ঢাকা ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ক্লিন ইমেজের আলী রেজাও দুদকের জালে গজারিয়ায় আকস্মিক ঝড়ে অর্ধশত গাছ উপড়ে পড়েছে, মহাসড়কে তীব্র যানজট ধামরাইয়ে প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে এসে প্রেমিকার আত্মহত্যা শাবিপ্রবিতে ৩২৫ গবেষকের অংশগ্রহণে ওশেনোগ্রাফি বিভাগের সিম্পোজিয়াম আর্জেন্টিনার উত্তাপে গলে গেল আইসল্যান্ড ক্যাম্প থেকে পালিয়ে সীমান্তে মাছ ধরায় ১৯ রোহিঙ্গা আটক বাড়ছে না বিড়ির দাম সারাদেশে মাঝারি ধরনের বৃষ্টির সম্ভাবনা চায়না-সাউথ এশিয়া এক্সপোতে অংশ নেবে বিসিসিসিআই ইসলামী ব্যাংকের সিআরআরে বড় ধরনের ঘাটতি আক্কেলপুরে একদিনে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার একদিনেই বদলে গেল চবির দুই উপ-উপাচার্য কক্সবাজারে মা-মেয়েকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ৬ রাজশাহীতে বর্ষার আগেই ডেঙ্গুর অশনিসংকেত বিদেশি কোচদের চোখে নতুন ইতিহাস ল্যাবএইডে ডেঙ্গুবিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত আবেগের বিয়েতে ঝুঁকিতে পড়ছে মেয়েরা শখ থেকে স্বাবলম্বী গৃহবধূ, ঘরের ছাদ যেন ক্যাকটাস রাজ্য ইসরায়েলের সামরিক অভিযান: লেবাননে সাড়ে ৩ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত ইসরায়েলি কারাগারে বন্দিদের ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতন বরিশাল বিভাগে ৫ বছরে নদীগর্ভে বিলীন ১২০ বর্গ কিমি ভুট্টা চাষে বিপর্যয়, চাষিদের স্বপ্ন এখন পচে-গলে পড়ে আছে মাঠে বড় বাজেট, বড় ঘাটতি, বড় চ্যালেঞ্জ ১০ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ১০ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল সিলেটে নামকরণ-নামহরণ চলছেই! ঢাবি পড়ুয়া জন্মান্ধ রাজিয়ার বেঁচে থাকার সংগ্রাম ১০ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি পটিয়ায় যুবক খুন কাপ্তাই হ্রদে ডুবে চবি শিক্ষার্থীর  মৃত্যু
Nagad desktop

ঈশ্বরদীতে কাজের সন্ধানে প্রতিদিন আসছেন অসংখ্য মানুষ

প্রকাশ: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:৪৮ এএম
আপডেট: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:২৩ এএম
ঈশ্বরদীতে কাজের সন্ধানে প্রতিদিন আসছেন অসংখ্য মানুষ
দিনাজপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহী জেলা থেকে কাজের সন্ধানে আসা দরিদ্র মানুষ। ঈশ্বরদী রেলস্টেশনের দক্ষিণ ইয়ার্ড থেকে।ছবি: খবরের কাগজ

‘প্রতিদিন কাজ করে সংসার চালাতে হয়। জানুয়ারি থেকে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত এলাকায় তেমন কাজ পাওয়া যায় না। এ দুই মাস পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে থাকতে হয়। এক দিন কাজ না পেলে অনেকটা না খেয়ে থাকতে হয়। তাই কাজের জন্য ঈশ্বরদীতে এসেছি। এখানে ১৫ থেকে ২০ দিন ধান লাগানোর কাজ হতে পারে। এরপর কাজের সন্ধানে অন্য কোথাও যেতে হবে।’

গতকাল মঙ্গলবার ট্রেন থেকে পাবনার ঈশ্বরদী রেলস্টেশনে নামা শ্রমিক মহির উদ্দিন খবরের কাগজকে এসব কথা বলেন। মহির উদ্দিন এসেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর এলাকা থেকে।

