ঢাকা ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ক্লিন ইমেজের আলী রেজাও দুদকের জালে ধামরাইয়ে প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে এসে প্রেমিকার আত্মহত্যা শাবিপ্রবিতে ৩২৫ গবেষকের অংশগ্রহণে ওশেনোগ্রাফি বিভাগের সিম্পোজিয়াম আর্জেন্টিনার উত্তাপে গলে গেল আইসল্যান্ড ক্যাম্প থেকে পালিয়ে সীমান্তে মাছ ধরায় ১৯ রোহিঙ্গা আটক বাড়ছে না বিড়ির দাম সারাদেশে মাঝারি ধরনের বৃষ্টির সম্ভাবনা চায়না-সাউথ এশিয়া এক্সপোতে অংশ নেবে বিসিসিসিআই ইসলামী ব্যাংকের সিআরআরে বড় ধরনের ঘাটতি আক্কেলপুরে একদিনে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার একদিনেই বদলে গেল চবির দুই উপ-উপাচার্য কক্সবাজারে মা-মেয়েকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ৬ রাজশাহীতে বর্ষার আগেই ডেঙ্গুর অশনিসংকেত বিদেশি কোচদের চোখে নতুন ইতিহাস ল্যাবএইডে ডেঙ্গুবিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত আবেগের বিয়েতে ঝুঁকিতে পড়ছে মেয়েরা শখ থেকে স্বাবলম্বী গৃহবধূ, ঘরের ছাদ যেন ক্যাকটাস রাজ্য ইসরায়েলের সামরিক অভিযান: লেবাননে সাড়ে ৩ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত ইসরায়েলি কারাগারে বন্দিদের ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতন বরিশাল বিভাগে ৫ বছরে নদীগর্ভে বিলীন ১২০ বর্গ কিমি ভুট্টা চাষে বিপর্যয়, চাষিদের স্বপ্ন এখন পচে-গলে পড়ে আছে মাঠে বড় বাজেট, বড় ঘাটতি, বড় চ্যালেঞ্জ ১০ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ১০ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল সিলেটে নামকরণ-নামহরণ চলছেই! ঢাবি পড়ুয়া জন্মান্ধ রাজিয়ার বেঁচে থাকার সংগ্রাম ১০ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি পটিয়ায় যুবক খুন কাপ্তাই হ্রদে ডুবে চবি শিক্ষার্থীর  মৃত্যু জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁতীদলের আলোচনা সভা
Nagad desktop

মাগুরায় মুক্তিপণের জন্য ভ্যানচালককে বিএনপি অফিসে আটক, মানসিক নির্যাতনে গলায় ফাঁস

প্রকাশ: ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১:৫৯ এএম
মাগুরায় মুক্তিপণের জন্য ভ্যানচালককে বিএনপি অফিসে আটক, মানসিক নির্যাতনে গলায় ফাঁস
ভ্যানচালক লাল্টু শেখ। ছবি: খবরের কাগজ

মাগুরার সদর উপজেলায় মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশে লাল্টু শেখ (৩৫) নামে এক ভ্যানচালককে বিএনপির একটি পক্ষের পার্টি অফিসে আটক রেখে নির্যাতনের পর গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন ওই ভ্যানচালক।

শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুরে শহরের আমুড়িয়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

এরপর মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার অবস্থা কিছুটা আশঙ্কাজনক।

এলাকাবাসী জানান, প্রায় চার থেকে পাঁচ মাস আগে আমুড়িয়া গ্রামের লিয়াকত আলীর একটি অটোটেম্পু চুরি হয়ে যায়। এ ঘটনায় স্থানীয় কয়েকজন মাতবর লাল্টুর ছেলে আল মামুন এবং তার খালাতো ভাই সজিবকে অভিযুক্ত করেন। চুরি হওয়া অটোটেম্পুটি পরে উদ্ধার হলেও স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা দুই পরিবারের কাছ থেকে মোট দুই লাখ ২৫ হাজার টাকা দাবি করেন। ইতোমধ্যে সজিবের কাছ থেকে এক লাখ ৫ হাজার টাকা আদায় করা হলেও বাকি এক লাখ ২০ হাজার টাকার জন্য লাল্টুর পরিবারকে চাপ দেওয়া হয়।

