দ্বিতীয় অধ্যায় : সমাজকর্মের শাখা
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর-৫
উদ্দীপকটি পড়ে নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর লেখ।
কাপ্তাই থেকে চট্টগ্রামে আসার পথে আসাদ হাফিজ সড়ক দুর্ঘটনায় মারাত্মকভাবে আহত হন। আহত অবস্থায় স্থানীয় লোকজন আসাদ হাফিজকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে নিয়ে আসেন। সেখানে কর্তব্যরত সমাজকর্মী মেডিকেল আউটডোর থেকে শুরু করে ভর্তি হওয়া পর্যন্ত সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সহায়তা করেন। তাছাড়া ডাক্তার, আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ, প্রয়োজনীয় ওষুধ সংগ্রহসহ নানাবিধ কাজে সাহায্য ও সহযোগিতা করেন ।
ক. বাংলাদেশে কত সালে বিদ্যালয় সমাজকর্ম চালু হয়?
খ. শিল্প সমাজকর্ম বলতে কী বোঝায়?
গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত সমাজকর্মীর কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সমাজকর্মের কোন শাখার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. রোগীর সার্বিক কল্যাণে ওই শাখার গুরুত্ব আলোচনা করো।
উত্তর: ক. ১৯৬৯ সালে বাংলাদেশে বিদ্যালয় সমাজকর্ম চালু হয়।
খ. শিল্প খাতে সমাজকর্মের জ্ঞান, তত্ত্ব, কৌশল ও পদ্ধতির প্রয়োগকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে শিল্প সমাজকর্ম। শিল্প সমাজকর্ম হলো সমাজকর্মের সেই শাখা যে শাখায় সমাজকর্মীরা তাদের পেশাগত দক্ষতা ব্যবহার করে শ্রমিক-মালিক সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটিয়ে অধিক উৎপাদন নিশ্চিত করে এবং শ্রমিকদের জীবন মানোন্নয়নে সহায়তা করে।
আরো পড়ুন : সমাজকর্মের শাখা অধ্যায়ের ১টি সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর, ১২তম পর্ব
গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত সমাজকর্মীর সঙ্গে চিকিৎসা সমাজকর্ম শাখার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
একজন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর বিভিন্ন সামাজিক, অর্থনৈতিক, পারিবারিক ও মানসিক প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হন। এগুলো চিহ্নিত করে রোগীর শারীরিক, মানসিক তথা সর্বজনীন কল্যাণ সাধনে সচেষ্ট সমাজকর্মের শাখাই চিকিৎসা সমাজকর্ম বা হাসপাতাল সমাজকর্ম। তাই স্কিডমোর ও থ্যাকারে বলেন, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে সমাজকর্মের জ্ঞান ও দক্ষতা, দৃষ্টিভঙ্গি, মূল্যবোধ এবং পদ্ধতি প্রয়োগ করাকে চিকিৎসা সমাজকর্ম বলা হয়। উদ্দীপকে দুর্ঘটনার শিকার আসাদ হাফিজকে মেডিকেল চিকিৎসায় সমাজকর্মীর মাধ্যমে দেওয়া সব সেবাই চিকিৎসা সমাজকর্মের অন্তর্ভুক্ত।
অতএব বলা যায়, আসাদের চিকিৎসাসেবায় সহায়তাকারী সমাজকর্মীর সঙ্গে চিকিৎসা বা হাসপাতাল সমাজকর্মের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
ঘ. রোগীর সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিতকরণে চিকিৎসা সমাজকর্ম শাখার ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে।
সমাজকর্মীরা রোগীকে পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য বিধান, মানসিক সমর্থন দান, বস্তুগত ও অবস্তুগত সেবার মাধ্যমে সক্ষম করে তোলেন। বস্তুগত সেবার মধ্যে রয়েছে ওষুধপথ্য, রোগের ধরন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় উপকরণ দেওয়া এবং অবস্তুগত সেবার মধ্যে রয়েছে সামাজিক ও মানসিক সমর্থন, সামাজিক যোগাযোগ, রোগীর বাড়ি পরিদর্শন, পরামর্শ সহায়তা, কাউন্সেলিং সেবা, বিভিন্ন ধরনের সেবা প্রভৃতি। আর এসব কারণে চিকিৎসা সমাজকর্মের গুরুত্ব দিন দিন বেড়েই চলেছে। এ ছাড়া রোগীর ফলপ্রসূ নিরাময়ের জন্য প্রয়োজন রোগীর রোগ নির্ণয় ও তা সমাধানের জন্য হাসপাতাল সমাজসেবা এক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। হাসপাতালে ভর্তির পর নতুন পরিবেশে রোগী ঠিকমতো খাপ খাওয়াতে পারে না। তাই চিকিৎসক, নার্স, অন্য ব্যক্তিদের সঙ্গে রোগীর সামঞ্জস্য বিধানে হাসপাতাল সমাজকর্মী সহায়তা করেন। রোগীদের মানসিক তৃপ্তি, একাকিত্ব দূরীকরণ ও বিনোদনের ব্যবস্থাকরণে হাসপাতাল সমাজসেবা অতি প্রয়োজনীয় চিকিৎসায় সফলতা অর্জনে রোগীর মনস্তাত্ত্বিক অবস্থার উন্নয়ন একান্ত প্রয়োজন; যা সমাজসেবা বিভাগ করতে পারে। আবার রোগীর রোগ-পরবর্তী সেবা যেমন- বাড়ি পরিদর্শন, অনুসরণ, মূল্যায়নসহ প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও নির্দেশনা দেওয়া ইত্যাদি প্রয়োজন হয়। এসব ক্ষেত্রে হাসপাতাল সমাজসেবা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। তাই বলা যায়, রোগীর সার্বিক কল্যাণে চিকিৎসা সমাজকর্মের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
লেখক : প্রভাষক, সমাজকর্ম
শের-ই-বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মধুবাগ, মগবাজার, ঢাকা
কবীর