ঢাকা ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
শেরপুরে নিখোঁজ ৫ ছাত্রের ৩ জনকে জীবিত উদ্ধার তনু হত্যা: দুই আসামিকে গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলে রেড নোটিশের নির্দেশ বোয়ালখালীতে ওমান প্রবাসীকে হত্যা: শোকে পাথর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ও মা মবতন্ত্র ও উচ্ছৃঙ্খল রাজনীতি বাড়ছে: যুবদল সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা ইউনুছ হাওলাদার আর নেই মরিশাসের শ্রমবাজার খুলতে সমঝোতা চুক্তিতে সম্মত টিআইবি প্রকৃত ঘটনা জাজ করে স্টেটমেন্ট দেয় না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নারীর নিরাপত্তা নিয়ে অস্বস্তিকর বাস্তবতা ঈশ্বরগঞ্জে অটোরিকশাচাপায় শ্রমিকের মৃত্যু গণতন্ত্রে হতাশা এবং নেতৃত্বে অসন্তোষ শরীয়তপুরে প্রধান শিক্ষকের ওপর মব হামলা, আদালতে মামলা কন্যাশিশু নির্যাতন: আর্থ-সামাজিক, সাংস্কৃতিক-রাজনৈতিক সংকট মনপুরায় ‘জয় বাংলা’ স্লোগানকে কেন্দ্র করে মামলা, ছাত্রলীগ নেতা কারাগারে বাজেট বাস্তবায়নে ছলচাতুরি চলবে না: চরমোনাই পীর আকাশসীমা পুনরায় খুলে দিয়েছে ইরাক ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে: মাহদী আমিন যেকোনো সাফল্যে যে দোয়া পড়তেন বিশ্বনবি (সা.) রৌমারীতে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে নারীর মৃত্যু ইন্টার্ন ও ট্রেইনি চিকিৎসকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার ইসরায়েলবিরোধী সামরিক অভিযান স্থগিতের ঘোষণা ইরানের শেরপুরে ১২ দিনে পাঁচ শিক্ষার্থী নিখোঁজ, অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ জঙ্গল সলিমপুরে সড়ক নির্মাণকাজ শুরু করেছে সেনাবাহিনী ভাঙ্গায় বিয়েবাড়িতে খাবার নিয়ে সংঘর্ষে আহত ৭ হালুয়াঘাটে ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল যুবকের কালিহাতীতে ট্রেনে কাটা পড়ে গৃহবধূর মৃত্যু, পাশে মিলল আরেক নারীর মরদেহ ঝিনাইদহে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল জাতীয় মুট কোর্ট প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন ঢাবি পবিপ্রবিতে নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম হেমায়েত জাহান পঞ্চগড় সীমান্তে পুশইনের চেষ্টায় ১০ জনকে ফিরিয়ে নিলো বিএসএফ গাজীপুরে চাঁদাবাজির অভিযোগে জনতার হাতে যুবদল নেতা আটক
Nagad desktop

সিলেটে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের একমাত্র স্মৃতিচিহ্ন নিশ্চিহ্নে নিলাম বিজ্ঞপ্তি

প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৭:০১ পিএম
আপডেট: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৭:০৩ পিএম
সিলেটে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের একমাত্র স্মৃতিচিহ্ন নিশ্চিহ্নে নিলাম বিজ্ঞপ্তি
শহিদ শামসুদ্দিন আহমদ ছাত্রাবাস স্থাপনার ভেতরকার দৃশ্য। খবরের কাগজ

সিলেট নগরীর কেন্দ্রস্থলের চৌহাট্টার এক পাশে সীমানাপ্রাচীর বেষ্টিত খোলা পরিসরে আবাসিক এলাকা। সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজের পুরাতন ক্যাম্পাস। এখন ব্যবহৃত হচ্ছে মেডিকেল হোস্টেল হিসেবে। সেখানকার ঘরগুলো সব বিশেষ বৈশিষ্ট্যের। দেখা মাত্র হারানো দিনের দিকে ধাবিত করে দর্শনার্থীদের। এসব স্থান ও স্থাপনার মধ্যে আছে যুদ্ধস্মৃতিও। মুক্তিযুদ্ধে চিকিৎসক ও মেডিকেল শিক্ষার্থীর অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি পর্ব এবং যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের এখানে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল। তার আগে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ‘সামরিক ব্যারাক’ সংস্কৃতির সূত্রপাত হয়েছিল সেখান থেকে। এক স্থানে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবহন করায় স্থপতির চোখে পুরো আবাসিক এলাকা যুদ্ধস্মৃতির। স্মৃতিবাহী স্থাপনা আর থাকছে না। পুরোনো ও জরাজীর্ণ হওয়ায় স্থাপনাগুলো অপসারণে নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সিলেটের একটি স্থানীয় দৈনিক পত্রিকাসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে উন্মুক্ত নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজের প্রশাসনিক দপ্তরে যোগাযোগ করে বিজ্ঞপ্তি জারির বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে। 