মাহির উদ্দিনের মতো প্রতিদিন দিনাজপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহী জেলা থেকে অসংখ্য শ্রমিক ট্রেনে ঈশ্বরদী রেলস্টেশনে আসেন। কেউ কেউ আবার বাসেও আসেন। তাদের বেশির ভাগ কাজের সন্ধানে পাবনার বিভিন্ন উপজেলায় ছড়িয়ে পড়েন। বাকিরা রাজধানী ঢাকা, কেউ চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় চলে যান। গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঈশ্বরদী রেলস্টেশনে আসে রহনপুর থেকে ছেড়ে আসা মহানন্দা এক্সপ্রেস ট্রেন। সেই ট্রেন থেকে নামা দুই-তিনজনের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়। 

সরেজমিনে দেখা যায়, ট্রেনটি স্টেশনে থামার পর অনেক যাত্রী নামেন। তাদের মধ্যে অধিকাংশই কাজের সন্ধানে আসা দরিদ্র বেকার মানুষ। লুঙ্গি পরিহিত প্রায় সবার হাতে ব্যাগ, মাথায় সাদা রঙের প্ল্যাস্টিকের বস্তা। এসব ব্যাগ, বস্তার মধ্যে রয়েছে দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য নানান কাপড়।

জানা যায়, দরিদ্র এসব বেকার মানুষ পাবনার ঈশ্বরদী, বেড়া, সাঁথিয়া উপজেলায় কৃষি কাজের জন্য বিশেষ করে বোরো ধান লাগানোর কাজে যুক্ত হবেন। তারা ৮ থেকে ১০ জনের গ্রুপে এবং কৃষকের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে ধান লাগানোর কাজ করবেন।

ট্রেন থেকে নামার পর বাঘা উপজেলার আড়ানী এলাকার শ্রমিক তারেক মিয়া বলেন, সারা বছর কাজ করে সংসার চালাই। নিজ এলাকায় কাজ না থাকলে এলাকার বাইরে যেতে হয়। প্রতি বছর এ সময় ঈশ্বরদীতে আসি ধান লাগানোর জন্য। প্রতিদিন কাজ শেষে ৬০০ টাকা মজুরি পাই। এ দিয়ে কোনো রকমে সংসার চলে।

দিনাজপুরের শ্রমিক আপিল উদ্দিন বলেন, শুধু ঈশ্বরদী নয়, রেলস্টেশন থেকে বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে বাসযোগে অনেকে পাবনার বেড়া ও সাঁথিয়ায় যাবেন কাজের জন্য। তারা সেখানেও ধান লাগানোর কাজ করবেন। আমরা দল বেঁধে ঈশ্বরদী, পাবনায় ধান লাগানোর কাজে আসি। ধান লাগানো শেষ হলে কাজের জন্য আবার অন্য কোথাও চলে যাই। সারা বছর এভাবেই আমাদের জীবন কাটে।

ঈশ্বরদী পৌর এলাকার সাঁড়া গোপালপুর গ্রামের কৃষক জয়নাল প্রামাণিক বলেন, ঈশ্বরদীতে কৃষি শ্রমিকের অভাব। যা পাওয়া যায়, তাতে কাজ শেষ করা যায় না। এ জন্য বাইরে থেকে শ্রমিক দিয়ে বোরো ধান লাগানোর কাজ শেষ করা হয়।

তিনি জানান, বোরা ধান লাগানোর জন্য জমি প্রস্তুতের কাজ চলছে। ছয়-সাত দিন পর ধান লাগানো শুরু হবে। রাজশাহীর বাঘা থেকে আসা ৬ জন শ্রমিককে এ কাজের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। প্রতিদিন প্রত্যেককে ৬০০ টাকা নগদ পারিশ্রমিক ও এক বেলা খাবার দেওয়া হয়।

ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ মৌসুমে উপজেলায় ২ হাজার ৭৬৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। উপজেলার সাত ইউনিয়নের মধ্যে দাশুড়িয়া, মুলাডুলি ও পৌর এলাকায় বোরো ধানের আবাদ বেশি।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সুজন কুমার রায় জানান, ঈশ্বরদী ইপিজেড ও রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারণে উপজেলায় কৃষি কাজের শ্রমিকের অভাব রয়েছে। এখন বোরো ধান লাগানোর মৌসুম চলছে। এ সময় কৃষকরা রহনপুর, আমনুরা, দিনাজপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আসা শ্রমিকদের দিয়ে কৃষি শ্রমিকের ঘাটতি পূরণ করেন। ধান লাগানোর কাজে তারা তাদের ব্যবহার করবেন।

