ঢাকা ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
আর্জেন্টিনার উত্তাপে গলে গেল আইসল্যান্ড বাড়ছে না বিড়ির দাম সারাদেশে মাঝারি ধরনের বৃষ্টির সম্ভাবনা চায়না-সাউথ এশিয়া এক্সপোতে অংশ নেবে বিসিসিসিআই ইসলামী ব্যাংকের সিআরআরে বড় ধরনের ঘাটতি আক্কেলপুরে একদিনে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার একদিনেই বদলে গেল চবির দুই উপ-উপাচার্য কক্সবাজারে মা-মেয়েকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ৬ রাজশাহীতে বর্ষার আগেই ডেঙ্গুর অশনিসংকেত বিদেশি কোচদের চোখে নতুন ইতিহাস আবেগের বিয়েতে ঝুঁকিতে পড়ছে মেয়েরা শখ থেকে স্বাবলম্বী গৃহবধূ, ঘরের ছাদ যেন ক্যাকটাস রাজ্য ইসরায়েলের সামরিক অভিযান: লেবাননে সাড়ে ৩ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত ইসরায়েলি কারাগারে বন্দিদের ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতন বরিশাল বিভাগে ৫ বছরে নদীগর্ভে বিলীন ১২০ বর্গ কিমি ভুট্টা চাষে বিপর্যয়, চাষিদের স্বপ্ন এখন পচে-গলে পড়ে আছে মাঠে বড় বাজেট, বড় ঘাটতি, বড় চ্যালেঞ্জ ১০ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ১০ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল সিলেটে নামকরণ-নামহরণ চলছেই! ঢাবি পড়ুয়া জন্মান্ধ রাজিয়ার বেঁচে থাকার সংগ্রাম ১০ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি পটিয়ায় যুবক খুন কাপ্তাই হ্রদে ডুবে চবি শিক্ষার্থীর  মৃত্যু জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁতীদলের আলোচনা সভা সরকারি বাঙলা কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা ১০ জুলাই জবিতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের প্রকাশ্যে মানববন্ধন পটিয়া প্রেসক্লাব দখলের চেষ্টা, থানায় অভিযোগ অনার্স কোর্স থেকে বাংলা ও ইতিহাস বাদ দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই: শিক্ষামন্ত্রী ‘শর্ত সাপেক্ষে স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা’
Nagad desktop

সোনারগাঁয়ে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ

প্রকাশ: ২৩ মার্চ ২০২৬, ০১:১৭ এএম
সোনারগাঁয়ে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ
ছবি: খবরের কাগজ

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে যৌতুকের টাকা না পেয়ে অনিকা খাতুন ফারহানা (২৪) নামে এক গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে।

রবিবার (২২ মার্চ) সকালে উপজেলার বৈদ্যের বাজারের সাত ভাইয়াপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

অনিকা খাতুন ফারহানা কুমিল্লার মেঘনা থানার নলছটি গ্রামের কালাচাঁনের মেয়ে।

এ ঘটনায় রবিবার বিকেলে নিহত ফারহানার বাবা কালাচান মেয়ে ফারহানার স্বামী সাগরকে প্রধান আসামি করে এবং তিনজনের নাম উল্লেখ করে সোনারগাঁও থানায় অভিযোগ করেন। তবে ঘটনার পর থেকেই নিহতের স্বামী পলাতক রয়েছে।

থানায় করা অভিযোগ থেকে জানা যায়, কুমিল্লার মেঘনা থানার নলছটি গ্রামের কালাচাঁনের মেয়ে অনিকা খাতুন ফারহানার সঙ্গে নয় বছর আগে সোনারগাঁয়ের বৈদ্যের বাজার ইউনিয়নের সাত ভাইয়াপাড়া গ্রামের রাজা মিয়ার ছেলে সাগরের বিয়ে হয়। তাদের এক ছেলে ও এক মেয়েসন্তান রয়েছে।

