র মালী আক্কেলপুর উপজেলার কাশিড়া শীলপাড়া গ্রামের বীরেন চন্দ্রের ছেলে। আর আটক হাসান আলী একই উপজেলার ঢেকুঞ্চা বাউস্ত গ্রামের রেজাউল দেওয়ানের ছেলে।

আক্কেলপুর থানার অফিসার ইনচার্জ শাহীন রেজা জানান, শনিবার (৬ জুন)বিকেলে শ্যামল চন্দ্র মালী কাশিড়া হাটে যাওয়ার পথে সড়কের মাঝে হাসান আলীর সঙ্গে দেখা হয়। সেখানে একটি জমির ধান কাটার বিষয়ে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। এক পর্যায়ে হাসান পেছন থেকে একটি গাছের ডাল দিয়ে তার মাথার পেছনে আঘাত করেন। 

এতে গুরুতর আহত হয়ে তিনি সড়কে লুটিয়ে পড়েন। এ সময় স্থানীয়রা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর অভিযুক্তকে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। 

এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান ওসি।

সাগর কুমার/অন্তরা

ময়মনসিংহে বাড়তি ভাড়া আদায়ে যাত্রীদের ভোগান্তি

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৮:২৬ এএম
আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬, ০৯:০৪ এএম
ময়মনসিংহে বাড়তি ভাড়া আদায়ে যাত্রীদের ভোগান্তি
মাসকান্দা বাসস্ট্যান্ড

ঈদুল আজহার ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরতে চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন ময়মনসিংহ অঞ্চলের হাজারো যাত্রী। নির্ধারিত ভাড়ার চার থেকে পাঁচ গুণ পর্যন্ত অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং যাত্রী হয়রানির অভিযোগ উঠেছে বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকদের বিরুদ্ধে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান ও জরিমানা কার্যক্রম চললেও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।

শনিবার (৬ জুন) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত নগরীর পাটগুদাম ব্রিজ মোড়, মাসকান্দা বাসস্ট্যান্ড ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে নগরীর বাইপাস মোড় ঘুরে দেখা যায়, কর্মস্থলে ফেরা যাত্রীদের দীর্ঘ সারি। অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও গন্তব্যে যেতে নির্ধারিত ভাড়ায় যানবাহন পাননি। ফলে বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়েই তারা রওনা হচ্ছেন।

নগরীর বাইপাস মোড়ে ফরিদ আহমেদ নামে এক যাত্রী বলেন, ‘ইউনাইটেড ছাড়া অন্যান্য বাসে সাধারণ সময়ে ময়মনসিংহ থেকে ঢাকায় যেতে যে ভাড়া ২০০ থেকে ২৫০ টাকা, সেখানে গাজীপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত যেতেই ৫০০ টাকা ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। আমাদের বাধ্য হয়েই যেতে হচ্ছে।’
গাজীপুরে গার্মেন্টে কাজ করেন আরিফা খাতুন। তিনি বলেন, ‘ছুটি শেষে কাজে যোগ না দিলে চাকরি নিয়ে সমস্যা হতে পারে। তাই বাধ্য হয়ে বেশি ভাড়া দিয়ে যেতে হচ্ছে।’

জুয়েল রানা নামে এক বাসচালক বলেন, ‘অনেকেই বাড়তি ভাড়া নিচ্ছে। তাই আমিও নিচ্ছি। তবে আগের চেয়ে মাত্র ৫০ টাকা বেশি নিচ্ছি। অন্যরা আরও বেশি টাকা নিচ্ছে।’

মটর মালিক সমিতির সভাপতি আলমগীর মাহমুদ আলম বলেন, ‘কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটতে পারে। তবে সব পরিবহনকে দায়ী করা ঠিক হবে না। আমরাও চাই ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান নিয়মিত চলুক।’

এ বিষয়ে বিআরটিএ ময়মনসিংহের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইফফাত হাশেম বলেন, ‘অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও যাত্রী হয়রানির বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অভিযোগ পাওয়া মাত্রই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। যাত্রীদের স্বার্থ রক্ষায় নিয়মিত মনিটরিং ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।’