লাল্টু শেখ টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় লিয়াকত আলীসহ কয়েকজন কুল্লিয়া বাজার থেকে তাকে জোরপূর্বক ধরে এনে আমুড়িয়া বাজারের বিএনপি অফিসে আটকে রাখে। অভিযোগ অনুযায়ী, সারা রাত তাকে নানা ধরনের মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা হয় এবং তার পরিবারের কাছে দ্রুত টাকা পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

লাল্টুর স্ত্রী হাসনা বেগম বলেন, 'আমার স্বামী ভ্যান চালিয়ে সংসার চালায়। সে কোনো চুরির সঙ্গে জড়িত নয়। অথচ তাকে অন্যায়ের মাধ্যমে আটকে রেখে টাকা দাবি করা হয়েছে। সকালে বাবার বাড়ি থেকে ২০ হাজার টাকা এনে দিলে তারা তা গ্রহণ না করে পুরো এক লাখ টাকা দিতে বলে। পরে সেই টাকা ফেরত দিয়ে দেয়।'

তিনি আরও বলেন, দুপুরে স্বামীর কাছে গিয়ে বিষয়টি বলতেই মানসিক চাপে লাল্টু নিজের পরনের লুঙ্গি খুলে ফাঁস দেন।

ঘটনার সময় হাসনা বেগম দৌড়ে বাজারের লোকজন জড়ো করেন। এরপর তারা তালা ভেঙে লাল্টুকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠান। বর্তমানে তিনি মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, অটোটেম্পু উদ্ধার হওয়া সত্ত্বেও প্রভাবশালী মাতবররা ব্যক্তিগত ক্ষমতা দেখিয়ে নিরীহ মানুষের ওপর অত্যাচার চালাচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযুক্ত লিয়াকত আলীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে অভিযুক্তের ভাই আলি মিয়া বলেন, অটোটি ফেরত পেলেও তার ব্যাটারি এবং যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এই টাকার জন্য তাদেরকে চাপ দেওয়া হচ্ছিল।

মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আশিকুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় পুলিশ এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কাশেমুর রহমান/সুমন/

ধামরাইয়ে প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে এসে প্রেমিকার আত্মহত্যা

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ১০:০০ এএম
ধামরাইয়ে প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে এসে প্রেমিকার আত্মহত্যা
ছবি: খবরের কাগজ

ঢাকার ধামরাইয়ে প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে এসে লক্ষ্মীরানী নামে এক নারী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রেমিক স্বপন অধিকারীকে আটক করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এর আগে ভোর ৪টার দিকে ধামরাই উপজেলার সোমভাগ ইউনিয়নের কান্দিকুল গ্রামে চিত্ত রায়ের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত লক্ষ্মীরানী টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর উপজেলার তক্তারঢালা গ্রামের রমেন সরকারের স্ত্রী। অন্যদিকে প্রেমিক স্বপন অধিকারী টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর উপজেলার বংশীনগর হলুদিয়া গ্রামের রবীন্দ্র অধিকারীর ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে গৃহবধূ লক্ষ্মীরাণীর সঙ্গে স্বপন অধিকারীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সম্পর্কের টানে সোমবার রাত ৮টার দিকে প্রেমিক স্বপনের হাত ধরে পালিয়ে আসেন লক্ষ্মীরাণী। স্বপন তাকে নিয়ে ধামরাই উপজেলার সোমভাগ ইউনিয়নের কান্দিকুল এলাকায় তার মামা চিত্ত রায়ের বাড়িতে ওঠেন।

রাতে প্রেমিক স্বপনের সঙ্গে লক্ষ্মীরাণীর মনোমালিন্য সৃষ্টি হলে স্বপন কৌশলে তাকে মামার বাড়িতে রেখে চলে যান। পরে লক্ষ্মীরাণী কোনো উপায় না দেখে ঘরের আড়ার সঙ্গে নিজের ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন।

মঙ্গলবার দুপুরে ধামরাই থানা পুলিশ চিত্ত রায়ের বাড়ি থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত স্বপন অধিকারীকে পাশের কেলিয়া গ্রামে তার বোনের বাড়ি থেকে আটক করে পুলিশ।

