পাথর লুটে আলোচিত পর্যটনকেন্দ্র সাদা পাথরের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন জমা দিতে না পেরে আরও তিনদিন সময় চেয়েছিল। সময় দেওয়ার পরদিনই প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির অন্যতম সদস্য কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আজিজুন্নাহারকে। সাদা পাথর এলাকা কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার অধীন।
সোমবার (১৮ আগস্ট) সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে আজিজুন্নাহারকে কোম্পানীগঞ্জ থেকে প্রত্যাহার করে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জের ইউএনও হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। আর ফেঞ্চুগঞ্জের ইউএনও মোহাম্মদ শফিকুল ইসলামকে কোম্পানীগঞ্জের ইউএনও করা হয়েছে। তদন্তকালে ইউএনও প্রত্যাহার করা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে এ ব্যাপারে বিভাগীয় কমিশনারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এর আগে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রতন কুমার অধিকারীকেও বদলি করে তিনদিন পর আবার পুনর্বহাল করেছিলেন বিভাগীয় কমিশনার।
জানা গেছে, গত ১২ আগস্ট পাথর লুট ও চুরির ঘটনায় তৎকালীন জেলা প্রশাসক শের মাহবুব মুরাদ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) পদ্মাসন সিংহকে প্রধান করে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কমিটির বাকি দুই সদস্য হলেন- কোম্পানীগঞ্জের ইউএনও আজিজুন্নাহার ও পরিবেশ অধিদপ্তরের একজন সহকারী পরিচালক। ১৭ আগস্ট তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা ছিল। তদন্ত কমিটির প্রধান ও সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) পদ্মাসন সিংহ তদন্তের সময় বাড়ানোর বিষয়টি খবরের কাগজকে নিশ্চিত করেন। তবে তদন্ত দলের একজন সদস্য বদলিজনিত অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
প্রশাসনের একটি সূত্র জানায়, গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্য কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আজিজুন্নাহারের বিরুদ্ধে রয়েছে পাথর লুটপাট ঠেকাতে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগ। তাই তাকে কমিটিতে রাখায় পাথর লুটপাটের সঠিক তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এর মধ্যে ইউএনওকে বদলি করে পুরো ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার বিষয়টি দৃশ্যমান হয়েছে বলে মনে করছেন পরিবেশবাদীরা।
পরিবেশবাদী সংগঠন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) সিলেটের সদস্য সচিব আব্দুল করিম চৌধুরী কিম খবরের কাগজকে বলেন, এভাবে বদলির অর্থ হলো দৃশ্যের আড়াল করে রাখা। এ ক্ষেত্রে বিভাগীয় কমিশনারের ভূমিকা ঊর্ধ্বতনদের নজর দেওয়া উচিত। কেননা, লুটকাণ্ড প্রশাসনিক প্রশ্রয় ছিল। প্রশাসনের মূল কর্তাব্যক্তি হচ্ছেন বিভাগীয় কমিশনার।