বিয়ের পর থেকে সাগর বিদেশ যাওয়ার জন্য চার লাখ টাকার দাবি করে। এ নিয়ে প্রায় সাগর তার স্ত্রী ফারহানাকে মারধর করত। পরে দাবিকৃত যৌতুকের চার লাখ টাকা দেওয়া হয়। কয়েক মাস বিদেশে কাজ করে সাগর দেশে ফিরে আসে। দেশে ফিরেই তিনি আবারও শ্বশুরবাড়ি থেকে আরও দুই লাখ টাকা যৌতুক আনতে বলে স্ত্রী ফারহানাকে চাপ দেন। এ নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়া হচ্ছিল। ঈদের দিন রাতে এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে আবারও ঝগড়া হয়।

রবিবার সকালে নিহতের ননদ তানজিনা তার ভাবীর মা-বাবাকে ফোন করে জানান, ফারহানা অসুস্থ। পরে ফারহানার বাবা-মা সাত ভাইয়াপাড়া এলাকায় বাসায় এসে ফারহানাকে ঘরের মেঝেতে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।

পরে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। 

সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিববুল্লাহ বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে। পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছে।

ইমরান/সুমন/

আক্কেলপুরে একদিনে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৯:১৪ এএম
আপডেট: ১০ জুন ২০২৬, ০৯:২৮ এএম
আক্কেলপুরে একদিনে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার
ছবি: খবরের কাগজ

জয়পুরহাটের ‎আক্কেলপুর উপজেলায় একই দিনে পৃথক তিনটি স্থান থেকে দুই নারী ও এক পুরুষের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুর থেকে সন্ধ্যার মধ্যে এসব মরদেহ উদ্ধার করা হয়। 

মৃতদের স্বজনরা খবরের কাগজকে জানান, এক নারী গলায় ওড়না পেঁচিয়ে, আরেক নারী ও যুবক গ্যাসের বড়ি খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

মৃতরা হলেন, কেশবপুর গ্রামের সাবিত্রী চৌধুরী (২৫), আওয়ালগাড়ি গ্রামের বুলি বেওয়া (৭৬) ও দেওড়া গ্রামের শিপন চন্দ্র বর্মন (২৯)। 

জানা গেছে, সাবিত্রী মানসিক রোগী ছিলেন। তার চিকিৎসা চলছিল। মঙ্গলবার মাঠে ধান কাটার কাজ করছিলেন তার স্বামী। পরে তিনি বাড়ি এসে দেখেন তার স্ত্রী গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্নহত্যা করেছেন।

অন্যদিকে বুলি বেওয়ার দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। সন্তানেরা তাকে ঠিক মতো ভরণপোষণ দিতেন না। এ ঘটনায় বুলি বেওয়া ভরণপোষণের দাবিতে থানায় অভিযোগও করেছিলেন। এই কারণেই তিনি গ্যাসের বড়ি খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে মনে করছে স্থানীরা।

এ দিকে শিপন চন্দ্র বর্মণের ঋণ ছিল। এ কারণে মানসিকভাবে বিপর্যন্ত ছিলেন তিনি। তাই তিনি নিজ বাড়িতে গ্যাসের বড়ি খেয়ে আত্মহত্যা করেন।

‎আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন রেজা খবরের কাগজকে জানান, তিনটি মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। স্বজনেরা আত্মহত্যার কথা বললেও মৃত্যুর সঠিক কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হবে।

সাগর কুমার/থিও

কক্সবাজারে মা-মেয়েকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ৬

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৯:০৫ এএম
আপডেট: ১০ জুন ২০২৬, ০৯:২৭ এএম
কক্সবাজারে মা-মেয়েকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ৬
প্রতীকী ছবি

কক্সবাজারের মাতামুহুরী উপজেলায় এক প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতির সময় মা ও স্কুলছাত্রী মেয়েকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে ভুক্তভোগীরা শনাক্ত করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। গত সোমবার রাত ৩ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

মাতামুহুরী তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (পুলিশ পরিদর্শক) মোহাম্মদ মাসুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

ঘটনার পরপরই স্থানীয় জনতা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে। মঙ্গলবার (৯জুন) ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলো রেজাউল করিম (৩৬), তোফাজ্জল হোসেন ওরফে বাবু (২৩), কেফায়েত হোসেন ওরফে পুইত্যা (২৭), মোহাম্মদ তানজিদ (২৪), মেহেদী হাসান (২৪) ও মোহাম্মদ তারেক (২৬)।

পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ মাসুদ জানান, খবর পেয়ে মাতামুহুরী তদন্ত কেন্দ্র ও চকরিয়া থানা-পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় মা ও মেয়েকে উদ্ধার করে প্রথমে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে তাদের অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, ৮ থেকে ১০ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল গভীর রাতে বাড়ির জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে তারা ঘরের মূল দরজা খুলে অন্য সদস্যদের ঢুকতে সহায়তা করে। ডাকাতরা পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান মালামাল লুট করে নেয়। একপর্যায়ে বাড়িতে থাকা এক নারী ও তার দশম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত মেয়েকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়।

ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীর মামা বলেন, ‘আমার ভাগ্নির শারীরিক অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে চিকিৎসকরা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দিচ্ছেন'।

সহকারী পুলিশ সুপার অভিজিৎ দাস বলেন, ‘প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, গভীর রাতে একদল ব্যক্তি বাড়িতে প্রবেশ করে ডাকাতি করে। এ ছাড়া দুই নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযান শুরু করে। এ পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে'।

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

তিনি আরও জানান, ভুক্তভোগীদের ডাক্তারি পরীক্ষা, চিকিৎসা ও অন্যান্য আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মামলার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে না।

এদিকে জড়িতদের দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। একই সঙ্গে এলাকায় পুলিশি টহল বৃদ্ধি, রাতের নিরাপত্তা জোরদার এবং সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্রের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

রাজশাহীতে বর্ষার আগেই ডেঙ্গুর অশনিসংকেত

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৯:০২ এএম
আপডেট: ১০ জুন ২০২৬, ০৯:২৪ এএম
রাজশাহীতে বর্ষার আগেই ডেঙ্গুর অশনিসংকেত
প্রতীকী ছবি

বর্ষা মৌসুম এখনো শুরু হয়নি। তবে তার আগেই রাজশাহী নগরীতে ডেঙ্গুর জীবাণুবাহক এডিস মশা যেন নীরব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে ফেলেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রাক-বর্ষা কীটতাত্ত্বিক জরিপ বলছে, নগরীতে এডিস মশার বংশবিস্তার যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, তা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নির্ধারিত ঝুঁকিসীমাকে অনেকটাই ছাড়িয়ে গেছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে আসন্ন বর্ষায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

গত মে মাসে পরিচালিত জরিপে রাজশাহী সিটি করপোরেশন এলাকায় ব্রেটো ইনডেক্স (বিআই) পাওয়া গেছে ৩০ দশমিক ৬৬। ডব্লিউএইচওর মানদণ্ড অনুযায়ী, এই সূচক ২০-এর বেশি হলে সেটিকে ডেঙ্গু সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকির নির্দেশক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। জরিপে নগরীর বিভিন্ন এলাকার ৭৫টি বাড়ি পরিদর্শন করে ১৫টিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। ফলে হাউস ইনডেক্স দাঁড়িয়েছে ২০ শতাংশ। এছাড়া ৫২টি পানি ধারণকারী পাত্রের মধ্যে ২৩টিতে লার্ভা শনাক্ত হওয়ায় কনটেইনার ইনডেক্স হয়েছে ৪৪ দশমিক ২৩ শতাংশ। ব্রেটো ইনডেক্স হলো এডিস মশার লার্ভা বা পিউপা (মশার বংশবিস্তারকারী ধাপ) পরিমাপের একটি সূচক। এটি মূলত একটি নির্দিষ্ট এলাকায় ডেঙ্গু বা চিকুনগুনিয়ার মতো মশাবাহিত রোগ ছড়ানোর ঝুঁকি নির্দেশ করে।

