তেল সংকটের কারণে চট্টগ্রামের আনোয়ারা ও কর্ণফুলী উপজেলায় গণপরিবহন ও রাইড শেয়ারিং সেবায় অস্বাভাবিক ভাড়া বৃদ্ধির অভিযোগ উঠেছে। এমনকি সিএনজিচালিত অটোরিকশাতেও নেওয়া হচ্ছে বাড়তি ভাড়া। এতে চট্টগ্রামের দক্ষিণাঞ্চলের বিপুলসংখ্যক মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন।
পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরা মানুষের চাপের মধ্যেই জ্বালানি তেলের সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। শহর থেকে গ্রাম- সবখানেই জ্বালানি তেল দুষ্প্রাপ্য হয়ে ওঠায় পরিবহনব্যবস্থায় অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে আনোয়ারা, কর্ণফুলী, পটিয়া, বাঁশখালী, পেকুয়া, চকরিয়া ও কক্সবাজারগামী যাত্রীদের ওপর।
গত শুক্রবার বিকেলে সরেজমিনে কর্ণফুলীর মইজ্জ্যারটেক, ক্রসিং ও বড়উঠান এলাকার বিভিন্ন পেট্রলপাম্প ঘুরে দেখা যায়, বেশ কয়েকটি পাম্পে তেল সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এই সুযোগে ডিজেলচালিত বাস, সিএনজিচালিত অটোরিকশা এবং তেলনির্ভর রাইড শেয়ারিং সেবার ভাড়া বেড়েছে দ্বিগুণ পর্যন্ত। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন স্বল্প আয়ের শ্রমজীবী মানুষ।
আনোয়ারার চাতরী চৌমুহনী বাজার ট্রাফিক পুলিশ বক্সের সামনে দাঁড়ানো কয়েকজন অটোরিকশাচালক জানান, তেলচালিত গাড়ির ভাড়া বেড়ে যাওয়ার প্রভাব গ্যাসচালিত যানেও পড়েছে। পাশাপাশি ঈদ উপলক্ষে অনেক চালক অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছেন বলেও স্বীকার করেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চাতরী চৌমুহনী বাজার, আনোয়ারা সদর, কর্ণফুলীর ফকিনীর হাট, ক্রসিং, মইজ্জ্যারটেক ও শাহ আমানত সেতু এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম আদালতে কর্মরত ওসমান শাহ বলেন, ‘চাতরী চৌমুহনী থেকে মইজ্জ্যারটেক পর্যন্ত আগে ভাড়া ছিল ২০ টাকা। এখন নেওয়া হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। যাত্রী হিসেবে আমাদের কিছু বলার সুযোগ নেই। গন্তব্যে পৌঁছাতে বাধ্য হয়ে বেশি ভাড়া দিতে হচ্ছে।’
দিদারুল ইসলাম নামে এক ব্যাংক কর্মকর্তা বলেন, ‘তেল সংকটের অজুহাতে মোটরসাইকেলের রাইড শেয়ারিং সেবার ভাড়াও প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। আগে ১৫০-২০০ টাকায় যাতায়াত করা গেলেও এখন একই পথে গুনতে হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা।’
মোটরসাইকেলে রাইড শেয়ার করেন একরামুল হক। তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম নগরীর বেশির ভাগ পাম্পে নিয়মিত তেল পাওয়া যাচ্ছে না। তেল সংগ্রহ করতে দীর্ঘসময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। এতে কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। বাধ্য হয়ে বেশি ভাড়া নিতে হচ্ছে।’
যাত্রীদের অভিযোগ, অধিকাংশ অটোরিকশা সিএনজিচালিত হলেও চালকরা তেলের সংকটকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করছেন। এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে।
এ বিষয়ে আনোয়ারা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) দীপক ত্রিপুরা বলেন, ‘অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কোনো সুযোগ নেই। অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ট্রাফিক পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’ ঈদে নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক যাতায়াত নিশ্চিত করতে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।