গজারিয়ায় আকস্মিক ঝড়ে অর্ধশত গাছ উপড়ে পড়েছে, মহাসড়কে তীব্র যানজট

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ১০:১১ এএম
আপডেট: ১০ জুন ২০২৬, ১০:৩২ এএম
গজারিয়ায় আকস্মিক ঝড়ে অর্ধশত গাছ উপড়ে পড়েছে, মহাসড়কে তীব্র যানজট
ছবি: খবরের কাগজ

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় আকস্মিক ঝড়ে ভেঙে পড়েছে প্রায় অর্ধশতাধিক গাছ। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের উপর গাছ ভেঙে পড়ায় সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজট। এ দিকে বৈদ্যুতিক খুঁটি ও লাইনের ওপর গাছ ভেঙে পড়ায় বন্ধ রয়েছে সমগ্র উপজেলার বিদ্যুৎ সরবরাহ।

মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেল পৌনে চারটার দিকে হঠাৎ আকাশ কালো করে তীব্র বাতাসের সঙ্গে ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয়।

এ সময় প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলা তীব্র বজ্রপাতে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।

ঝড়ের কারণে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় উপড়ে পড়েছে প্রায় অর্ধশতাধিক গাছ। শুধুমাত্র ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দুই পাশেই প্রায় ৩০টির মতো গাছ ভেঙে পড়ার খবর পাওয়া গেছে।

এসব গাছের অধিকাংশই বিদ্যুৎ লাইনের উপর ভেঙে পড়ায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে সমগ্র উপজেলা। মহাসড়কের দুই পাশে গাছ ভেঙে পড়ায় গজারিয়া অংশের ১৩ কিলোমিটার এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজট।

​স্থানীয় বাসিন্দা লতিফ ভূঁইয়া খবরের কাগজকে বলেন, আমার জীবনে আমি এমন বজ্রপাত দেখিনি। টানা এক ঘণ্টা বজ্রপাত হয়েছে। বজ্রপাতের তীব্র শব্দে আমরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। কোথাও রাস্তা, কোথাও বৈদ্যুতিক খুঁটির উপর গাছ ভেঙে পড়েছে। ফলে বিকেল পৌনে চারটা থেকে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছি আমরা।

গজারিয়া ​ভবেরচর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহ কামাল আকন্দ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে খবরের কাগজকে বলেন, আকস্মিক ঝড়ে মহাসড়কের গজারিয়া অংশে অসংখ্য গাছ ভেঙে পড়েছে। ঝড়ের মধ্যেই যান চলাচল স্বাভাবিক করতে কাজ শুরু করে হাইওয়ে পুলিশ। সন্ধ্যা ছয়টার দিকে ঢাকাগামী লেনে যান চলাচল শুরু হয়েছে। চট্টগ্রামগামী লেন থেকে ভেঙে পড়া গাছ অপসারণের কাজ করছি আমরা। আশাকরি দ্রুত চট্টগ্রামগামী লেনেও যান চলাচল স্বাভাবিক হবে।

​বিষয়টি সম্পর্কে কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩ এর গজারিয়া জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. আশরাফুল আলম বলেন, 'বৈদ্যুতিক তারের ওপর অসংখ্য গাছ ভেঙে পড়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। আমাদের কর্মীরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। যতদ্রুত সম্ভব বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে আমরা কাজ করছি'।

সুমন/থিও

ধামরাইয়ে প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে এসে প্রেমিকার আত্মহত্যা

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ১০:০০ এএম
ধামরাইয়ে প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে এসে প্রেমিকার আত্মহত্যা
ছবি: খবরের কাগজ

