মাগুরার সদর উপজেলায় মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশে লাল্টু শেখ (৩৫) নামে এক ভ্যানচালককে বিএনপির একটি পক্ষের পার্টি অফিসে আটক রেখে নির্যাতনের পর গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন ওই ভ্যানচালক।
শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুরে শহরের আমুড়িয়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
এরপর মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার অবস্থা কিছুটা আশঙ্কাজনক।
এলাকাবাসী জানান, প্রায় চার থেকে পাঁচ মাস আগে আমুড়িয়া গ্রামের লিয়াকত আলীর একটি অটোটেম্পু চুরি হয়ে যায়। এ ঘটনায় স্থানীয় কয়েকজন মাতবর লাল্টুর ছেলে আল মামুন এবং তার খালাতো ভাই সজিবকে অভিযুক্ত করেন। চুরি হওয়া অটোটেম্পুটি পরে উদ্ধার হলেও স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা দুই পরিবারের কাছ থেকে মোট দুই লাখ ২৫ হাজার টাকা দাবি করেন। ইতোমধ্যে সজিবের কাছ থেকে এক লাখ ৫ হাজার টাকা আদায় করা হলেও বাকি এক লাখ ২০ হাজার টাকার জন্য লাল্টুর পরিবারকে চাপ দেওয়া হয়।
লাল্টু শেখ টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় লিয়াকত আলীসহ কয়েকজন কুল্লিয়া বাজার থেকে তাকে জোরপূর্বক ধরে এনে আমুড়িয়া বাজারের বিএনপি অফিসে আটকে রাখে। অভিযোগ অনুযায়ী, সারা রাত তাকে নানা ধরনের মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা হয় এবং তার পরিবারের কাছে দ্রুত টাকা পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
লাল্টুর স্ত্রী হাসনা বেগম বলেন, 'আমার স্বামী ভ্যান চালিয়ে সংসার চালায়। সে কোনো চুরির সঙ্গে জড়িত নয়। অথচ তাকে অন্যায়ের মাধ্যমে আটকে রেখে টাকা দাবি করা হয়েছে। সকালে বাবার বাড়ি থেকে ২০ হাজার টাকা এনে দিলে তারা তা গ্রহণ না করে পুরো এক লাখ টাকা দিতে বলে। পরে সেই টাকা ফেরত দিয়ে দেয়।'
তিনি আরও বলেন, দুপুরে স্বামীর কাছে গিয়ে বিষয়টি বলতেই মানসিক চাপে লাল্টু নিজের পরনের লুঙ্গি খুলে ফাঁস দেন।
ঘটনার সময় হাসনা বেগম দৌড়ে বাজারের লোকজন জড়ো করেন। এরপর তারা তালা ভেঙে লাল্টুকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠান। বর্তমানে তিনি মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, অটোটেম্পু উদ্ধার হওয়া সত্ত্বেও প্রভাবশালী মাতবররা ব্যক্তিগত ক্ষমতা দেখিয়ে নিরীহ মানুষের ওপর অত্যাচার চালাচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযুক্ত লিয়াকত আলীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে অভিযুক্তের ভাই আলি মিয়া বলেন, অটোটি ফেরত পেলেও তার ব্যাটারি এবং যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এই টাকার জন্য তাদেরকে চাপ দেওয়া হচ্ছিল।
মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আশিকুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় পুলিশ এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কাশেমুর রহমান/সুমন/