এ বিষয়ে ধামরাই থানার তদন্ত কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে লক্ষ্মীরাণী নামের ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছি। স্বপন অধিকারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

রুহুল আমিন/রিফাত/

ক্যাম্প থেকে পালিয়ে সীমান্তে মাছ ধরায় ১৯ রোহিঙ্গা আটক

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৯:৪৮ এএম
আপডেট: ১০ জুন ২০২৬, ১০:০৯ এএম
ক্যাম্প থেকে পালিয়ে সীমান্তে মাছ ধরায় ১৯ রোহিঙ্গা আটক
ছবি: খবরের কাগজ

উখিয়ার বালুখালী সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৯ জন মায়ানমারের নাগরিককে (এফডিএমএন সদস্য) আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (৯ জুন) রাত ১২টা ১০ মিনিটের দিকে উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) এর অধীনস্থ বালুখালী বিওপির বিশেষ টহল দল দায়িত্বপূর্ণ এলাকার রহমতের বিল নামক স্থান থেকে তাদের আটক করে।

স্থানটি সীমান্ত পিলার বিপি-২০ থেকে প্রায় এক কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে, বিওপি থেকে দেড় কিলোমিটার দক্ষিণে এবং শূন্যলাইন থেকে প্রায় ৫০০ মিটার পশ্চিমে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অবস্থিত।

বিজিবি জানায়, আটকরা ১৯ জনই পুরুষ এবং তারা স্থানীয় একটি ঘেরে মাছ ধরার কাজে নিয়োজিত ছিলেন। তবে বিজিবির ভাষ্যমতে, রোহিঙ্গাদের ক্যাম্পের বাইরে অবস্থান বা স্থানীয় কাজে নিয়োজিত হওয়ার সুযোগ না থাকলেও বিভিন্ন সময়ে তারা অপরাধচক্রের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে থাকে।

পরে আটক ব্যক্তিদের আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উখিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে।

বিজিবি জানায়, সীমান্ত এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা, অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ এবং মাদক নিয়ন্ত্রণে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা নাগরিকদের বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডে ব্যবহার না করার জন্য সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন উখিয়া ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক।

রিদুয়ানুল হক/থিও

আক্কেলপুরে একদিনে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৯:১৪ এএম
আপডেট: ১০ জুন ২০২৬, ০৯:২৮ এএম
আক্কেলপুরে একদিনে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার
ছবি: খবরের কাগজ

জয়পুরহাটের ‎আক্কেলপুর উপজেলায় একই দিনে পৃথক তিনটি স্থান থেকে দুই নারী ও এক পুরুষের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুর থেকে সন্ধ্যার মধ্যে এসব মরদেহ উদ্ধার করা হয়। 

মৃতদের স্বজনরা খবরের কাগজকে জানান, এক নারী গলায় ওড়না পেঁচিয়ে, আরেক নারী ও যুবক গ্যাসের বড়ি খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

মৃতরা হলেন, কেশবপুর গ্রামের সাবিত্রী চৌধুরী (২৫), আওয়ালগাড়ি গ্রামের বুলি বেওয়া (৭৬) ও দেওড়া গ্রামের শিপন চন্দ্র বর্মন (২৯)। 

জানা গেছে, সাবিত্রী মানসিক রোগী ছিলেন। তার চিকিৎসা চলছিল। মঙ্গলবার মাঠে ধান কাটার কাজ করছিলেন তার স্বামী। পরে তিনি বাড়ি এসে দেখেন তার স্ত্রী গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্নহত্যা করেছেন।

অন্যদিকে বুলি বেওয়ার দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। সন্তানেরা তাকে ঠিক মতো ভরণপোষণ দিতেন না। এ ঘটনায় বুলি বেওয়া ভরণপোষণের দাবিতে থানায় অভিযোগও করেছিলেন। এই কারণেই তিনি গ্যাসের বড়ি খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে মনে করছে স্থানীরা।

এ দিকে শিপন চন্দ্র বর্মণের ঋণ ছিল। এ কারণে মানসিকভাবে বিপর্যন্ত ছিলেন তিনি। তাই তিনি নিজ বাড়িতে গ্যাসের বড়ি খেয়ে আত্মহত্যা করেন।

