প্রেমিকাকে বাদ দিয়ে অন্য নারীকে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন প্রেমিক সাইফুল ইসলাম। প্রেমিকা রোকসানা টের পেয়ে সাইফুলকে বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকেন। একপর্যায়ে কৌশলে রোকসানাকে হত্যা করে মরদেহ বস্তায় ভরে ফেলে দেওয়া হয় রাস্তার পাশে। পরে রাজধানীর কদমতলী থানার পুলিশ অজ্ঞাত হিসেবে মরদেহ উদ্ধার করে সিআইডির সহায়তায় পরিচয় শনাক্ত করে।
পুলিশ জানিয়েছে, কেবল পরিচয় শনাক্ত নয়, মাত্র ২৪ ঘণ্টার তদন্তে হত্যার রহস্য উদঘাটনের মাধ্যমে জড়িতদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন নিহত রোকসানার প্রেমিক সাইফুল ইসলাম (২৪), তার বোন সুমি আক্তার (৩২) এবং ভগ্নিপতি এলাহিন ওরফে এলাহি ওরফে ইব্রাহিম (৪২)।
এ প্রসঙ্গে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম শাখার উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান, রোকসানা খুনের ঘটনায় ওই তিনজনকে গত শনিবার রাতে জুরাইন বৌবাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর এক দিন আগে শুক্রবার সকালে কদমতলীর লাল মিয়া সড়কের হাজি মিছির আলীর বাড়ির সামনে রাস্তার পাশ থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় রোকসানার লাশ উদ্ধার করা হয়েছিল। প্রথমে পরিচয় জানা না গেলেও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) আঙুলের ছাপ নিয়ে ভুক্তভোগীর পরিচয় শনাক্ত করে। এর ভিত্তিতে নিহতের স্বজনদের মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় হত্যার রহস্য উদঘাটন করা হয়।
গ্রেপ্তার এলাহি ইব্রাহিম প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে জানিয়েছেন, তার শ্যালক সাইফুলের সঙ্গে রোকসানার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পরে সাইফুল অন্য এক নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে তাকে বিয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ বিষয়টি টের পেয়ে রোকসানা সাইফুলকে বিয়ের জন্য চাপ দেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সাইফুল তার বোন সুমি এবং ভগ্নিপতি এলাহিকে সঙ্গে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে রোকসানাকে শ্বাসরোধে খুন করেন। পরে ব্যাটারিচালিত একটি রিকশায় লাশ অন্যত্র ফেলে দেওয়া হয়।