মেডিকেল কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. জিয়াউর রহমান চৌধুরী স্বাক্ষরিত নিলাম বিজ্ঞপ্তিতে মেডিকেল কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত ১৯টি হোস্টেল ভবন নির্মাণ প্রকল্পে সেখানকার ৪১টি গাছ অপসারণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে দরপত্র আহ্বানের কথা বলা হয়। ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নিলাম প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

শহিদ শামসুদ্দিন আহমদ ছাত্রাবাসের প্রধান ফটক। ছবি: খবরের কাগজ

 

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, দেশের ১০টি সরকারি মেডিকেল কলেজে ১৯টি হোস্টেল নির্মাণ প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নে নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। পরবর্তী প্রক্রিয়ায় ভাঙারির মাধ্যমে স্থাপনা অপসারণ করা হবে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কলেজ অধ্যক্ষ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

তার দপ্তর থেকে বলা হয়, কলেজ অধ্যক্ষ নয়, প্রকল্প পরিচালকের সঙ্গে কথা বলতে। তবে কলেজ অধ্যক্ষ প্রকল্পসংশ্লিষ্ট বলে সূত্র নিশ্চিত করলেও কলেজ প্রশাসন থেকে এ বিষয়ে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।    
 
 সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ সিলেট বিভাগে প্রথম সরকারি মেডিকেল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ব্রিটিশ আমলে প্রতিষ্ঠিত মেডিকেল স্কুল ১৯৬২ সালে হয় সিলেট মেডিকেল কলেজ এবং ১৯৮৬ সালে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজে রূপান্তর করা হয়। মেডিকেল কলেজের পুরাতন ও নতুন ক্যাম্পাস নামে দুটি এলাকাতেই শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসস্থল। আবাসস্থলের শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোয়ার্টার আর ছাত্র-ছাত্রীদের আবাসস্থল হোস্টেল বা ছাত্রাবাস, ছাত্রীনিবাস নামে পরিচিত।

কলেজ সূত্রে জানা গেছে, মেডিকেলের পুরাতন ক্যাম্পাস ১৯৪০ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পূর্বকালীন প্রতিষ্ঠিত হয়। জার্মান সৈন্যদের ব্যারাক হিসেবে গড়ে ওঠা স্থাপনাটিই মুক্তিযুদ্ধে শহিদ চিকিৎসক ডা. সামসুদ্দিন আহমেদ ছাত্রাবাস নামে পরিচিত। স্থাপনার বয়স ৮৫ বছর।

শহিদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ (১৯২০–১৯৭১) সিলেটের একজন প্রখ্যাত চিকিৎসক ছিলেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি সেনাদের হাতে শহিদ হন। তার নামেই পরবর্তী সমেয় সিলেট সদর হাসপাতাল ও ছাত্রাবাস নামকরণ হয়। স্থাপনা ঘিরে দুই যুদ্ধের স্মৃতি তর্পণ তখন থেকে শুরু হয়। স্থাপনা স্থাপত্য নিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী ১৯৩৬ সালে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলে সিলেটে মেডিকেল শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা পূরণের জন্য হাসপাতাল ও সংলগ্ন ছাত্রাবাস (হোস্টেল) নির্মাণ শুরু হয়।  ভবনগুলো নির্মাণে তৎকালীন ‘আসাম প্যাটার্ন আর্কিটেকচার’ অনুসরণ করা হয়। এর মধ্যে উঁচু ছাদ, লম্বা বারান্দা, ঢালু ছাদ, কাঠ ও ইটের সমন্বিত নির্মাণকৌশল বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয়। ১৯৩৬-১৯৪৮ সাল পর্যন্ত ভবনটি সিলেট সদর হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ১৯৪৮ সালে সিলেট মেডিকেল স্কুল স্থাপিত হলে এটি ছাত্রাবাস ও হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহৃত হতে থাকে। ১৯৬২ সালে সিলেট মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার পর এই ছাত্রাবাস কলেজ শিক্ষার্থীদের মূল হোস্টেল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