ঢাকার ধামরাইয়ে প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে এসে লক্ষ্মীরানী নামে এক নারী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রেমিক স্বপন অধিকারীকে আটক করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এর আগে ভোর ৪টার দিকে ধামরাই উপজেলার সোমভাগ ইউনিয়নের কান্দিকুল গ্রামে চিত্ত রায়ের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত লক্ষ্মীরানী টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর উপজেলার তক্তারঢালা গ্রামের রমেন সরকারের স্ত্রী। অন্যদিকে প্রেমিক স্বপন অধিকারী টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর উপজেলার বংশীনগর হলুদিয়া গ্রামের রবীন্দ্র অধিকারীর ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে গৃহবধূ লক্ষ্মীরাণীর সঙ্গে স্বপন অধিকারীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সম্পর্কের টানে সোমবার রাত ৮টার দিকে প্রেমিক স্বপনের হাত ধরে পালিয়ে আসেন লক্ষ্মীরাণী। স্বপন তাকে নিয়ে ধামরাই উপজেলার সোমভাগ ইউনিয়নের কান্দিকুল এলাকায় তার মামা চিত্ত রায়ের বাড়িতে ওঠেন।

রাতে প্রেমিক স্বপনের সঙ্গে লক্ষ্মীরাণীর মনোমালিন্য সৃষ্টি হলে স্বপন কৌশলে তাকে মামার বাড়িতে রেখে চলে যান। পরে লক্ষ্মীরাণী কোনো উপায় না দেখে ঘরের আড়ার সঙ্গে নিজের ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন।

মঙ্গলবার দুপুরে ধামরাই থানা পুলিশ চিত্ত রায়ের বাড়ি থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত স্বপন অধিকারীকে পাশের কেলিয়া গ্রামে তার বোনের বাড়ি থেকে আটক করে পুলিশ।

এ বিষয়ে ধামরাই থানার তদন্ত কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে লক্ষ্মীরাণী নামের ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছি। স্বপন অধিকারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

রুহুল আমিন/রিফাত/

ক্যাম্প থেকে পালিয়ে সীমান্তে মাছ ধরায় ১৯ রোহিঙ্গা আটক

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৯:৪৮ এএম
আপডেট: ১০ জুন ২০২৬, ১০:০৯ এএম
ক্যাম্প থেকে পালিয়ে সীমান্তে মাছ ধরায় ১৯ রোহিঙ্গা আটক
ছবি: খবরের কাগজ

উখিয়ার বালুখালী সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৯ জন মায়ানমারের নাগরিককে (এফডিএমএন সদস্য) আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (৯ জুন) রাত ১২টা ১০ মিনিটের দিকে উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) এর অধীনস্থ বালুখালী বিওপির বিশেষ টহল দল দায়িত্বপূর্ণ এলাকার রহমতের বিল নামক স্থান থেকে তাদের আটক করে।

স্থানটি সীমান্ত পিলার বিপি-২০ থেকে প্রায় এক কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে, বিওপি থেকে দেড় কিলোমিটার দক্ষিণে এবং শূন্যলাইন থেকে প্রায় ৫০০ মিটার পশ্চিমে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অবস্থিত।

বিজিবি জানায়, আটকরা ১৯ জনই পুরুষ এবং তারা স্থানীয় একটি ঘেরে মাছ ধরার কাজে নিয়োজিত ছিলেন। তবে বিজিবির ভাষ্যমতে, রোহিঙ্গাদের ক্যাম্পের বাইরে অবস্থান বা স্থানীয় কাজে নিয়োজিত হওয়ার সুযোগ না থাকলেও বিভিন্ন সময়ে তারা অপরাধচক্রের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে থাকে।

পরে আটক ব্যক্তিদের আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উখিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে।

বিজিবি জানায়, সীমান্ত এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা, অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ এবং মাদক নিয়ন্ত্রণে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা নাগরিকদের বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডে ব্যবহার না করার জন্য সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন উখিয়া ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক।

রিদুয়ানুল হক/থিও

আক্কেলপুরে একদিনে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৯:১৪ এএম
আপডেট: ১০ জুন ২০২৬, ০৯:২৮ এএম
আক্কেলপুরে একদিনে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার
ছবি: খবরের কাগজ

জয়পুরহাটের ‎আক্কেলপুর উপজেলায় একই দিনে পৃথক তিনটি স্থান থেকে দুই নারী ও এক পুরুষের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুর থেকে সন্ধ্যার মধ্যে এসব মরদেহ উদ্ধার করা হয়। 