‎আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন রেজা খবরের কাগজকে জানান, তিনটি মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। স্বজনেরা আত্মহত্যার কথা বললেও মৃত্যুর সঠিক কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হবে।

সাগর কুমার/থিও

কক্সবাজারে মা-মেয়েকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ৬

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৯:০৫ এএম
আপডেট: ১০ জুন ২০২৬, ০৯:২৭ এএম
কক্সবাজারে মা-মেয়েকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ৬
প্রতীকী ছবি

কক্সবাজারের মাতামুহুরী উপজেলায় এক প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতির সময় মা ও স্কুলছাত্রী মেয়েকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে ভুক্তভোগীরা শনাক্ত করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। গত সোমবার রাত ৩ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

মাতামুহুরী তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (পুলিশ পরিদর্শক) মোহাম্মদ মাসুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

ঘটনার পরপরই স্থানীয় জনতা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে। মঙ্গলবার (৯জুন) ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলো রেজাউল করিম (৩৬), তোফাজ্জল হোসেন ওরফে বাবু (২৩), কেফায়েত হোসেন ওরফে পুইত্যা (২৭), মোহাম্মদ তানজিদ (২৪), মেহেদী হাসান (২৪) ও মোহাম্মদ তারেক (২৬)।

পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ মাসুদ জানান, খবর পেয়ে মাতামুহুরী তদন্ত কেন্দ্র ও চকরিয়া থানা-পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় মা ও মেয়েকে উদ্ধার করে প্রথমে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে তাদের অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, ৮ থেকে ১০ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল গভীর রাতে বাড়ির জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে তারা ঘরের মূল দরজা খুলে অন্য সদস্যদের ঢুকতে সহায়তা করে। ডাকাতরা পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান মালামাল লুট করে নেয়। একপর্যায়ে বাড়িতে থাকা এক নারী ও তার দশম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত মেয়েকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়।

ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীর মামা বলেন, ‘আমার ভাগ্নির শারীরিক অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে চিকিৎসকরা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দিচ্ছেন'।

সহকারী পুলিশ সুপার অভিজিৎ দাস বলেন, ‘প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, গভীর রাতে একদল ব্যক্তি বাড়িতে প্রবেশ করে ডাকাতি করে। এ ছাড়া দুই নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযান শুরু করে। এ পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে'।

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

তিনি আরও জানান, ভুক্তভোগীদের ডাক্তারি পরীক্ষা, চিকিৎসা ও অন্যান্য আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মামলার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে না।

এদিকে জড়িতদের দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। একই সঙ্গে এলাকায় পুলিশি টহল বৃদ্ধি, রাতের নিরাপত্তা জোরদার এবং সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্রের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

রাজশাহীতে বর্ষার আগেই ডেঙ্গুর অশনিসংকেত

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৯:০২ এএম
আপডেট: ১০ জুন ২০২৬, ০৯:২৪ এএম
রাজশাহীতে বর্ষার আগেই ডেঙ্গুর অশনিসংকেত
প্রতীকী ছবি

বর্ষা মৌসুম এখনো শুরু হয়নি। তবে তার আগেই রাজশাহী নগরীতে ডেঙ্গুর জীবাণুবাহক এডিস মশা যেন নীরব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে ফেলেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রাক-বর্ষা কীটতাত্ত্বিক জরিপ বলছে, নগরীতে এডিস মশার বংশবিস্তার যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, তা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নির্ধারিত ঝুঁকিসীমাকে অনেকটাই ছাড়িয়ে গেছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে আসন্ন বর্ষায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

গত মে মাসে পরিচালিত জরিপে রাজশাহী সিটি করপোরেশন এলাকায় ব্রেটো ইনডেক্স (বিআই) পাওয়া গেছে ৩০ দশমিক ৬৬। ডব্লিউএইচওর মানদণ্ড অনুযায়ী, এই সূচক ২০-এর বেশি হলে সেটিকে ডেঙ্গু সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকির নির্দেশক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। জরিপে নগরীর বিভিন্ন এলাকার ৭৫টি বাড়ি পরিদর্শন করে ১৫টিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। ফলে হাউস ইনডেক্স দাঁড়িয়েছে ২০ শতাংশ। এছাড়া ৫২টি পানি ধারণকারী পাত্রের মধ্যে ২৩টিতে লার্ভা শনাক্ত হওয়ায় কনটেইনার ইনডেক্স হয়েছে ৪৪ দশমিক ২৩ শতাংশ। ব্রেটো ইনডেক্স হলো এডিস মশার লার্ভা বা পিউপা (মশার বংশবিস্তারকারী ধাপ) পরিমাপের একটি সূচক। এটি মূলত একটি নির্দিষ্ট এলাকায় ডেঙ্গু বা চিকুনগুনিয়ার মতো মশাবাহিত রোগ ছড়ানোর ঝুঁকি নির্দেশ করে।