সিলেটের ঐতিহ্য ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সংরক্ষণে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘সেভ দ্য হেরিটেজ’-এর তথ্যানুসন্ধান বলছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালে হোস্টেলের ইতিহাস (সামরিক ব্যারাক হিসেবে) তথ্য থেকে জানা গেছে, ১৯৩৯ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক সরকার আসাম ও সিলেট অঞ্চলে সামরিক গুরুত্ব আরোপ করে।  সিলেট ছিল আসাম সীমান্তবর্তী একটি কৌশলগত নগরী; বিমানঘাঁটি ও সৈন্য চলাচলের জন্য এটি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৪২ সালে জাপানি সেনারা মায়ানমারের (বার্মা) দিক থেকে অগ্রসর হলে ব্রিটিশরা সিলেট অঞ্চলে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করে। এ সময়ে সিলেট শহরের অনেক বড় সরকারি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবন, বিশেষ করে মেডিকেল ছাত্রাবাস ও হাসপাতালের অংশবিশেষ, ‘সামরিক ব্যারাক’ হিসেবে দখল নেওয়া হয়। বর্তমান শহিদ শামসুদ্দিন হোস্টেলটি সেই সময় ব্রিটিশ সেনাদের অস্থায়ী আবাস ও চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ভবনটির অবস্থান শহরের কেন্দ্রস্থলে হওয়ায় এটি সৈন্যদের থাকার স্থান, ছোটখাটো চিকিৎসা ইউনিট এবং সরঞ্জাম মজুদের জন্য ব্যবহার করা হতো। স্থানীয় মানুষজনের প্রবেশ সীমিত করা হয়েছিল এবং পুরো এলাকা ছিল সামরিক নিয়ন্ত্রণাধীন।  দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষে (১৯৪৫ সালের পর) ব্রিটিশ সেনারা ভবন খালি করে দেন। পরবর্তীতে এটি আবার সাধারণ হাসপাতাল ও ছাত্রাবাস হিসেবে ব্যবহার শুরু হয়।

‘সেভ দ্য হেরিটেজ’-এর প্রধান নির্বাহী আব্দুল হাই আল হাদী বলেন, ‘মেডিকেল ও স্থাপত্য শিক্ষার্থীদের গবেষণা তথ্য থেকে জানা গেছে ছাত্রাবাসটি দুটো যুদ্ধের স্মৃতি বহন করছে। এর মধ্যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে এটি মিলিটারি ব্যারাক সংস্কৃতির একমাত্র চিহ্ন। আর মুক্তিযুদ্ধে এখান থেকে সংগঠিত হওয়ার তথ্যাবলীও রয়েছে। আমাদের স্থাপত্য ঐতিহ্যের আসামবাড়ি কাঠামো সরকারি স্থাপনার মধ্যে টিকে থাকারও একটি নিদর্শন। এটি এভাবে ভাঙা হলে ব্যক্তিগত উদ্যোগে আসামবাড়ি সুরক্ষায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।’

স্থাপনা ও স্থাপত্য রক্ষা করে সংস্কার সম্ভব বলে জানিয়েছেন স্থপতি রাজন দাশ। তিনি খবরের কাগজকে বলেন, ওই স্থানটি স্থাপত্যকর্মের অনন্য এক নিদর্শন। জার্মান থেকে একদল স্থপতির সঙ্গে ওই এলাকা ঘুরেছি। তারা এসব সংস্কারের মাধ্যমে টিকিয়ে রাখা সম্ভব বলে জানিয়েছেন। আমিও দেখেছি। ছাত্রাবাসের আসাম কাঠামোর সবকটি ঘর সংস্কার করে রক্ষা সম্ভব। এসব কাঠামো এতই বিরল ও বিস্ময়কর যে, প্রকৃতি ও সংস্কৃতি একাকার হয়েছে। যেমন, প্রতিটি ঘর উত্তর-দক্ষিণমুখো। রয়েছে উঠোন, সুপরিসর বারান্দা। জানালাগুলোও হাই-উইন্ডো। বাংলাদেশের প্রকৃতির সঙ্গে ব্রিটিশ নির্মাণশৈলীর চমৎকার মিশেল এখানে সুনিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। যা হারালে একেবারেই হারিয়ে যাবে। স্মৃতিচিহ্ন নিশ্চিহ্ন হওয়ার মতো।’

এই স্থাপনাকে নিয়ে আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত সংবাদ। ছবি: সংগৃহীত

 

 