পরিসংখ্যানগুলো শুধু সংখ্যা নয়, নগরীর জন্য একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ, বর্ষা শুরু হলে বৃষ্টির জমে থাকা পানি এডিস মশার প্রজননের জন্য আরও অনুকূল পরিবেশ তৈরি করবে।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র জানায়, গত বছরের একই ধরনের জরিপে লার্ভার উপস্থিতি ছিল ১০ থেকে ১৫ শতাংশের মধ্যে। সে তুলনায় চলতি বছর পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য অবনতি হয়েছে। অর্থাৎ বর্ষা শুরুর আগেই এডিসের বিস্তার অনেক বেশি দৃশ্যমান।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতি পাঁচটি বাড়ির একটিতে এবং প্রায় অর্ধেক পানি ধারণকারী পাত্রে লার্ভার উপস্থিতি প্রমাণ করে–উৎসস্থল ধ্বংসে এখনো কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা যায়নি। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু ফগিং বা ওষুধ ছিটানো যথেষ্ট নয়; বরং মশার প্রজননস্থল নির্মূল করাই সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, দ্রুত নগরায়ণ এবং অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কারণে এডিস মশার বিস্তৃতি আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে ডেঙ্গু এখন শুধু মৌসুমি রোগ নয়, বরং নগর ব্যবস্থাপনার একটি বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে।

রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য কার্যালয়ের এন্টো-টেকনিশিয়ান আব্দুল বারী বলেন, ‘নিয়মিত প্রাক-বর্ষা নজরদারির অংশ হিসেবে জরিপটি পরিচালনা করা হয়েছে। নগরীতে মশার লার্ভা এবং পূর্ণবয়স্ক মশার সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।’

জেলা কীটতত্ত্ববিদ উম্মে হাবিবা জানান, এডিস মশা এখন শুধু প্রচলিত পানির উৎসেই নয়, মানুষের অসচেতনতার কারণে তৈরি হওয়া ছোট ছোট জলাধারেও দ্রুত বিস্তার লাভ করছে। জরিপে ফুলের টব, ছাদবাগান, খোলা নারকেলের খোসা, দইয়ের পাত্র, শিশুদের খেলনাসহ নানা ধরনের পানি ধারণকারী সামগ্রীতে লার্ভা পাওয়া গেছে।

তিনি জানান, জরিপের ফলাফল ও প্রয়োজনীয় সুপারিশ রাজশাহী সিটি করপোরেশনের কাছে পাঠানো হয়েছে।

তবে সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা শেখ মো. মামুন বলেন, মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত স্বাস্থ্য বিভাগের কোনো জরিপ প্রতিবেদন বা সুপারিশ তাদের হাতে পৌঁছায়নি। তবে বর্ষাকে সামনে রেখে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সচল রাখতে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম চলছে।

পাশাপাশি বাসিন্দাদের টব, ছাদের পানির ট্যাংক, পরিত্যক্ত টায়ার, নির্মাণসামগ্রী ও অন্যান্য স্থানে জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণের আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তথ্যও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত ৫১ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। একই সময়ে ১৮ মাস বয়সী এক শিশুসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।

হাসপাতালের মুখপাত্র ও জরুরি বিভাগের ইনচার্জ ডা. শংকর কে বিশ্বাস বলেন, ‘জরিপের ফলাফলকে গুরুত্ব দিয়ে এখনই লার্ভা ধ্বংস অভিযান জোরদার করতে হবে। পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং মশার প্রজননস্থলগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের বিকল্প নেই। কেননা, মশার বংশবিস্তার নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে রাজশাহী নগরীতে ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বাড়বে।’

আবেগের বিয়েতে ঝুঁকিতে পড়ছে মেয়েরা

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৮:৫২ এএম
আপডেট: ১০ জুন ২০২৬, ০৯:১৩ এএম
আবেগের বিয়েতে ঝুঁকিতে পড়ছে মেয়েরা
প্রতীকী ছবি

কক্সবাজারের পেকুয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় কিশোর-কিশোরীদের মাঝে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও বার্তা দিয়ে পালিয়ে বিয়ের প্রবণতা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। এই সুযোগে কিছু অসাধু কম্পিউটার দোকানদার জাল জন্মনিবন্ধন তৈরি করছেন। আবার কিছু কাজি ভুয়া রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে অনৈতিক বিয়ে-বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন। আবেগের বশবর্তী হয়ে নেওয়া এই সিদ্ধান্তের ফলে নারীরা চরম আইনি ও সামাজিক ঝুঁকিতে পড়ছেন। এটি রোধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি জরুরি বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।

সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ঘরছাড়া এই তরুণ-তরুণীদের অধিকাংশই নবম, দশম বা একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী কিংবা এই বয়সের।

গত ৫ মে উখিয়ার পালংখালী এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় মোশারাফা নামের এক কিশোরী। পরে সে অনলাইন মিডিয়ায় ভিডিও বার্তার মাধ্যমে জানায়, সে স্বেচ্ছায় ঘর ছেড়ে বিয়ে করেছে। একই সঙ্গে  হুঁশিয়ারি দেয়, তার স্বামী বা শ্বশুরবাড়ির কোনো ক্ষতি করা হলে সে আত্মহত্যার পথ বেছে নেবে। একই দিনে সাইফুল ও জান্নাতুল ফেরদৌস নামের অন্য এক যুগলও ভিডিও বার্তায় দাবি করে, পরিবার সম্পর্ক মেনে না নেওয়ায় তারা পালিয়ে গেছে।

গত ৫ মে পিএমখালী এলাকা থেকে নিখোঁজ হওয়া জেসমিন আক্তার ও জাকির হোসেন এবং ২ মে নাফিসা নামের আরেক কিশোরী ভিডিও বার্তায় একই ধরনের বক্তব্য প্রচার করে। এর আগে ৩০ এপ্রিল চকরিয়ার কৈয়ারবিল এলাকার সুমাইয়া এবং আবিদ  দম্পতিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাজির হয়ে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির পক্ষে সাফাই গেয়ে ভিডিও বার্তা দেয়।

জানা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে মেয়ের পরিবার অপহরণ বা ধর্ষণ মামলা করতে চাইলেও ভিডিও বার্তার কারণে আইনি জটিলতায় পড়ছে। লোকলজ্জা আর সামাজিক সম্মানের ভয়ে অনেক বাবা-মা শেষ পর্যন্ত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া থেকে বিরত থাকছেন। অন্যদিকে ভিডিওগুলোতে দেখা যাচ্ছে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ছেলের পরিবার বিষয়টি জানলেও মেয়ের পরিবার কিছুই জানে না। এ ছাড়া ভিডিওর নিচে সাধারণ মানুষের বাজে মন্তব্য ও ট্রল অভিভাবকদের মানসিক যন্ত্রণাকে আরও বাড়িয়ে দেয়।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পারিবারিক বন্ধন শিথিল হওয়া ও ইন্টারনেটের অপব্যবহারই এই সমস্যার অন্যতম কারণ। অপ্রাপ্ত বয়স্কদের এমন অবাধ্যতা রোধে এবং সামাজিক অবক্ষয় ঠেকাতে এখনই পরিবার ও সমাজকে সচেতন হওয়া প্রয়োজন।

এদিকে পেকুয়ায় কিছু অসাধু কম্পিউটার দোকানে অবৈধভাবে জন্মনিবন্ধন তৈরি ও সংশোধনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ কাজে তাদের সহযোগিতা করছেন কিছু ইউনিয়নের উদ্যোক্তা। তারা বিভিন্ন ব্যক্তির বয়স কমিয়ে বা বাড়িয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে জন্মনিবন্ধন তৈরি করে দিচ্ছেন। 
সাধারণত জন্মনিবন্ধন সংশোধনের ক্ষেত্রে বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তার সত্যায়ন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সনদসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র লাগে। কিন্তু এই অসাধু চক্রটি জাল সিল ও নকল স্বাক্ষর ব্যবহার করে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করছে, যা দিয়ে বয়স পরিবর্তন করে নতুন জন্মনিবন্ধন বানানো হচ্ছে।

অন্যদিকে কিছু অসাধু কাজির ভুয়া নিকাহ রেজিস্ট্রার ও অনৈতিক বাণিজ্যের কারণে চরম ঝুঁকিতে পড়ছে বহু মেয়ের দাম্পত্য জীবন। আইন অনুযায়ী, বিয়ের সময় বর ও কনের সরকার স্বীকৃত জন্মনিবন্ধন সনদ বা জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে সরকারি পোর্টালে অনলাইনের মাধ্যমে বিয়ে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক।

কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে বর বা কনের বয়স কম থাকায় কাজিরা একটি লিখিত বা মৌখিক মুচলেকা নেন। তারা বলেন, আগামী তিন মাসের মধ্যে জন্মনিবন্ধন এনে দিতে হবে। তরুণ-তরুণীরা এই শর্তে রাজি হয়ে বিয়ে সম্পন্ন করে খুশি হন। কিন্তু তিন মাস পেরিয়ে গেলেও যখন পরিবারগুলো জন্মনিবন্ধন দিতে ব্যর্থ হয়, তখন কাজি অফিসে থাকা ওই বিয়ের তথ্য আর সরকারি অনলাইন সার্ভারে ওঠে না। ফলে খাতা-কলমে বিয়েটি অবৈধ থেকে যায়।

পরবর্তীতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বনিবনা না হলে বা নির্যাতন করলে মেয়েরা আইনি প্রতিকার চাইতে গিয়ে দেখে তাদের বিয়ের কোনো বৈধ কাবিননামাই নেই। কাবিননামার মূল কপি বা অনলাইন কপি দেখাতে না পারায় সবচেয়ে বেশি ঠকছে মেয়েরা ।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কিছু অসাধু কাজি সরকারি কর্মকর্তাদের পরিদর্শন থেকে বাঁচতে সমান্তরালভাবে দুটি রেজিস্ট্রার খাতা তৈরি করেন। একটি খাতা থাকে সম্পূর্ণ বৈধ ও ফ্রেশ, যা সরকারি অডিটের সময় দেখানো হয়। আর অন্য একটি লুকানো খাতায় অবৈধ, বাল্যবিবাহ কিংবা ত্রুটিপূর্ণ কাগজের বিয়েগুলো সাময়িকভাবে টুকে রাখা হয়। পরবর্তীতে সুবিধা বুঝে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে সেগুলো মূল খাতায় তোলা হয়, অন্যথায় তা গায়েব করে দেওয়া হয়।

তবে সব কাজি এই অনৈতিক চক্রের সঙ্গে জড়িত নন। পেকুয়ার উজানটিয়া ইউনিয়নের কাজি আজিজুল হক বলেন, ‘আমি অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করি। এই ধরনের কোনো দুই নম্বরি খাতা আমি রাখি না। অন্য কেউ যদি অডিট ফাঁকি দিতে এই অনৈতিক কাজ করে, সেটি আমার জানা নেই।’

অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশে বাল্যবিবাহ রোধে আইন অনুযায়ী ছেলেদের বিয়ের ন্যূনতম বয়স ২১ বছর ও মেয়েদের ১৮ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু সামাজিক অবক্ষয়ের কারণে পালিয়ে বিয়ে করার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘অনেক ক্ষেত্রে মেয়ের বয়স ১৮ বছর হলেও ছেলের বয়স ২১ বছর না হওয়ায় কাজি বিয়ে রেজিস্ট্রি করেন না। তখন কেউ কেউ ভুয়া বা ডুপ্লিকেট এনআইডি ব্যবহার করে বয়স বাড়িয়ে দেখানোর চেষ্টা করে। অল্প বয়সে সংসার শুরু করার কারণে এরা প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না। ফলে দাম্পত্য জীবনে অশান্তি সৃষ্টি হয় ও সংসার টেকে না।’

পেকুয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রফিকুল ইসলাম জানান, তিনি সদ্য দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। বিষয়টি তিনি গণমাধ্যমের মাধ্যমে জানতে পেরেছেন। তিনি বলেন, ‘ভুয়া জন্মনিবন্ধন তৈরি, জাল জন্মনিবন্ধন সরবরাহ এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ডে সহযোগিতাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি জন্মনিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।’

ইউএনও আরও বলেন, ‘শুধু আবেগের বশবর্তী হয়ে এফিডেভিটের মাধ্যমে বিয়ে করলেই সেটি পূর্ণাঙ্গ ও বৈধ বিয়ে হিসেবে গণ্য হয় না। এ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে।’

