নীলফামারীর সৈয়দপুর সরকারি বিজ্ঞান কলেজ থেকে এ বছর ৪৯ জন শিক্ষার্থী সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন।
সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজের ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর কলেজ কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানায়। কর্তৃপক্ষের আশা, সব শিক্ষার্থীর তথ্য পাওয়া গেলে সংখ্যাটি আরও বাড়তে পারে।
সৈয়দপুর সরকারি বিজ্ঞান কলেজ থেকে সুযোগ পাওয়া ৪৯ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৯ জন ছেলে ও ৪০ জন মেয়ে।
১২ ডিসেম্বর ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। রবিবার ফল প্রকাশের পর সৈয়দপুর সরকারি বিজ্ঞান কলেজের অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ জানান, এখন পর্যন্ত মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পাওয়া ৪৯ জন শিক্ষার্থীর নামের তালিকা সংগ্রহ করা হয়েছে। তালিকাটি আরও দীর্ঘ হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, ‘২০১৭ সালে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ২৬৪ জন। এর মধ্যে ৩৯ জন মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে এবং ৯ জন বুয়েটে ভর্তির সুযোগ পায়। ২০১৮ সালে ২৬৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩৬ জন মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে এবং ১১ জন বুয়েটে ভর্তির সুযোগ পায়।’
২০১৯ সালে ২৭৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩৮ জন মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে এবং ৬ জন বুয়েটে সুযোগ পায়। ২০২০ সালে ২৮০ জনের মধ্যে ৪০ জন মেডিকেলে, ১৫ জন বুয়েটে এবং ৩২ জন বিভিন্ন ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ পায়। পরের বছর ২৬৮ জনের মধ্যে ৪৫ জন মেডিকেলে, ১৫ জন বুয়েটে এবং ৩৮ জন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তি হন।
২০২২ সালে ২৫৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩৬ জন মেডিকেলে, ১৪ জন বুয়েটে এবং ৪৫ জন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে সুযোগ পান। ২০২৩ সালে ২৬৫ জনের মধ্যে ৫২ জন মেডিকেলে, ৮ জন বুয়েটে এবং ৫৫ জন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তির সুযোগ পান। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালে মোট ২৬২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬২ জন মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে, ৮ জন বুয়েটে এবং ৫৫ জন ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ পান। গত বছরও ৫৩ জন বিভিন্ন মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন।
তিনি আরও বলেন, ‘সুশৃঙ্খল পরিবেশ, শিক্ষকদের আন্তরিক পাঠদান ও কঠোর তদারকির ফলে শিক্ষার্থীরা প্রতিবছর আশানুরূপ ফল অর্জন করছে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মেডিকেল ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় ধারাবাহিক সাফল্য ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে।’
উল্লেখ্য, নীলফামারীর সৈয়দপুর সরকারি বিজ্ঞান কলেজের আগের নাম ছিল সরকারি কারিগরি মহাবিদ্যালয় (টেকনিক্যাল কলেজ)। ২০২০ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠানটির নাম পরিবর্তন করে সৈয়দপুর সরকারি বিজ্ঞান কলেজ রাখে। কলেজটিতে শুধুমাত্র বিজ্ঞান বিভাগে পড়ার সুযোগ রয়েছে।
১৯৬৪ সালে দেশের চারটি শিল্পাঞ্চলে টেকনিক্যাল স্কুল প্রতিষ্ঠা করা হয়। দেশের সর্ববৃহৎ সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার সুবাদে এখানেও একটি টেকনিক্যাল স্কুল গড়ে ওঠে। উদ্দেশ্য ছিল রেলওয়ে কারখানার জন্য দক্ষ ও কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন জনবল তৈরি করা। পরবর্তীতে ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠানটি কলেজে উন্নীত হয়। দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে শীর্ষ প্রতিষ্ঠান হিসেবে সৈয়দপুর সরকারি বিজ্ঞান কলেজ সুপরিচিত।
মমিনুর/রিফাত