শেরপুরে নিখোঁজ ৫ ছাত্রের ৩ জনকে জীবিত উদ্ধার

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ১০:৫৪ পিএম
শেরপুরে নিখোঁজ ৫ ছাত্রের ৩ জনকে জীবিত উদ্ধার
উদ্ধার হওয়া ছাত্ররা। ছবি: সংগৃহীত

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলায় গত ১২ দিনের ব্যবধানে পাঁচজন মাদরাসা শিক্ষার্থী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় তিনজনকে জীবিত উদ্ধার করেছে পুলিশ ও স্বজনরা।

সোমবার (৮ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলার তিনানী বাজার বড় মসজিদ থেকে তাদেরকে উদ্ধার করা হয়।

জীবিত উদ্ধার হওয়া ছাত্ররা হলো- উপজেলার পাঁচগাঁও গ্রামের উকিল মিয়ার ছেলে রাব্বানী (১১), মানিক মিয়ার ছেলে তোফায়েল (১২) ও আব্দুল আওয়ালের ছেলে রাসেল (১৩)।

এর আগে, রবিবার দুপুরে একসাথে পাঁচগাঁও ইক্বরা মডেল হাফেজিয়া মাদরাসার এই তিন শিক্ষার্থী একযোগে নিখোঁজ হয়। এরপর সোমবার তাদের অভিভাবকরা নালিতাবাড়ী থানায় সাধারণ ডায়েরি করলে পুলিশ তাদেরকে উদ্ধার করতে তৎপর হয়।

সোমবার বিকেলে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার নালিতাবাড়ী সার্কেল আফসান আল আলম ও নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান ফোর্স নিয়ে নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের উদ্ধারে মাঠে নামেন। সন্ধ্যার পর তিনানী বাজার বড় মসজিদে তাদেরকে পাওয়া যায়। 

বর্তমানে উদ্ধার হওয়া শিক্ষার্থীদেরকে তাদের পরিবারের কাছে হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশের কর্মকর্তারা উপস্থিত রয়েছেন।
নালিতাবাড়ী সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আফসান আল আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

শাকিল/নাঈম

অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা ইউনুছ হাওলাদার আর নেই

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ১০:১৫ পিএম
অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা ইউনুছ হাওলাদার আর নেই
অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা ইউনুছ হাওলাদার। ছবি: পরিবারের সৌজন্যে

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার দুর্গাপাশা ইউনিয়নের কাটাখালী গ্রামের বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ পরিদর্শক ইউনুছ হাওলাদার ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

সোমবার (৮ জুন) বিকেল পৌনে ৫টার দিকে তিনি না ফেরার দেশে চলে যান।

মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। তিনি বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন। অবসরগ্রহণের পর তিনি ঝালকাঠীর নলছিটি পৌরসভার থানা রোডে নিজ বাসায় বসবাস করছিলেন। ওই বাসায়ই তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, তিন কন্যা, জামাই, নাতি-নাতনিসহ বহু আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। মঙ্গলবার সকাল ৮টায় জানাজা শেষে নলছিটির পারিবারিক কবরস্থানে তার মরদেহ দাফন করা হবে বলে পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে।

ঈশ্বরগঞ্জে অটোরিকশাচাপায় শ্রমিকের মৃত্যু

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৯:৪৪ পিএম
ঈশ্বরগঞ্জে অটোরিকশাচাপায় শ্রমিকের মৃত্যু
ছবি: সংগৃহীত

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে অটোরিকশাচাপায় নজরুল ইসলাম (৫০) নামে এক চিড়া মিল শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার (৮ জুন) রাত ৮টার দিকে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ সড়কের ঈশ্বরগঞ্জ পৌরশহরের মরখলা নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নিহত নজরুল ইসলাম বাবুলের চিড়া ভাঙানোর মিলে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। কাজ শেষ করে গোসল করতে যাওয়ার সময় ময়মনসিংহগামী মবিলভর্তি একটি অটোরিকশা তাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।

স্থানীয়রা, অটোচালক ময়মনসিংহ সদরের শম্ভুগঞ্জ এলাকার হৃদয় হোসেনকে (২২) আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।

নিহত নজরুল ইসলাম পৌরশহরের শিমরাইল গ্রামের নুর নবীর ছেলে।

ইশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আজম জানান, এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

ফয়সল/নাঈম

শরীয়তপুরে প্রধান শিক্ষকের ওপর মব হামলা, আদালতে মামলা

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৯:৪০ পিএম
শরীয়তপুরে প্রধান শিক্ষকের ওপর মব হামলা, আদালতে মামলা
শরীয়তপুরের ডামুড্যা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুজিত কর্মকারের উপর হামলা।ছবি: খবরের কাগজ