পেকুয়া উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ জানান, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এতিমখানা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে উঠান বৈঠক করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্কুল-কলেজে গিয়ে সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হবে। কারণ বর্তমানে অনেকেই পালিয়ে বিয়ে করছেন ও ভুয়া জন্মনিবন্ধন তৈরি করে কোর্ট ম্যারেজ করছেন। অবক্ষয় রোধে এই সামাজিক প্রতিরোধ আরও জোরদার করা হবে।

বরিশাল বিভাগে ৫ বছরে নদীগর্ভে বিলীন ১২০ বর্গ কিমি

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৮:৩৬ এএম
আপডেট: ১০ জুন ২০২৬, ০৮:৪০ এএম
বরিশাল বিভাগে ৫ বছরে নদীগর্ভে বিলীন ১২০ বর্গ কিমি
তেঁতুলিয়া নদীর তীব্র ভাঙনে বসতভিটা ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের সাদেকপুর গ্রাম থেকে তোলা। ছবি: খবরের কাগজ

একসময় যেখানে ছিল ধানখেত, বসতভিটা, স্কুল, বাজার আর মানুষের কোলাহল, সেখানে এখন শুধু নদীর উত্তাল জলরাশি। নদীর পাড়ে দাঁড়ালে দেখা যায় ভাঙনের নির্মম চিত্র। টুকরো টুকরো মাটি হারিয়ে যাচ্ছে, আর তার সঙ্গে হারাচ্ছে মানুষের শেকড়, স্মৃতি ও জীবিকা। অব্যাহত নদীভাঙনে ক্রমেই ছোট হয়ে আসছে বরিশালের ভৌগোলিক মানচিত্র।

পরিবেশ গবেষক ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর তথ্য বলছে, গত পাঁচ বছরে বরিশাল বিভাগের অন্তত ১২০ বর্গকিলোমিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিভাগের প্রায় ১০২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ চরম ভাঙনঝুঁকিতে রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাকৃতিক কারণের পাশাপাশি অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ এবং নদী থেকে অবাধে বালু উত্তোলন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

বরিশালের হিজলা উপজেলার গৌরবদী ইউনিয়নের মেঘনা তীরের বাসিন্দা নুর মোহাম্মদ মোল্লা (৭০)। নিজের চোখে দেখেছেন নদীর ভাঙা-গড়ার খেলা। বলেন, ‘যে মাটিতে আমার শৈশব-কৈশোর কেটেছে, সেই মাটি আজ নদীর নিচে। পাকা ঘর, ধানিজমি, বাপ-দাদার ভিটা—সব চোখের সামনে হারিয়ে গেছে।’ একই এলাকার রাবেয়া বেগম জানিয়েছেন ভয়াবহ আশঙ্কার কথা। বলেছেন, ‘নদী যেভাবে এগিয়ে আসছে, দ্রুত কার্যকর বাঁধ না হলে একদিন পুরো ইউনিয়নই মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে।’

মেঘনার পাশাপাশি কীর্তনখোলা, কালাবদর, আড়িয়াল খাঁ, তেঁতুলিয়া, সন্ধ্যা, সুগন্ধা ও মাসকাটা নদীতেও ভয়াবহ ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। কীর্তনখোলা নদীর তীরবর্তী চরবাড়িয়া এলাকায় স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের পরও গত বর্ষায় নতুন করে ভাঙন দেখা দেয়।

চরবাড়িয়ার বাসিন্দা আবদুল খালেক মিয়া বলেন, ‘তিনবার বাড়ি হারিয়ে এখানে এসে আশ্রয় নিয়েছিলাম। এখন এই জায়গাটাও নদীর মুখে। আর কোথায় যাব, জানি না।’

মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নে গেলে নদীভাঙনের ভয়াবহ চিত্র দেখা যায়। কালাবদর, তেঁতুলিয়া, মাসকাটা ও আড়িয়াল খাঁ নদীঘেরা এই ইউনিয়নের প্রায় ৬০ শতাংশ এলাকা গত পাঁচ বছরে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