পরিসংখ্যানগুলো শুধু সংখ্যা নয়, নগরীর জন্য একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ, বর্ষা শুরু হলে বৃষ্টির জমে থাকা পানি এডিস মশার প্রজননের জন্য আরও অনুকূল পরিবেশ তৈরি করবে।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র জানায়, গত বছরের একই ধরনের জরিপে লার্ভার উপস্থিতি ছিল ১০ থেকে ১৫ শতাংশের মধ্যে। সে তুলনায় চলতি বছর পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য অবনতি হয়েছে। অর্থাৎ বর্ষা শুরুর আগেই এডিসের বিস্তার অনেক বেশি দৃশ্যমান।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতি পাঁচটি বাড়ির একটিতে এবং প্রায় অর্ধেক পানি ধারণকারী পাত্রে লার্ভার উপস্থিতি প্রমাণ করে–উৎসস্থল ধ্বংসে এখনো কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা যায়নি। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু ফগিং বা ওষুধ ছিটানো যথেষ্ট নয়; বরং মশার প্রজননস্থল নির্মূল করাই সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, দ্রুত নগরায়ণ এবং অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কারণে এডিস মশার বিস্তৃতি আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে ডেঙ্গু এখন শুধু মৌসুমি রোগ নয়, বরং নগর ব্যবস্থাপনার একটি বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে।

রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য কার্যালয়ের এন্টো-টেকনিশিয়ান আব্দুল বারী বলেন, ‘নিয়মিত প্রাক-বর্ষা নজরদারির অংশ হিসেবে জরিপটি পরিচালনা করা হয়েছে। নগরীতে মশার লার্ভা এবং পূর্ণবয়স্ক মশার সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।’

জেলা কীটতত্ত্ববিদ উম্মে হাবিবা জানান, এডিস মশা এখন শুধু প্রচলিত পানির উৎসেই নয়, মানুষের অসচেতনতার কারণে তৈরি হওয়া ছোট ছোট জলাধারেও দ্রুত বিস্তার লাভ করছে। জরিপে ফুলের টব, ছাদবাগান, খোলা নারকেলের খোসা, দইয়ের পাত্র, শিশুদের খেলনাসহ নানা ধরনের পানি ধারণকারী সামগ্রীতে লার্ভা পাওয়া গেছে।

তিনি জানান, জরিপের ফলাফল ও প্রয়োজনীয় সুপারিশ রাজশাহী সিটি করপোরেশনের কাছে পাঠানো হয়েছে।

তবে সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা শেখ মো. মামুন বলেন, মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত স্বাস্থ্য বিভাগের কোনো জরিপ প্রতিবেদন বা সুপারিশ তাদের হাতে পৌঁছায়নি। তবে বর্ষাকে সামনে রেখে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সচল রাখতে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম চলছে।

পাশাপাশি বাসিন্দাদের টব, ছাদের পানির ট্যাংক, পরিত্যক্ত টায়ার, নির্মাণসামগ্রী ও অন্যান্য স্থানে জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণের আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তথ্যও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত ৫১ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। একই সময়ে ১৮ মাস বয়সী এক শিশুসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।

হাসপাতালের মুখপাত্র ও জরুরি বিভাগের ইনচার্জ ডা. শংকর কে বিশ্বাস বলেন, ‘জরিপের ফলাফলকে গুরুত্ব দিয়ে এখনই লার্ভা ধ্বংস অভিযান জোরদার করতে হবে। পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং মশার প্রজননস্থলগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের বিকল্প নেই। কেননা, মশার বংশবিস্তার নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে রাজশাহী নগরীতে ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বাড়বে।’