মৃতদের স্বজনরা খবরের কাগজকে জানান, এক নারী গলায় ওড়না পেঁচিয়ে, আরেক নারী ও যুবক গ্যাসের বড়ি খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

মৃতরা হলেন, কেশবপুর গ্রামের সাবিত্রী চৌধুরী (২৫), আওয়ালগাড়ি গ্রামের বুলি বেওয়া (৭৬) ও দেওড়া গ্রামের শিপন চন্দ্র বর্মন (২৯)। 

জানা গেছে, সাবিত্রী মানসিক রোগী ছিলেন। তার চিকিৎসা চলছিল। মঙ্গলবার মাঠে ধান কাটার কাজ করছিলেন তার স্বামী। পরে তিনি বাড়ি এসে দেখেন তার স্ত্রী গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্নহত্যা করেছেন।

অন্যদিকে বুলি বেওয়ার দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। সন্তানেরা তাকে ঠিক মতো ভরণপোষণ দিতেন না। এ ঘটনায় বুলি বেওয়া ভরণপোষণের দাবিতে থানায় অভিযোগও করেছিলেন। এই কারণেই তিনি গ্যাসের বড়ি খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে মনে করছে স্থানীরা।

এ দিকে শিপন চন্দ্র বর্মণের ঋণ ছিল। এ কারণে মানসিকভাবে বিপর্যন্ত ছিলেন তিনি। তাই তিনি নিজ বাড়িতে গ্যাসের বড়ি খেয়ে আত্মহত্যা করেন।

‎আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন রেজা খবরের কাগজকে জানান, তিনটি মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। স্বজনেরা আত্মহত্যার কথা বললেও মৃত্যুর সঠিক কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হবে।

সাগর কুমার/থিও

কক্সবাজারে মা-মেয়েকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ৬

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৯:০৫ এএম
আপডেট: ১০ জুন ২০২৬, ০৯:২৭ এএম
কক্সবাজারে মা-মেয়েকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ৬
প্রতীকী ছবি

কক্সবাজারের মাতামুহুরী উপজেলায় এক প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতির সময় মা ও স্কুলছাত্রী মেয়েকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে ভুক্তভোগীরা শনাক্ত করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। গত সোমবার রাত ৩ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

মাতামুহুরী তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (পুলিশ পরিদর্শক) মোহাম্মদ মাসুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

ঘটনার পরপরই স্থানীয় জনতা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে। মঙ্গলবার (৯জুন) ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলো রেজাউল করিম (৩৬), তোফাজ্জল হোসেন ওরফে বাবু (২৩), কেফায়েত হোসেন ওরফে পুইত্যা (২৭), মোহাম্মদ তানজিদ (২৪), মেহেদী হাসান (২৪) ও মোহাম্মদ তারেক (২৬)।

পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ মাসুদ জানান, খবর পেয়ে মাতামুহুরী তদন্ত কেন্দ্র ও চকরিয়া থানা-পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় মা ও মেয়েকে উদ্ধার করে প্রথমে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে তাদের অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, ৮ থেকে ১০ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল গভীর রাতে বাড়ির জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে তারা ঘরের মূল দরজা খুলে অন্য সদস্যদের ঢুকতে সহায়তা করে। ডাকাতরা পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান মালামাল লুট করে নেয়। একপর্যায়ে বাড়িতে থাকা এক নারী ও তার দশম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত মেয়েকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়।

ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীর মামা বলেন, ‘আমার ভাগ্নির শারীরিক অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে চিকিৎসকরা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দিচ্ছেন'।

সহকারী পুলিশ সুপার অভিজিৎ দাস বলেন, ‘প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, গভীর রাতে একদল ব্যক্তি বাড়িতে প্রবেশ করে ডাকাতি করে। এ ছাড়া দুই নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযান শুরু করে। এ পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে'।

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

তিনি আরও জানান, ভুক্তভোগীদের ডাক্তারি পরীক্ষা, চিকিৎসা ও অন্যান্য আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মামলার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে না।

এদিকে জড়িতদের দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। একই সঙ্গে এলাকায় পুলিশি টহল বৃদ্ধি, রাতের নিরাপত্তা জোরদার এবং সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্রের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।