সম্প্রতি হিজলা উপজেলার বাহেরচর ফেনুয়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ভাঙনের আতঙ্কে মানুষ ঘরবাড়ি খুলে সরিয়ে নিচ্ছেন। কেউ গাছ কেটে বিক্রি করছেন, কেউ টিন-কাঠ ও আসবাবপত্র রক্ষায় ব্যস্ত। নদীতীরে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। ঢেউয়ের আঘাতে মুহূর্তেই তীরের অংশ ভেঙে পড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা হাবিব চৌকিদার বলেন, ‘বাপ-দাদার ভিটা আগেই নদীতে গেছে। গত বছর দুইবার ঘর সরিয়েছি। এখন তৃতীয়বার সরানোর প্রস্তুতি চলছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে অনেক জমি নদীতে চলে গেছে।’

নদীভাঙনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর একটি বাহেরচর ফেনুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। কয়েক বছর আগে প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বিদ্যালয় ভবনটি গত বছর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।

বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘বিদ্যালয়টি দুইবার নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। গত বছর তৃতীয়বারের মতো স্থানান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে শিক্ষার্থীদের পাঠদান চালাতে প্রায় আড়াই কিলোমিটার দূরের একটি আবাসিক ভবন ভাড়া নেওয়া হয়েছে। ভাঙন অব্যাহত থাকলে সেটিও আবার সরিয়ে নিতে হবে। বর্তমানে স্কুলটিতে তিন শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে।’

স্থানীয় ইউপি সদস্য মোতাহার হোসেন বলেন, ‘ডোরী বাড়ি মসজিদ থেকে লক্ষ্মীরচর মকবুলের পুল পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকা সম্প্রতি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙন অব্যাহত থাকলে আরও অনেক স্থাপনা হারিয়ে যাবে।’

তিনি বলেন, ‘কাগজে-কলমে ইউনিয়নের জনসংখ্যা প্রায় ৩০ হাজার। কিন্তু বাস্তবে তা অনেক কমে গেছে। প্রায় আট হাজার পরিবারের মধ্যে কয়েক হাজার পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে বিভিন্ন চরে গিয়ে নতুন বসতি গড়েছে।’

স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে শ্রীপুর মহিষা ওয়াহেদিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মহিষা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাহেরচর বাজার, শ্রীপুর বাজার, ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র, মসজিদ, মাদ্রাসাসহ অসংখ্য স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এখন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে ৯১ নম্বর চর ফেনুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শ্রীপুর মহিষা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভবন, বহুমুখী আশ্রয়কেন্দ্র এবং শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব।

ব্যবসায়ী নাজমুল সাকিব বলেন, ‘প্রতিবছর ঘর সরানো, দোকান সরানো–এই জীবন আর ভালো লাগে না। নদী ভাঙবে, আমরা পালাব–এটাই যেন নিয়ম হয়ে গেছে।’ স্থানীয় বাসিন্দা মফিজুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা ত্রাণ চাই না, নদীভাঙনরোধে স্থায়ী সমাধান চাই। টেকসই বাঁধ হলে মানুষ অন্তত নিজের ভিটেমাটি রক্ষা করতে পারবে।’

পরিবেশবিদদের মতে, নদীভাঙন এখন শুধু পরিবেশগত সমস্যা নয়; এটি সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকটেও রূপ নিয়েছে। নদীর স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তন, তলদেশ থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন এবং দীর্ঘমেয়াদি নদী ব্যবস্থাপনার অভাব ভাঙনের মাত্রা বাড়াচ্ছে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) বরিশাল বিভাগীয় আহ্বায়ক রফিকুল আলম বলেন, ‘অপরিকল্পিত বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও অনিয়ন্ত্রিত বালু উত্তোলনের কারণে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুহারা হচ্ছে। নদী ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত ও বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।’

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক ভূঁইয়া বলেন, ‘বিভাগের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। ভাঙনরোধ ও টেকসই বাঁধ নির্মাণের জন্য কয়েকটি বড় প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে দ্রুত বাস্তবায়ন শুরু হবে।