শরীয়তপুরের ডামুড্যা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুজিত কর্মকারের ওপর হামলার ঘটনায় ৮ জনকে আসামি করে আদালতে মামলা করা হয়েছে। মামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি এবং চাঁদা দাবির উদ্দেশ্যে মারধরের অভিযোগ আনা হয়েছে।

সোমবার (৮ জুন) দুপুরে প্রধান শিক্ষক সুজিত কর্মকার বাদী হয়ে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, ডামুড্যায় মামলাটি দায়ের করেন। পরে আদালতের বিচারক আব্দুল্লাহ আল হাসিব মামলাটি আমলে নিয়ে এফআইআর গ্রহণের নির্দেশ দেন।

ভুক্তভোগী, পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, রবিবার সকালে সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে ডামুড্যা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে আসেন প্রধান শিক্ষক সুজিত কর্মকার। বিদ্যালয়ের ফটকে পৌঁছালে কয়েকজন তরুণ তাকে টেনেহিঁচড়ে মারধর করতে শুরু করেন। একপর্যায়ে মারধর শেষে কয়েকজন তরুণ তাকে আবার অটোরিকশায় তুলে দেন। পরে তিনি প্রথমে ডামুড্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য যান। সেখানে নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করায় তিনি শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেন।

এ ঘটনায় সোমবার দুপুরে সুজিত কর্মকার ৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৮-৯ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, ডামুড্যায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি ও হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে।

ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষক সুজিত কর্মকার বলেন, ‘আমার ওপর হামলার ঘটনায় আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছি। আমি আশা করি প্রশাসন দ্রুত আসামিদের আইনের আওতায় আনবে।’ 

বাদীপক্ষের আইনজীবী জসিম উদ্দিন বলেন, ‘আমার মক্কেলের ওপর হামলার ঘটনায় বিজ্ঞ আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিজ্ঞ বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে এফআইআর গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা এতে সন্তুষ্ট। আশা করি পুলিশ দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করবে।’ 

এ ব্যাপারে ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম খবরের কাগজকে বলেন,‘প্রধান শিক্ষকের ওপর হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। এমনকি আদালতে কোনো মামলা হয়েছে কি না, সে-সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্রও আমাদের হাতে এসে পৌঁছায়নি।’ 

বিধান মজুমদার/রিফাত/

মনপুরায় ‘জয় বাংলা’ স্লোগানকে কেন্দ্র করে মামলা, ছাত্রলীগ নেতা কারাগারে

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৯:৩৩ পিএম
মনপুরায় ‘জয় বাংলা’ স্লোগানকে কেন্দ্র করে মামলা, ছাত্রলীগ নেতা কারাগারে
ছবি: খবরের কাগজ

ভোলার মনপুরায় দোকান ও বিএনপি কার্যালয়ের শাটারে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান লেখা নিয়ে সৃষ্ট উত্তেজনার ঘটনায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের এক নেতাসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে। মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আটক ওই ছাত্রলীগ নেতাকে আদালতের মাধ্যমে ভোলা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

সোমবার (০৮ জুন) দুপুরে মনপুরা থানায় মামলাটি করেন দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি নুরনবী ছৈয়াল। পরে পুলিশ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আটক ছাত্রলীগ নেতাকে আদালতে সোপর্দ করলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার আসামিরা হলেন, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা শফিক মীর, মো. শামীম, শাকিল, গিয়াস উদ্দিন, শিপন ও আ. মালেক। তাদের সবার বাড়ি উপজেলার দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায়।

আটক ছাত্রলীগ নেতার পরিবারের দাবি, ‘জয় বাংলা’ স্লোগান লেখার ঘটনায় তাদের ছেলে জড়িত নন। তাকে অন্যায়ভাবে মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এমনকি স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা নিজেদের লোকজনের আঘাতে আহত হয়ে উল্টো মামলা করেছেন বলেও অভিযোগ করেন।

অন্যদিকে মামলার বাদী ও আহত নুরনবী ছৈয়াল দাবি করেন, নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতা শফিক মীরের নেতৃত্বে কয়েকজন তার ওপর হামলা চালিয়ে তাকে আহত করেন।

মনপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজাহারুল ইসলাম বলেন, দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আটক ব্যক্তিকে আদালতের মাধ্যমে ভোলা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

ইমতিয়াজ/নাঈম